অনুভবে তুমি

রয়েছ তুমি অনেক দূরে।
মনে হয়,
শত কোটি আলোক বর্ষ দূরে;
দৃষ্টির আড়ালে।
তবু যেন মনে হয় তুমি আছ
আমারি কাছে, একান্ত কাছে।
দেহের প্রতিটি প্রশ্বাস
স্পন্দনের সাথে মিশে।
কখনও ডাকো ইশারাতে
চোখে-চোখে,
কখনও নিঃশ্বাসের উষ্ণতাপে
ভিতরে ও বাহিরে,
কখনওবা দুষ্টামি করে
আলতো ঠোঁটের কটু আঘাতে;
কখনওবা দৈহিক সমতল
পতিত উদরে।
ছন্দময় এ ভালবাসায়
শিরোণামের পতন ঘটিয়ে
আজ তুমি মিশে গেছ আমার
স্বপনে ও জাগরণে;
এ দেহের প্রতিটি সোপান পেড়িয়ে
আজ তুমি পৌঁছে গেছ হৃদয়ের
সুগভীর অন্তরালে।

অনুভূতির স্বচ্ছ প্রাচীরে দাঁড়িয়ে
বলছি তোমায় ইশারাতে বোঝবার,
ওগো প্রতিক্ষিতা! তাকিয়ে দেখ,
আমি তোমার সেই কল্প পুরুষ,
যাকে তুমি ভেবেছ অনবরত,
কামনা ও বাসনায় কাটিয়েছ
বিশেষ বিশেষ মূহুর্ত; যার জন্য
রোমাঞ্চিত ঐ যৌবন স্বর্গকে
রেখেছ আজ পর্যন্ত অক্ষত।।
…………………………………………..

অবাঞ্ছিত

আপন বক্ষে নিরঞ্জন
এ ভালবাসা রেখেছি ধরে,
শত ভিক্ষে চেয়েছি
তুলে ধরেছি তার সামনে
অকাতরে প্রাণ ভরে।
হাড়ে-হাড়ে মিশে থাকা
রন্ধ্রে-রন্ধ্রে সঞ্জীবিত
খাঁচার আবদ্ধে সঞ্চিত
তা’ প্রায়ই অবলুপ্ত। অথবা
হৃদে নিগূঢ় এ’ ভালবাসা
কেবলই হয়েছে প্রবঞ্চিত,
কিংবা অবাঞ্ছিত ।
কিন্তু এ ভালবাসাই
এ জীবনের প্রাণ বলে
নিঃসঙ্কোচে আমি নিজেকে
সঁপিতে প্রস্তুত, চাই
কি হবে এর
শেষ অবধি বিধান।

হয় হবে ঐশ্বর্যে পরিপূর্ণ
এ জীবন,
মৃত্যুর দ্বারা মহিমান, কিংবা
প্রবণ চিতে অন্তর্দহনে
চির বিদায়ী চিতা বহ্নিমান।।
…………………………………………..

সন্ধাতারা

রাতের তারাগুলো এখন’
অনেক পরিচিত মনে হয়।
দিব্যি বলতে পারি,
কোন তারা কখন-
কোন ভাষায় কথা কয়।
সন্ধাতারা’ মাঝে-মাঝেই
আমাকে ডেকে কয়,
ও বন্ধু!
তুমি কেন এত অসহায় ?
তোমার কথা ভাবলে
আমার বুক কেঁপে উঠে ব্যথায়।
আমিতো আগে হই উদয়
অতঃপর আগেই ডুবে যেতে হয়।
পৌনঃপুনিক বলতে পারো
আমি একটা নির্দয়।
কিন্তু জানো কি ?
তোমার এই একাকীত্বে সঙ্গ দিতে
আমার ভীষণ ইচ্ছে হয়।
প্রত্যুিত্তরে-
আমি আমি বিড়-বিড় করে
ক্ষীণ স্বরে বলি,
বন্ধু, তুমি যাও চলি,
কিন্তু যাওনাতো মোরে ভুলি;
রেখে যাও আমার জন্য
রাতের অবশিষ্ঠ তারকা গুলি।
যেন দুঃখ ভুলে তাদের সঙ্গে
আমি করতে পারি মিতালি;
তুমি যাওনাতো মোরে ভুলি।
যার জন্যে জীবন সঁপিনু-
সেই করে গেল পেন্নাম!
দেখিয়ে দিল বৃদ্ধাঙ্গুলি,
দূর্মুসের মত পিষে দিল
আমার লালিত স্বপ্ন গুলি।
বন্ধু, তুমিও কি এভাবে
যাবে মোরে ভুলি ?
আমাকে কথা দাও
নচেৎ ব্যথা দাও
এ’ বুক ভরে দাও
কোন একটায়..
…………………………………………..

অভিমানী বালা

আমি বুঝলাম তুমি রাগ করেছ,
কিন্তু আমি কি চাইব না
আমার উপর এতটুকু অভিমান কর..?
এই মূহুর্তে তুমি যদি হও অভিমানী,
তাহলে আমি স্বার্থক..!
কেননা-
রাগের গভীরে আরও অতল শীর্ষে
ভালবাসায় অবিমিশ্রিত হেঁয়ালী
আবেগটাই তো…
যাকিনা অভিমান নামেই বিদিত।
শুধুতো প্রকাশভঙ্গীর ভেদে
ভিন্ন-ভিন্ন অর্থবোধক, অর্থের প্রতিপাদক।
কেউবা স্রোতে ভাসায় বুক
নয়ন আসারে,
কেউ অতি প্রিয় বস্তু বিসর্জন দিয়ে,
অথবা, অঙ্গে রুধির রঙ্গনে।
ওগো অভিমানী !
লুণ্ঠিত আমি তব মায়ায়
আশ্রয় পেয়েছি যত, আরও চাইছি
তব ভালবাসার ছায়ায়।
ফুল সেজে গন্ধ বিলাতে চাই যে
তোমার ঐ ঢেউখেলানো রূপময়ী
যৌবনোদ্যান কায়ায়।
আজও অবধি যামিনী কাটে
কামিনী তব তনূর সুঘ্রাণ সুখস্পর্শে।
তব কেশী ঘ্রাণ উপচে এসে অনীল প্রবাহে,
মম নিদ্রা আপচে আসে প্রীতিতে-আগ্রহে।
জীবন সঁপিয়ে সাক্ষী মানছি,
আমাদের এ শৌচ মিলনকে
গড়ে তুলব শাশ্বত এক…
পবিত্র এ ভালবাসার অমৃত সুরা
পান করে আমরা হয়ে যাব
চিরন্তন, অবিনশ্বর।
তবু দোহাই তোমার
ছেড়োনাকো অশ্রুবিন্দু,
হয়ে যাবে চৌঁচিরে খান-খান
শোকাবহে মম নিরুপম অন্তরেন্দু।
…………………………………………..

শূন্য বারান্দায়

অনরগল আমি ডেকে বলি
একটু স্পর্শ কর, আমি সুস্থ হয়ে যাই।
আলতো করে এ বক্ষে ছুঁয়ে দাও
তোমার ঐ শুভ্র মৃদু আঙ্গুলি।
এত ডাকাডাকি, এত চেয়ে থাকি
আনমনে..
তবু কেন ছুঁয়ে দেখনা..?
কোমল স্পর্শে কাছে টাননা..?
একটিবারও
হায়! আমি কি এতটাই কাঙ্গালী..?
প্রতিটা রাত, অতঃপর দিন
গুণে গুণে পেরোই,
একবারও আমার কথা
তোমার মনে পরেনা কখনই।
রিক্ত এ আমি
তোমার স্পর্শে হতে চেয়েছি
মুক্ত, পরিপূর্ণ।
তবু কাছে এসেছ, চেয়ে থেকেছ
কিন্তু স্পর্শ করনি।
এখন এ বুকের পাঁপড়ি গুলো
হয়ে গ্যাছে অগুছালো,
আর ব্যালকনির গ্রীলে
মার্তন্ডের পীড়নে
এ মুখ ঝলসে গ্যাছে,
তবু দুঃখ পাইনা, ব্যথা ভুলে থাকি,
শুধু তোমার মৃদু স্পর্শ
কোন ক্ষণে পাবো বলি।

আমি তো জল চাইনি,
তবে কেন করেছ এ দেহে জল সেচন..?
আমিতো পুষ্টি চাইনা,
তবে কেন ব্যস্ত থাকো আমার চর্যায়..?
ওগুলো অযথাই, অনধিক চর্চা!
আমিতো কিছুই চাইনা,
জীবিত থেকে মৃতের প্রাণ নিয়ে
আর বেঁচে থাকার অভিলাষ হয়না।
আমাকে কাছে টানো,
কোমল স্পর্শে ভালবেসে
এ জীবনকে করে দাও মহিমান,
আঘাতের পরাঘাতে
এ দেহের প্রত্যেকটি অঙ্গ ছিঁড়ে ফ্যালো,
আমাকে ভেঙ্গে ফ্যালো, মেরে ফ্যালো
তোমার ঐ স্পর্শে কলঙ্কিত অথবা,
ধন্য হোক এ’ ক্ষীণ জীবন।

শূন্য বারান্দায়
বদ্ধ অথচ ফাঁকা গ্রীলের জানালায়
বাতাসের নিয়মিত প্রতিকূলতা।
এতসব বিপত্তি, এত দীর্ঘ শূন্যতায়
আজও মৃতবৎ হয়ে
বেঁচে আছি এই লাল টবে;
একটি গোলাপের বেশে, এই ভেবে
যদি ভুল করেও তুমি স্পর্শ কর
আমি সুস্থ হব তবে।।
…………………………………………..

ভালবাসার চন্দ্রবিন্দু

আমি যৌবন তাড়নায় উদ্দীপ্ত প্রেমিক
যৌবন আমার আজ স্থবির, তবুও
অসম্ভব ধৈর্য্যে ছুটে চলেছি তোমার পিছে পিছে..
কেন জানো..?
তুমি আমার ভালবাসার চন্দ্রবিন্দু বলে।
তোমার কোলে মাথা রেখে,
জ্যোৎস্না ভরা চাঁদের আলোয়
নীল আকাশের তারা গুণব বলে।
এখন পর্যন্ত-
অনেক বার কাছে পেয়েছি,
কিন্তু স্পর্শ করিনি।
ছুঁয়ে দেখিনি, তোমার কোমল হাতে
ভালবাসার অনুভূতি কতটুকু।
চেকে দেখিনি,
তোমার ভালবাসার মুদিরাও পান করিনি;
শুধু চোখ ভরে দেখেছি, আর
মন ভরে চেয়েছি-
যদি আসে সেই শুভ দিন..!

আমি যৌবন বিড়ম্বনায় তাড়িত যুবক
নিশ্চল এ দেহ আজ ঘুনে ভরে গ্যাছে,
তবুও আমি অসম্ভব ধৈর্য্যে
ছুটে চলেছি তোমার পিছে পিছে।
যৌবনোদ্যানে-
তুমি জায়গা দিবে
আমি বীজ বুনবো, অতঃপর জল দেব।
তুমি ফুল তুলবে,
আমি মালা গেঁথে তোমার গলায় পরাব;
তুমি হাসবে, আমি চেয়ে থাকব
একান্তে, নিমগ্ন নেত্রে।
তোমার অক্ষির জলছায়ায়
ভাসবে তব আকুল মন,
তোমার প্রকম্পিত অভ্রম ভালবাসার
মুদিরায় পরিতৃপ্ত হবে
মম ব্যাকুল এ যৌবন।
কায়মনে আমি চাই,
তুমি ডাকবে আমায়।
ব্যাকুল পিয়াসে তুমি চেয়ে থাকবে,
ঘর হতে আঙ্গিনায়..
শুধু আমারি প্রতীক্ষায়।
কিন্তু এ স্বপ্নশিখা নিভে গেলে হায়..!
প্রেমহীন অবশ যৌবনে
ছুটে চলব নির্বাসনের দিকে,
অজানার দীপে। তবুও বলব-
হবে না-আ-কি ঠাঁই একটু খানে..?
তোমার ভালবাসার কাষ্ঠে গড়া
তরীটির এ্যাক কোণে।

আমি যৌবন তাড়নায় উদ্দীপ্ত প্রেমিক
যৌবন আমার আজ স্থবির।
অসম্ভব ধৈর্য্যে চলেছি অচীন দেশে
কেন জানো..?
তুমি আমার ভালবাসার চন্দ্রবিন্দু বলে।
পর জনম হলেও
ঘুমোতে চাইযে আমি তোমারই কোলে।।
…………………………………………..

নারী

নারী অমৃত নারী অতৃপ্ত
নারী বসন্ত সারা অনন্ত
নারী আশ্রম এক জীবন্ত।
নারী কাঙ্ক্ষিত-অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের সংমিশ্রণ,
নারী দেবী নারী সরস্বতী নারী সমস্ত পুরুষের
প্রীতি হারা জীবনের শ্রেষ্ঠ আনন্দ ক্ষণ।
নারী একটি ইতিহাস,
একটি কথার কথা
যতটুকু আশ ততটুকুই ব্যথা।
নারী মানবোদ্যানে বিকশিত
একেকটি ফুলের বাহার,
যাহাবিনে মানব জীবন পুরোটাই অনাহার-
একেবারে হাহাকার;
কর্মগুণে কেহ যদি ধূতরার দলে যায়,
সে দোষ তবে শুধুই তাহার।
নারী ত্যাগী নারী রাগী নারী অনুরাগী,
নারী শত ব্যথা সয়েও জল ছল ছল চোখে
স্বীয় পতীকে পূনরায় বেশে যায় ভাল।
নারী মহৎ নারীর আছে অসম্ভব হিম্মত,
পিতার ঘরে নিভিয়ে আলো
পতীর ঘরে নারী জ্বালায় আলো।
নারী মাতা নারী পূর্ণন সংগীতা,
নারী ঘূর্ণন যাঁতা তলে-
স্বপ্ন বুনে চলে পলে পলে;
সন্তান ধারণ-জন্ম-লালন-পালন
অসম্ভব ধৈর্য্যের এই মহা ক্রান্তিকালে,
মাতা নারী কাটিয়ে উঠে অতিকৌশলে।
নারীর তল খুঁজে কোন জন..?
নারী হল পৃথ্বীর রহস্যময়ী এক
অসমাপ্ত বিশ্লেষণ।।
…………………………………………..

কনকনে রাত

চাতকী দৃষ্টে চেয়ে কাটিয়েছি অনন্ত রাত
নীলাম্বরে চন্দ্রবিন্দে শুনেছি,
তোমার গোড়ালির মৃদু পদনাদ।
যার মধ্যে এটা ছিল হিমাঙ্কে বিজড়িত
একটি কনকনে আলো-আঁধারি রাত।
অধীর চিত্তে প্রতিটি প্রহর গুণেছি
কখন পাব তোমার অভিসারী সাক্ষাৎ।
যাপন করেছি, কাটিয়ে দিয়েছি;
অসহ্যময়ী সেই নিষ্ঠুর নিভৃত যামিনী।
হিমিকার হিংস্র হিমেল হূলে
থরথর কাঁপুনিতে আঁতকে উঠেছে
আমার এ’ ভগ্ন উরু পিন্ড কুন্ডলিনী।
কিন্তু নির্মেঘ শর্বরীর অস্পষ্ট আঁধারে
যখন ভেসে উঠেছে হলুদ সাজে
রূপালি রঙে রঞ্জিত শশধর,
তখন শত সহস্রবার
নক্ষত্রোজ্জ্বলসম দৃষ্টিপাত করেছি
অবুঝ মনের অসম আবেগে,
নির্জ্ঞানে দৃঢ় ব্যাকুলতায়।
মনে হয়েছে,
এই বুঝি মম পশ্চাৎ কাঁধে
রাখবে তব দক্ষিন হাত।
কোন এক মূহুর্তে
বলে উঠবে অকস্মাৎ-
তুমি আমার দেবময়ী পূজণীয়
আরাধ্য ভাবি বর,
তোমার সনেই গড়ব আমার
বাসররঞ্জিত ভালবাসার ঘর।
মর্তলোকে শতলক্ষ মানুষের
জনস্রোতের জোয়ার ভাটায়,
একমাত্র তুমিই আমার
এ দেহ তরণীর হালবহর।
বিপথের পথিকৃৎ অথবা,
বিভ্রান্তিকর দিগ্বিদিকের
নিঃসঙ্গ সন্ধার মৃত্যুঞ্জয়ী দোসর।
স্বপ্নের ডানা গুণতে গুণতে
আমি হয়েছি ক্ষান্ত,
নিঃসহায় কনকনে শীতে
শীতল কুহেলিকার প্রতিটি
শিশির বিন্দুকে মনে হয়েছে
আমার-ই মত, দূর্বার অশান্ত।
তবু আমি খুঁজে যাই
তব মৃদু পদ চিহ্ন।
কেননা, স্বপ্নময়ী বাসরালয়ে
হতে চাইযে আমি তোমার
একান্ত পরান্ময়ী পরম কান্ত।।
…………………………………………..

মহাদেব

কহিলাম তার কাছে কোলঘেঁষে বসে,
বলিল যে বধূ, একি বলছেন শুধু শুধু।
আপনাতে অনীহার ভাবজাগে প্রতিবার,
হায়, একি দুর্ভাগ্য আমার।
বলিলাম বধূ, সেকি !
সেলিমের বউ যাহা, তুমিওকি তাহা ?
কহিলেন বধূ, সেতো বুঝিনে;
প্রতিবেশী সুরুজের মুখ কেন ভেসে উঠে কল্পনে ?
যত করি আঘাত, সে তার বেশী করে প্রতিবাদ।
অর্থতো দিয়েইছো, কাপড়ও অনেক;
তাই বলে তৃপ্ত কিগো করেছ কামদেব ?
কহিলাম বধূ, ক্ষমা কর শুধু; এবার চলিব শুধরায়।
ক্রুর হাসি হেসে, কহিলেন বধূ শেষে;
শুনুন স্বামী, সুরুজ যে আমার হৃদয়ের মহাদেব।
…………………………………………..

একটি জলকণা

একটি কালভার্ট, তার উপর।
চারিপাশেই জলাধারে একাকার।
ফাঁকা আকাশ, নিশির আমি দোসর একা।
একটি মেঘবিন্দু বরফদলা সদৃশ
শশীকলাকে ক্ষীণ আড়ালে শশব্যাস্ত,
নীরদসোমকৌমুদীর-
এই আড়ালী ক্রীড়ায় মন দৃঢ়ব্যাস্ত।
লক্ষকোটি নক্ষত্র মহাগগনে বিরাজমান।
থেকে থেকেই অকস্মাৎ
কিম্ভূতোই উল্কা হয় দৃশ্যমান।
কালেভদ্রে দেখাদ্যায়, দু’একটি জোনাকি।
জলের পরে-
চন্দ্র আর পোনামাছের হচ্ছে চোখাচোখি।
আমি ব্যাকুল হয়েই দেখি কেবল দেখি।
প্রকৃতির এ নিরঞ্জন মনোহরনী ক্রীড়ায়
কবি হৃদয়েও দু’একটি স্বপ্ন উড়েবেড়ায়।
সেই শশীকলার ন্যায়,
হৃদয়ে জমে থাকা বিরহী মেঘ দলাকে
দূরে ঠেলিয়ে দৃষ্টিপটে ভেসে বেড়ায়
প্রিয়ার মনভুলানো সেই হাস্যকণা।
আর অজান্তেই দৃষ্টিকোণে গড়িয়ে পরে
সেই বিরহী মেঘের একটি জলকণা।।