আমি প্রেমিকা বলছি

সব ছুঁয়ে ছুঁয়ে প্রেমের টক্সিনটুকুর প্রস্রবণ করে দিয়ে গেলে?
ওই বিষের কালিতেই যে কবিতা লিখি আমি!
আর একটু বিষ জমে গেলে হয়তো এক মহাকাব্য লিখে দিতে পারতাম তোমার নামে!
হৃদয়টা ছুঁয়ে থাকতে পারলে না “প্রেমিক”!
ঐ গভীর অন্ধকারে ডুব দিতে হাঁসফাঁস উঠে যায় তোমার বুকে?
অথচ, কুমারী’র পর্দা ছিঁড়ে তুমি পৌঁছে যাও অতলান্ত কালোয়
পর্যটক হয়ে আনন্দ ভ্রমনে!
তাহলে কি করে ভেবে নিই আঁধারে তোমার ভয়?
এখন যে আমার প্রেমেই বাজিয়ে দিলে ভয়তাল!
তুমি প্রকৃত অর্থে কাঠামো নিয়ে খেলতে পছন্দ কর,
অন্দর মহলে যে রত্নখানি “ভালোবাসি”,
আমাকে বাঁচাও”-
বলে ফেনা তোলে মুখে, তাতে তোমার কিইবা এসে যায়?
ব্ল্যাক, ব্রাউন, হোয়াইট আস্তরণ চাই তোমার!
হ্যা, আমি শরীরের কথাই তো বলছি এতক্ষণ যাবৎ!
শরীর চাই তোমার?
শরীর যে হৃদয়ের আস্তরণ!
দেহখানি এমন ছিঁড়েখুঁড়ে খেয়ে ফেলো যদি,
হৃদয় কি করে নিরাপদে থাকতে পারে আর?
হৃদয় যে একটি সচল অনুভূতির নাম-
সে হাঁটতে পারে, উড়তে পারে, সাঁতরাতেও পারে,
যেতে পারে নিরাপদ আসতানায়!
তুমি এখনও জীবন্মৃতের মাংস খেয়ে কর আনন্দোৎসব!
আর, যে হৃদয় গেলো, তার আজ মুক্তির উৎসব!
তোমার নামকরণে তুমি ভুল করে ফেলেছিলে বলে
আজ তোমার হয়ে আমিই সেজদায় পড়ে রই ঈশ্বরের ঘরে-
তোমার “প্রেমিক” নামটি’র পুনরুত্থানের প্রয়াস যে আমার!
………………………………………

আলোহীন অন্ধকারে

আজ অন্ধকারের হাত ধ’রে তার গায়েগায়ে লেপ্টে বসে আছি!
অন্ধকার ভীতিকর যদিও
আজ যেন আপন আয়না হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে খুব কাছে
ঠিক আমার মুখোমুখি!
আলোর সাথে সখ্য গড়ে দেখেছি
চোখ ধাঁধিয়ে, আমাকে মাড়িয়ে
প্রস্ফুটিত হয় এমন ভাবে যে, আমি ম্রিয়মাণ হয়ে রই!
অন্ধকারই ভালো।
আমার উলঙ্গ ছবিটি গোপন করে আমাকে অন্তরালে রেখে!
হে আলো
তোমার বিচ্ছুরণ বড্ড মর্মভেদী!
তোমার গতির তুলনা কই?
ফাঁকফোঁকর সব তোমার চেনা।
কি করে যে সামান্য ছিদ্রপথে
তুমি গমন খুঁজে নাও আমি অবাক হই!
তোমার সাথে পালাপাল্লিতে আমি কি পারি?
এ জীবনটা ক্ষয়িষ্ণু!
কত বয়স হোলো জানো?
প্রাগ ইতিহাসে আমার নাম উঠে গেছে
তুমি ভালো করে দেখো!
সেই থেকেই তো ভালোবাসা আমার পথ!
অথচ, ঝলসে দিলে পথটাও আমার তুমি!
আজ তাই
অন্ধকার বুকে করে আমি নিরবে বসে রই!
………………………………………

স্ত্রী

আন্দাজি!
করছো শুধুই ফানবাজি!
বকছো কেন বাজে
প্রেমটা আমি করবো কখন
দেখছো না কি ব্যস্ত থাকি
আট প্রহরই কাজে!

বলছি কথা ফোনেই, ফেসবুকেতে চ্যাট
বাইরে আমি গেলাম কবে, হীল পায়ে ঘ্যাটঘ্যাট!

তোমার ঘরে যেই পাহারা, দ্বাররক্ষী দ্বারে
কুকুরটাকে বেঁধে রাখো সেও গেটের ধারে!

ডাক দেবো যে ফেরিওয়ালা তারও উপায় নেই
ভিখারিকে ভিক্ষা দেবো, তাও কর খেইখেই!

অন্য কোনো ভালোবাসায় হারিয়ে যাবো কই?
জানলা দিয়ে ফুচকি দিলেও করবে তো হইচই!

এমন করে অবিশ্বাসে কাছে যদি আসো
রাতের বেলা পাশে শুয়ে মিষ্টি করে হাসো
বলে দিলাম- তোমায় আমি আদর দেবো না আর
রাগের মাথায় গিলে খাবো ঘুমের বড়ির পাহাড়!

ম’রবো যখন বুঝবে তখন কয় দিনে যায় বছর
থানা পুলিশ করতে গিয়ে জুতোয় খচর খচর!

অনুভবের স্বাধীনতা একটু হলেও দিও
তোমার মনে ব্যথা হলে মানিয়ে খানিক নিও
ঘরের সাথে বারান্দাও লাগে-
নইলে কি আর ঘরের শোভা জাগে!

এক ফালি রোজ আকাশ দেখি চুপটি করে শুধু
বিশ্বটাতে কি আছে কই আমার চোখে ধুধু!

থাকবো না আর ঘরে আমি ঘরের বধু হয়ে
শাড়ি চুড়ি নাও যদি দাও খুব যাবে না বয়ে!
ব্যস্ত হবো নিজেই আমি নিজের কাজে এখন
বলবে না আর আজেবাজে এমন যখন তখন!

আন্দাজি!
করবে না আরফান বাজি!
………………………………………

রোমাঞ্চকর বৈপরীত্য

আর একবার কি এমন হতে পারে তোমার আমার দেখা হোলো?
আর একবার কি সন্ধ্যা নামতে পারে আলো নিয়ে আমাদের গন্তব্যের পায়ে?
আর একবার কি বলতে পারো আমাকে নিয়ে বেড়াতে যাবে
মিতালি?
আর একবার কি ডাকতে পারো আজ এসো মিতু, তোমাকে আমার খুব প্রয়োজন?
-এই সব ভাবনায় দিনাতিপাত, ফাঁকেফাঁকে ব্যস্ত জীবন।

কি এক জীবন এলো খুব কাছে না যাওয়ার!
কি জীবন দেখো, শুধু ভয়ে পালাবার!
অথচ, জ্বরের প্রাবল্যের সাথে যুদ্ধ করেছো তুমি আমাকে সঙ্গে নিয়ে!
ভেবেছো, তোমাকে ছুঁয়ে আছি আমি
অথবা, তোমাকে ছুঁয়ে আছি বলে গোঙানির মত নাম ধরে ডেকেছো- মিতু, আমার মিতু!
তোমার চারপাশ যখন অন্ধকার প্রহেলিকা-
আমি পলাতক!

ভালোবাসার চেয়ে আমি যে জীবনকেই বেশী ভালোবাসি!
তুমি তো জীবন নও আমার, আমিও জীবন নই তোমার!
যারা বলে তারা ভুল বলে!
তাই আজ দিব্যদৃষ্টির প্রবঞ্চনা মুছে দিতে এলো অদৃশ্য হতাশা এক- দূরে আছি তুমি আমি!

আমি তো এখনও আছি ভালোবাসায়
এখনও স্বীকার করি তুমি আমার আকাঙ্ক্ষায় বশিভূত একমাত্র প্রেম।
বুকের বাম পাশে হাত রেখে বলি, তুমিও ঈশ্বরের মত অদ্বিতীয় আমার!
তবুও, বাস্তবে ছুঁবো না এখন, আমার প্রেম বলেও ছুঁবো না।
এ জীবন যে বড্ড প্রিয় আমার, প্রিয়তম!
তোমার কাছে যাবো আমি স্বপ্নে বা জ্বরের ঘোরে, ঘুমের মধ্যে আমাকেই পাবে তুমি- কথা দিলাম।

যদি বেঁচে যাই, যদি হতাশার জঞ্জাল সরে যায় একদিন, সেদিন কথা রাখবো ভালোবাসার।
আবার ফিরে যাবো সেই নদীটির পাড়ে, বসবো বনসাইয়ের ছায়াপালে-
অর্ধেকটা শরীর নেবো কোলে তুলে, অর্ধেকটা তোমার ঐ সূর্যটার।
সূর্য আর আমি মিলেমিশে দৌদ্র ছায়ার এক রোমাঞ্চকর বৈপরীত্যে ভরে দেবো তোমার আবহ পুনরায়!
………………………………………

জীবন মানে

জীবন মানে-
বদলে যাওয়ার পালা
এই এলো প্রেম
পরক্ষণেই বিয়োগ ব্যথার জ্বালা!
সু-প্রভাতের শুভেচ্ছা এক দিন
রাতের বেলায় ঝগড়াঝাটি-
বিদায় চিঠি
নিন!

এই, দেখোনা আকাশ কালো
মেঘ করেছে ভারী
তখন বুকে লেপ্টে থাকা
একটু পরেই আড়ি!
বৃষ্টি গুলো যেমন ঝরোঝরো
প্রেমের বেলায় হাতটা ক্ষণিক ধরো
রেগে গেলেই
চড়ো!

রোদেলা সব দুপুর যেমন শীতের গায়ে নরম
শরীর ছোঁয়া উষ্ণতাও তখন তেমন পরম!
কোথায় থাকে শরম, ভরম
কোথায় থাকে ইগো!
চুলের মাঝে হাত বুলায়ে ডাক দিতেই-
কি গো?

সেই তো দুজন একলা আবার-
নদীর এপাড়, ওপাড়!
কাছে যেতে দ্বিধাদ্বন্দ্ব
ঢেউয়ের বিরাট আকার!
মাঝ পথে ঠিক নৌকো ডুবে যাই যদি হায় মরে
আমায় ছাড়া তুমি কেমন
দেখবো কেমন করে?

তার চেয়ে এই বদলে যাওয়া
জীবন বেঁচে থাক
প্রেম কি এমন কঠিন কিছু?
আসুক আবার যাক!
………………………………………

হৃদয়ের গল্প

ছেলেটি জানলো-
মেয়েটি তাকে চায়
অমনি বাড়িয়ে দিলো মনের দাম দেশী বাজারে
পেঁয়াজের দুর্মূল্যের মত!
কোন অপ্রেমিক সিন্ডিকেটের আওতায়
মূল্য নির্ধারিত হয় তার মনের, কে জানে?
যখন বুঝলো, এক প্রহরও তাকে ছাড়া চলতে চায় না জীবন, জাপটে ধরলো সময়ের কাঁটা- ঘন্টা থেকে মিনিট
মিনিট থেকে সেকেন্ড!
মেয়েটি যখন সাব্যস্ত করলো-
বুকের জমিনে বুনবে বিরল বুনো গোলাপ
মেঘের পায়রা গুলো দিক নির্দেশনা হারালো
ছেলেটির দায়িত্ব হীনতায়!
জলহীন জলদে আচ্ছাদিত মেয়েটির বুক
ফুল ফোটাতে পারে না আর, সুবাসিত রাতের কামনার!
কিন্তু, ছেলেটি কি জানে-
মেয়েটির দোল খাওয়া হৃদয়ের কথা?
সে এখন ভালোবাসে, ভালো!
হয়তো, মুহূর্তে উবে যাবে কর্পূর মন
অজানা হাওয়ার পালকিতে চড়ে!
ছেলেটি জানে না মেয়েটির বদলে যাওয়া হৃদয়ের গল্প!
………………………………………

লকডাউন সমর্পণ

অপ্রেম-প্রেমের টানাপোড়েনে ছুটেছি বেশী!
এখন বরং ঘরেই আসি
ঠিক তোমার পাশেই বসি?
শুধু তোমাকেই যদি ভালোবেসেবেসে মরে যেতে হয়
যাই না কেন!
কতকাল আমি দূরেই আছি-
একলা ঘরের চার দেয়ালে তোমায় রেখে!
অপ্রেম-প্রেমের টানাটানিতে ছুটেছি বেশী!
………………………………………

দ্বন্দ্ব

তুমি যদি তোমাদের হও, আমি তোমার কি করে হই?
আমি তো আমাদের উহ্য রেখেই তোমাকে চাই।
তোমাদের কাছ থেকে ছুটতে পারছো কই
যে আমার হবে?
তোমার চাওয়াটা তীব্র নয়
প্রয়োজন বুঝে বুঝে ভালোবাসতে চাইলে তা হয় পান্ডুর।
অথচ, চাইতে যদি আন্তরিক
প্রয়োজন মিটেই যেত।
চাওয়ার সাথেই প্রয়োজন সন্ধি করে।
তবে, চাওয়াটাকেই সাথে রাখলে না কেন?
প্রয়োজন ফুরোয়, চাওয়া অনিবার।
………………………………………

আমি তা চাই না

আমার সুখ-দুঃখ
আনন্দ-বেদনা
আমার ভালোবাসার যত অভিমান আমি সপ্তর্ষীমন্ডলে জমা করে অনুভূতিহীন হৃদয় ক্যাশ করে নিয়েছি।
তাই দিয়েই কেটে যাবে বাকিটা জীবন।

আমার সব ব্যর্থতার ইতিহাস শুনে
আমাকে তুমি করুণায় যদি ভালোবাসা দিতে চাও
আমি তা চাই না।

তোমার মত হৃদয় গবেষক ভালোবাসার শাখা- উপশাখার কোথায় কতটা আয়ুর্বেদ নির্যাস আছে তাই যদি নাই জানলে তাহলে অমন থিসিস তোমার কার কাজে আসবে?

তুমি বরং সন্যাস নাও।
কারণ, আমার দুটি জানালার শিক ধরে ঝুলে আছে যে অসংখ্য ক্রিষ্টাল মার্বেল
তাদের দিয়ে তুমি বানাও ঝাড়বাতি তোমার বিলাসিতার হলরুমে!

শোনো গবেষক, থিসিসটি তোমার পুড়িয়ে দাও।
………………………………………

কথা শেষ আছি বেশ

তুমি নাকি বেছে বেছে আমার ম্যাসেজ মুছে ফেলো?
আজ মৃণাল বললো
হুম, দেখা হয়েছিলো ওর সাথে।
এতো পার্সোনাল ব্যাপার তুমি ওকে বলে দাও!
আমার ঝগড়া গুলো মুছে শুধু ভালোবাসা রেখে দাও নাকি?
কেন, আমার ঝগড়ায় কি ভালোবাসা নেই?
আরো বেশী প্রেম চাই বলেই তো এতো বেশী অভিমান!
তুমি কি আমার স্মৃতি রাখো ম্যাসেঞ্জার বক্স ভরে
মাঝে মধ্যেই খুলে দেখবে বলে?
তোমার ধারণা, আমি চলে যাই যদি?
আমি তো অল কনভারসেশন এক সাথে।
কথা শেষ, আছি বেশ!
তুমি আছ
স্মৃতি কেনো?
তুমিই থাকবে চিরকাল!
যদি বা নাই থাকো-
বিস্মৃতিতে তলিয়ে যাওয়া মানুষের স্মৃতিতে আমার কিই বা এসে যাবে?
তবে, আমার বিশ্বাস কোনো মিথ্যেবাদীকে ভালোবাসিনি আমি।
তাই, আমাদের গেলো দিন আজদিনই হবে প্রতিদিন!
অতএব, ডিলিট কনভারসেশন!