পরাবাস্তব

সবার কাছে হয় না জানি
সব প্রিয়
সত্য কথা তাই চিরদিন
অপ্রিয়।

অপ্রিয় তাই কে হতে চায়
ঠ্যাকা কার?
সত্য-মিথ্যা সবকিছু আজ
একাকার।

মিথ্যা এখন সত্যকে যায়
ছাড়িয়ে
বোকার মতো দেখছি শুধু
দাঁড়িয়ে।

সত্য বলার সেই সাহসী
লোক কই?
বাড়ছে শুধু মিথ্যাবাদীর
পক্ষই।
…………………………………………..

ধুত্তুরি ছাই

ধুত্তুরি ছাই
ধানাইপানাই
করতে আমি শিখিনি
পেঁয়াজ কিনে পকেট সাবাড়
পয়সা তো নেই; কী কিনি?

শুনতে পেলাম গায়বি আওয়াজ-
তোদের মতো মিসকিনে
পেঁয়াজ তো নয়, খুব বড়জোর
খেতে পারিস বিষ কিনে।

বিষের টাকা
কোথায় রাখা
দাও-না কিনে বিষ খাই
নাওয়ে চড়ে বিষ মাখানো
খাদ্য অহর্নিশ খাই।
…………………………………………..

ছড়ার ছড়া

ছড়া যদি কড়া হয়
চোখ ছানাবড়া হয়
ভুলচুক ধরা হয়
গদি নড়াচড়া হয়
হয় আর কত কী
বাড়ছেই ছড়াকার
তাই শত শত কি?

ছড়া যদি কড়া হয়
দেশটাকে গড়া হয়
ভেজালেরা মড়া হয়
সেই ছড়া পড়া হয়
হয় কত কিছু আর
ছড়াকার মাথা তার
করবে না নিচুআর।
…………………………………………..

ছেঁড়াকথা

কাজের গতি আনতে যদি
হয় প্রতিদিন ঘি দরকার
নাম-বেনামে মন্ত্রী থাকার
বলুন তবে কী দরকার?

জনগণের সেবার সূচক
নামছে ক্রমে নিচে রে
সকল কাজে পিএম লাগে-
মন্ত্রী তবে কী ছেঁড়ে?

ছিঁড়ছে ওরা নিজের ইয়ে…
ধুত্তুরি ছাই! কী বলি-
তারচে’ আসুন ওদের নামে
সবাই মিলে ছিঃ বলি।
…………………………………………..

শতভাগ

বলতে পার বাংলাদেশে
শুদ্ধ মানুষ কত ভাগ?
সন্দেহ নেই, শতভাগ।

সবাই যদি শুদ্ধ মানুষ
দুর্নীতি আজ কে করে?
খোঁজ কর গে শেকড়ে।

যার শেকড়ে পচন ধরা
মানুষ সে-তো অগণ্য
বিষয়টা নয় নগন্য।

এবার বলো বাংলাদেশে
দুর্নীতিবাজ কত ভাগ?
সে হিসেবে শতভাগ।
…………………………………………..

ঢাকব কোথায় লজ্জা

এক অফিসে একই পদে
চাকরি করি অনেকেই
কিন্তু আমি প্রায় সময়ই
হারিয়ে ফেলি মনে’ খেই।

বাজার থেকে মাছ-মাংস
কিনতে গিয়ে ভয় করি
বাজেট গুনে তাই প্রতিদিন
শাক-শুটকি ক্রয় করি।

কিন্তু আমার সম-পদের
অন্য কলিগ দু’চারজন
ফাইল ঠেকিয়ে করেন যারা
বাড়তি কিছু উপার্জন-

তারা রোজই টেক্কা দিয়ে
কেনেন যা-যা দরকারি
মাছ-মাংস, বাসমতি চাল
কিংবা তরি-তরকারি।

দেখে আমার পিত্তি জ্বলে
জ্বলে হাড় ও মজ্জা
হে ধরণী দাও বলে দাও
ঢাকব কোথায় লজ্জা?
…………………………………………..

রুই-কাতলা

কেউ হয় খুব মোটা
কেউ হয় পাতলা
কেউ কেউ চুনোপুঁটি
কেউ রুই-কাতলা।

কেউ খায় লুটেপুটে
কেউ থাকে উপোসী
কারো মুখ কদাকার
কেউ খুব রূপসী।

চেহারায় যা-ই হোক
চোর যদি হয় সে
মানুষের থুতু-ঘৃণা
পাবে অতিশয় সে।

তাই নেই প্রয়োজন
বেছে মোটা-পাতলা
নির্মূল কর আজ
যত রুই-কাতলা।
…………………………………………..

চাপাবাজ

ঘর থেকে কোনোদিন
যাননি তো বাইরে
চাপা মারা রোগ তার
সব কাজে পাই রে।

পৃথিবীর বহু দেশে
তিনি নাকি ঘুরেছেন
চাপা মারা গপ্পোটা
সেইদিনও জুড়েছেন।

চাপা শুনে বলে তাই
হারাধন নাপিতে-
আপনার জ্ঞান দেখি
আছে জিওগ্রাফিতে।

তিনি কন- আরে ভাই
জিওগ্রাফি দেশটায়
কাটিয়েছি দু’ বছর
জীবনের শেষটায়।

দেখবার বাকি নাই
আর এই দুনিয়া-
সকলেই হেসে ওঠে
তার কথা শুনিয়া।
…………………………………………..

পাকামি

খোকার বয়স ছয় হয়েছে
খুকির বয়স চার
ইশকুলে তাই যাবেই ওরা-
ধরেছে আবদার।

কিনে দিলাম রং-বেরঙের
অনেক ছড়ার বই
খোকা বলে- আমি তো আর
ছোট্ট ছেলে নই।

নিজের হাতে ভাত মাখিয়ে
নিজেই খেতে পারি
মাথায় তুলে রাখতে পারি
সমস্ত ঘরবাড়ি।

তোমরা তবু আমায় কেন
ছোট্ট ছেলে ভাবো
কালকে থেকে একা একাই
ইশকুলে ঠিক যাব।
…………………………………………..

শিশু

শিশু মানেই ফুলের শোভা
কোমলমতি প্রাণ
প্রজাপতির রঙিন ডানায়
মিষ্টি ফুলের ঘ্রাণ।

মেঘের মতো ওড়াউড়ি
ফুলবাগানে ঘোরাঘুরি-
বর্ষাকালে ঢেউ খেলানো
নদীর কলতান
গাছের ডালে কিচিরমিচির
হরেক পাখির গান।

শিশু মানেই শুক্ল তিথির
জোছনা ঝরা হাসি
মায়ের বুকে স্নেহের পরশ
সোহাগ রাশি-রাশি।

দূর্বাদলে শিশির কণা
দুষ্টু হলেও লক্ষ্মীসোনা-
দূর আকাশে তারার মতো
ঝিলিক অবিনাশী
বুকের মানিক সব শিশুকে
তাইতো ভালোবাসি।