সমান্তরাল

আমার স্বপ্নরা সমুদ্রের মতো সুন্দর জটিল আর বিপজ্জক।

তাদের অদ্ভুদ মিল
ঢেউ, বালি, শামুক আর বিকালের সুর্যাস্তের সাথে।

কখনো চির সুন্দরেরা হেসে খেলে পৃথিবীর দীর্ঘতম বালুকাময় বারান্দায়।

কখনো ঢেউয়ের সাথে গড়িয়ে যায় হীরন্ময় স্মৃতি গুলো প্রবাহিত অশ্রু হয়ে।

তখন বুকের সবুজ জমিনে লালিত আকাশ কুসুম স্বপ্ন গুটিয়ে যায় শামুকের ন্যায় অবিকল।

যথারীতি সুর্যাস্ত!
দৃষ্টির গহীনে জীবন প্রদিপ ঝাপসা সুদূর।
…………………………………………..

প্রাণের প্রতিমা

কী আশ্চর্য ইহজগতে একি প্রাণের প্রতিমা!
চোখ সেতো বর্ষার পানিতে দু’কূল উপচে পড়া নদী

ভুরু গুলো ধানিজমির আইলের মতোই সরু
চিকন নাক অবিকল বাঁশের কঞ্চি।

সেতো তুলনা বিহীন, সে শুধু একক রূপবতী
জগতে সকলের ছেয়ে।

জ্যোতির্ময় শরীর,
কমনীয় জোড়াঠোটে কী যে মধু!
বাক্যের উৎস কই বর্ণনার!

দ্যাখো সবাই দ্যাখো
সে নারী দেবীর মতো।

সর্বজয়ী রূপ তার
দ্যাখো, নববর্ষের প্রথম প্রভাতে।
…………………………………………..

বাধা

এতো কাছিকাছি তবুও ছুঁতে পারিনি তোমাকে
তবে এ হাত দুটি কেন?

তোমার চোখ, চোখের তারা
কী মোহনীয় দৃষ্টি!
পলকের আবেশে আধমরা প্রাণ।

তোমার নখ,পায়ের পাতা, চুল,
বেনীর বিন্যাস কতোভাবেই দ্যাখেছি
দ্যাখেছি তোমার উদগ্র কামনার ঝংকার

শেষ কবে তোমার বগলের ঘ্রাণ নিয়েছি মনে নেই
মনে নেই কবে এই দশআঙ্গুল তোমায় ছুঁয়েছিলো

কেন এই হাতে তোমার স্পর্শ লেগে থাকেনা চিরদিন, থাকে না কেন তোমার শরীরের ঘ্রাণ

গতকাল খুব কাছাকাছি গিয়েও
ছুঁতে পারিনি তোমাকে।
দুরত্বে বাধা দৃশ্যমান কাচের দেয়াল।
…………………………………………..

বাধ্য পাখি

গাড় অন্ধকার তবুও আলোর ঘর
মিছে মায়ায় সুখ খুঁজে নির্বোধ পশু

বেখেয়ালি জীবন পথভ্রষ্ট মন
আয়নায় দাঁড়িয়ে দেখি আমল নামা

স্বপনে বিভোর বেহায়া চোখ
খামাকা উড়াউড়ি বাধ্য পাখি

তুমি কি সূর্যের অস্ত দেখনি বেদম!
বিদায় ঘন্টার পর সময় বলে কিছু নেই
…………………………………………..

আমাকে নিয়ে চলো

আমাকে নিয়ে চলো চির সবুজের বুকে,
যেখানে আমের মুকুল, প্রজাপতি, ফড়িং
আর ভ্রমরার খেলা হয়।

নিয়ে চলো সেখানে
যেখানে জোনাকির ডানায় চড়ে সন্ধ্যা হয়।

আমাকে নিয়ে চলো প্রিয়তমার কাছে,
যেখানে বেলের তালা ভরা বিন্নি ধানের খঁই, খেজুরের গুড় আর তাল পাতার বাতাস খেয়ে প্রাণ জুড়ায়।

নিয়ে চলো আমাকে প্রনয়ী কল্লোলিনীর কিনারে,
যেখানে কুসুম কোমল জল, বুনোহংস আর সোনালী ডানার চিল’র ভুবনজোড়ানো মায়া।

আমাকে নিয়ে চলো হিমপরীর দেশে,
যেখানে সুর্য মিলায় পানিতে
আকাশ মাটিতে বন্ধুত্ব হয়।

নিয়ে চলো সেখানে
যেখানে চোখ মেলে তাকালেই বুক জুড়ায়।

আমাকে নিয়ে চলো আমার মায়ের কাছে
আমার দেশ আমার মা।
…………………………………………..

কষ্টশিশির

জীবনের গুপ্ত পাতায় অজস্র কষ্টশিশির
নিদারুণ দহন তাপ হৃদয়াকাশ বাষ্পতুলো

ভয়ানক প্রশ্বাস তামাম দুঃখ জমাট মেঘ
আচম্বিত গর্জন দেহঠাড়াল বুকঝড় তুমুল।

দম আটকে যায়-
ভেতর বাহির হুলস্থুল রক্তক্ষরণ।

চোখদিঘিতে লোনাজল নয় রক্তপ্লাবন
দুর্ভাগা জীবন বারোমাস আষাড় শ্রাবণ।
…………………………………………..

আমরা রাষ্ট্রীয় ভিক্ষুক

কোমর সমান পানিতে নেতাজি দলবল লইয়া হাজীর
আমগোর লাগি কী দরদ!

নেতাজির বন্যার ফটোফাইল খুবই ভালো
গনমাধ্যমে তুলপাড় বন্যার্তের পাশে আহ, উহ’র চিত্র।

নেতাজি এবার জরিনা বিবির হাতে শুকনা খাবার তুলে দেয়ার ফটোতে জাতীয় পুরুস্কার নেবে।
হ নেবেইত!
মাত্র একটি ছবিইত পিপিএম পদকে ভুষিত করে।

এখন পানি নেমে গেল
নেতাজিও হারিয়ে গেল।

কই গেলেন আমগো দরদী?
শুকনাখাবার না দিয়া আমগো
বিষ দিলেননা কেন?

সপ্নের কুড়েঘর, গোলাভরা ধান,মাইয়ার বিয়ার লাগি জমানো লবন সবইতো শেষ।

এখন আমরা ভিক্ষা করব
হ আমরা রাষ্ট্রীয় ভিক্ষুক।
…………………………………………..

বারো-আনা নকল

তোমার মুখের ঐ নিঃসঙ্গ কালোতিল
এখন কেবলি স্মৃতি
ভাবলেই জলে জলে ভেসে যায় প্রীতি।

চোখতো নয় তার চোরাবালি নদ
হিংস্র নীলের জলে
মায়ার ছলে সবই লুফে লুফে নিলে।

প্রতিদিনই বিষ-বাষ্পে হৃদয়টা নীল
ভালবাসা ভালবাসাহীন
বারো-আনা নকল আর বাকিটুকু ক্ষীণ।
…………………………………………..

বেহায়া বিড়াল

শৈশবে হাতেহাত সোহাগী উড়াল
যৌবনথেকে আজো আসক্ত পানে
ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে বেহায়া বিড়াল।

জীবনের চাষাবাদে অসার কাঁদন
সর্বত্র মৃত্যুদুত সতর্ক পাহারা
ফটকে আটক তবু ভুলেনি স্বপন।

চারিদিক চক্যাল মহলে আসর
নিমেশেই ভাঙবে সখের বাসর
…………………………………………..

শব্দগোলাপ

(আধুনিক বাংলা কবিতার অনন্য স্রষ্টা প্রিয় কবি আল মাহমুদ স্বরণে)

অমৃত এক সব্দগোলাপের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় বাগানের সদ্যফোটা গোলাপটি।
শব্দগোলাপ অমিয় ভাব ব্যঞ্জনায় বিমোহিত করে অগনন বিদগ্ধ মানব মানবির বিমল হৃদয়।

শব্দগোলাপ যার প্রতিটি পাপড়ি থেকে জ্ঞানের দূরপ্লাবি প্রভা বিমুগ্ধ চিতপ্রকল্প হৃদয়ের দূরন্ত প্রস্রবন চিন্তার প্রতল পরিভ্রমন বিকশিত হতে থাকে নিরন্তর।

তাইতো বাগানের গোলাপকে ভালবাসি যত শব্দগোলাপকে ততোধিক।

বাগানি গোলাপ ক’দিনেই ঝরে পড়ে আপনি, শুকিয়ে শব্দ তোলে মর্মর, শব্দ গোলাপ চির সজিব, ঝরে পড়া নেই জন্মেই তার সুরের সুভাস ছড়িয়ে যায় কালান্তরে।

বাগানি গোলাপের অভিমান মান্য করেই শব্দগোলাপকে সতত সাজাই।