ফিরোজও শামীমের পরীক্ষা শেষ হয়েছে তিন মাস হলো। এর মধ্যে মাস্টার্সের ক্লাসও শুরু হয়ে গেছে। ক্লাস চলেছে পুরোদমে। এই সময়টার ভিতরই তারা জানতে পারলো ইস্কান্দার মৃধার সংবাদটা। ফিরোজের জন্য খুবই আনন্দের সংবাদ। জগলুকে একবারে দেখতে ইচ্ছে করছে তার। কিভাবে দেখা করবে তার সাথে। নিশ্চয়ই এখন তার জীবন সঙ্কটাপন্ন। মৃধার অবশিষ্ট চেলারা তাকে ছেড়ে দেবে বলে মনে হয় না। হয়তো আল্লাহ তাকে কোনো উপায়ে বাঁচাবেন। আর মরে গেলেও আল্লাহ তার এই সাহসী কাজের পুরস্কার দেবেন। এই মুহূর্তে বৃদ্ধকে একটু সাহায্য করতে পারলে বড়ো তৃপ্তি পাওয়া যেতো। রোমেলার শিলপাটার মতো শক্ত মুখচ্ছবিটা ফিরোজের চোখের সামনে ভাসছে। অজান্তে থু থু ছিটালো ফিরোজ। চাচার নিষ্পাপ চেহারাটা চোখের সামনে ভেসে উঠতেই মনটা বেদনায় ভরে গেলো ফিরোজের। আহা! এমন একটা সরল মানুষের কপালে এ নীচ মহিলা এসে জীবনটা শেষ করে দিলো চাচার। পত্রিকায় রোমেলার নাম দেখেছে ফিরোজ। পুলিশ বাসায় হানা দিয়েছে ফিরোজ তা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছে। কিন্তু রোমেলা যে হাকিম সরকারের স্ত্রী এটা পত্রিকায় আসেনি। চাচার নাম আসলে তার মান-সম্মান আর কিছুই থাকতো না। কিন্তু আশপাশের মানুষ নিশ্চয়ই জেনেছে।
ফিরোজদের অনার্সের রেজাল্ট বের হয়েছে আজ। ফিরোজ ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়েছে। শামীমও ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে। ফিরোজ রেজাল্ট পেয়ে কিছুটা অবাক হলো। কিন্তু জামান স্যারের কেলেংকারিটা কিভাবে কি হলো বুঝতে পারছে না। অবশ্যই জামান স্যারের দুর্ভাগ্য যে তার সমস্ত অপকর্ম চেয়ারম্যান স্যার জানতে পেরেছেন। আগের ব্যাচের কয়েকজন ছাত্রী প্রমাণাদিসহ জামান স্যারের অপকর্মের ঘটনা সবিস্তারে জানিয়েছে চেয়ারম্যান স্যারকে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ ছিলো। তার মধ্যে ডিপার্টমেন্টের অর্থ আত্মসাৎ, ছাত্রীদের সাথে অবৈধ সম্পর্ক, পরীক্ষার রেজাল্ট নিয়ে কারসাজি ইত্যাদি প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। তাকে যে সাসপ্যান্ড করা হয়েছে এটা খুবই গোপন ছিলো। তাই ঘটনার আদ্যোপান্ত ফিরোজের পক্ষেও জানা সম্ভব হয়নি।
রেজাল্ট পেয়ে দু’জনেই খুব খুশি। চেয়ারম্যান স্যারের সাথে দেখা করে টিএসসির দিকে হাঁটা দিলো ওরা। রেজাল্টের নানা দিক নিয়ে কথা বলছে দু’বন্ধু। হঠাৎ ভাইয়া ডাক শুনে চাইলো রাস্তার অপর পাড়ে। মিলি। রাস্তা পার হয়ে এসে দাঁড়ালো দু’জনের সামনে।
-তোমার রেজাল্ট কি ভাইয়া। মিলির যেনো আর তর সইছে না।
-তোর ভাইয়া ফার্স্ট ক্লাস সেকেন্ড হয়েছে।
‘ইয়া হো’ বলে মিলি বাচ্চা মেয়েদের মতো জড়িয়ে ধরলো ফিরোজকে।
-ভাইয়া তোমাকে যে কি দিয়ে সারপ্রাইজ দেই…। ওহ কিছুই খুঁজে পাচ্ছি না। মিলি চারদিকে তাকাতে লাগলো।
-শুধু আমার রেজাল্ট জানলেই চলবে? শামীমেরটা জানতে হবে না। ফিরোজের কথায় লজ্জা পেলো মিলি। লজ্জারাঙা চোখে তাকালো শামীমের দিকে। শামীম মিটিমিটি হাসছিলো। চার চোখের মিলন হওয়াতে মিলির গোটা চেহারা লজ্জায় কৃষ্ণচূড়ার মতো লাল হয়ে গেছে। পলকেই দৃষ্টিটা নামিয়ে আনলো পায়ের কাছে। একটু মুচকি হেসে ফিরোজই বললো
-ও ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছে। কি, খুশি তো? মিলি শুনে ভিতরে ভিতরে মহা খুশি হয়ে আছে। কিন্তু বাইরে তা প্রকাশ করলো না। লজ্জায় এখনো সে মাথা নিচু করে আছে। ফিরোজ এবার মিলির বেণিটা ধরে হালকা একটা ঝাঁকুনি দিয়ে বললো
-কি রে সারপ্রাইজ শুধু আমাকেই দিবি? আর ওকে শুধু খালি হাতে ফিরাবি। নাকি অন্যকিছু দেবার আছে? বলেই ফিরোজ হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দেবার উপক্রম।
-ভাইয়া! বলেই একটা কিল বসিয়ে দিলো ফিরোজের পিঠে। ফিরোজের কৌতূকে শামীমও কিছুটা লজ্জায় রক্তিম হয়ে উঠলো। হাসাহাসি, গড়াগড়িতে তিনজনে হাঁটা দিলো টিএসসির দিকে।
দেখতে দেখতে দিনগুলো দ্রুত ফুরিয়ে যায়। সময়ের পেন্ডুলামে ঘুরতে থাকে ভাগ্যের চাকা। জীবনের পলিমাটিতে অঙ্কুরোদগম হয় সাফল্যের। ডালপালা পল্লাবিত হয়ে বিস্তার করে চারদিকে। ভরা মাঠের প্রহর গোনার পালা এক সময় শেষ হয়ে আসে। সোনাঝরা ফসলের স্বপ্ন দেখতে দেখতে কেটে যায় আরো একটি বছর। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে বের হয়ে আসে ফিরোজ ও শামীম। এবার প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হতে ফিরোজের আর কোনো বাধা থাকলো না। শামীমও তার আগের রেজাল্ট বহাল রাখলো। অগনন শিক্ষিত বেকারের দলে ফিরোজও তার নামটি লিখিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। একটি রেজাল্ট মানে বেকারের লিস্টি বড়ো হওয়া। তবুও আশায় বুক বেঁধে পড়ে থাকে শিক্ষিত যুবকের দল। টিউশনির পয়সা চলে যায় ব্যাংক ড্রাফট, ফটোকপি, ছবি আর সিভি কম্পোজ করতে করতে। তবে যারা শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের চেষ্টা না করে স্রেফ পড়াশোনায় মন দেয় তাদের আর চাকরি পেতে অতোটা বেগ পেতে হয় না। চাকরির সোনার হরিণ ধরা দেয় অনায়াসে। তবে মামু খালুর দৌরাত্ব আজো টিকে আছে বহার তবিয়তে। সবখানেই চলে টাকার লেনদেন।
সবাই যোগ্য প্রার্থী চায়। কিন্তু যোগ্য প্রার্থীর বড়ো অভাব। এদেশে বাস্তবমুখি শিক্ষা না থাকাই তার কারণ।

এর মধ্যে বেশ কয়েকটা চাকরির দরখাস্ত করেছে ফিরোজ। কিছুদিন পর পিয়ন এসে একটি সাদা খাম রিসিভ করতে দেয় ফিরোজের হাতে। উইন্ডো খামে নিজের ছবিটা দেখে রিসিভ করে খামটা। ব্লক লেটারে কম্পোজ করা ফিরোজের নাম ঠিকানা।
খামটি খুলতেই আনন্দে চকচক করতে থাকে চোখ দু’টো। মা বলতেন অধিক খুশি হলে মানুষের চোখ থেকে অশ্রু ঝরে। ফিরোজের চোখ থেকে এখন অশ্রু ঝরছে। আনন্দের অশ্রু। চাকরিটা সে পাবে বিশ্বাসই হচ্ছিলো না।
একটি বহুজাতিক কোম্পানির মার্কেটিং প্রমোশন অফিসার হিসেবে চাকুরির নিয়োগপত্রটা পড়ে নেয় বারবার। নিজের চোখকে বিশ্বাস করাতে পারছে না ফিরোজ। নিজের নামটা বারবার দেখে। না অন্যের নয়। তার ছবি আঠা দিয়ে লাগানো। পিয়ন ভুল করেনি। বেতন স্কেলটা দেখে চোখ ছানাবড়া। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এক লক্ষ টাকা মাসে। এতো টাকা দিয়ে কি করবে সে। দু’টো টিউশনি থেকে পায় পাঁচ হাজার। তা দিয়েই তো ভালোভাবে চলে যায় তার। নাহারকে মাসে এক হাজার টাকা করে পাঠায়। প্রতিমাসেই কয়েকটা ট্যুর থাকবে। টিএ ডিএ মিলে বিশাল টাকা। ইন্টারভিউটা হয়েছিলো গতো সপ্তাহে। আমেরিকান ভদ্রলোকের প্রতিটি প্রশ্ন্রে উত্তরই ফিরোজ সুন্দর করে গুছিয়ে দিতে পেরেছিলো । কোনো জড়তা ছিলো না তার।
এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোর বাজার পর্যবেক্ষণ ও মার্কেটিং এর জন্য প্রমোশন মিক্সের কৌশলগুলো জানার জন্য সামনের মাসেই ফিরোজকে বের হতে হবে। তার আগে ইন্টারন্যাশনাল পাসপোর্ট করতে হবে। জীবন যুদ্ধের এ সাফল্যে ফিরোজ বিস্মিত না হয়ে পারলো না। মায়ের মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে তার। মৌমাছির ঝাঁঝরা বাসার মতো পিতার বুকটা ভাসতে থাকে চোখের পাতায়। বৃদ্ধ ছমির গাজি ও তার স্ত্রীর করুণ মুখটি হৃদয়ে জ্বলজ্বল করতে থাকে। নজরুল মাস্টারের সেই অপমানটা ফিরোজের প্রত্যয়ী মনটাকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সুইটির কথা মনে পড়াতে ভিজে যায় চোখের পাতা। বুকের ভিতরটা হাহাকার করে ওঠে। হাতে সময় অল্প। স্মৃতির নোটবুক হৃদয়ের এক কোনো রেখে করণীয় স্থির করে সে।
হাতে বেশি সময় নেই। এশিয়ার বিজনেস নিউজগুলো ভালোমতো পড়ার জন্য একটা টাইম সিডিউল করতে হবে। কোম্পানির বাংলাদেশ অফিসে কিছু কাজ আছে তাও সারতে হবে এ সপ্তাহের মধ্যে। সুইটির সাথে আর দেখা হয়নি। ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ওর একটা চিঠি পেয়েছিলো অনেকদিন আগে। তাতে ও লিখেছিলো ‘ফিরোজ আমি তোমার জন্য আজীবন অপেক্ষা করবো।’ ফিরোজ এর কোনো উত্তর দিতে পারেনি। এ খুশির খবরটা তাকে জানাবে কী না তাও চিন্তা করে কোনো কিনারা করতে পারলো না। এশিয়ার ট্যুরটা শেষ করেই খবরটা দেবে। এ চিন্তা করেই এ পাতাটি আপাতত উল্টিয়ে রাখলো ফিরোজ। এমন নানা প্রাসঙ্গিক-অপ্রাসঙ্গিক চিন্তা ভাবনার মধ্যেই শামীমের পায়ের শব্দ পেলো ফিরোজ। শামীম কোনো ভূমিকা ছাড়াই বললো
-ফিরোজ আম্মা আজ আমাদের দু’জনকেই বাড়িতে যেতে বলেছেন।
হঠাৎ ওর হাতে একটি বিদেশি খামে নজর পড়তেই তা খুলে পড়তে লাগলো। আনন্দে ওর চোখ দুটো চকচক করছে।
-ইয়াহু। শালা এতো বড়ো একটা সুসংবাদ আমাকে দিসনি! আর তুই এমনভাবে দাঁড়িয়ে আছিস যে তোর বউ মারা গেছে। ওহ! আজকে তো মহা আনন্দের দিন। কখন পেলি? শামীম এখনও ফিরোজকে জাপটে ধরে আছে।
-একটু আগেই পেলাম। তুই তো বাইরে ছিলি। জানানোর সময় পেলাম কই? এসেই তো তুলকালাম কান্ড বাজিয়ে দিলি।
-এতো বড়ো একটা ঘটনা। তুলকালামের দেখছিসটা কি? তা যাক। আম্মাকে একটা ফোন করে দিই রাতের আয়োজনটা যাতে তোকে উৎসর্গ করা হয়। আর মিলিদের বাসায়ও মা তোকে…
-কি, মিলিদের বাসায় কি?
ফিরোজের ঠোঁটে কিছুটা দুষ্টুমি। একটা ফোন করতে হবে তোকে।
-এটা বলতে এতো লজ্জা পেলে চলবে।
-আসলে তোর বোন মিলিকে আমি ভালোবেসে ফেলেছিরে। সেই কলেজে থাকতে। এ্যাকসিডেন্টটার কথা মনে আছে নিশ্চয়। সেই দিন থেকেই আমি ওকে ভালোবেসে ফেলেেিছ। এর পর থেকে আর মিলির সামনে ইজি হতে পারছি না। আজও মুখ ফুটে তাকে বলতে পারিনি মনের কথাটা। এই যুগে এটা শুনলে যে কেউ আমাকে হাঁদা ছাড়া কিচ্ছু বলবে না।
ফিরোজ না বোঝার ভান করে বললো
-ভিতরে ভিতরে আমার বোনের সাথে প্রেম। তাও এতো বছর ধরে, তুইতো দেখি আমার চেয়েও পাকারে। তাইতো বলি মিলি সেদিন সারপ্রাইজ এর প্রসঙ্গে কেনো আরক্তিম হয়ে ওঠেছিলো। বলেই ফিরোজ আনন্দে লাফাতে লাগলো।
-কি করবো বন্ধু বল। আমি ওকে ছাড়া আর কাউকেই কল্পনা করতে পারি না। ও হ্যাঁ মিলিদের নতুন বাসাটায় ওরা ওঠার পর তো যাওয়া হয়নি। বাড়িটা না কি খুবই চমৎকারভাবে সাজিয়েছে? মিলির ভাইও নাকি আসবে সপ্তাহ খানেকের মধ্যে?
-তুই তো দেখি আমার চেয়ে মিলিদের বাড়ির খবর বেশি রাখিস।
-তুই একাই বাড়িটার সব কাজ করে দিলি, আর আমি খোঁজ নিয়ে অপরাধ করে ফেলেছি?

শামীমদের বাড়িতে আজ বিশাল আয়োজন। পরিবারের লোকজন আর বন্ধু-বান্ধব। শামীমের মা শামীম ও ফিরোজের রেজাল্টের জন্য এই আয়োজন করেছেন। তাছাড়া ফিরোজের বাবাও অনেক বছর পর আসলেন। সেই সুবাদে এই ঘরোয়া আয়োজন। মিলি ও তার মা-ও এসেছেন দাওয়াতে। এর আগে কখনো ওরা এ বাসায় আসেনি। তবে শামীম ও ফিরোজের মাধ্যমে মিলিদের পরিবারের সবকিছুই জানেন শামীমের মা। মিলিকে দেখে শামীমের মা অবাক হয়ে গেছেন। এতো সুন্দর মেয়ে। যেমন সুন্দর তেমন লম্বাÑ হাসিটা দেখলে মনে হয় কতোকালের চেনা। কী মধুর ব্যবহার মেয়েটির। ফিরোজের বাবাকেও পরিচয় করার সুবাদে একবার ভালো করে দেখে যেতে বলেছেন শামীমের মা। কী মিষ্টি চোহরা! শামীম খাবার পরিবেশনের সময় মিলির পাশে যখন একজনকে খাবার দিচ্ছিলো, তখনই দু’জনকে মিলিয়ে নিচ্ছিলেন শামীমের মা। ভারি চমৎকার মানাবে দু’জনকে। বিষয়টা যখন তিনি তন্ময় হয়ে দেখেছিলেন মিলি তখন মুরগীর রানে একটা কামড় দিয়ে সামনে তাকালো। চোখাচোখি হয়ে গেলো শামীমের মায়ের সাথে। মুহূর্তেই লজ্জায় মুখটা রঙিন হয়ে উঠলো তার। শামীমের মাও কিছুটা লজ্জা পেলেন। বেচারির আর খাওয়া হলো না। খাওয়া শেষে সবাই যখন বিদায় নিলো তখন ওদেরও বিদায় নেবার পালা। কিন্তু মিলি লজ্জায় আর শামীমদের মা’র মুখের দিকে তাকাতে পারলো না। শামীমের মা-ই ওকে বুকে টেনে আদর করলেন। কপালে চুমু খেয়ে মুখে হাসি টেনে বললেন
-এতো লজ্জা পেলে কী হয় মা। এর পর দুই হাতে মুখটাকে উঁচু করে ধরে যখন চাইলেন তখন লজ্জায় বেচারি ডালিমের মতো লাল হয়ে গেছে। কোনোরকম নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে ওড়নায় মুখটা ঢেকে মায়ের পিছে পিছে চলে গেলো অন্যদিকে। চলার ভঙ্গিটা যে আনন্দের ছিলো তা ফিরোজ ও শামীমের চোখও এড়ালো না। কিন্তু কারণটা খুঁজে পেলো না দু’জনের কেউই। শামীমের মা ও মিলির চলার পথের দিকে তাকিয়ে এখনো হাসছেন। ফিরোজ ও শামীমের দিকে তাকাতেই তার তন্ময়তা কেটে গেলো।