জীবনটা এক গোলকধাঁধা। কখনো ঝড় বৃষ্টিতে সব ধুয়ে মুছে সাফ করে ফেলে, কখনো বা পলি জমে উর্বরতা আনে জীবন নামক বৃক্ষে। ভরা যৌবনে জীবনের পানসি কখনোই একটি জায়গায় স্থির থাকে না। থাকে কেবলই সময়ের কথা, ভস্ম। তাই জীবন নিয়ে বিচিত্র চিত্র আঁকাআঁকি প্রত্যেকের জীবনে স্বতন্ত্র গতিতে। একেক জীবনের একেক স্রোত, উজান ভাটা। কাছের মানুষের সাথেও দৃশ্যের মিল থাকে না প্রায়শই। তাই হতাশ হওয়ার কিছুই নেই। ক্ষুদ্র মগজে উপলব্ধির কড়া নাড়ে এই ভেবে যে, জীবন এক বহমান তটিনী। কখনো বা মহাসাগর যার একূল ওকূল দেখা মেলা ভার। টেউয়ের মতো পরতে পরতে জীবন সাজে আপন গতিতে। যা ঘটবার তাই ঘটেই। অদৃষ্টের বিধান জন্মের আগেই বিধিত। জীবন তার পথ চিনে গেছে। আমি বা আপনি আটকাবো কী করে? সে ক্ষমতা আমাদের দেয়া নেই। হজম করতে শিখুন। প্রতিটি পরিস্থিতি স্বাভাবিক ব্যাপার হিসেবে নেয়াই শ্রেয়। কারণ ঐ যে বললাম অদৃষ্টের লিখন! খন্ডাবে কে? যেখানে রূহ নামক আত্মা চোখে দেখি না কেবল অনুভব করি সেখানে এতো বড় পরিসরে জীবনের ব্যাপ্তি পরিচলন, বিচরণ খুবই দুঃসাধ্য বটে।

কেন মানুষ এতো লোভে কাতর হয়? কেন ক্ষণকালের দুনিয়ায় মেতে পরকাল ভাবে না? কেন মৃত্যু আছে জেনেও এতো পাপ করে? কেন শেষ বিচারের দিনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সাহস আমরা রাখি না? রহমত তো সবারই প্রয়োজন আছে নয় কি? কী ভেবে আমরা এতো বাহাদুরি দাপটে চলি? আমরা কি অমর? আমাদের অস্তিত্ব মাটিতে বিলীন হলে কি আর থাকে যা নিয়ে অহংকার করা যায়? একবার অন্ততঃ ভাবলে আমরা জন্মের ক্ষণে ফিরে যাবো। কী ছিলাম আর আজ কী হলাম! আফসোস বই দিবসে আমরা এতো বই পড়ে, লিখে ডিগ্রী অর্জন করেও সত্যের মণিমাণিক্য যোগ থেকে দূরেই রয়ে গেলাম। অনির্বাণ যা-ই সত্য ও আসমান হতে প্রাপ্ত তাঁর দিকে মুখ করে তাকান। মনের ভিতর মনকে জিজ্ঞাসা করুন আপনি কতই না ছোট! বই পড়ে যদি জীবনের অর্থবোধক গল্প তৈরিতে এগিয়ে যাওয়া না যায় তবে সব জ্ঞানার্জন অনর্থক সময় নষ্ট বৈ কিছুই নয়। হেদায়তের পথে চলতে হবে। নিজেকে সত্যের আলোতে উদ্ভাসিত করার প্রত্যয় থাকতে হবে।তবে তিনিও পথ দেখাবেন, নচেৎ নয়।অনাহুত জীবনের গল্প রচে অবোধের মতো হেরে যাবো না আমরা। আমরা হবো বিচক্ষণ, সৎ আর বলিষ্ঠ চরিত্রের অধিকারী। হোক না জীবনে অনেক ভুল, দোষ, ত্রুটি হয়েই গেলো। তাই বলে কি ভালো হওয়ার পথ, হেদায়তের পথ বন্ধ আছে? কখনোই না। ভালো ভালো বই পড়ুন, নিজেকে চিনুন, জানুন। দুনিয়ার রহস্য, সৌন্দয্য আস্বাদন করুন। জীবনের এই আজকের দিনটিই মনে করুন আপনার শুরু ও শেষ দিন।কাল যে বেঁচে থাকবেন তার গ্যারান্টি কী? বইয়ের সাথে জীবন গড়ুন, সঙ্গী করুন। মনিষীদের জীবন কাহিনী, ধর্মীয় বাণী পড়ুন। নিজের অস্তিত্ব টের পাবেন।

একদা এক বেশ্যা রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলো। পথে সে দেখলো একটি কুকুর পিপাসায় কাতরাচ্ছে। তার দয়া হলো, সে কুকুরটিকে পানি পান করালো। আল্লাহ সুবহানাল্লাহু তাকে এই নেক কাজের জন্য তার সকল গুনাহ মাফ করে দিয়ে তাকে হেদায়তের পথে নিয়ে গেলেন এবং পরকালে বেহেশত নসীব করেছেন। তাই কখনোই হাল ছাড়বেন না।নসীবের লিখনে খুশি থাকুন। নিশ্চয়ই তিনিই সর্বজ্ঞ, সর্বজ্ঞাত।জীবনকে জীবনের নিয়মেই চলতে দিন। তবে সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। মানুষের শিরায় শিরায় শয়তান প্রকাশ্য শত্রু বিদ্যমান। সে চায় আমাদের বিপথে, বিপদে ফেলে মজা নিতে। এই সুযোগটি দয়া করে দেবেন না। নফ্সকে দমন করুন কঠোরভাবে। প্রচুর ইবাদত বন্দেগি করুন। আর একটি ভালো বই পড়াও ইবাদতের অংশ। বই আপনার জীবনের গল্পকে চমৎকৃত করতে সক্ষম যা মনকে ইতিবাচক সত্যের উপলব্ধি ঘটায়। জানতে হলে, জ্ঞানগর্ভ ভাবতে হলে পড়তেই হবে। এর কোনই বিকল্প পথ আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি।