মনোভাব

পরের ক্ষতি মন্দ অতি
বুঝবে সবে কবে,
জীবন সুখে নিজের বুকে
তীর বিঁধিবে যবে।

পরের ক্ষতি করতে অতি
মনে লাগে ভালো
নিজের কাজে নানান সাজে
ধরা ভীষণ আলো।

পরের ক্ষতি জীবন গতি
নষ্ট করে কভু
চাইবে যতো পাইবে ততো
শুদ্ধ নারে তবু।

পরের ক্ষতি মজায় অতি
দুষ্ট জনে বুলি
মনে মনে জনে জনে
রাতে ছাড়ায় ধুলি।

তাদের কথা বলতে ব্যথা
লাগে ভালো মনে
পাজির সাথে নয়তো হাতে
বলে ক্ষণে ক্ষণে।
……………………………………………

সত্য মিথ্যা

সত্য মিথ্যা পাশাপাশি
ভালো মন্দের ধারে,
নিজের স্বার্থ আদায় করতে
মিথ্যা বলে সারে।

সত্য হলো আঁধারো দিন
মিথ্যা ভীষণ কালো
সত্য মিথ্যা আলো আঁধার
পার্থক্যটা ভালো।

সত্যের আলো মনে জ্বালো
বুঝবে এটা কবে
মিথ্যার জালে পড়লে ধরা
ক্ষতিই হবে তবে।

মিথ্যার জালে বদ্ধ জীবন
মুখে মধুর ভাষা
দেখলে তারে মনে হবে
সত্যি দিচ্ছে আশা।

সত্য প্রচার নাহি করে
মিথ্যা আশা মনে,
আশায় আশায় পথটা চেয়ে
থাকে ক্ষণে ক্ষণে।
……………………………………………

মা পরম ধন

মাগো আমার জান্নাত
হলে তুমি সবার সেরা,
মায়া জালে তোমার
মনটা থাকে সদা ঘেরা।

তোমার স্নেহের সাথে
নেই তুলনা কারো কভু
মাকে আমরা সবাই
বাসবো ভালো পণ যে তবু।

তোমার পরশ পেয়ে
ধন্য আমি মাগো ভবে
তুমি খুশি থাকলে
সহজে স্বর্গ মিলবে তবে।

সুখে দুখে সদা
থেকো মাগো পাশে পাশে,
বলো পৃথিবীতে
কারো দায়ে কে’যে আসে।

জীবন সংগ্রামে যে
মাগো একলা লড়তে হবে,
তুমি পাশে থাকলে
যাবে কেটে বাঁধা সবে।
……………………………………………

রূপবতী ললনা

রুপে গুনে স্বরস্বতী
লক্ষীবন্ত ওই মন,
হাসি মজা নানা খেলা
চলে সবার ওই সন।

দৃপ্ত পায়ে হেঁটে চলা
ইচ্ছে খুশি মত,
তার যে রুপের শোভা বলতে
করণিক যে শত।

দেখে যেজন প্রেমে পড়ে
রূপবতীর যে রুপ,
পূজা করতে লাগে যেমন
আগর বাতি আর ধুপ।

মন ছুয়ে যায় তারই রুপে
ভেবে পায়’না কিছু,
দিবানিশি স্বপ্ন দেখি
ঘুরছি যে তার পিছু।

এলোমেলো ভাবনা গুলো
আর কি হবে বলা,
না পাওয়ার ওই আগুন নিয়ে
জীবন যুদ্ধে চলা।
……………………………………………

মানব জনম

জন্ম আমার মানবকুলে
মনে কত আশা,
আশা গুলো বলবো আমি
খুঁজে পায় না ভাষা।

প্রভুর বিধান মেনে চললে
জীবন হবে ধন্য
বিধান মেনে না চললে ওই
আখের হবে শূন্য।

মানব জন্ম নয়তো সহজ
পদে পদে বাঁধা
সব বাঁধা যে কাটতে পারলে
মনটা হবে সাদা।

সৃষ্টিসেবা করে যেজন
মনে প্রাণে সবে
নিখিল বিশ্ব সবি তারি
তিনি মালিক ভবে।

সময় বয়ে চলে সদা
মানব জীবন সেরা
দায়িত্ব আর কর্তব্যতে
পুরো জীবন ঘেরা।
……………………………………………

রাজাধিরাজ

ধরা চলে প্রভুর কথায়
বুঝবে সবে কবে,
তার ইশারায় সূর্য ওঠে
মালিক তিনি ভবে।

পাখির গানে মুগ্ধ সবাই
সৃষ্টিকর্তার লীলা
ধরার অপার সৌন্দর্য যে
প্রভু ক্যামনে দিলা।

তুমি হলে রাজাধিরাজ
সকল কিছুর স্রষ্টা
তোমার দেওয়া বিধানে না
চললে সে পথ ভ্রষ্টা।

নিয়ামতের শোকর করি
আমরা সবে মিলে
সব কিছু তো মোদের জন্য
প্রভু তুমি দিলে।

পৃথিবীতে তোমার সম
নেই তো কারো শক্তি
তোমার জন্য বান্দার মনে
সীমাহীন যে ভক্তি।
……………………………………………

বাদলা দিন

বাদলধারা করছে তাড়া
এলো আষাঢ় বলে,
খেলবো খেলা গানের মেলা
আয় রে দলে দলে।

বৃষ্টি ভেজা ভীষণ মজা
লাফালাফি জলে,
তরী নিয়ে ভাসতে গিয়ে
নানা খেলার ছলে।

কৃষকের ধান সহর্ষে গান
মনটা ভীষণ বলে,
বাদলা দিনে পেটের ঋণে
থাকলে বসে চলে।

কদম কেয়া ডাকে দেয়া
ব্যাঙের বাদ্য দলে,
দলে দলে তারা চলে
ডোবা নদের জলে।

মেঘের ভেলা জলের খেলা
বর্ষার নানা ফলে,
সবুজ শ্যামল সৃষ্টি কোমল
দেখ রে দলে দলে।
……………………………………………

সাম্যের কথা

মেথর মুচি নয় অশুচি
বান্দা তাঁরি সব,
মানবসেবা অমূল্য ধন
সবার তিনি রব।

তাঁরি কাছে দামি নয়
বংশ মান সব
ধরাতে সব সৃষ্টি তার
তিনি হলেন রব।

নিচু কর্ম করলে ভাই
নর কি ছোটো হয়
প্রভুর কাছে সবে সমান
পর তো কেউ নয়।

ধরার সবে কর্মে মাপে
নরের ওই ভার
তাদের মতো নিচু মানুষ
নেই তো কভু আর।

নিচু মনের মানুষ সব
নিচু কথা কয়,
তাদের কাছে মেথর মুচি
মানুষ ভাই নয়।
……………………………………………

পাপী

পাপে পাপে নষ্ট জীবন
রক্ষা করো আল্লা,
আমল না’রে করলে পাপে
ভারী হবে পাল্লা।

পাপের শাস্তি ভীষণ কঠিন
যায় না কভু বলা,
সবার উচিত নবীর কথায়
পুরো জীবন চলা।

নবীর কথা মেনে চললে
জীবন হবে ধন্য,
পাপের বোঝা তখন হবে
একেবারে শূন্যে।

পাপে পাপে জরাজীর্ণ
অশান্তিতে ভোগে,
পচন ধরে মনের কোণে
নানা কষ্ট রোগে।

পাপের জন্য প্রভুর কাছে
ক্ষমা চাইব রে ভাই
প্রভুর মতো ক্ষমাশীল যে
ত্রিভুবনে ওই নাই।
……………………………………………

বাবা

বাবা তুমি আমার কাছে
আনন্দ আর হাসি
তোমায় ছাড়া আমি শুধু
নয়ন জলে ভাসি।

ছেলেবেলার ইচ্ছে খুশি
ধরেছি যে বায়না,
তোমাক ছাড়া আমার মনে
আর তো কিছু চাইনা।

বাবা তুমি ছিলে আমার
নিত্য খেলার সাথী,
আঁধার রাতে চলার পথে
চাঁদের মতো বাতি।

বাবা তুমি সুখের জন্য
খেটেছো যে বেলা,
গায়ের ঘামে হয়েছে যে
জল সাগরে মেলা।

বাবা তুমি আমার কাছে
বৃক্ষের মতো ছায়া,
এই ধরাতে তোমার মতো
নেই যে সুন্দর কায়া।