আনাড়ি

ভালোবাসায় খুব কিনারা ঘেঁষে
এক স্রোতস্বিনীর বসবা
যার অক্লান্ত জলে তোমার প্রতিবিম্ভ পড়ে না
অনন্ত-অবিনাশ হৃদয় ভাস্কর্যে
তুমি ছদ্মবেশে বিমূর্ত
এরপরও সত্য আর সত্তার সংঘাতে
তুমি শূন্যতার সমার্থক মাত্র
এরপরও
শতকুরূপা রাত্রি শেষের ভোরে
তোমায় ঘুমন্ত কপোলে
আমার হাত।
যে আনাড়ি স্পর্শে জড়ানো নয়নের
কাঁচা-লোনাজল
…………………………………………..

ভাঙা সকালের রোদ্দুর

একটুকরো রোদ্দুর
অজানা জানালার ভাঙা শিক গলে
করুন হয়ে আলোকিত করছে…
নিথর নগ্ন শরীর টিকে!
নাকের নোলক, লাল দুটি ফিতে
পড়ে আছে বিবর্ণ হয়ে
জমাট বাধাঁ কালচে রক্তে।
একগুচ্ছ কলো চুল, বেণির হলুদ রবার
আর, সালোয়ার- ওড়নার ছেঁড়া অংশ
এলো মেলো ছড়ানো মেঝের একাংশে।
কালচে হয়ে যাওয়া …
তোমার রুল টানা খাতায় আমার বিষ পিপঁড়া গুলো
আঁধারে ছবি আঁকে;

আমি এখনো অন্ধ বিকেলে চুড়ির নিক্কন শুনি
কারও ফিরে আসার অপেক্ষায়।
…………………………………………..

বিজয়ের মৃত্যু নাই

বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ- চারদিকে লালের গন্ধ
বাতাসে পতাকা উড়িয়ে দাও, বিজয় বার্তা আমাদের
সোনালি শস্যের আকাশ, সবকটা জানালা খুলে দাও,
এই রক্ত ভেজা শার্ট হোক বিজয়ের প্রাামান্য দলিল।
কালরাত্রির গর্তে জন্মেছে বলে
মাটি কি তাকে শেকড়ে জড়িয়ে রাখেনি,
ফিরে এসো এই মাটির কাছাকাছি।
আমরা কোনো বিদেশী আগন্তক কিংবা পরিবায়ী পাখি নই
বহুমাত্রিক যৌবন ধানের কোমল গন্ধে
মাটিতে ছড়িয়ে দাও কিছু রক্ত বীজ
আমাদের রক্তের গন্ধে জেগে থাক মহাকাল,
জেনে যাক সবাই, বিজয়ের কখনো মৃত্যু নাই।
…………………………………………..

বর্ষা দিনের পদ্য

বর্ষা দিনে আমার ঘরে
কেউ ছিল না আর
হঠাৎ দেখি চৌকাঠে ওই
তোমার শাড়ির পাড়
তারপরে তো তুমি এলে
প্রথম বৃষ্টিপাত
চোখে তোমার জল ছিল না
বিজলি সম্পাত।
চৌদিকেতে ঝম ঝমা ঝম
ঝরছে মুষলধারা
ঘরের মাঝে দুটি হৃদয়
ব্যাকুল আত্মহারা।
এমন দিনে উতলা প্রেম
জন্ম দিল সদ্য
কানে বাজে প্রানেও বাজে
বর্ষা দিনের পদ্য।
…………………………………………..

বৃষ্টি ভেজা কবিতা

গত রাতের ভেজা কবিতা
যা তোমার আহ্লাদে ভিজে ছিল
তা আজ রোদে শুকোতে দিয়েছিলাম।
তারপর তোমার গন্ধে হারিয়ে যেতে…
আবার মন কাড়া বৃষ্টি নেমে এলো
আমি কবিতা বাঁচাতে ছুটে এলাম
ছাদে এলাম।
ততক্ষণে আমার কবিতা ভিজে আছে
একটি ভেজা কাঁক
আমি অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম।
আর দেখছিলাম
ভেঁজা কাঁক ঠুকে ঠুকে
আমার কবিতা পড়ছিল।
অথবা
নিজের ভেজা শরীরের আঁছে
আমার কবিতার বুঁকে কাঁপছিল।
…………………………………………..

দেহ

এই খানে জমে আছে ক্লেদ-কাম-ক্রোধ,
এর মাঝে জেগে আছে প্রেমে প্রতিরোধ
এইখানে আছে ক্ষুধা জয়-পরাজয়,
এতেই সঞ্চয় আছে, আছে এর ক্ষয়
এরই প্রকাশ আছে, আছে গোপনীয়তা,
এতো উদাস হাওয়া এই গহনতা।
এর কিবা কতটুকু জেনেছে মানুষ ?
কত বা জানবে তার অতি ক্ষুদ্র হুঁশ !
এই যে এ দেহ আগুনে সাঁতার কাটে,
আগুনের সহবাসে কাল তার কাটে।
জলের আগুনে দলে গড়া এই দেহ,
এর মাঝে মহাবিশ্ব দেখে কেহ কেহ।
এই হয়তো সত্য বা মিথ্যের আভাস,
লোকে বলে এই খানে ঈশ্বরের বাস।
…………………………………………..

বিজয়ের মৃত্যু নাই

বধ্যভূমিতে স্বজনের লাশ- চারদিকে লালের গন্ধ
বাতাসে পতাকা উড়িয়ে দাও, বিজয় বার্তা আমাদের
সোনালি শস্যের আকাশ, সবকটা জানালা খুলে দাও,
এই রক্ত ভেজা শার্ট হোক বিজয়ের প্রাামান্য দলিল।
কালরাত্রির গর্তে জন্মেছে বলে
মাটি কি তাকে শেকড়ে জড়িয়ে রাখেনি,
ফিরে এসো এই মাটির কাছাকাছি।

আমরা কোনো বিদেশী আগন্তক কিংবা পরিবায়ী পাখি নই
বহুমাত্রিক যৌবন ধানের কোমল গন্ধে
মাটিতে ছড়িয়ে দাও কিছু রক্ত বীজ
আমাদের রক্তের গন্ধে জেগে থাক মহাকাল,
জেনে যাক সবাই, বিজয়ের কখনো মৃত্যু নাই।