স্বপ্নের খেয়া

বার বার ভিবৎস স্বপ্ন কেন দেখাও ?
আমি তো এক বির্চূর্ন নারী !
স্বপ্ন ভেলায় ভাসে না আমার মন
তবু কেন বার বার এঁকে দাও
তোমার স্বপ্নের ঘোর ?

অচিরেই আমি লৌহখন্ডকে বাঁধা
স্বপ্নের আহলাদগুলো এক কোনে ভাসা
দিগন্তের সীমানা পাড়িতে বাঁধা
কখনো যাবেনা পারাপার
তবু কেন বার বার এঁকে দাও
তোমার স্বপ্নের ঘোর ?

সূর্যের প্রদক্ষিপ্ত আলো তুমি
যার প্রখর চারদিকে বিস্তৃত
নেহায়েত সেই অসাধ্যের প্রান্জ্ঞল্য
স্পর্শের আকুতির ছোঁয়া
সেই আমি আজও অভিভূক্ত
তবু কেন বার বার এঁকে দাও
তোমার স্বপ্নের ঘোর ?
…………………………………………..

ভাষা আন্দোলন

ধারাবাহি সহস্রের একটি গান
২১শে ফেব্রুয়ারী
রক্ত পতাকার উৎকন্ঠা স্লোগান
রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।

কার্জন হলের সামনে থেকে প্রতিবাদি কন্ঠ
তেড়ে যায় ক্ষিপ্রতার বেগে
থামাবার অবকাশ নেই কারো
নির্মম পুলিশে টিয়ার সেল আর লাঠি চার্জ
অক্ষির আলু পঙ্গু করে দেয়
প্রতিটি ক্ষিপ্রমান ছাত্র দেহ
ধারাবাহি সহস্রের একটি গান
২১শে ফেব্রুয়ারী।

গুলি বর্ষন আর গোলাগুলিতে
মাটির আহার হয়ে উঠে রক্ত
নিস্তব্দ বাঙ্গালি জাতি
হতবাক দৃষ্টিতে থাকে বিশ্ব
ভাষার জন্য শহীদ হয়
রফিক,শফিক,জব্বার আরও অনেকে
তোমাদের প্রতিটি রক্তের স্রোত
স্বর্ণাক্ষরে থাকবে বাংলার ইতিহাস
ধারাবাহি সহস্রের একটি গান
২১শে ফেব্রুয়ারী।
…………………………………………..

সাম্যের কবি

তুমি যৌবনের রাজটিকা,প্রদীপ্ত আবাস
তুমি সত্যের উপর অটল,অভিনাসী সেনা
তুমি বিদ্রোহির বিদ্রোহ,মৃত্যু ক্ষুধার প্রান
তুমি আমার বিদ্রোহি কবি,
কাজি নজরুল ইসলাম

তুমি সত্যপ্রকাশের দূর্বার,দুরন্ত সাহস
তুমি অন্যায় শোষনের নর পিপাষু
প্রতিবাদী কন্ঠস্বর
তুমি আমার, আপমার জনতার
সাম্যের কবি, কাজি নজরুল ইসলাম।

তুমি অনাহারির ক্ষুধার যন্ত্রনার
ফুটিয়ে তুলেছো বিশ্বদরবারে
কবির কাব্যের উপমায়।

তুমি ইসলামের সৈনিক
অকুতোভয় সাহসী যোদ্ধা
ক্ষনে দৃষ্টিতে তুমি ইমাম
আবার কখনোই বা মোয়াজ্জিন।

তুমি ভবগুরে গেয়েছো
সাম্যের জয়গান
তুমি অস্ত্র ধরেছো
বাঁছাতে নির্বিঘ্ন তাজা প্রান
তুমি আমার, আপমার জনতার
সাম্যের কবি, কাজী নজরুল ইসলাম
…………………………………………..

এক নতুনত্ব

দৃষ্টি পড়ে যখনি,তুমি বদলেছো প্রতিনিয়ত
এক নতুনত্ব
কোনটা যে তোমার আসল সৌন্দর্য্য
কোন রুপে আছে সত্য!

কখনো গহীন অরণ্যে সানকি হাতে জল
দিচ্ছ বৃক্ষের পুষ্পের গাত্রে
কখনো যান্ত্রিক থেকে হস্ত নাড়ছে
কাউকে নামিয়ে স্কুলে!

কখনো দাঁড়িয়ে শীর নত করে
ছাড়াচ্ছো গোটানো শাড়ি
কখনো দর্পনে খুটিয়ে দেখছো
শুভ্র দাঁত,গোলাপি ঠোঁট।

কখনো কেদারায় বসে
বিলি কাটছো জটিল রুক্ষ চুলে
কখনো বাথটাবে গোড়ালি ঘসচ
গান গেয়ে দুলে দুলে।

কখনো রুপ চর্চা,সিঁদুরের সাথে রঙ্গে
সাজাও দুই ঠোঁট
কখনো চিরকুট লিখতে মহিয়ান
খেয়ে যাও চিন্তার হোঁচট।।

কখনো গোছাও মনিবদ্ধ বাধা
কখনো হস্তে নিয়ে গল্পের পুস্তক
মানসিকতা নেই সেটা পড়াই।।

কখনো কপাটে উদাসি মুখ
চোখে মেলে আদিগন্ত দৃষ্টি
গহীন রাত্রিতে নির্বাসিতা তুমি
আদিম আদমের সৃষ্টি।।

মনিবদ্ধ পালা, শাখা নোয়া
এক এক তোমার কোয়া
মিলনাত্বের শখ মিটাই না
তোমার হাজারো গাত্র ছোঁয়ায়।।

খরিদ করবো লেন্স,তুলব মানব চিত্র
একথা ভাবতে ভাবতে
অন্তরিক্ষে চলে গেল,চিরতরে মহূর্তে
অচির সময়ে ঘূণি আবর্তে।।

জানা ছিলনা অন্তর নয়নে
আদি পিন হোল ক্যামেরা
তুলেছে চিত্র,সৌনালি একই
নিয়ে তার বিবর্তমান চেহারা।।

তাতে তোলা চিত্র একটাই
কিন্তু যখনি তাতে লোচন পড়ে
হৃদয়ের মধ্যে কপাট খোলে আমার
কল্পনাকারী দুই আঁখি।।

সেই কল্পনা রাজ্যে উদ্ভাসিত তুমি
খসিয়ে লজ্জার নির্মোক
খুলেছো কলরাজ্য,মেলেছো ডানা
জ্ঞানশূন্য মুগ্ধ চোখে।।

দেখতে দেখতে দেখি বদলায়
সেই চিত্রটি নৃতি নৃত্য
সে সবেতে আছে নানান রুপ
সব রুপই লাগে চির সত্য।।
…………………………………………..

বৃষ্টি চিহ্নিত ভালবাসা

মনে আছে কি তোমার?
আমাদের চাদনা তলার উপর দিয়ে
দ্রুত চলন্ত ট্রেণের মত গতিতে
বৃষ্টি ঝরেছিল অবিরাম
ছোটখাট রাজনীতিকের মত পাড়ায় পাড়ায়
জুড়ে দিয়েছিল অথৈয় স্লোগান।

রেইনকোট মাথায় দিয়েছিল হেঁটে
সোনার বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করার
ছোট ছোট প্রতিভার সোনামণিরা
তর্ক বিতর্কের আড্ডার লোকগুলো
ফিরে এলো ঘরে

সবার নানা আঙ্গিকের সব জিবণের
খুটি নাটি দুঃখবোধ সমষ্যায়
তবু প্রবল বর্ষণে কারো কিছু আসে যায় নি
কেননা সেদিন সারাদিন বৃষ্টি ঝরেছিল।

সর্বদা আকাশের গহীন অন্ধকার
বর্ষনে সানুনয় অনুরোধ
আমাদের এপাশ ওপাশ থাকতে হয়েছিল
আমাদের অন্তরে ভাবনা ভরা
পান্ডুলিপি লিখতে হয়েছিল।
…………………………………………..

নিংড়ানো বিষাধ

আমার প্রায়শ্চিত্বের উজ্জিবতার অবয়নীল
বিষন্ন শৃঙ্খল কারাগার
উৎপল্যতার নিংড়ানো বিষাধমরু
অবয়তার রুদ্ধধারার ক্রোধ।।

আমার কাল্পনিক ভাবনার অবসাধ
অগোছালো অনেক মরিচিকাময় পথ
থাকি সবে যাচিবার লয়ে
ওষ্ঠতার মায়াবি কুৎসিত গন্ধ।।

চলন খোলার বাহিত দিবসের আদি
বিভৎসমান মানব চিত্রের প্রকাশ
ভোজন ক্রান্তিতে সরগম আগমন
প্রান্তিক পিছুটানের পরায়েশমান।।।

বাহুডোরে রাখিবার ক্রোন্দন আহলাদ
শেষ মৃত্যুর চিন্তার নির্মোক খোশ
হঠাৎ ঐশ্বরিক আক্রমনাত্বক আভা
চুরমাচুর নির্মমতার নিংড়ানো আসা।।
…………………………………………..

আর্তনাদের ভ্রুকুটি

অতীতের রজনীগুলো অস্বাভাবিক আর্তনাদ
থাকি চিৎকারে আলোড়িত আঙ্গিনা
বিষাধের মাত্রাটা,ক্ষিপ্রতার গতি
রুদ্ধস্বারে উঠিল জেগে।

আমার অবয়বে ভ্রুকুটি বিভৎস্ব
কাব্যিক উপমার সব চয়ন
তিমিরে অক্ষির কাল্পনিক খন্ড
ভাসমান মানবের অস্থিরম্বা।।

পশ্চাতে সর্পিনীর চলার বালির পথ
অবলোকন অশ্বারোহির হৃৎখন্ড
ক্ষয়মান হয়ে আর্তনাদের সংলাপ
ভ্রুকুটি আমার বিষাধের ঘনঘটা।।

আলয়ের কপাটে উদ্ভাসিত উৎকন্ঠা
স্মৃতির পাজরে উনুনের জ্বালা
তৃষ্ঞার্ত পিছুটানের আভাস
ক্ষিপ্রতার গতি, আর আর্তনাদের ভ্রুকুটি।।
…………………………………………..

বিনোদীনি

ভাবে আসিয়া রঙ্গে মজিয়া
হেলাই কাটলাম দিন রজনী
প্রান স্বজনী
ঘুড়ি দিয়াছে উঠাই
হাতে রাখিয়া নাটাই
বেলা শেষে আনে সুতা টানি

ডানা ভাঙ্গা পাখি,করে ডাকাডাকি
বৃথা রুনাজারি দুট পাটানি
যেতে হবে ফিরে
মহাজনের ঘরে
অধিক স্বপ্ন দেখা বৃথা বিনোধিনী

সূর্য উঠে গগনে
আলো দেয় ভূবনে
মেঘে ডেকে করে কলঙ্কীনি
প্রান স্বজনী
…………………………………………..

অবার্চিন স্বপ্ন

অবার্চিন স্বপ্নগুলো আলোড়িত হয়ে
ভূধরে ধুকরে ধুকরে পশ্চান
আখির জ্বলরাশি ছলছল গড়িয়ে পড়া
বিষাধনার মাত্রার ক্ষিপ্রতার ছাপ

পশ্চাতে অবডালে নিথর তনু
সামর্থের বাকশক্তি আজ নুয়ে পড়ে
নাহি বিরাজ চেস্টার ত্রুটি
আছে একপাশে মরণ বিষ হয়ে।

সাজ সজ্জল আলয়ের প্রকোষ্ঠে তুমি
উন্মাধনার এক আকষ্মীক উৎসাহ
ভাটার আজ সাক্ষাত নাহি মিলে
সতেজ দেহের অমালিন স্পর্শে।

যাযাবর জীবন অতিব লেশ
পারাপার সুধাত্রির অবগাহনে
অনুপস্থির জ্বালা পোড়াবে বিভৎসে
তোমার অন্তর জ্বালায়।।।।
…………………………………………..

অমর বিজয়

বিধ্বস্ত নগরী,উড়ন্ত চারদিক
উন্মাদনা, অত্যাচার,নির্যাতিত
লাশের স্তুপের উপর স্তুপ
হায়েনাদের পৈশাচিক নৃত্য।

চারদিকে অগ্নির লেলিহান শিখা
পুড়ে হচ্ছে সব ছারখার
মা বোনের ইজ্জতের ধর্ষন আর ধর্ষন
ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙ্গালির উপর
ঐতিহাসিক সেই বর্বরতার ছাপ।

আতঙ্কিত নিস্তব্দ চারদিব মুখর
ধড়া চির প্রাচীরের মত কামড়ে থাকা
মাটিই এখন আসল আশ্রয়
এখানেই শেষ সহায় সম্ভল।

শুরু হলো মুক্তি চেতনা সর্বাগ্রে
ঝাপিয়ে পড়লো হায়েনাদের উপর
উলঙ্গ বাঙ্গালির মুক্ত চেতনার চিত্র
দিশেহারা মানুষখেকু হায়েনার দল।

স্থান করে নিল ইতিহাস খ্যাত
সেই ঐতিহাসিক দিন
আমাদের অহংকার,আমাদের অর্জন
আমাদের গর্ব,আমাদের চেতনা
মুক্তি বিজয়ের সুখের উচ্ছাসিত
১৬ ই ডিসেম্ভর
অমর বিজয় দিবস।