[আমি এ নিবন্ধটি লিখেছিলাম ২০০৫ সালে বাংলাদেশ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল এসোসিয়েশনের ওয়ার্কশপের জন্য । এটি লিখতে মহাকাশ বার্তার বিভিন্ন সংখ্যা, বাংলাদেশের বিজ্ঞান চিন্তা, মহাবিশ্ব, Cosmos, Astronomy for kids প্রভৃতি বইয়ের সাহায্য নিয়েছি । বাংলাদেশ ন্যাশনাল আর্কাইভসে রক্ষিত বিশ্বকোষগুলোরও সাহায্য নিয়েছি । অনেকের কাছে বেশ কিছু অংশ কপি পেস্ট মনে হতে পারে । এক্ষেত্রে আমার অভিমত, এক্ষেত্রে আমি গবেষক না । গবেষণা করে এক্ষেত্রে নতুন তথ্য বা তত্ত্ব দিতে আমি অক্ষম ।]

প্রাচীনকালে পুরোহিতদের মধ্যে সব ধরনের জ্ঞান-চর্চা সীমাবদ্ধ ছিল। জ্যোতিষশাস্ত্রও ঠিক তেমনি পুরোহিতদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। সুদীর্ঘ কাল ধরে প্রাচীন ইরাকী পুরোহিতদের আকাশমন্ডল পর্যবেক্ষন থেকেজ্যোতিষ-চর্চার সূত্রপাত হয়। আজ যে স্থানে আধুনিক ইরাক সেখানে গড়ে উঠেছিল সুমের, ব্যাবিলন, ক্যালডিয়া আর মেসোপটেমিয়া নামের বিভিন্ন দেশ। আর এসব দেশে আজ থেকে পাঁচ হাজার বছর আগে জ্যোতিষশাস্ত্রের উদ্ভব।

আড়াই হাজার বছর আগে গ্রীকরা জ্যোতিষ শাস্ত্রকে বিভিন্ন বিধিবদ্ধ নিয়মের অধীনে আনেন। তাঁরা তারার জগতে সূর্যের আবর্তনের পথকে বারটি ভাগে ভাগ করে বিভিন্ন দেব-দেবী ও বিমূর্ত-মূর্ত প্রানীদের নামে নামকরণ করেন। প্রথমে জ্যোতিষ শাস্ত্র রাজদরবারের বিষয়বস্তু হলেও পরে তা জনসাধারনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভুতির সুযোগ ব্যবহার করে জ্যোতিষরা তাঁদের কল্পনাকে আকাশের ঘটনার সাথে পৃথিবীর ঘটনার সাথে মিলাতে থাকলেন। কারণ প্রাচীন কালের মানুষের বিশ্বাস ছিল দেব-দেবীদের নিয়ে সৃষ্টিকর্তা তাঁর স্বর্গে অবস্থান করছেন। আর দেব-দেবীরা সৃষ্টিকর্তার আদেশে তারার জগতে অবস্থান করছেন। যখন কোন আকাশে বিরল জ্যোতিস্ক আর্বিভূত হতো অথবা ঘটতো সূর্য গ্রহন ও চন্দ্র গ্রহন,তখন এসব দূর্লভ ঘটনাকে জ্যোতিষরা মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে বলা শুরু করতো সৃষ্টিকর্তা বা কোন নির্দিষ্ট দেব-দেবী মানব জাতির প্রতি ক্রুদ্ধ হয়েছেন,ঘনীয়ে আসছে বিভিন্ন দুর্যোগ। এসব শুনে মানুষ ভীষন ভয় পেতো। আর রাজ-রাজারা তাদের প্রভাব বলয় অনুকুলে রাখার জন্য জ্যোতিষ আর ধর্মজীবিদের পৃষ্টপোষকতাই করতেন না বরং তাঁদের রাজকীয় পদ দিয়ে সম্মানিত করতেন।

`জ্যোতিষ শাস্ত্র কি বিজ্ঞান?” এ প্রশ্ন যেমন আগেও ছিল এই একবিংশ শতাব্দীতে আছে। বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তত্ত্ব উপাত্তের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রহস্য উম্মোচন করে। বিজ্ঞানের বিভিন্ন পর্যায়কে ভাগ করলে যে আটটি ধাপ পাওয়া যায় ।

সেগুলো হলোঃ
(১) পর্যবেক্ষন, (২) তুলনাকরন, (৩) শ্রেনীকরন, (৪) পরিমান নির্ধারন, (৫) পরিমাপন, (৬) পরীক্ষা-নিরীক্ষা, (৭) সিদ্ধান্ত গ্রহন ও (৮) ভবিষ্যদ্বানী করণ।

জ্যোতিষ শাস্ত্র বিজ্ঞানের এসব পর্যায় অবলম্বন করে গড়ে ওঠেনি বলে জ্যোতিষ শাস্ত্র বিজ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত নয় ।

জ্যোতির্বিজ্ঞান (Astronomy) হতে জ্যোতিষ শাস্ত্র মূলত উদ্ভব হয়েছে। আকাশের জ্যোতিষ্কসমূহের অবস্থান, তাদের গতিবিধি এবং তাদের প্রকৃতি সম্পর্কে জানার বিজ্ঞানকে জোতির্বিজ্ঞান বলা হয়। বর্তমানে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত।

কোন গ্রহ-নক্ষত্র অপরটি হতে কত দূরে তা জানার জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞানের যে শাখা আছে, তাকে বলা হয় ‘‘গানিতিক ও জোতিষ্ক জ্যোতির্বিজ্ঞান”(Mathematical and Spherical Astronomy)। গ্রহ-নক্ষত্র কিভাবে তৈরী হয়েছে তা জানার বিজ্ঞানকে বলা হয় জ্যোতিঃ পদার্থ বিদ্যা (Astrophysics)। মহাকাশে যাতায়াত করার বিদ্যাকে বলা হয় মহাকাশ যাত্রা বিদ্যা ।

মহাকাশযান বা এ সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত বিদ্যাকে বলা হয় এরোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং। cosmology এতসব বিজ্ঞানের শাখার সাথে গণিত ও আধুনিক তথ্য-যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিবিড় সম্পর্ক আছে।

পূর্বেই বলেছি, মানুষের হাত দেখা, জন্মলগ্ন এবং হাব-ভাব দেখে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ বলে দেওয়া ও এ সম্পর্কিত দিক নির্দেশনা দেওয়ার বিদ্যা জোতিষ শাস্ত্র ( Astrology) বিজ্ঞানের বিষয় নয় । যারা মানুষের হাত দেখেন তাদের বলা হয় গণক বা জোতিষী (Astrologer)।

অপরদিকে গ্রহ, উপগ্রহ ও নক্ষত্র নিয়ে হাতে-কলমে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করেন, তাদের বলা হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানী ( Astronomer)। অনেক জ্যোতিষী বা ভাগ্যগননাবিদ বলে থাকেন তারা গ্রহ-নক্ষত্রের চর্চা করে ভাগ্য গননা করেন। এ কথার সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। কারন রাশিফল ব্যাখ্যা করার সময়ই কতকগুলো গ্রহ-নক্ষত্রের গতিবিধির কাল্পনিক হিসাব বলা হয়। এদের মধ্যে রবি (সূর্য) এবং সোম (চাঁদ)-কে গ্রহ ধরা হয়েছে। তাছাড়া রাহু ও কেতু নামের আরও দুটি গ্রহ কল্পনা করা হয়। আর ভাগ্যগননাবিদরা কল্পনা করেন, পৃথিবীকে কেন্দ্র করে সূর্য ও অন্যান্য গ্রহ-নক্ষত্ররা ঘুরছে। সুতরাং ভাগ্য গননা বা জোতিষ শাস্ত্রের সাথে বিজ্ঞানের নূন্যতম সম্পর্ক থাকা দূরে থাক তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কের প্রশ্নই আসে না।

বর্তমানে অনেক জোতিষী কম্পিউটারের মাধ্যমে নির্ভুলভাবে ভাগ্য গননার কথা বলে থাকেন যা এক ধরনের প্রতারনা ছাড়া আর কিছুই নয়। তবে এক শ্রেনীর মানুষের কাছে ভাগ্যগননা বিদ্যা চাঁদে যাওয়ার বিদ্যার চাইতে অনেক বেশী জনপ্রিয়। এসব মানুষের জীবনে হতাশা ও নিজেদের সাফল্যের ব্যাপারে আস্থাহীনতা ও বিজ্ঞানমনস্কতার অভাব রয়েছে। এজন্য তারা ভাগ্য গননাবিদদের দারস্থ হয়।

অপরদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের সবচেয়ে জটিল ও কঠিনতম বিষয়। জ্যোতির্বিজ্ঞান বরাবরই ব্যয় বহুল। চাঁদে অভিযানের প্রকল্প পরিচালনায় খরচ হয়েছিল দুইশত কোটি ডলারের বেশী অর্থ যা বাংলাদেশের তৎকালীন বাজেটের বিশ গুন।

জ্যোতির্বিজ্ঞান জ্যোতিষ শাস্ত্র অপেক্ষা কম জনপ্রিয় হওয়ায় আরোও একটি বড় কারন হলো গনমাধ্যম এবং ধর্মজীবিদের ভ্রান্ত ও যুক্তিহীন কর্মতৎপরতা। এ ধরনের একটা ঘটনার মাধ্যমে এদিকটা স্পষ্ট বোঝা যায়। ১৯৬৯সালের জুলাই মাসে মানুষ চাঁদে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল এবং এক সময় (২১শে জুলাই) তা সাফল্যজনকভাবে শেষ হয়, তখন বাংলাদেশের কিছু ধর্মজীবি বলেছিলেন,‘‘ওরা চাঁদে যায়নি। কোথা থেকে ঘুরে এসে কয়েকটা পাথর নিয়ে এসে বলছে চাঁদ থেকে ঘুরে এসেছি। ভেল্কিবাজি আর কাকে বলে। চাঁদে যাওয়া সম্ভব নয়।” ১৯৬৯সালে আমেরিকান দূতাবাসসমূহ বিভিন্ন দেশে চাঁদ থেকে সংগ্রহ করা পাথর ও মাটি প্রদর্শন করা এবং চাঁদে অভিযানকারীদের কার্যক্রম দেখানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে তারা একথাগুলো বলেন। বরাবরই গণমাধ্যম বির্তক ও দ্বিধা- দ্বন্দ জিইয়ে রাখতে পছন্দ করে বলে তাদের কথাগুলোই গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়েছিল । এসব ধর্মজীবিদের মতে ‘‘জোর্তিবিজ্ঞান ও জোতিষশাস্ত্র অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। এ দুই বিদ্যা মানুষের মনে উম্মাদনা জাগিয়ে ধর্ম বিশ্বাসকে দূর্বল করে ফেলে। আর বেঁচে থাকার জন্য এ পৃথিবীই যথেষ্ট। পৃথিবীর বাহিরে কেন তৎপড়তা ? তাতে মানুষের কি কল্যান আছে ? ”

বিজ্ঞান চায় রহস্যের পূর্ন সমাধান। বিজ্ঞানের মৌলিক গবেষনা সব সময়ই ব্যয়বহুল হলেও এক সময় তার ফলাফল জনগনের দোড় গোড়ার পৌছে যায়। এর সফলতা ভোগ করে জনগনই। অতীতকাল হতেই জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বানী ও তৎপরতা অনেক লোকই স্বাভাবিকভাবে নিতো না। আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগে গ্রীসে এপিকুরিয়ান নামে একদল পন্ডিত জোতিষ্ক শাস্ত্র মানতেন না। তারা বলতেন আকাশের গ্রহ-নক্ষত্রের গতি প্রাকৃতিক নিয়মেই ঘটে। এতে দেব-দেবীদের খেয়াল-খুশির কোন সম্পর্ক নেই।

জ্যোতিষ শাস্ত্রের জোড়লো বিরোধীতা চোখে পড়ে ইহুদী ও ইসলাম ধর্মে। এ দুই ধর্মের সৃষ্টি জগতে জ্ঞাত ও অজ্ঞাত সকল বস্তু ও বিষয়ের সৃষ্টিকর্তার প্রতি দ্বিধাহীন আনুগত্যের কথা আছে ; আর আছে ভাল-মন্দ সব কিছু সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে হয়। আর এজন্য অনেক মুসলিম বিজ্ঞানীদের দেখা যায় জ্যোতিষ শাস্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে।

আজ থেকে প্রায় হাজার বছর আগে আলবেরুনী (৯৭০-১০৪৮ খৃ.) জোতিষ শাস্ত্রের বিরুদ্ধে বই লিখেন। তাঁর এ ধরনের একটি বইয়ের নাম ছিল ‘‘জোতিষীদের মিথ্যা ভবিষ্যদ্বানীর বিরুদ্ধে সতর্কবানী”। তাতে তিনি দেখান যে, জ্যোতিষীরা গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানের ভিত্তিতে ভাগ্য নির্নয়ের দাবী করলেও তাদের বিভিন্ন ভবিষ্যদ্বানী অনেক ক্ষেত্রেই পরস্পর বিরোধী।

জ্যোতিষীরা ভাগ্য গননার জন্য তৈরী করেছেন রাশিচক্র। রাশিচক্র একটি চক্রাকার চিত্র, যাতে বিশেষ কোন দিনে তারা মন্ডলের পটভূমিতে দেখানো হয় বিভিন্ন গ্রহ, সূর্য ও চাঁদের অবস্থান। এই অবস্থান অনুসারে নেওয়া হয় ভাগ্য গননার সিদ্ধান্ত। পশ্চিমা বিশ্বে শুক্র (ভেনাস)-কে প্রেমের দেবী, তাই যদি শুক্র যদি রাশি চক্রে বিশেষ স্থানে থাকে, তাহলে জ্যোতিষীরা বলে থাকেন জাতকের উপর প্রেম ভর করেছে। অপর দিকে ভারতীয় পুরান শুক্র অসুরদের গুরু, তাই ভারতীয় মতে জ্যোতিষীরা বলে থাকেন জাতকের উপর প্রেমের বদলে হিংস্রতা ভর করেছে। কোন ব্যক্তি পশ্চিমা দেশের রাশিচক্র অনুসারে ভুগবে প্রেমে এবং ভারতীয় মতে হিংস্রতায় মেতে উঠবে; যা পরস্পর বিরোধী। জাতকের গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব আগে থেকেই প্রাচীন জ্যোতিষীরা স্থির করে গিয়েছেন। এখনও জ্যোতিষীরা অনুসরন করেন তাঁদের প্রাচীন নিয়ম। প্রাচীন জ্যোতিষীরা চার হাজার বছর আগে তারার পটভূমিতে সূর্যের পথ অনুসারে রাশিচক্রে স্থির করেছেন বারটি রাশি। তাদের মতে সূর্য হয় বারটি তারা মন্ডলের ভেতর দিয়ে ভ্রমন করে তাদের বলা হয় রাশি। তারা প্রত্যেক রাশিকে একেক বৈশিষ্ট্যপূর্ন বলে মনে করেন এবং এতে জাতকের উপর পড়ে বিশেষ প্রভাব। বাস্তবে সূর্য রাশিচক্রের তারাদের ভেতর দিয়ে ভ্রমন করে না এবং প্রাচীন জ্যোতিষীদের মত অনুযায়ী সূর্য চিরকাল একই রাশিতে উদিত হয় না।

খ্রিষ্ঠপূর্ব ১৮৬৭ অব্দে ২১ মার্চে (বসন্ত বিষুব) সূর্য আকাশ গোলকের বিষুবরেখা পেরিয়ে উত্তর গোলার্ধের যে স্থানে প্রবেশ করে সেস্থানে ছিলেন মেষ রাশি। তাই ২১ মার্চ হতে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময়ে যারা জন্মে তারা মেষ রাশির জাতক-জাতিকা। তখনকার দিনের জ্যোতিষরা মনে করতেন সূর্য চিরকাল এ সময় মেষ রাশিতে থাকবে। বর্তমানে সূর্য ২১ মার্চে মেষ রাশি নেই। কারন পৃথিবীর অভিমুখ বদল হয় বলে এ অবস্থা হয়েছে। প্রতি ২৬০০০ (ছাব্বিশ হাজার) বছর পর পর সূর্য পূর্বের রাশিতে আগমন করে। আর এ কারনে ধ্রবতারাও বদল হয়। খ্রি.পূ. ১২৫০০ অব্দে সূর্য ছিল কন্যা রাশিতে আর এখন তা আছে মীন রাশিতে। সুতরাং এখন রাশিচক্রের রাশির সাথে সূর্যের রাশির কোন মিল নেই। তাই এখনও ২১মার্চ-১৯এপ্রিলে যাদের জন্ম তারা মেষ রাশির। যদিও সূর্যের অবস্থান এখন অন্য কোন রাশিতে। সুতরাং আমাদের দেখা আকাশের সাথে জ্যোতিষ শাস্ত্রের কোন সম্পর্ক নেই।

জ্যোতিষীদের ভবিষ্যদ্বানী অধিকাংশ সময় মিথ্যা প্রমানিত হয় বলে এখন তারা জাতক- জাতিকাদের ভাগ্য ও শুভ – অশুভ সম্পর্কে না বলে পূর্বাভাস ও হিতোপদেশ দেন। তার সবচেয়ে বড় প্রমান বাংলাদেশের বাংলা দৈনিক গুলোর প্রতিদিনের রাশিফল। জোতিষীদের ভবিষ্যদ্বানী জাতক-জাতিকাদের থেকে আরোও বড় এলাকায় বারবার ব্যর্থ হয়েছে । বিংশ শতাব্দীতে ১৯৮২ এবং ১৯৯৮ সালে গ্রহগুলো একই রেখায় যুক্ত হওয়ায় জোতিষীরা বলেছিলো ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক দূর্যোগ পৃথিবী জুড়ে দেখা দিবে। এ ধরনের বিপর্যয়ই যেসব বছর ঘটেনি। কোন এক সময় প্রাচীন জ্যোতিষীরা দেখেছিল আকাশে লুব্ধক একটা নির্দিষ্ট অবস্থানে থাকলে বর্ষাকাল আসবে। কিন্তু পৃথিবীর কক্ষপথে আবর্তনের কারনে বর্ষা আসে । আগের দিনের মানুষেরা একটি ঘটনার পর আরেকটি ঘটনা ঘটতে দেখলে তাদের সম্পর্কিত করতো, খোঁজতো তাদের মধ্যকার সম্পর্ক । মনে করতো আগেরটির জন্যই এই ঘটনাটি ঘটেছে। জ্যোতিষ শাস্ত্র এভাবেই তৈরী হয়েছে।

আকাশ আজ আর মানুষের কাছে রহস্যময় বিষয় নয়। শক্তিশালী দূরবীক্ষন যন্ত্র এবং মহাকাশে অভিযান আকাশের রহস্য উম্মোচন করলেও জ্যোতিষীদের এ ব্যাপারে কোন দুশ্চিন্তা নেই। এতে জ্যোতিষ শাস্ত্রের জনপ্রিয়তাও কমছে না। এতে আমার মনে হয় মানুষকে দোষ দেওয়া যায় না। অজ্ঞনতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারলেই জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রতি মানুষের আকর্ষন কমে যাবে। আর জ্যোতির্বিদ্যার চর্চা সমাজের দোড়গোড়ায় পৌছে দিতে হবে। তাহলেই আমরা আলোকিত ও বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ পাবে।

fakhrulodesk@gmail.com