নিশুতির ক্রন্দন

নিঝুম নিরবতায়- নিমজ্জিত নিখিল ভুবন
নিশুতির সাথে জেগে জেগে কাটে ভাবুক জীবন,
কি এক মোহময় মায়ায়- জীবিতরা অর্ধ মৃত
ধরিত্রী নামক খাঁচার বন্দি পাখি- কাল স্বীকৃত।

ভাবুকেরা ভাবে সৃষ্টির মাহাত্ব কোথায় কিভাবে
ভোগবাদীরা গা ভাসায় ভোগের ইন্দ্রিয় প্রভাবে,
মারে যারে তারে ভবঘোরে- অকরুণ অকাতরে
ভাবে জীবন-ই সব, কিসের হিসাব পরপারে।

যায় দিন আসে রাত- সিঁধুর রাঙ্গা স্নিগ্ধ প্রভাত
মোহান্ধরা মোহঘোরে হানে- মর্মভেদী মর্মাঘাত,
নীলিম বেদনার বদনে ঝরে- অশ্রু অপলক
তাজা রক্তে রঞ্জিত নিশিদিন- রক্তভেজা ফলক।

ভাবুকেরা ভাবে- সৃষ্টির মাহাত্বকে নিয়ে বেতাবে
ইতিহাস দেখে ইতিহাস, মিলিয়ে দেখে কেতাবে,
সময়ে সূর্য- বাজাবে রণতূর্য- ধরবে খঞ্জর
মরবে ধরণীর শয়তান, কাঁদবে ঝরঝর।

যখন-ই নিঝুম নিশুতি আসে- ক্লিষ্ট চরাচরে
জটিল জটলা খোলে দ্বার- প্রয়াণ চিন্তাকে ধরে।
……………………………………………

প্রতীতি

আমি ডান বুঝিনা- বাম বুঝিনা
শুধু বুঝি মানুষ,
ধর্ম-বর্ণের- আমি ভেদ বুঝিনা
বুঝিনাকো খুনুস।
অর্থ-বিত্ত-ক্ষমতা- সবই লাগে
বায়বীয় ফানুস।

আকাশ মাটির- ভিন্ন অবস্থান
তবু ঋদ্ধ বন্ধন,
আগুনের সাথে বাতাসের দোস্তি
এককেই স্পন্দন,
সূর্যকে ঘিরে পৃথিবীর ঘূর্ণন
বাস্তব চিরন্তন।

ঐ সত্তার সাথে গড়েছি সম্পর্ক
চেখেছি রীতি-নীতি,
বুঝেছি- নশ্বর ও অবিনশ্বর
রাখবো কিসে ভীতি,
মনুষ্যত্বে ভক্তি- মনুষ্যত্বে মুক্তি
এটাই ঐশী রীতি।
……………………………………………

পূত প্রভাত

কিছু সময় নয়- অনন্ত দিনের জন্য
পূর্ণিমার প্রভা মেলে ধরুক- দীর্ঘ পাখা,
অশনি অমানিশি ডালে আছে যত শাখা
শুভ্রছায় ছেয়ে যাক- এই দেশ এ মাটি
শরদিন্দুর ন্যায় হোক- মানুষেরা খাঁটি।

সারাটি বছর গেঁথে থাক চাঁদিমা শশী
নিশুতি কালো কাদম্বিনী মুক্ত শুভাকাশ
পল্লিবালার সারল্য- সুবাসিত বাতাস,
মাটির সাথে পানির- মৈথুনীয় মাদল
মনো মহীরুহে উঠুক সম্প্রীতির দোল।

হাহাকার আর্তনাদ- ও ব্যভিচারে ঠাসা
সরে যাক একে একে- ঐ ছয়টি আকাশ
সাম্যের সপ্তাকাশ ফেলুক- শান্তির শ্বাস,
এ দেশ-মাটি-মানুষ, হাতে রাখুক হাত
শান্তির ঐশী নূরে আসুক- পূত প্রভাত।
……………………………………………

বর্বরদের বিনাশ চাই

পাষন্ডদের ধ্বংসকামী- আমি এক শান্তিকামী
ওদের প্রয়াণে প্রলয় চাই শীঘ্র, হে অন্তর্যামী,
খুনিরা যদি হয় কখনো- গণহত্যার শিকার
মায়া জাগবেনা এ মনে, জাগবে শুধু ধিক্কার।

দেখে মিথ্যার কূটচাল- জমেছে ঘৃণার পাহাড়
করছে হত্যা, আবার ওরাই কর্তা মানবতার,
ছাড় নয় আর, ছাড় নয় আবার- দ্বিতীয়বার
নামুক এদের উপর, কঠিন শাস্তি বিধাতার।

মারছে রোহিঙ্গা-মারছে কাশ্মিরী আর ফিলিস্তিনি
হত্যার শিকার হচ্ছে- লিবিয়া-চেচেন-আফগানী,
আগেও মেরেছে এখনো মারছে- মুখ চিনে চিনে
হত্যার মহাজন বলেই ওরা শুধু- হত্যা কিনে।

আবার জেগেছে মগ বর্গী, অতীতের জলদস্যু
গায়ে পরা ধার্মিক লেবাস, জাত তার বন্য পশু,
চরম মিথ্যুক- হিংস্র এরা, ভয়াল অমানিশা
ধরিত্রীর শান্তির জন্য এরা- ভীষণ সর্বনাশা।

ওহে বিধাতা, তুমি করোনা সহ্য গণহত্যা আর
মানুষরূপী অমানুষদের করো- ভস্ম- অঙ্গার।
……………………………………………

জগদ্দল

মানুষ নামে জনম নিয়ে মানুষ আকারে বেঁচে আছিস তুই
কর্ম জুরে তোর পশু চরিত্র, মানুষের কাতারে কেমনে থুই,
মানুষের দুখে যে মানুষের- আঁখি দুটি হয় অশ্রু ছলছল
এরাই হলো মানুষ, আর তোরা হইলি সমাজের জগদ্দল।

মানুষের সমাজে- মানুষ রূপে- খাচ্ছিস মানুষের আমানত
মানুষ রূপে বেঁচে থেকে- মানুষ চরিত্রের করিস খেয়ানত,
তোর ভিতরই লুকিয়ে আছে বিষাক্ত বিষমাখা গোখরা সাপ
বিভ্রান্ত মানুষ বোঝেনা তুই মানুষরূপী পোড় খাওয়া পাপ।

সে মানুষ, যার হাত-মুখ-চোখ-মন হতে মানুষ নিরাপদ
কেঁদে উঠে বিবেক, মানুষদের দেখে পূর্বাপর বিপদাপদ,
অথচ মানুষ হয়ে জন্ম নিলেও- নিজকে করলিনা মানুষ
মানুষের অর্থ-সম্পদ আর জীবন খেয়ে- হইলি অমানুষ।

তাই দুঃখ থেকে গেলো আমার, মানুষ হয়েও হলিনা মানুষ
মনুষ্যত্ব হারিয়ে-পশুত্বকে ধরে- রয়ে গেলি দিব্যি অমানুষ।
……………………………………………

মুমূর্ষু সত্যাদর্শ

এমন এক যুগের বাহনে- করেছি আরোহণ
মসৃণ পথ রেখে- অপথে যার নিত্য বিচরণ।
বলি যদি চালক ভাই- এ পথেনা ওপথে যান
চালক ছুটে দ্বিগুণে, যায় যাক আরোহীর জান।

এমন এক যুগের সমাজে- করছি বসবাস
ডানে-বামে অনৈতিকতার ফণাধর ফিসফাস।
নীতিকথা বলতে গেলে- অট্টহাসির উপহাস
বায়বীয় অভিযোগে জুটে- কারাবাস উপবাস।

এমন এক যুগের সৌরবলয়ে- ঘুরছে ধরা
শুধু অমানিশার নিশুতি, দিনের আলোর খরা।
সৌরজগতের সৌর থাকলেও- হারিয়েছে আলো
যত আছে গ্রহ-উপগ্রহ, হয়েছে নিরেট কালো।

কালোয় কালোয়- জগতে সমৃদ্ধ- অন্ধ মতাদর্শ
নিজকে বাঁচাতে তাইতো আজ মরিয়া সত্যাদর্শ।
……………………………………………

রোহিঙ্গারা ফিরবেই

ইয়াজুজ- মাজুজের- বর্বর প্রেতাত্মা
হয়েছে বর্গী মগদের সাথে- একাত্মা,
সভ্য যুগের অসভ্য এরা- খুনি জঙ্গি
পশু বীর্যে জন্ম নিয়ে- পশুত্বের ভঙ্গি।

ওরা চেনেনা রক্তগোলাপ, চেনে হত্যা
মানেনা শান্তির- গৌতম বুদ্ধের সত্তা,
করে ওরা পশু পূজা, মানে পশু ধর্ম
মানেনা বিশ্ব আইন, হত্যা শুধু কর্ম ।

দেবতা ওদের- পিশাচ আর ক্ষমতা
ওরা শুধু ভয় পায়- দেখে মানবতা,
শুভ্রতা-সাম্যতা-শান্তিতে নাই বিশ্বাস
দেখে কাঁদে বুদ্ধ, ফেলে কষ্টের নিঃশ্বাস।

তোরাও কাঁদবি শীঘ্র- জেনে নিস খুনি
এটা নয় শেষ- খেলছিস যা এক্ষুনি,
রোহিঙ্গারা একদিন- মেটাবে-ই ঝাল
আজ বাঁচলেও তোরা, বাঁচবিনা কাল।
……………………………………………

শূন্য প্রাপ্তি তোর

মুখটা তোর- বন্ধ রাখ এবার
মিথ্যার কোরাস গাইসনা আর।

তোর দাঁতে রক্ত হাতে রক্ত গোস্ত লেগে আছে নখে
খুনে শার্দূলের- বন্য হিংস্র চাহনি- চোখে মুখে,
ধরার প্রতি প্রান্তরে বিচরণ তোর- ক্ষণে ক্ষণে
হিংসা লিপ্সা আর লালসা ভরা মন- কুলক্ষণে,
তোর তপ্ত লাভাসম লালায়- ভস্ম হচ্ছে লালিত্য
লোলুপ শানিত তরবারি, ছিন্ন করছে ভ্রাতৃত্ব।

কোন্ মুখে আবার বলিস কথা
তোরতো জন্মটাই নিরেট বৃথা।

যুগ-যুগান্তরে রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে- অবৈধ ক্ষমতাসীন
ধরিয়ে দাবানল- তুই ধরাকে করিস সঙ্গিন,
শুভ্র শান্ত শোভিত প্রভাত, জোৎস্নার স্নিগ্ধ রাত
রক্তিম গোধূলি বেলার- মুগ্ধকর বর্ষণ স্নাত,
সবি কুরেকুরে খাচ্ছিস তুই- হানাদার হারামি
সাধুর মুখোশ পরে- করিস সাধুতার ভাড়ামি।

থাম এবার, অনেক ভোগ করেছিস- খেয়েছিস
গলায় ধরে অপ্সরী, নর্তকীর সাথে নেচেছিস,
ভুজঙ্গ ছোবলে দিচ্ছিস- কারোর পাঁকা ধানে মই
ভেবে দেখ, শেষ বিচার দিনে তুই দাঁড়াবি কই।
……………………………………………

সত্যের সত্যাসত্য

বিবেক যার- নৈতিকতার
মনুষ্যত্ববোধ- যত বেশী,
অন্যায়ের প্রতিবাদে তার
প্রতিবাদ তত অবিনাশী।

কেউতো নয়- অবিনশ্বর
পাবে সবাই মৃত্যুর স্বাদ,
মানবেনা এই সত্য যারা
তারা নিখাদ খাঁটি উম্মাদ।

খুঁটি ছাড়া ঝুলন্ত আকাশ
আর পাখাবিহীন বাতাস,
হবে সবি- লীন একদিন
আবার হবে নব বিন্যাস।
……………………………………………

হুস

খেলছে- চন্দ্র- সূর্য আবহমান
জোয়ার ভাটির- চুম্বকীয় টান,
লালনের কন্ঠে- রহস্যের গান
স্রষ্টার- আজব এক অভিধান।

ধরিত্রীর মশাল- জাজ্বল্যমান
ঝুলন্ত সপ্ত আকাশ- বর্তমান,
পাখা ছাড়াই বাতাস বহমান
ভিন্ন ভিন্ন কক্ষপথে ধাবমান।

দেহ আত্মারও আছে কক্ষপথ
পৃথিবী হলো তার রচিত রথ,
খেলে যায় ভুবনে- সৎ অসৎ
সৃষ্টিকর্তা করে- সৃষ্টির শপথ।

বোদ্ধার বোধে- পঁচা ডিমের গন্ধ
বিধাতাকে ভুলে হচ্ছে তারা অন্ধ,
ভুলে ভরা বোধ- ভুলো খানাখন্দ
তবুও- শুদ্ধ ভাবার- মহানন্দ!!

নেইকো হুস- খেলছে অমানুষ
এরা চরিত্রে নয়- দৃশ্যে মানুষ।