গোয়াইনঘাট উপজেলার ৩নং পূর্ব জাফলং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ও ভারতের মেঘালয়ের পাদদেশে অবস্থিত আদিবাসী সম্প্রদায় অধ্যুষিত নকশিয়ার পুঞ্জি, বল্লা পুঞ্জি, সংগ্রাম পুঞ্জি ও লামা পুঞ্জি গ্রাম। ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে ২ শতাধিক পরিবারের ওই পুঞ্জি গুলিতে প্রায় সহস্রাধিক লোক বসবাস করে।
আদিকাল থেকে এ এলাকায় বসবাসের ফলে রয়েছে তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির সময় পুর্ব পাকিস্তানের সাথে ওই এলাকা সংযুক্ত হয়। বর্তমানে এ পুঞ্জিগুলিতে বসবাসকারীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতিতেই জীবন যাপন করছেন।
খ্রীষ্ট ও সনাতন ধর্মের পাত্র সম্প্রদায়ের অনুসারী এ এলাকার বাসিন্দারা। নারী শাসিত এ সমাজে নারীরাই প্রধান চালিকা শক্তি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী। আদিকাল থেকে ওই এলাকার বাসিন্দারা পান সুপারীতে বন্দী।
রাত পোহালেই পুরুষেরা পান ও সুপারী সংগ্রহের জন্য পাড়ি জমান জুম পাড়ে। আর নারীরা ছুটেন পান বাঁধাই করতে জুমের মালিকের বাড়ীতে। পান সুপারী সংগ্রহের জন্য পুরুষ শ্রমিক মজুরী পান ২৫০-৩০০ টাকা এবং নারী শ্রমিকেরা পান বাঁধাইয়ে মোড়া প্রতি ৫ টাকা। একজন নারী শ্রমিক পর্যাপ্ত পরিমাণ পান পাতা সংগ্রহ থাকলে দৈনিক ৪০-৫০ মোড়া পান বাঁধাই করতে পারেন। এভাবেই চলছে তাদের দিন।
শীত মৌসুমে পান সুপারীর জুমে খাবার উপযোগী পান পাতা না থাকায় সে সময় তাদের পরিবারে অভাবের ছায়া নেমে আসে। কিন্তু শ্রমিকেরা সেকাল থেকে জুমের বাহিরে কাজ করে অভ্যস্থ না থাকায় বর্তমান প্রজন্মের শ্রমিকেরা কোথাও কাজ করতে বের হন না। ওই সময়ে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের এ এলাকায় সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
পান বাঁধাইয়ে পরিবারের সদস্যবৃন্দের মধ্যে মা, কিশোরী, শিক্ষার্থী ও মেয়ে শিশু সহযোগিতা করে থাকেন। এ সময় শ্রমিকেরা পান পাতা সামনে রেখে চতুর্দিকে গোলাকারে বসেন। প্রতিটি জমিদার বাড়ীতে এক নয়ানাবিরাম দৃশ্বের সৃষ্টি হয়। ফলে দেশ বিদেশ থেকে আসা প্রকৃতি কন্যা জাফলং প্রেমী পর্যটকেরা ওই পুঞ্জি এলাকা ভ্রমন করে থাকেন। ওই এলাকায় প্রবেশ না করলে জাফলং দেখার তৃপ্তী যেন পর্যটকের পূর্ণ হয় না।
আদিবাসী ও পাত্র সম্প্রদায়ের লোকেরা সুদর্শন, মায়ামতি ও সদালাপি। তাদের বাড়ী ঘর ও যেন পর্যটকদের হাতছানি দিয়ে ডাকছে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালিত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে নকশিয়া পুঞ্জিতে। এখানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন।
প্রতিষ্ঠানের প্রশিক্ষক মোঃ কামরুল হাসান জানান, ৮০জন প্রশিক্ষনার্থী প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। বর্তমানে ৫০ প্রশিক্ষনার্থী এ প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠির উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য প্রযুক্তির উপর ওই এলাকার জনগোষ্ঠিকে সম্পৃক্ত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।