পথশিশুর জীবন

পথে পথে যেই শিশুটি
জীবন করছে পার,
পথ ছাড়া আর আছে নাকি
অন্য ভূবন তার?
সারাদিনের ক্লান্তি শেষে
পথের ধারেই কাত,
কুকুর-বিড়াল,ইঁদুর সনে
যাপন করছে রাত।

অনাহারী হয়ে তারা
করছে কত কাজ,
ছোট বড় কোনো কাজে
নেইকো তাদের লাজ।
রোদের প্রখর তাপে পুড়ে
করছে অন্ন খোঁজ,
বিনা দোষে পাচ্ছে সে যে
সাজা কত রোজ!

ধনী যারা, আছে যাদের
টাকা-কড়ি-ধন,
পথশিশুর তরে তাদের
থাকতো যদি মন।
সুন্দর একটি স্বদেশ পেতাম
পেতাম অনেক সুখ,
মনুষ্যত্বের দীপ্ত আলোয়
উজ্জ্বল হতো মুখ।
…………………………………………..

আত্মশুদ্ধির মাস রমজান

বছর ঘুরে আবার এলো
পবিত্র এই মাস,
পাপের বোঝা আছে যত
করবো সবই নাশ।

পূণ্য কাজে সকাল সাঁঝে
খুঁজবো সঠিক পথ,
কথায় কাজে সবার মাঝে
হবো মোরা সৎ।

লোভ-লালসা মোহ যত
সবই করবো ত্যাগ,
পাপের বোঝা অবসানে
ঢের কুড়াবো নেক।

হিংসে-বিভেদ-দ্বন্দ্ব ভুলে
সবার ভালো চাই,
তাকওয়াতে সমুজ্জ্বল হই
বিকল্প যার নাই।

অহংকারের অগ্নিশিখা
নিভুক নম্রতায়,
মনুষ্যত্বের দীপ্ত আলো
জ্বলুক সর্বদাই।

রহমত আর মাগফিরাতের
ছোঁয়া প্রভু দাও,
ক্ষমা করে মোদের তুমি
শুদ্ধ করে নাও।
…………………………………………..

মাহে রমজান

বছর ঘুরে এলো আবার
পবিত্র মাস দ্বারে সবার
নিয়ে খুশির পয়গাম।
পূণ্য-রবি উদয় হলো
ঢের ইবাদত করবে চলো
এলো মাহে রমজান।

আল-কুরআনের সুরে সুরে
প্রাণ মুমিনের উঠবে ভরে
ঈমান হবে তাজা।
রাখবে রোজা বিধান মেনে
নামাজ-কালাম ধর্ম-জ্ঞানে
পূণ্যের হবে রাজা।

তাহাজ্জুদ আর তারাবীতে
ছুটবে মুমিন নেকী নিতে
বাদ দিয়ে সব মন্দ।
দান সদাকার মাঝে সবাই
নিজকে দ্বীনের পথে বিলাই
নেই ভেদাভেদ দ্বন্দ্ব।

বরকত এবং নাজাত পেতে
করবে আমল দিনে রাতে
সকল মুমিন বান্দা।
রাখবে রোজা পড়বে নামাজ
মোহমুক্ত গড়বে সমাজ
ত্যাগ করে সব ধান্দা।
…………………………………………..

খোকার ভাবনা

খোকন সোনা
চাঁদের কণা
বসে ঘরের কোণে,
হাজার সুখের
স্বপ্ন বোনে
একলা আপন মনে।

ফুলের মেলা
পাখির মেলা
বন বীথিকার ছবি,
আঁকাবাঁকা
ওই মেঠোপথ
ভাবছে খোকা সবি।

ঘুড়ি হাতে
ছুটছে মাঠে
দস্যি ছেলেদের দল,
এসব ভেবে
খোকন সোনার
আঁখি দুটো ছলছল।

বিলঝিলের বক
শাপলা শালুক
সেই মাটির ভেজা ঘ্রাণ,
মুগ্ধ হয়ে
ভাবছে খোকা
প্রাণ যে করে আনচান।
…………………………………………..

করোনা কালীন পণ

ঘরে থাকার সময় এখন
বাহিরে যাবোনা,
বাহির জুড়ে করছে বিরাজ
রাক্ষুসে করোনা।

স্বাস্থ্যবিধি চলবো মেনে
অখাদ্য খাবোনা,
নিয়মিত গোসল করতে
কখনও ভুলবোনা।

গরীব-দুঃখী যাদের ঘরে
দু’মুঠো নেইকো ভাত,
সময় এখন তাদের পরে
বোলাতে প্রেমের হাত।

মানবতার হাত বাড়াবো
অসহায় এর তরে,
দুটো খেয়ে থাকে যেন
নিশ্চিন্তে সব ঘরে।

অসচেতন হলে পরে
হবো যে সবে লাশ,
পুরো জাতি ধ্বংস করবে
বীভৎস এই ভাইরাস।

সকল নিয়ম মেনে চলে
এই ভয়কে করবো জয়,
করোনার দিন কেটে গিয়ে
হোক নব সূর্যোদয়।
…………………………………………..

মুক্ত বিহগ

ইচ্ছেমতো উড়বো মাগো
মন রাঙাবো আকাশ নীলে,
মুক্ত স্বাধীন বিহগ হবো
স্বপ্ন সুখের ডানা মেলে।

নদীর তীরে উড়ে উড়ে
দেখবো ঘুরে কাশের মেলা,
পদ্মফোটা বিলের জলে
পাবদা, পুঁটি, চিংড়ির খেলা।

ছুটবো আমি ব্যাকুল হয়ে
সবুজ মাঠের প্রান্ত ছুঁতে,
আকাশ যেথায় নেমে গেছে
দূরের ছোট্ট সোনার গাঁ’তে।

মুগ্ধ প্রাণে ঘুরবো মাগো
মেঘের ভেলায় ভেসে ভেসে,
যেথা সাগর লুটিয়ে পড়ে
মেঘ পরীদের আপন দেশে।

হাজার কথার মালা গেঁথে
বেলা শেষে সন্ধ্যে হলে,
নীড়ে ফেরা পাখির মতো
ফিরবো মাগো তোমার কোলে।
…………………………………………..

বোশেখ এলো

ঢাকে ঢোলে বোশেখ এলো
নতুন বছর নিয়ে,
খুশির দোলা লাগলো প্রাণে
আম কুড়োতে গিয়ে।

বন-বাদাড়ে বৃক্ষশাখে
আম কাঁঠালের মেলা,
ফুল কাননে মৌমাছি আর
প্রজাপতির খেলা।

পান্তা-ইলিশ, বটতলাতে
বোশেখী প্রাণ দুলছে,
বনের পাখি পরান খুলে
মনকাড়া সুর তুলছে।

হালখাতাতে, তালপাতাতে
লাগলো নতুন হাওয়া,
মেলায় মেলায় শুরু হলো
বোশেখী গান গাওয়া।

দুলকি তালে ফুলকি ছড়ায়
বোশেখী দিন দুপুর,
মায়ার সাঁঝে খুকুমণির
বাজছে পায়ে নূপুর।

বোশেখ এলো তাই ছড়ালো
কচি প্রাণে উচ্ছ্বাস।
দই-চিড়ে আর খই-মুড়িতে
ঘরে ঘরে উল্লাস।

হঠাৎ ভয়ে প্রাণটা সবার
কাঁপছে দুরু দুরু,
কখন জানি হবে আবার
বোশেখী ঝড় শুরু।
…………………………………………..

খুকু যাবে মামার বাড়ি

খুকু যাবে মামার বাড়ি
লাল জামাটি পরে,
সেই খুশিতে খুকুমণির
মন বসেনা ঘরে।

বাবা বলে খুকু আমার
কেমনে যাবে ওরে,
বাহির জুড়ে মরণব্যাধি
মানব পেলেই ধরে।

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ এখন
প্রহর কাটে ভয়ে,
লক্ষ মানব প্রাণ হারালো,
এই দানবের জয়ে।

ঔষধ শুধু একটাই আছে
থাকতে হবে ঘরে,
মামার বাড়ি যাবে তুমি
আর ক’টাদিন পরে।
…………………………………………..

করোনা কালীন ঈদ

রমজানের ঐ রোজার শেষে
এলো ঈদের খুশি,
এমন দিনে যায় কি থাকা
ঘরের কোণে বসি।

থাকবেনা আর ঈদে খোকা
নিরানন্দে বসে।
নতুন জামা পরে খোকা
ঘুরবে যে গ্রাম চষে।

লাল জুতোটা দিবেন কিনে
বলেছিলেন মামা,
বাবার সাথে গিয়ে খোকা
কিনবে নতুন জামা।

ঈদ এসেছে, ঈদ এসেছে
উঠলো জেগে পাড়া,
খোকা-খুকু কিনবে জামা
দিচ্ছেনা কেউ সাড়া।

মা ডেকে কয় ওরে খোকা
বায়না কেন ধরিস,
করোনার এই আপদকালে
একটু সবুর করিস।

নিকষ কালো অন্ধকারে
ছেয়ে আছে ধরা,
খুব জরুরি নয়তো এখন
নতুন পোশাক পরা।

মায়ের বিরস বদন দেখে
খোকার প্রাণে সয়না,
বললো খোকা মিষ্টি হেসে
ধরবেনা আর বায়না।
…………………………………………..

আজকের ছোট্ট শিশু

আজকে যারা ছোট্ট শিশু
শিখছো বসে অ আ,
একদিন বড় হয়ে তোমরা
গড়বে নতুন ধরা।

আজকে যারা ফুলের কলি
কালকে যে ফুল হবে,
সদ্য ফোটা ফুলের ঘ্রাণে
আকুল হবে সবে।

সূর্য যেমন নিখিল ধরায়
ছড়িয়ে দেয় আলো,
জ্বালবে তোমরা জ্ঞানের মশাল
ঘুছাবে সব কালো।

তোমরা হবে শিল্পী কবি
বৈজ্ঞানিকও হবে,
অসত্য সব ক্ষয়ে যাবে
সত্য শুধুই রবে।