জননী আমার

জননী আমার তুমি এর চেয়ে বড় সত্য আর কিছু নয়
তুমিতো মৃত্তিকা মাগো যে বলয়ে গড়ে ওঠা আমার শরীর
হাজার অতীত স্মৃতি কষ্ট জড়ো কাঁটাশূল বেদনার তীর
তুমি সত্য তুমি আলো আকাশ উদার যার নেই পরাজয়

নিজ হাতে অগ্নি জ্বেলে সে অনলে আজ আমি করি বসবাস
আগামী জানি না বলে ভুলকে সঠিক ভেবে পড়ে যাই পিছে
শুনেছি লোকের মুখে বেহেশত জননীর দু’পায়ের নিচে
মায়ের এ আশির্বাদে হয়তোবা হতে পারি আমি ইতিহাস

জননী আমার তুমি যার কাছে এই দেশ মানচিত্র ঋণী
একটি বুলেট শুধু মৃদু শব্দে খুলে ফেলে যে নাকের ফুল
তুমিতো সঠিক মাগো বাদ বাকী পৃথিবীর সব স্মৃতি ভুল
অমূল্য সম্পদ এক যা হয় না কোনোদিনো হাটে বিকিকিনি

শূন্যতায় পুড়ে পুড়ে এই মন তাই আজ হয়েছে পাথর
তোমারি পবিত্র মনে আমারি পতাকা যেন সুগন্ধি আতর
…………………………………………..

সৌভাগ্যের ট্রেন

সাহসের কথা শুনে দু’হাতে আঁধার ভেঙে সূর্যমাখা এনেছি সকাল
পাখিডাকা এই ভোর তোমার অপেক্ষা করে ঘুমিয়েছে প্রিয় তিতুমীর
তারাদের বাড়িঘর বিশ্রাম পালঙ্ক জুড়ে শুয়ে আছে মেঘের শরীর
সহস্র আলোক বর্ষ অযুতাংশ সময়ের বয়ে চলা এ পৃথিবী মহিষের পাল

আমিও আদিম বটে সভ্যতার সূর্য ছুঁয়ে দেখেছি যে সমুদ্র অতল
গ্রহদের নানাবাড়ি নক্ষত্র শ্বশুরালয়ে কতবার হয়েছি অতিথি
পৃথিবী আমার বোন ওরা তাই ভালো চেনে উপকারী যত পঞ্চবিথি
গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে আরো আরো প্রয়োজন বায়ুভর্তি আয়ুর বতল

শিল্পীর চোখের কোণে এখনো আসেনি রাত আসেনি এ দীর্ঘ ছায়াপথ
মিল্কিওয়ে তিমিপিঠে চকচকে কারুকাজে পরিমিত রূপালি বালিশ
ব্লাকহোল থিওরির সূত্রগুলে তৈরি হয় বৈজ্ঞানিক আজব মালিশ
ভোরের আযানে রোজ ঘুম ভাঙে; আহ্বানে বেড়ে ওঠে নতুন শপথ

তারকা তারকা চোখে বেলা শেষে খেলা করে জাগতিক সুখের হরিণ
মহামায়া অবনত অশ্রুসিক্ত গোধূলির জলযানে ভাসে অরিয়ন
চাঁদ হয় বরযাত্রী বাতাসেরা বিউগলে সুর তুলে তৈরি করে শুদ্ধ উচ্চারণ
আমার ফিনিক্স মন মঙ্গল জমিন জুড়ে সার্চ করে ফিরে আয়োডিন

সাহস ও সুন্দরেরা মিলে মিশে আজকাল এক হয়ে উঠছে নিলামে
ফেরারি সত্যের মতো দুর্বিনীত এ দুর্যোগে চাপাপড়ে আছে অর্থনীতি
অসহায় চোখগুলো যদিও আগামী মাপে ভুলে ভরা তবুও সম্প্রীতি
আমাদের প্রার্থনায় ব-দ্বীপ স্টেশনে সৌভাগ্যের ট্রেন এসে থামে
…………………………………………..

তোমার আকাশ
উৎসর্গ :কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ

দেখা হতো তাঁর সাথে মাঝে মাঝে কবিতার পথ ও প্রান্তরে
কখনো আলোকদিন কখনো সন্ধ্যার মতো রাত পাহারায়
কেমন আছি, কেমন আছেন এতোটুকু বিনিময়ে পথ হেঁটে যায়
অবাধ্য সময়ে তিনি আমাদের না জানিয়ে অন্য গ্রহান্তরে

শ্রাবণ উড়াল মাখা কাশফুল এই দিনে কাফন সময়
আমরা আহত হই ব্যথিত ফুলের মতো তুমি শূন্যতায়
কবিতার এই পথে আমরাও বেড়ে উঠি তোমার ছায়ায়
অসুন্দর মৃত্যুর কাছে মানে না তো কোন কবি তাই পরাজয়

অসংখ্য নক্ষত্র ভাসা বায়বীয় এ আকাশে তুমি ধ্রুবতারা
তোমার হাতের ফাঁকে ঝরে পড়ে রাশি রাখি অক্ষরের ফুল
যেমন কৈশোরে দেখা মোহনীয় সুবাসিতো আমের মুকুল
অনন্ত নক্ষত্রে তুমি আশা রাখি পেয়ে যাবে মেঘের পাহারা

শিশির আগামী দিনে শিথানের পাশে রাখা জীবনানন্দ দাশ
বামপাশে নজরুল পড়ে আছে ঠিক যেন সদ্য পড়া শেষ
তরুণ কবিটি অব্ধি আরো আরো কতো কিছু বিশেষ বিশেষ
সাদা সাদা মেঘবাড়ি শূন্য করে হেসে ওঠে তোমার আকাশ
…………………………………………..

নাকফুল স্মৃতি

নাকফুল স্মৃতি জানে সময়ের সঠিক ঠিকানা
অথচ সময় তুমি শুধু শুধু নিজেকে লুকাও
বিলিয়ণ কালব্যাপী সৃষ্টিতত্ত্বে তুমি সাঁতরাও
তোমার ভেতরে বাস তথাপিও সবিতো অজানা

সাগরের নীলজলে প্রাণিদের সুখের নিবাস
শখ হয় দেখে আসি যতসব জীবন্ত শৈবাল
শূণ্যের ভেতর দিয়ে বেড়ে ওঠো তুমি মহাকাল
আবাদী পৃথিবী জুড়ে পড়ে থাকে যত ভূমি খাস

শুভ্রের ভেতর নীল কারুকার্জে প্রিয় থোকা ফুল
দেখে দেখে বালকের ঘুম ভাঙে মাছরাঙা ভোরে
সবুজ পাখির ঝাঁক গান ধরে আরো আরো জোরে
অবিক্রিত অতীতের স্মৃতি আঁকে সাজানো শিমুল

সময়কে খেয়ে খেয়ে বালকেরা বৃদ্ধ হয়ে যায়
কাচগৃহে বন্ধি মন আজো যেন ইস্কুল পালায়
…………………………………………..

বরফ চোখের খোঁপ

নিয়ত দশক আসে নতুনের ফোটে ফুলঝুরি
তিরিশে জীবনানন্দ চল্লিশের প্রিয় ফররুখ
কবিতা বাতাসে মিশে তৈরী হয় পাখি উড়া সুখ
আনাচে কানাচে নড়ে পদ্যময় প্রস্ফুটিত কুঁড়ি

পঞ্চাশের মাহমুদ ফজল কাদেরী রাহমান
আলোর জোয়ারে ভেসে যারা ছোঁয় কঠিন আগামী
চর্যার নায়কগণ ইতোমধ্যে হয়ে ওঠে দামী
তাদের এ ঘাসপথে যে কবিতা হয় বহমান

মেঘের পাহাড় কেটে যারা আনে বৃষ্টির সকাল
তাদের দর্শন তত্ত্বে পৃথিবীর বিস্তৃত সভ্যতা
ঈশান নৈর্ঋত ভেঙে চূর্ণকরা যতনীরবতা
বরফ চোখের খোঁপে বেঁচে থাকে কবি দীর্ঘকাল

দশকে বিশ্বাসী নই অদশকে থেকে যেতে চাই
ফুলের সুবাস মেখে মহাকালে বাজাবো সানাই
…………………………………………..

যুগল মেকুর

অভাবী শরীর জুড়ে শুধু মাখি কল্যাণের রোদ
এর চেয়ে কম দামে কিবা আছে বলো পৃথিবীতে
আয়নিক হস্তরেখা বোঝে না তো মানুষ নির্বোধ
সময়ের চক্র বাঁকেফিরে আসে আপন অতীতে

মেঘ জল প্রার্থনায় নেমে আসে বৃষ্টির মিছিল
অনুর্বর ভূমি তাতে ফিরে পায় হারানো জৌলুস
রিজিকের ফয়সালা এ ভূমিতে ওড়ে গাঙচিল
আলোকবর্তিকা হাতে নেমে আসো পুরাণ পুুরুষ

ছায়াযুক্ত অন্ধকারে আলোজ্বলা ভোরের তিয়াস
জনপদে গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে মানব বসতি
বায়ুর শরীর ভেঙে নিঃশ্বাসের মিটায় পিয়াস
শূণ্য হতে পূর্ণবৃত্তে রূপান্তর কঠিন জ্যামিতি

প্রাপ্তির প্রতীক্ষা শেষে প্রকৃতিরা তুলছে ঢেঁকুর
কাঁটা খেয়ে দিন পার; স্বপ্ন দেখে যুগল মেকুর
…………………………………………..

আমার সময়ে আমি

ইতিহাস এ আমাকে খুঁজে নেবে পাথরের পরতে পরতে
চাঁদের জোসনা মাখা এ আলোতে সব কিছু জানি যাবে ঢেকে
সাদা সাদা প্রিয় মেঘ নীলের শরীর ঢেকে যতো দূর যায়
আমার স্বপ্নের রঙ বর্নিল সীমানা জুড়েযেন নিরুপায়

ওড়ে কাক ওড়ে পাখি রোদের সীমানা শেষেএই সন্ধ্যায়
যখন জোনাকিগুলো সাঁতরাতে ভালোবাসে মহানন্দায়
বাড়ি ফেরা উজানের স্রোতের ভেতর মাছ নড়চড়ে ওঠে
রাতের নদীতে চাঁদ অভাবের জনপদে খই হয়ে ফোটে

দোনালী আলোর ভাঁজে কেরোসিন সময়েরা জানি সিন্ধুকিত
সোলার প্যানেল কাল পারফিউম সন্ধ্যায় তরুণীর মন
যখন বাতাসে ভাসা ইওয়ানে সুরারিত কণ্ঠ আয়োজন
কবিতাতোমার জন্য আমার সময়ে আমি শুধু নিন্দুকিত

তবুও আকাশ মেঘে আশা গড়ি বালুঘর নীহারিকা দিন
জলঢাকা সীমানায় আমার পতাকা উড়ে স্বাধীন স্বাধীন
…………………………………………..

একটি দিনের জন্য

তোমার খোঁপায় দেই প্রতিদিন একটি গোলাপ
এ শুভ্র সকাল হতে এ রাত্রির গহীণ অবধি
আমিতো সমুদ্র এক ক্রমাগত তুমি শাখা নদী
আশ্রিত সত্যেরা জানে জীবনের কতটুকু পাপ

পুণ্যের হিসাব রাখে এই রাত জোনাকি আলোক
দূর কোন মেঘ পুঞ্জ, ছায়াপথ,জ্যান্ত নীহারিকা
এক গৃহে বসবাস তথাপিও অচিন বালিকা
মোমের শরীর নয় দেহ তনু সময় জ্বালোক

তোমার ভূবন জুড়ে অহরাত্রি নিশিথ আখ্যান
আমি যার দেয়ালিকা শব্দপাঠ প্রিয় বর্ণমালা
নৃতাত্ত্বিক অভিজ্ঞানে ছন্দমূল এই পদ্যপালা
ফুলের উপমা ঘেরা এই গৃহ সমূহ প্রমান

এই রাত শেষ বলে এই ভোর কাঁদছে একাকী
একটি দিনের জন্য কতোকাল অপেক্ষায় থাকি
…………………………………………..

বৃষ্টিরা বেড়াতে এলে

বৃষ্টিরা বেড়াতে এলে প্রিয় কাক বলে দিও কবি বাড়ি নেই
রোদেরা উঠোনে থাক একটু শুকালে পরে ঘরে নিয়ে এসো
মেঘের ভেতর দিয়ে স্বপ্নের জাহাজ এলে প্রয়োজনে হেসো
সাহসী নাবিক তুমি যদি আসো খুশি হবে তবে সকলেই

রোদেরা কবিতা বুঝে কবিতাও রোদখেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হয়
রমনী উদাসী তাই কবিতার বিনিময়ে হয় বিকিকিনি
ভবিষ্যত আলোকিত হয়ে গেলে কবি হবে অজেয় কাহিণী
ইতিহাস জানে রোদে সে দেখেছে অতীতের জয় পরাজয়

পড়ন্ত বিকেল হলে রোদগুলো নিজ মনে বাড়ি ফিরে যায়
রোদেরা ঘুমিয়ে গেলে আঁধারের খুববেশি বাড়ে উৎপাত
ঘুমঘুম চোখ মুছে চাঁদ মামা জেগে ওঠে খোঁজে অজুহাত
তার সাথে জোনাকিরা আলোজ্বেলে হেটে এলে আঁধার পালায়

আধোআলো অন্ধকারে কবিতার শিল্পীগণ নয়তো অনাথ
আষাঢ়ে বৃষ্টিরা চিনে জাগ্রত বর্ষার শিল্পিত রবীন্দ্রনাথ
…………………………………………..

আমার কবিতা

আমার কবিতা তুমি হেঁটে চল আপন গতিতে
পৃথিবীর প্রান্ত ছুঁয়ে অন্য কোন গ্রহে যেতে পারো
যাও নিতো ফিরে আসো বরাবর প্রাচীন অতীতে
কালনেত্র দৃষ্টিমেলে এঁকে যাও ইতিহাস আরো

কবিতা আমার তুমি দেখে এসো বরফ সকাল
সাইবেরিয়ার সেই পেঙ্গুইন হাঁটি হাঁটি পা-পা
মেরুর কাহিনী শুনে এইভাবে যায় মহাকাল
ইতিহাস যার নিচে এখনো রয়েছে ঠিক চাপা

কবিতার চাষ করেপৃথিবীতে ফসল ফলাই
যে ফসলে ভরে ওঠে সভ্যতার নিটোল কাহিনী
এ কোন দানব এসে সব করে দলাই মলাই
আমার এ জনপদে কারা এই নতুন বাহিনী

সাহসী বীরের জন্য আজো কাঁদে পৃথিবী প্রবীণ
অন্ধকার মুছে যাক শুধু চাই আলোকিত দিন