প্রথম পরিচ্ছেদ

বিয়ে না করলে মার দুজনকেই। মার শালা- শালীকে। খুব শখ ঘরে স্বামী থাকতে অন্য একজনের সাথে ভালোবাসা করছে, ভালোবাসা। জগা চাচা বলছে, “ভাতিজা রহিম এই বউ আর বাড়িতে চাপাব না, তোর বাপ কি কহে, দেখা যাক। তোর বাপ যদি এই বউকে ঘরে তোলে তাহলে এই সমাজ একঘরে করে দেব। তোর বাপ আসুক”।

কাদির ও জোলেখার একমাত্র পুত্র সন্তান রহিম সেখ। সেখ বয়স ২২ বছর।বাড়ি সামসের গঞ্জ থানার অন্তর্গত রঘুনাথ পুর গ্ৰামের নিবাসী। রহিমের বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করে, আর মা বিড়ি বাঁধে।রহিম বাবার সাথে থেকে থেকে পাকা মিস্ত্রি হয়ে গেছে।তার আন্ডারে ১৫ জন লেভার কাজ করে।এই গ্ৰামে হিন্দু-মুসলিম অথাৎ একে অপরের প্রতি গভীর ভালোবাসা। সময়ে অসময়ে একে অপরের সুখ–দুঃখের ভাগীদার।

রহিমের বাপজি একটা কথা আছে বল, রহিম তো দেখতে দেখতে বড়ো হয়ে গেল। ছেলের বিহ্যা সাদি দেওয়া উচিত। আর সংসারের কাজ কাম করতে খুব অসুবিধা হচ্ছে। আগের মতো আর শরীর ভালো থাকে না। তুমি বুঝতে পারছ । এখন রহিমের বিহ্যা দিলে তো হামি একটা মানসিক প্রশান্তি পাব। রহিমের মা, ব্যাটা কি কহে শুনে বলিস। হামি তো বাপ ওকে বলতে শরম লাগে। তুই কহিস।

জোলেখা বলছে, ব্যাটা রহিম হামার শরীর তো আগের মতো ভালো নাই। বিড়ি বেঁধে সংসার, এখন আগের মতো আর পারি না ব্যাটা। তোর লেগে বহু দেখব, তুই বিহ্যা কর। মা এখন বিহ্যা করব না। বিহ্যা করার জন্য হামাকে মানসিক প্রস্তুতি নিতে হবে। হঠাৎ করে তো সব সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না মা।
জোলেখা বলে, “ব্যাটা বিহ্যা করার জন্য মানসিক প্রস্তুতি ও লিতে হবে”।

রহিম বলে, হ্যাঁ মা। তুমি আর আব্বা এত করে কহছ তো ঠিক আছে বহু দেখো মা। তোমাঘে পছন্দ তো হামার পছন্দ।

দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

রহিমের মা কি করছিস, কালকে লতিফ ঘটক আসবে কয়েকটা বহুর খোঁজ নিয়ে। হামি থাকব না, কিছু ছবি দেখালে রেখে দিস, হামি এসে দেখব। ঠিক আছে জি। তুমি এখন সাবধানে কাজে যাও। রহিম কি করছিস, কখন কাজে যাবি, এই একটু পরে যাব।
পরেরদিন, রহিমের মা বাড়িতে আছো? হামি লতিফ ঘটক। এসো ভাই এসো। রহিমের বাপ কুনঠে গেছে? কাজে গেছে। আর কিছু ক্ষণের মধ্যে চলে আসবে। ছবি লিয়ে এসেছো। হ্যাঁ বহিন লিয়ে এসেছি। দেখো কোনটা মেয়ে পছন্দ। একবার শুধু পছন্দ কর, বিয়ে দেওয়ার দায়িত্ব হামার।
লতিফ ভাই কখন এলে, কিছুক্ষণ হলো, তোমার কথা বলতে বলতেই তুমি হাজির। ছবি দেখ কোনটা মেয়ে পছন্দ হচ্ছে। লাল রঙের চুড়িদার পড়ে আছে এটা হামার পছন্দ। রহিমের মা, তুই দেখ তো ছবিটা কেমন হয়েছে। ভালগাচ্ছে রহিমের সাথে ভালো মানাবে মেয়েটা।
রহিমের মা তুই রহিমকে ছবিটা দেখাস, ওর পছন্দ অপছন্দের ব্যাপার আছে। ঘরের মধ্যে রহিম আছে দেখিয়ে আয়।
রহিম রে দরজা খুল তোর মা আছি। কি হয়েছে মা, এই ছবিটা দেখতো মেয়েটা তোর পছন্দ কি? হ্যাঁ মা পছন্দ হয়েছে। আর তোমাদের পছন্দ তো আমার পছন্দ।
রহিমের বাপজি, “মেয়েটা রহিমের পছন্দ হয়েছে।“
“লতিফ ভাই কখন বহু দেখতে যাব, আগামী সপ্তাহে সোমবার। তুমি বহুর বাপ মাকে খবরটা দিয়ে দাও, বহু হামারঘে পছন্দ হয়েছে। ঠিক আছে রহিমের বাপ হামি আসছি তাহলে।“ এসো!

(একসপ্তাহ পর, সোমবারের দিন)
জোলেখা তোরঘে সাজাকুজা হয়েছে, গাড়ি চলে এসেছে। আর একটু থাম, হয়ে যাবে। রহিম তাড়াতাড়ি জামাটা পড়ে তোর বড়মা ও ছোট মাকে ডেকে নিয়ে আই। তোর চাচারা তো সভারির হয়েছে কি দেখত, ঠিক আছে । মা সবাই চলে এসেছে। লতিফ ঘটক রাস্তার মোড়ের দিকে দাঁড়িয়ে আছে, তখন গাড়িতে চাপিয়ে লিব।
রহিমের বড়োকাকার নাম মকবুল সেখানে ও স্ত্রী লালন বিবি। ছোট কাকার নাম সাইফুদ্দিন সেখ ও মারজিনা বিবি। রহিমের মামা মশা সেখ।
মশা বলছে”, জোলেখা বহিন এখন হামরা কুনঠে বহু দেখতে যাব। “আরে ভাই তোকে কহিতে ভুলে গেছি, অরঙ্গাবাদের থানার পিছন দিকে।“
ঘটক বলছে, “ও ডাইভার হামরা চলে এসেছি, সামনের বাড়িটা। এখানেই গাড়িটা লাগিয়ে দাও।“
আরে ঘটক মশায়, আসসালামুআলাইকুম।
অলাইকুমআসালাম। সকলেই সালাম গ্রহণ করলে।
রহিমের বাপ, এটা বিদায় মশায়। আর সাদা রঙের পাঞ্জাবি পরে আছে ওটা জামাই।
জোলেখা ঘটককে বলে, বহু কে নিয়ে আসতে বল।
ঘটক বলে, আলতাফ ভাই বহু দেখিয়ে দাও, ওদের পছন্দ হয়েছে আজকেই শুভ কাজটা করে নিতে চাই। তোমারঘে কোনো সমস্যা আছে, না ভাই না।
মশা জিজ্ঞেস করে, তোমার নাম কি?
মাসকুরা খাতুন।
তোমার বাবার নাম কি?
আলতাফ হোসেন।
তোমার ঠিকানাটা একটা সাদা কাগজে লিখে দাও।
এই যে ঠিকানা, লেখা হয়ে গেছে।
ঠিক আছে বউমা।
লালন বলে, ও রহিমের মা বহু তো দেখতে একেবারে দুগা । যেমন নাক, তেমনি রঙ। হামার খুব পছন্দ হয়েছে।
জোলেখা বলে, রহিমের বাপ হামারঘে পছন্দ আছে। তাহলে বিহায় আজকে বিহ্যাটা হয়ে যাক।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ

বিহ্যার চার বছর পর।
তোকে কতদিন বলব যে তুই পরপুরুষের সাথে কথা বলবি না। লোকের মুখে কি শুনতে পাচ্ছি, তুই বুঝিস না। তোর নামে গোটা মহল্লায় ঢাক পিটছে।তোর সাথে হুমায়ুন সম্পর্ক আছে। এই গুলো ভালো না, দুর্নাম হচ্ছে গোটা পরিবারের। লোকের মুখে হাত দেওয়া যায় না। পলাশ বলছে, রহিম কি সব শুনতে পাচ্ছি, তোর বউকে শাসন করিস। তোর বউ একটা ছেলের সাথে ফস্টিনস্টি করছে। আর তুই হিজড়ার মতো বসে বসে আঙুল চুসবি।রহিম ভাই এখনও সময় আছে বউকে নিজের কবজায় কর, না তো তোর কপালে দুঃখ আছে।
ভাবী বাড়িতে আছ,
হ্যাঁ হামি ঘরে আছি।
কে আছ?
হামি হুমায়ুন আছি ভাবি।

তোমার গলার আওয়াজ শুনে বুঝলাম, যে তুমি এসেছে। ঠিক আছে ঘরের ভেতরে চলে এসো, বাড়িতে কেউ নেই।
ভাবী দাদা কড়াই আর কোদল আনতে বলল।
ও আচ্ছা। ভালো হলো।
কেন ভাবী। তোমাকে দিন দিন দেখতে হামার কিন্তু খুব ভালো লাগছে। ভাবী তোমার আর দাদার কাজ কাম কেমন চলছে।
আর বল না গো, তোমার দাদা মাসে একদিন থেকে দুই দিন। তা ও ঠিক মতো নয়। আমি শিক্ষিত মেয়ে, ওর থেকে ভালো স্বামী পেতাম। কিন্তু ওকে দেখে একটা মায়া বসে গেছে। চার বছরের একটা ছেলে–মেয়ে হলো না। কত লোকে কত কি বলে। এমনকি হামার শ্বশুর শাশুড়িও কত ঘোচনা দেয়। যে চার চারটা বছর হয়ে গেল। আর বাদ দাও, ভালো লাগছে না।
“ভাবী তোমাকে খুব হামার ভালো লাগে। এখনও তুমি ষোড়শী যুবতীর বর্ষার ভরা নদীর মতো টকবক করছ।যেমন তোমার চেহারা, তেমনি তোমার শরীরের গঠন। তোমার কাজল কালো চোখ এবং কালো চুল যেন কোমরের নীচ ও হাটুর উপর পর্যন্ত। যখন তুমি হেটে পানি আনতে স্কুলের কল যাও। তখন তোমাকে দেখতে কি সুন্দর লাগে। হামি ভাষা হারিয়ে ফেলি ভাবী।
হামাকে পাগল করে দিয়েছে ভাবী।“
আই লাভ ইউ ভাবী।
এখন ভালোবাসা বাদ দাও কাজে এসো।
“আমিও তোমাকে ভালোবাসি।“
হুমায়ুন তুমি দরজাটা লাগাও, আজকে বাড়িতে কেউ নেই। এসো হামাকে একটু আদর করে দাও।
ঠিক আছে ভাবী?
“দুজন দুজনের দিকে অগ্রসর হয়ে চোখে ভিতরে চোখে ঢুকে চাতক -চাতকীর মতো চেয়ে রয়েছে দুজনেই।“
জঙ্গলে বাঘ যেমন উষ্ণ মাংস খাবার জন্য ওত পেতে বসে আছে। ঠিক তেমনি সামলা মাংসের স্বাদ নেওয়ার জন্য দুজন দুজনেই একত্রিত হয়ে সঙ্গম রত। নরম মাংসের স্বাদ একবার যে নেই, তাঁর স্মৃতির ওকপটে সারাজীবন রয়ে যায়। সে হাজার ভুলার চেষ্টা করলেও পারে না ভুলতে। “
হঠাৎ করে হুমায়ুনের ফোন বেজে উঠল?
ফোন টা রিসিভ করল, হ্যাঁ দাদা বলো, তুই কি করছিস এতক্ষণ থেকে কড়াই আর কোদল খুঁজে পাসনি।
এইমাত্র পেলাম।
আসছি !
তাড়াতাড়ি আয়।
কাজে লাগতে দেরি হয়ে যাবে।

রহিম বলছে, মাসু্ রে খেতে দে ।
ভোখ লেগেছে তাড়াতাড়ি খেতে দে।
তুমি বস, ভাত লিয়ে আসছি। আজকে শরীর টা খুব খারাপ করছে, রোদ খুব পড়েছিল আর শেষ কাজ না।
আবার নতুন কাজ শুরু করব রতনপুরে দুই খোপ ঘর হবে। কাল থেকে ওখানে ১৫ দিন মতো কাজ হবে।
যন্ত্রপাতি যা লাগবে হুমনাকে দিয়ে দিবি, ঠিক আছে।
ঠিক আছে হুমায়ুন তো একবারে পারবে না।
দুবারের আসবে। হুমায়ুন কে ফোন করে সব বলে দিচ্ছি।
হ্যালো, কি করছিস?
দাদা বসে আছি।
শুন কালকে সকালে রতনপুরে কাজ হবে, তুই সকালে উঠে যন্ত্রপাতি গুলো কাজের গোড়ায় লিয়ে যাস।
ঠিক আছে দাদা।
“ভাবী কি করছে।“
“তোর ভাবী বসে আছে,“
“কথা বলবি নাকি।“
“দাও তাহলে।“
“কেমন আছ ভাবী।“
“ভালো।“
“তুমি কেমন আছ?“
“ভালো।“
“খাওয়া দাওয়া হয়েছে।“
“করছি এখন ঠিক আছে কালকে এসো।“
ফোন রাখছি তাহলে।

চতুর্থ পরিচ্ছেদ

ভাবী কি করছ।
ঘরে সাজুগুজু করছি। খাটের তলে বাকি গুলো আছে নিয়ে নাও।
তোমাকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে আজকে খুব ইচ্ছে। তোমাকে আজকে দেখতে অন্যদিনের তুলনায় আজকে ভালো লাগছে। ঠোঁটের পালিস লাগিয়ে ঠোঁট টাকে ধরে চুমু খেতে থাকে। দুজন দুজনেই জড়াজড়ি করে ধরে থাকার মুহূর্তে মাসকুরার শাশুড়ি তাদেরকে হাতে-নাতে ধরে। চিৎকার করতে করতে বাড়িতে অনেক লোক জুটে যায়। পুরো গ্ৰাম রটে যায়। সবার মুখে একি কথা।
রফিকুল বলে, হুমায়ুন তুই ছি! ছি! অবশেষে পরকিয়ায় যুক্ত হলি। কি করে সারাজীবন মুখ দেখাবি।
বাপি বলে, শালাকে আগে মার।
সুরাজ বলে, আর মারিস না। পুলিশ ডাক দিয়ে জেলে দে।
আজাদ বলে, আর মারিস না আদমরা হয়ে গেল, মারা যাবে। রহিম কই, কুনঠে গেছে?
সুরাজ বলে, ওই যে রহিম এলো।
এত লোক কেন বাড়িতে। কি হয়েছে মা। মাসকুরা কি হয়েছে এই রকম মনমরা হয়ে বাঁশের খুঁটি ধরে দাঁড়িয়ে আছিস।
রহিম রে, যা হবার তা হয়ে গেছে।
কি হয়েছে?
হুমায়ুনের সোথে তোর বহু ফস্টিনস্টি করছে। আর সেইসময় হামি দুজনকে হাতে-নাতে ধরি।
“শালী-চুতমারানি হামাকে না পছন্দ হলে তুই হামাকে তালাক দিতে পারিস। তুই হামার ভাত খাবি না তো কইতে পারিস না। “
“এই শালা চুতীয়া, তোকে ভাইয়ের মতো ভালোবাসতাম। হামি ভাবতে পারিনি, যে তুই হামার কলিজায় হাত দিয়েছিল। তোকে হামি মেরে ফেলে দেব।“
“রহিম রে এই মেয়েকে হামার বাড়িতে আর আশ্রয় দিব না। একটু জায়গা দিব না। হামার ও তোর বাপের সিধান্ত।“
রফিকুল বলে, “রহিম ভাই তুই কি করবি ভাব।
হামি আর এই মেয়েকে নিয়ে সংসার করব না।
ওদের দুজনের বিয়ে দিয়ে দে।“
“হামি বিহ্যা করব না।“
“ব্যাটা তুই লোকের মাগির সাথে ফস্টিনস্টি করতে খুব ভালো লাগে।“ বিহ্যা না করলে মার শালাকে। পুলিশকে খবর দিয়েছিল।
হ্যাঁ!
পুলিশ এলো।
মাসকুরা বলে, দারোগা বাবু হুমায়ুনকে ধরে নিয়ে যাবেন না। আমি ওকে বিহ্যা করব। দারোগা বলে, এখনই বিয়ে হবে।
পুলিশবাবু, আমি মাসকুরাকে বিয়ে করতে পারব না।
গ্ৰামে মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াতাম, এখন আর কি করে বেড়াব। রাস্তা দিয়া যখন যাব লোকে বলতে শুরু করে, আরে ভাই রহিমের বহুর সাথে হুমায়ুনের সম্পর্ক ছিল।
“চোখের জল মুছতে মুছতে অন্ধকার ঘরে ঢুকে কপাট লাগিয়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে থাকে। এ কান্না যেন চিরতরে বউকে হারিয়ে যাওয়ার কান্না।“