জাবরান খলিল জাবরান’র দুটি কবিতা
সৃজনানুবাদ : আদনান মাসউদ

আজও তৃষিত আমাদের হৃদয়, হে মুহাম্মাদ সা.!

অব্যাহত রয়েছে আপনার চিরায়ত সেই পবিত্র ধারা,
বহমান হয়ে আছে আজও চিরসুন্দর সেই সব স্মৃতিকথা।
কিন্তু,
আমাদের হৃদয়ের তৃষ্ণা নিবারণ হয়নি,
আমরা এখনও পিপাসার্ত।

প্রথম সেই সব সাথীদের জন্য যে তিয়াস বেদনা ছিল আরও তীব্র,
তারাই তো হয়েছিলেন এই বেদনাবিধূর বিচ্ছেদের প্রথম মুখোমুখি।
হারিয়ে যাচ্ছে প্রতিটি দিবস স্বীয় আবহে,
প্রভূ দয়া করুন বন্ধু বিচ্ছেদে অধীর হয়ে পড়া স্বজনকে,
যার বিদায় আকাশে জ্বলজ্বলে জ্যোতির্ময় নক্ষত্রের হঠাৎ লুকিয়ে যাওয়া
কিংবা মর্মর পাথরে গড়া প্রতাপী ভবনের ধসে পড়ার মতোই তীব্র।

মহান তিনি প্রতিশ্র“তির ন্যায়,
তাঁর পরবর্তী মুক্তির নয়া আহ্বানগুলো ছিল না তাঁর মতো
সৃষ্টি সেবায় নিষ্ঠাবান এক প্রতিশ্র“তিশীল।
প্রভূ সেই সব দাস,
যাদের সামর্থ ছিল না নিজেদের ঐকিক লড়াইয়ে,
তিনি যে ছিলেন তাদের আত্মাসমূহের মিলনসেতু।

তারুণ্য আর তার অহং-
কখনোই প্রত্যাবর্তনশীল নয়,
ছিলো না তার মধ্যে চির তারুণ্যের সেই অবিশ্বস্ত অহং।

তারা স্বতস্ফূর্তঃ এক উজ্জ্বল আলোকধারায়
সিক্ত হয়ে উঠলে,
তার পরবর্তী রূপ হতো এমন যে,
তারা পরিণত হয়ে উঠতেন মহানে,
অংশ নিতেন শ্রেষ্টদের কাতারে।

গৌরব তাঁর শীর্ষ চুড়ায় চিরায়ত,
গৃহ যদিও ছিল সংকীর্ণ এক কুটির,
কিন্তু তিনি সেই মহান আলোচনার কেন্দ্র-
যা শতকের পর শতকজুড়ে আজও
জাতি-বর্ণ নির্বিশেষে
সকলের তরে এক অবিস্মৃত আদর্শধারা।

ইবনে হিশামের ভাষ্যে-
‘তার জন্য যে, বিনষ্ট করেছে কালকে, করেছে ধবংসমুখী,
তারপর অর্থের সবগুলো উপধারায় আহুত হয়েছে সংশোধনের।
শব্দরাশি তাকে গড়ন দিয়েছে, দান করেছে আকৃতি,
সে যতটুকু চেয়েছে পেয়েছে,
উত্তম কথার সেই চিরনতুন ধারা, অথবা সেই অতিপুরোনো সেতুধারা।’

তাঁর কথা বলে যাওয়া কখনোই রূপান্তরিত হয়নি,
কথার অযথা অপব্যায়ে কিংবা অতিকথনে।
হৃদয়ের মতোই আমাদের জিহ্বাও হয়ে আছে,
মুখর, অক্লান্ত।
বহমান রয়ে গেছে অবিশ্রান্ত এক জলধারা।
……………………………………………

লেবানন অর্থসমূহের চুড়ায় নিরবধি

প্রথম ক্ষতটির জন্য এখানে রয়েছে
ঐশিবানীর কেন্দ্র,
লেবানন অর্থসমূহের চুড়ায় নিরবধি।
তার কবি অতিক্রম করে গেছেন
সকল কবিদের,
এক মহান পর্বত যা উঁচু হয়ে আছে
স্বীয় গৌরবে সকল পর্বতের উপর।

মহান হে বন্ধুগণ!
তোমরা আমাকে করেছে অক্ষম
সে উত্তর প্রদানে-
যা আমার বিশ্বস্ততা চায়।
যে কথা মুগ্ধ করে রাখে দর্শকদের।

কখনো সখনো আমি যদিও দেখা পাই
তার, কিন্তু তাও যেন ঠিক যথার্থ নয়।

(জাবরান খলিল জাবরান। জন্ম ৬ জানুয়ারী ১৮৮৩ প্যারিসে। ১৮৯৫ সনে মা এবং ভাইদের সঙ্গে আমেরিকার নিউইয়র্কে গমন এবং সেখানেই আবাস গ্রহণ। আরবী কাব্যসাহিত্যের আধুনিক ধারার জনকদের একজন বলে তাঁকে গণ্য করা হয়। তাঁর কবিতায় ফুটে উঠেছে মানুষ এবং মানবতার মুক্তির সেই চিরায়ত বাণী। জীবনের জয়গান গেয়ে গিয়েছেন আমরণ। মহান এই কবি মৃত্যু বরণ করেন ১৯৩১ সনে।)