মুনাজাত

ও দয়াময় রাহিম রহমান,
অসীম প্রেমে করেছ তুমি বিশ্ব সৃজন।
যে দিকে তাকাই, যতদূর দৃষ্টি মোর যায়,
নিখুঁত অপরুপ কারুকাজে প্রাণ যে জুড়ায়,
কত নিয়ামত দিয়েছে ঢেলে আপন মহিমায়।
সৃষ্টিকূল অক্ষম সেখানে তুমি চির অম্লান,
অধম মোরা তবুও বুঝি না তুমি যে মহান।

মুত্তাকিরা স্বরণে রাখে যে তোমায়,
বৈমানরা চলে ভ্রান্ত রাস্তায়।
ঈমানদারগণ তোমার প্রেমে ধন্য,
নাস্তিকরা তোমায় বলে শূন্য।
জ্ঞানীরা করে তোমার ইবাদত,
বিধান কায়েমে বরণ করে শাহাদত।
আস্তিক-নাস্তিক দুনিয়াতে দেখ তুমি সমান,
রাজা-প্রজা নেই ভেদাভেদ তুমি যে মহান।

তুমি আদি, তুমি অনন্ত,
তোমার করুনায় মোরা জীবন্ত।
কত বৈচিত্র্যে সৃজন করেছ এ সুন্দর ভুবন,
তোমার সৃষ্টির বাইরে কিছু, আছে তার প্রমাণ?
নভোমণ্ডল, ভূমণ্ডল, সৌরজগত আর বসুন্ধরা,
সুশৃঙ্খলে তোমার হুকুম তামিলে পাগল পারা।
মনুষ্যজাতি বুঝে না যে লক্ষ্যে তাকে প্রেরণ,
পাপে,ভ্রান্তপথে ধ্বংস করে জান্নাতি জীবন।

আমি নগণ্য গোলাম, করি মুনাজাত,
হিসাব কষলে পাব না পার,
পাপে ছেয়ে গেছে জীবন আমার,
তবুও করি সেজদা, তুলি দুই হাত,
ও রাহিম-রহমান,আছে যত মুসলমান,
উভয় জগতে দিও গো নাজাত।
……………………………………………

বৈচিত্র্যময় জন্মভূমি

ঋতু বৈচিত্র্যে মনোমুগ্ধকর মোদের দেশ,
সবুজ শ্যামল অপরুপ কারুকাজে নেই শেষ,
সৌন্দর্য বর্ণনায় অক্ষম মোরা হিসাব কষে,
বীর বাঙ্গালি গর্বিত রক্ত মৃত্তিকায় আছে মিশে।

প্রচণ্ড তাপদাহ নিয়ে আসে গ্রীষ্ম কাল,
মাঠ-ঘাট চৌচির, জীবজন্তু তৃষ্ণায় ব্যাকুল।
ঘাম ঝরে মেহনতিদের রিযিক করতে আহরণ,
আম-জাম-লিচু কাঠালের স্বাদে জুরায় প্রাণ।

যোদ্ধার বেশে মেঘের গর্জনে বর্ষার আগমন,
খাল-বিল-নদী-নালা পানিতে থৈ থৈ করে তখন।
রুক্ষপ্রকৃতি ফিরে পায় বৃষ্টিতে মনোরম সজীবতা
কদম্ব, যুঁথী,কেয়া,আনারাস-পেয়ারায় পরিপূর্ণতা।

সমীরে শিউলি ফুলের সুবাসে আসে শরৎ,
সবুজ ঢেউয়ের দোলায় দুলে ধানের ক্ষেত।
রাতের অম্বরে অজস্র তারা করে জ্বলজ্বল,
শাপলার হাসিতে বিলের পানি করে ঝলমল।

নবান্নের উৎসবের উচ্ছ্বাসে আগমন হেমন্তের
পাকা ধান আর শর্ষে ফুলে মাঠ হয় হলুদের।
সোনালি ফসলে কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি,
জন্মভুমির সৌন্দর্য মোরা জীবন দিয়ে ভালবাসি।

কুয়াশার চাদর গায়ে উত্তুরে হাওয়ায় শীত ঘরে,
কনকনে শীতের দাপটে মানুষ অসহায় হয়ে পড়ে।
রকমারি শাক-সবজি,ফল-ফুল-খেজুর রসের ঘ্রাণ
ক্ষীর,পায়েস আর পিঠা-পুলির স্বাদে মুগ্ধ প্রাণ।

সবুজের সমারোহে পৃকৃতিরাজ্যে আসে বসন্তরাজ,
দখিনা বাতাসে ফুলের ঘ্রানে বাংলায় নতুন সাজ।
অনিলে মৌ মৌ নানান ফুলের সুবাসে স্নান,
গাছে গাছে কোকিল-পাপিয়ার সুমধুর গান।
……………………………………………

দুর্নীতি

ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তে অর্জিত বাংলাদেশ,
স্বজন হারা আর্তনাদ,যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা,
রক্তপিপাসু মুক্ত করে বীরের জাতি করে স্বাধীন
দুর্নীতির ভয়াল গ্রাসে জিম্মি মোরা এখন পরাধীন।

সোনার দেশের পলিটিশিয়ান নেতা,
মাতৃভূমির ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখার কথা।
এখনও দুর্নীতিতে হয় যদি সেরা,
গোল্লায় গেল হায়েনা বৃটিশ,পাক করে তাড়া।
অবৈধ পন্থায় অর্থ আয় যেন নেশা,
মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়াই তার পেশা।
কত অবৈধ ভাগ পায় জানে বিধাতা,
বাগ্নিতায় পরাস্ত নিশ্চিত অভিনেতা।

সর্বোত্তম পেশা শিক্ষকতা,
বেতনের লোভে শিখায় নেই সার্থকতা
গণিত বইয়ের এত নং পৃষ্টায় পড়া,
উনার নিয়েমে না কষল,খাবে ধরা।
প্রাইভেট পড়ে যদি উনার বাসায়,
১ম স্থান অর্জন করে নির্দ্বিধায়।

মনুষ্যজাতির সেবা করবে ডাক্তার
অন্তর চোখে চেয়ে দেখ শুধু হাহাকার।
সরকার কর্তৃক সেবার সময় গাতা,
চিকিৎসার নামে চলছে শুধু উদাসিতা
সাধারণ জনগণের অর্জিত স্বাধীনতা,
দুর্নীতিতে জিম্মি আজ বুঝবে কবে মর্মকথা,
লম্বা সারিত দাড়তে বাধ্য করে দারিদ্রতা,
বিদ্যুৎ বেগে দেখে রোগী বলে বিশ্রী কথা।
প্রশংসায় ভাসে প্রাইভেট সেবার দক্ষতা,
ঔষধ লিখনে পায় কম্পানির ভাতা,
টেস্টিং এ ভাগাভাগি নেই কারো ব্যথা,
ডায়াগনস্টিক মালিক আর ডাক্তার করে সমতা।

আমলারা সাধারণ মানুষের সেবা করারেই কথা
কৃষক-শ্রমিক দ্বীন মুজুরদের আয়ে বেতন-ভাতা,
চাকুরীর নামে অফিশিয়াল নানান কাজে ঘুষ,
অর্থের মোহে দুনিয়ার চাকচিক্যে হয় যে বেহুশ,
যত দুর্নীতি, তত বড় পদ আবার পায় প্রমোশন,
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে পায় সবচেয়ে বড় আসন।
পলিটিশিয়ান-আমলারা এখন আগ্নেয়স্ত্রের মতন,
ভিন্নমতে জেল-যুলুম গুম-হত্যায় করে নিদন।
……………………………………………

কিসের অহংকার

কি নিয়ে করবে গৌরব আহারে মানুষ,
সৃষ্টি জগতের দুর্বল জীব,নাই তর হুশ।
সৃজনের পরেই অন্যসব প্রাণী,
নিসস্ব শক্তিতে করে লাফালাফি,
খাদ্য অন্বষণে সে স্বয়ং উপযোগী,
সল্প সময়ে শিখে আপন রীতি।

এলাহিকান্ডে পৃথিবীতে মনুষ্যকুলের আগমন,
গর্ভধারিণী পাশে না থাকলে হবে যে মরণ।
মায়াবী রুপে,অপরুপ সাজে মানব সৃজন,
মরণ ব্যাধি কাবুতে তুমি পরাস্ত তখন।
ক্ষণস্থায়ী জীবন চালাতে পর মুখাপেক্ষী,
উচ্চপদস্থ ব্যক্তিগণ নিয়োগ দেয় দেহরক্ষী।
মৃত্যুঞ্জয়ী নও তুমি কিসে এত অহংকার,
আজরাইলে করবে গ্রাস,হুকুম তামিলে মাওলার,
প্রাণবিহীন দেহের মূল্য আছে কি তার?

অর্থ-সম্পদ, উচ্চশিক্ষা,জগত বিখ্যাত মনিষী,
অধিপতি আর রাষ্ট্রপতি হউক উচ্চ খেতাবধারী,
ফেরাউন,নমরদ অদ্যাবধি যুলুমকারীর যত খেলা,
ভিক্ষারী বেশে মৃত্যুর কাছে পরাস্ত অন্ত বেলা।
গরীব-দু:খীর ন্যায্য অধিকার করে যারা লুণ্ঠন,
জগতে লাঞ্চিত তারা, ঘৃণার সাথে করে স্বরণ,
আছে কি কিছু,যার বদৌলতে ছাড় দেয় মরণ?

শূন্য হাতে মনুষ্যকুল অন্ত ক্ষণে,
বাড়ি,গাড়ি, ঐশ্বর্য, গুণে,
নিজের অর্জিত সব রবে পড়ে,
অসহায় তুমি! নেই কেউ তোমার তরে,
আত্বীয়-স্বজন ক্ষণিকের কান্নায়,
কত সম্পদ রেখে গেছ! তার সন্ধানে।

মরীচিকার পিছনে দৌড়ে যারা,
দুনিয়ার মোহে পাগল পারা,
নি:শ্বাসে নেই বিশ্বাস সবাই বুঝে,
গর্বে স্থায়িত্ব পায় কি নশ্বর জীবনে?
তবে কি অহংকার করে অন্ধজনে?
……………………………………………

কে তোমার আপন

হারাম-হালালের মিশ্রণে গড়েছ সম্পদ পাহাড় পরিমাণ,
বাড়ি, গাড়ি আর নারী নেই তো অভাব পুত্র সন্তান,
গগন দৃষ্টিতে দেখতে হয় তোমার সাজানো দালান,
ওহে! আমি করছি তোমায় আহবান,
এই পৃথিবীতে নেই যে তোমার আপন,
বিশ্বাস হয় না আমার বচন,
আমি উল্লেখ করছি তার জলন্ত প্রমাণ।

আত্বীয়-স্বজনের সংগে করছ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ,
নতুন সাজে, নতুন রুপে মেতে উঠছে সবার মণ,
হটাৎ তোমার কোন অংগে ব্যথার আক্রমণ,
চিৎকার করছ তুমি, চলে যাচ্ছে তোমার প্রাণ,
যন্ত্রণায় তোমার জীবনের প্রদীপ হচ্ছে ম্লান,
কষ্টের ভাগ নিয়েছি কি তোমার আপনজন?
নিতে চাইলেও, নিতে পারবে না, তোমার প্রিয়জন,
প্রভু আজও সেই ক্ষমতা কাউকে করেননি দান!
মূলত তারা কেউই নন তোমার আপনজন।।

মহামুল্যবান স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র বন্ধন,
একই ক্ষণে, একই সাথে করেছে শয়ন,
রাতে একজন মরণব্যাধিতে আক্রমণ,
চিৎকার করছে সে,জেগেছে প্রিয়জন,
মৃত্যু করেছে গ্রাস, সে বাচাতে পারেনি স্বজন,
বল তো কি করে হয় সে, তোমার আপনজন?
অর্থ-সম্পদেই সুখ, এরাই শ্রদ্ধাভাজন,
মসিবতের দিতে পারে সহজ সমাধান,
আমীর- ফকীর করাই তার অবদান,
হটাৎ মহাকালে সম্পদশালীর কেড়ে নিল জান,
জগৎ শ্রেষ্ঠকে মৃত্যু ছেড়েছে আছে কি তার নিদর্শন?
কিসের আসায় মানুষ বলে সম্পদেই তার প্রিয়জন।।

অর্থ,নারী,গাড়ি,বাড়ি, মর্যাদা আর স্বজন,
নশ্বর দুনিয়ার মুসাফির খানার উপকরণ,
চোখ বন্ধ করে দেখ রে মণ,
কে তোমার পর, কে বা আপন?

আমি বলি, কর্মফলেই তোমার আপন,
সময় থাকতে কর তার পরিপূর্ণ যতন,
সঠিক পন্থায় ভাল কাজ করে বাড়াও তার মান,
ইহ-পরজগতে হবে বিপদে তোমার মুক্তির বাহন।।
……………………………………………

কৃষক

সরল প্রকৃতির এক জাতি
কৃষক তার নাম,
বৃষ্টিতে ভিজে রৌদ্রে শুকায়
উৎপাদনেই সুনাম।
দিবা রাত্রি ফসলের মাঠে ব্যস্ত
মোদের চাষা
জীবন-যৌবন দেশের তরে এটাই
তার ভালবাসা।

আধুনিক কৃষি যন্ত্রাংশ মাটি করে
খান খান
ফসলে জীবন উৎসর্গে করে চাষা
বাড়ায় দেশের মান।
কাদামাখা মাটিতে কৃষি কাজে
পোশাক রঙ্গিন
নিত্যদিনে কায়িক শ্রমে তাপে-শীতে
চাষার স্কিন,
খাটি সোনাও হার মানে বুঝলে
তাদের ঋণ।

কোন ঋতুতে কোন ফসল বুনবে
তাদের জানা,
কৃষকেদের দিলে প্রশিক্ষণ মাঠে
ফলবে সোনা,
সার- কীটনাশক ছিটাবে যখন
কথা বলতে মানা।

সোনালি ফসল চাষে বিলিয়ে দেয়
বদন খানি,
শিল্পপতি -উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সবাই
কর্ষকে ঋণি।

সৃষ্টিকুলের অন্ন যুগায় তনু
দিয়ে বিসর্জন,
হঠাৎ কলুর বলদের গায়ে রোগে
আক্রমণ,
চিকিৎসালয়- অফিসে চাষা বলে
পয়া কি সম্মান?
কৃষকের সর্বোচ্চ সুযোগে হবে
দেশের উন্নয়ন।
……………………………………………

হায়রে মানুষ

পৃথিবীতে মানুষ পাঠাবেন বলেন বিধাতা,
মালাইকাদের জানালেন সিদ্ধান্তের কথা,
কত মহব্বতে সৃজন করলেন মানব সত্ত।
প্রভুর প্রতি সম্মান রেখে বলে,করে নত শীর,
মোরাই তো করি ইবাদত কি দরকার তাদের?
হিংসা-বিদ্বেষে করবে দুনিয়া তেমন উত্তপ্ত,
জীন জাতি জগত যেমন করেছে অভিশপ্ত।
মোর জ্ঞানের সমকক্ষ নও বলেন সৃষ্টিকর্তা,
সহজ-সরল পথে চললে মিলবে সফলতা।

কুকুরে মূল্যায়ন করে তার অধিপতি
প্রভু ভুলেনা খেয়েও খিল আর লাতি।
ইবাদতের তরে খলিফা পাঠালেন দুনিয়ায়,
আল্লাহকে ভুলে চলে মানুষ ভ্রান্ত রাস্তায়,
বাড়ি,গাড়ি,নারী আর সম্পদের আশায়,
ঘুষ,দুর্নীতি,অবৈধ পন্থায় সেজেছে মহাশয়।
অর্থের মোহে মানুষ ভুলে তার অধিপতি
নিকৃষ্ট প্রাণীও প্রভু ছাড়া নাই তার গতি,
মরীচিকার প্রেমে প্রভু ভুলে শ্রেষ্ঠ জাতি।

এক সেকেন্ডের নাই বিশ্বাস তোমার,
আমার আমার বলে কর চিৎকার,
প্রজা চায় ক্ষমতা রাজার
ফকীর হতে চায় আমীর।
বামুন ভাবে চাঁদ ধরে পাবে সার্থকতা,
কূপমণ্ডূকে চাই বিশ্বের একচ্ছত্র ক্ষমতা।।

মুসাফির খানা এ লোভনীয় সুন্দর ভুবন,
অবৈধ পন্থায় অর্থ-সম্পদ করেছ অর্জন
বন্ধু,আত্বীয়-স্বজন সবাই তোমার আপন,
কর্মফল ভিন্ন নেই তোমার স্বজন
চোখ বুঝে খাটিয়াই মিলে তার প্রমাণ।
হিসাব কষলে তুমি খাও যদি ধরা
কুলকাঠের অনলে দেহ হবে আংরা।।
……………………………………………

ডাক্তার

মানব জাতির শুশ্রূষা করবে
সরকারি ডাক্তার
অন্তর চোখে চেয়ে দেখ
শুধু হাহাকার।
সরকার কর্তৃক সেবার
সময় গাতা,
চিকিৎসার নামে শুধু
চলছে উদাসিতা ।

সাধারণ জনগণের
অর্জিত স্বাধীনতা,
ঘুষের কাছে জিম্মি আজ,
কবে বুঝবে এ মর্মকথা।
লম্বা সারিত দাড়তে বাধ্য
করে দারিদ্রতা,
বিদ্যুৎ বেগে দেখে রোগী,
বলে বিশ্রী কথা।

প্রশংসায় ভাসে
প্রাইভেট চিকিৎসার দক্ষতা,
ঔষধ লিখনে পায়
কম্পানির ভাতা,
টেস্টিং এ ভাগাভাগি
নেই কারো ব্যথা,
ডায়াগনস্টিক মালিক-ডাক্তার
করে সমতা।

কিঞ্চিৎ চিকিৎসকের কারনে ঠিকে
আছে মানবতা,
পার্থিব মোহে অক্ষম কিনতে
তার সততা,
মুমূর্ষু ব্যক্তিও তার দর্শনে ফিরে
পায় সজিবতা
উভয় জগতে শান্তিতে রাখুক
তাকে বিধাতা।।
……………………………………………

দারিদ্রতা

ব্যস্ত শহরের শ্রেষ্ঠ জাতি
মগ্ন তো ধনভাণ্ডারে।
চাকচিক্যের নেই অভাব
উচু দালানের ভীরে।

ফুতপাতে করে বসবাস
ভরাডুবি যারে ধরে।
কলুর বলদ পেরেশান
সুখ আসবে ঘরে।

স্টেশনে শীতে খোদার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি
ব্যস্ত নিদ্রার তরে।
মশা-কুকুর ঝর আর বৃষ্টি
হৃদয়ে জায়গা করে।

গরিব-দু:খীও চায় ভাল খাদ্য
খাবে উদর ভরে।
ভাল অনুষ্ঠানে পায় না নিমন্ত্রণ
বাধা হয় উপহারে।

আর্থিক সংকট মহাপাপ বলে
নিজেকে ঘৃণা করে।
ছাপোষার মুখে ফুটালে হাসি
বিধাতা খুশি হবে রে।
……………………………………………

কি আজব দুনিয়া

কেউ যে থাকে আকাশ চূড়ায়,
কেউ বা আবার গাছ তলায়।
কেউ যে এসির বাতাসে নিদ্রায়,
কেউ বা আবার ফুতপাতে ঘুমায়।
কেউ যে নিত্যদিনে পোশাক বদলায়,
কেউ বা আবার ছেড়া কাপড়ে রাস্তায়।
কারো আছে অজস্র সম্পদের মালিখানায়,
কারোও আবার নুন আনতে পান্তা ফুরায়।
কারো চিৎকারে বাঘে মহিষে এক ঘাটে জল খায়,
কেউ যে আবার দুষ্টের অত্যাচারে জীবন হারায়।

রিযিক অন্বষণে কত হাহাকার,
ভাল খাবার ভক্ষণে সাধ্য নাই তার,
দু মুটো ভাত ঝুগাতে ব্যস্ত সময় পার।
রাত দিন পরিশ্রম তবুও অনাহার,
কারোও চাওয়া মিটাতে পারেনি সে,
ব্যথা চেপে নিজেকে দিয়েছে ধিক্কার,
পাহাড় পরিমান সম্পদ দরকার,
অভাবের যন্ত্রণায় জীবন ছারখার

অগণিত সম্পদের বাহার,
নারী,বাড়ি আর গাড়ি মনোমুগ্ধকর,
অসংখ্য চেলা তার,
বসের খুশিতে ব্যস্ত সময় পার,
চিৎকার করলে সব চুরমার,
উহ! শব্দ করলে ডাক্তার,
কত সাজে, কত রুপের সাজানো খাবার,
এক নিমিষে করবে সাবার,
কিন্তু ভক্ষণে নিষেধ আছে যে তার,
খেলেই সে পরপার,
আহারের সাধ্য আছি কি তার?
ঘুমের ঔশধ সেবনেও সজাগে রাত পার।।

দয়াময় মানুষরুপে সৃজন করিয়া,
ঘুড়ির সুতার মূল নিজ হাতে রাখিয়া,
মুক্ত আকাশে দিলেন ছাড়িয়া
ভাল কি মন্দ সবকিছু দিলেন বলিয়া,
দিন শেষে বিধাতা হিসাব নিবেন কষিয়া।