গন্তব্য

এই যে নদী বয়ে চলে ইচ্ছে যে’দিক হয়
একলা আকাশ নাকি একলা নদী!

একটাই আকাশ ভিন্নভাষী
একটাই ভূমি হরেক চাষী

এই যে জমি ফসল ফলে
হিমালয়ের বরফ গলে
মরুর বুকে পথিক ঘামে
স্রস্টা ডাকে ভিন্ন নামে।

এক পসরা বিভেদ সাজায়
জাত বেজাতে দ্বন্দ্ব বাড়ায়।
দালানকোঠা দালানবাড়ি
সাড়ে তিন হাত চিতায় সারি।
……………………………………………

হ্মুধিত অহ্মর

কাহারে বলিব আমি
বিধাতার আজব রীতি
পাঠাইয়া ভুবনে মানুষ
কেহো দামী কেহো কমদামী।

যে পাখি নীড় বোঝেনা
সুর খুজে আপন মনে
দুটো দানা হাত পাতে সে
লজ্জা ভুলে পেটের টানে।

না জেনে তুমি বুঝিয়া লইলে
এ আর এমন কি?
স্বাহ্মরতার জ্ঞান থাকিলে
দু চার কলম সবাই পারে দিব্যি।

তোমার বুঝটাই তুমি বুঝিয়াছো
ভরাপেটে তাই দেখনি ভাবিয়া
হ্মুধিতদের কি জ্বালা!

তাকিয়া দেখো আজ ফুটপাতে
অহ্মর ভাত চায় একথালা।
……………………………………………

পাপী

এই নগর যখন গতির বাজনা থামায়,
হলুদ আলোয় হ্মুধিতরা পসরা সাজায়।
হ্মুধা তুমি কি মেনে চলো কোনো জাত!
অর্থ আসুক আসুক সাদা ভাত
বাবুই হাসুক হাসুক তার চাদ।
নগরীর দেয়াল ঘেষা একটুখানি ভূমি,
ময়লা দেহে ডাক শোনেনা হায়রে অন্তযামি।
মাঝরাতে তাই পাপ বিলিয়ে শেষরাত্রে তার ছুটি
হ্মুধা পেটে হ্মুধা বেঁচে নেই জীবনের খুটি।
……………………………………………

দেবী মুখ

শরতের দেবীর মুখ দেখে কি হবে
এত বছর কার প্রার্থনা তুমি ফিরিয়েছো
ফিরতি খামে কোনো চিঠি আসে নি

তুমি দেখোনি তোমার অভুক্ত সন্তানদের
তোমার জন্য কতো বাহারি পোশাক
আর সন্তানের বেঁচে থাকাই অভিশাপ

মাটির মা তুমি কি বা তোমার দেয়ার আছে
তুমি আসলে তোমায় ঘিরে সন্তানেরা পাশে থাকে

হাতে-হাত কাঁধে কাধ হয় যে মিলন মেলা
চলে গেলেই শুরু হয়ে যায় জাত-পাতের খেলা

নাক সিটকোয় ধোপা দেখে নমস্কারে বাবু
দূর্বলরে লাথি মারে বিত্তবানে কাবু

ঢাকের তালে নেচে গেয়ে দেও যে মায়ের বিদায়
মাটির মাকে ভক্তি করে আপন মাকে হ্মুধায়

নিজ মায়েরে দুঃখে রেখে এই মায়েকে সুখে
স্বর্গ ছবি আছে আাকা নিজ মায়েরেই মুখে।
……………………………………………

মা আর খোকন-০১

বৃথা একটি নশ্বর প্রান আজগুবি সব ধাধায়,
শিশুকাল ছুটেছিল স্বাধীনতার তিব্র আশায়!
মায়ের আদরে শাসনমাখা ভালোবাসায়।

বড় হয়ে এমনটা হবি খোকন”
যেমনটা হয়েছে উত্তর পাড়ার দীপেন মশাই
রোজ শতশত রোগী লাইন ধরে তার চেম্বারে
মুমূর্ষু শতবর্ষী রোগী ছুঁয়ে দিলেই আয়ু বাড়ে!
মা যে কি বলে না বলে”
খোকন হবে উড়নচণ্ডী উড়িয়া বেড়াবে ঘুড়ি
আকাশ পাতাল মর্ত্য ফাটিয়া দেখাবে বাহাদুরি!
খোকনের ভয়ে মঙলতে পালাবে চাদেঁর বুড়ি।
……………………………………………

হারিয়েছে

এপাড়ার যত শালিক ছিলো
সব বিরহ নিয়ে উড়ে গেছে
যেতে যেতে মেঘে র দেয়ালে
নিখোঁজ বিজ্ঞাপন এটে গেছে।

হারিয়েছে হলদে তাতের শাড়ি
পাতলা ঠোটে গুনগুনানি সুরে
লাজুক চোখে গল্পে এলোমেলো
দুধ সাদা মুখ শীতের ধোয়া উড়ে।

আবার যেদিন ফিরবে তুমি বাড়ি
শরৎ বিকেল সাথে নিয়ে এসো
মেঘের ভেলায় ভাসিয়ে তোমার আচল
খুনসুটি ভুলে আবার ভালোবেসো।
……………………………………………

ভাষন

মহাজনের যত জমিদারি
দেখিতে হয় বুঝিয়াশুনিয়া স্বীয় গাছে ঢিল মারি।
আপন বিচার আপনি করিলে কিসের আদালত
ছদ্মবেশীও কুকর্ম করিয়া দেখায় পরলৌক।

মহাজনের যত জমিদারি
দেখিতে হয় প্রধান আসনে হাকডাক আহামরি
চারদিক চলে হরিলুট আর অযৌগ্যদের শাসন
ধন লুটিয়া গরীবের আজ সমাজপতির ভাষন।
……………………………………………

কাব্য যদি

কাব্য যদি খাদ্য হতো
ভীষন খেতে পেতাম
হ্মুধার জ্বালা হটিয়ে দিয়ে
সুখের নিদ্রা যেতাম।

কাব্য যদি প্রিয়া হতো
মুখের পানে অবাক মনে
সকাল বিকাল রাত্রি দুপুর
তীব্র প্রেমে হ্মনে হ্মনে।

কাব্য যদি অসুখ হতো
থাকতাম ভুগে সারাহ্মন
শত কোটি চয়ন লিখে
নাই বা থাকুক প্রিয়জন।
……………………………………………

টোকাই

অনাদর নিয়েই বেড়ে উঠে শৈশব
জন্ম সে তো আজন্ম পাপ
পরিচয়হীন কে বা মালিক কিসের অভিশাপ।

নর্দমা, রেললাইন কিংবা ফুটপাত
ময়লাটে পোশাকে নিত্য বিচরণ
এধারওধার হাত পেতে হয় অন্ন আহরন।

ইশকুলে আর হয় না যাওয়া ধরে মায়ের হাত,
ফুটপাত তার হয় যে দেখা অনাহারী চাঁদ।

রাষ্ট্র তুমি হচ্ছো ধনী থাকুক ওরা বোকাই
ফুটপাথ এর অন্ধকারে বাচুকঁ লড়ে টোকাই।
……………………………………………

আহ্বান

শহরের মিছিলে স্লোগানে স্লোগানে
পেয়ালায় চুমুকে চায়ের দোকানে
শারীরিক ভাঁজে প্রভাতের নিকোটিনে
অধিকার নিত্যদিন খুঁজে পরিত্রাণে।

একটা রাত্রি নামুক এই শহরের বুকে
অভাবের ছুটির ঘণ্টা বাজাও শাসক
দারিদ্র্যতার রেটিং বিজ্ঞাপনেই ভালো
হ্মুধা মিটুক চোখে জ্বলুক ঘুমের আলো।