গোলাপ

একরাশ গোলাপের মধ্যে যে গোলাপ
আমার দিকেই তাকিয়ে ছিল
সে কথা কেউ কোনদিন আমাকে বলেনি
গোলাপের গুচ্ছ হাতে নিয়ে
মুগ্ধতার আবেশ ভরিয়ে দিয়েছিলো
এক সুকুমার প্রাচুর্যে ।

এ কথা কেউ কি বলতে পারে
সে গোলাপের বর্ণ কি ছিল
তার সৌরভের মাদকতা
কারুরই জানার কথা নয়
সে ছিল একান্তে নিভৃতে নীরবে ।

মাটি খুঁড়ে যেমন পুরানো সভ্যতা সামনে আনা হয়
মানুষ তন্ন তন্ন কোরে খোঁজে হারানো ইতিহাস
তেমনি গোলাপের রহস্য আজ জেগে ওঠে
এ এক রোমাঞ্চের প্রাথমিক সূত্রপাত।
……………………………………………

অনমনীয়

মাথা যে নোয়াতে জানে না
তার কাছে বিনয়ীর সংজ্ঞা বাতুলতা মাত্র
বিজ্ঞতার মগডালে বসে সে দ্যাখে
দুনিয়াদার হয়ে একজন ।

রাত্রিকেও দিন বলে মানাতে বাধ্য করে
অরণ্যের মাকড়সার জালকে লৌহ শৃঙ্খল
ভাবতে হয় প্রতি নিয়ত
যুক্তির একগুঁয়ে জেদের পরিণামে !

একবার নীচের দিকে তাকাও
দ্যাখ চেয়ে পৃথিবীটাকে
তুমি পৃথিবীর একজন হও
পৃথিবীটাকে তোমার করতে যেও না।

বন্ধনের নিবিড় সকাল
জয়ন্ত বাগচী
বিবর্ণ পৃথিবীর ধূসর আস্তরণে
জেগে থাকা মানুষের জীবন
আধুনিক সভ্যতার রেশটুকু নিয়ে
যাপন করে প্রাত্যহিক ব্যস্ততা ।

হয়তো আরও কিছু নির্মোহ রয়ে গেছে
কালের মূল্যবান পৃষ্ঠায়
সেটুকু পড়ে নিতে বড়ই অনীহা
করোনায় জীর্ণ এ সমাজ জীবনে ।

দূরত্বের সীমাটুকু প্রসারিত হয়
এক মুখ ঢাকা আবরণে
চেনা হয়ে যায় অচেনা
আত্মসম্বরণের চরম স্বার্থের চাহিদায়।

তবুও মানুষ জেগে থাকে রাত
জেগে থাকে অলীক স্বপ্নের ডালি নিয়ে
কবে এই দুঃস্বপ্ন কেটে যাবে
আসবে বন্ধনের নিবিড় সকাল
……………………………………………

বিশ্বাসের হাত

তোমার বিশ্বাসের হাত আমার হাতে
যেখানে অনেক ইতিহাসের টুকরো
ধারালো কর্কশ ও মসৃণ
সেখানে হাত রাখা নিরাপদ নয় জেনেও
ফিরে আসিনি বিনম্র গলিপথে ।
স্বর ওঠে স্বর নামে অক্ষরবৃত্তের মাত্রায়
সদ্য শোভিত কেশরাশি আন্দোলিত
মাতৃ বন্দনার রূপ চোখের সামনে
ভাবনার সমুদ্রে নিতান্ত অসহায় ।
জ্বলন্ত মশালের অগ্নিময় দীপ্তি
সব কিছু উড়ে যায় মেঘের ঊর্দ্ধে
বিশ্বাসের হাত দীর্ঘ থেকে হয় দীর্ঘতর
ধারালো কিছুতে ছিন্ন হতে চায় ।
তবু তো পারিনি তাকে ছেড়ে দিতে
বলতে পারিনি কোনদিন মিষ্টি শুভরাত্রি
সেখানে অসংখ্য চোর কাঁটা বিদ্ধ করে—
তাই কিছু বলতে চেয়েও বলতে পারিনি।
বৃষ্টি ধৌত রাজপথে রঙিন আলোর প্রতিবিম্ব
দৃপ্ত পায়ে সামনে শুধু এগিয়ে চলা
পিছন ফেরার নেই কোন দায়
নিশ্চিন্ত থেকেছি এইটুকু ভেবে, তোমার
বিশ্বাসের হাত আমার হাতেই বাঁধা।
……………………………………………

চক্র

যে পুষ্পেরা জাগে
ভালোবাসার নিবিড় ছোঁয়ায়
সে হিন্দোল অনুভব করার প্রকোষ্ঠ
খুঁজে নিতে বড়ই সময় লাগে ।
অনাবিল ভালবাসারা হাত পা ছুঁড়ে
বেড়াতে চায় সব সময় সেখানে
বেড়াজালের আবর্তে তাদের বন্দী করা
নিষ্ঠুর কাপুরুষতা ছাড়া আর কিছু নয় ।
একান্তে বলে কিছু হয় না
যখন কাছাকাছি আসার প্রেরণা
জেগে ওঠে অন্তরের গভীর গোপন থেকে
সেখানে কিছুটা সময় নির্লিপ্ত হয়ে যায়
শ্বাস প্রশ্বাসের গতি বাড়ে
বাড়ে জীবনের নিয়মিত চক্র ।
এমনি করেই প্রচলিত গণ্ডিতে
পুষ্পেরা বেড়ে ওঠে জেগে ওঠে
ছন্দের হেলদোলে জেগে থাকে জগত
তার মধ্যেই তুমিও আছো আমিও আছি ।
……………………………………………

বুকের ভিতর

যে পথে মিশে গেছে অনেক পথ
সেখানেই হারিয়েছি আমি
দীর্ঘ বনচ্ছায়া আমাকে নিবিড় করেছে
ছায়ায় মায়ায়
অভাবী মনের সবটুকু যন্ত্রণা বুকে নিয়ে
সেখানে অবিচল
কেউ এসে তুলে নিলো
ভালোবাসার গোলাপ ।
রইলাম চেয়ে
গলির ভিতর একান্ত নীরবে ।
সেখানে পড়ে আছে বাতাস
নেই কোন বৃষ্টির আভাস
আমার বৃষ্টি আছে
আমার মুঠিতে
অনন্ত ভালবাসায় বুকের গভীরে।
……………………………………………

অপেক্ষায়

টুংটাং শব্দ এলোমেলো
রাতের শেষ ট্রামটাও ডিপোয় ফিরলো
অবনী কি আর আজ আসবে এ রাতে
কোন কিছু হিসাবটাই মেলেনা আজকাল ।

জলে ভাসা শালপাতার মতো জীবন ছিলো
অবনী তাকে গৃহস্থ রমণী বানালো
এক আশ্চর্য মানুষ বটে সে
বুঝি না সে কিসের কাঙাল ।

বানভাসিদের সাহায্য তোলায় থাকে সে
আবার বিকট শব্দে হাসে পরিহাসে
ভালোবাসা নাকি দায় তার কাছে
জানার ঘরটা ফাঁকা এমনই আকাল ।

শব্দগুলো আর তো আসেনা
অবনি আজ আর আসবে না
এখন মেতেছে বানভাসিদের নিয়ে
আর একটা রাত কেটে আসুক সকাল।
……………………………………………

বৃষ্টি

মনটা ছটফট করে
শুধু তোমার একার নয়
ভেবোনা অনুভূতি শুধু তোমারই
যে অনভূতি ভাসিয়ে নিয়ে চলে
যে অনুভূতি দোল দিয়ে যায়
ঘটনার ঘাত প্রতিঘাতে
সেখানে আমিও একজন
জেগে থাকি ঠিক তোমার মতন
একটা অদ্ভুত সমাপতন !
বৃষ্টি আর আকাশ
সমান্তরাল এগিয়ে চলা
রেলের লাইন
কাছাকাছি তবু মিশে যেতে পারেনা
আকাশ বৃষ্টিকে বুকে নিতে গেলেই
ঝরে পড়ে গভীর আবেশে ।
আকাশ তার ঝরে পড়া দেখতে দেখতে
ফিসফিস করে বলে ঝরে গেলেও
বৃষ্টি তুমি আমারই ।
……………………………………………

লজ্জা বস্ত্র

হাজার রঙের ফুলঝুরি জ্বালিয়ে
যে প্রেম ডানা মেলেছিল আকাশে
সীমানার গণ্ডি দুর্বিসহ হয়নি কোনদিন
তবুও মুঠো মুঠো ভাবনা উড়েছিল
শিমূলের ফেটে পড়া তূলোর মতোই ।
অর্দ্ধ নগ্ন শরীর ছুঁয়ে গেছে উত্তাপ
জ্বলন্ত মোমবাতি কাউকে পায়নি
জ্বালিয়ে দেবার নিপাট আনন্দ, যদি
সবটুকু ডালিমের দানা কুড়িয়ে নিতে
তবুও কি থাকতো রঙের উন্মাদনা ?
চাপা কান্নার মিছিলে ভিজেছে পতাকা
বারুদের স্তূপে অনির্বান দিশাহীন
একটা লজ্জা বস্ত্র উড়ে এসেছে বাতাসে
এবার তোমার মুখটুকু চাপা দাও !
……………………………………………

স্বপ্ন বাতায়নে

রাতের গভীরে কত রাত জেগে থাকে
অবসন্ন মায়াবী হেথালে জাগে সুর
ক্ষণকাল জেগে ওঠে হারানো বিক্ষেপ
সীমানা পেরিয়ে যায় দূর বহুদূর ।
কৃষ্ণ সায়রে জেগে ওঠে আর এক দোসর
পশ্চিম বাতায়নে আমোদিনী সৌরভ
তোমার পল্লবে জেগে থাকে রাত
প্রতিটা রোমকূপে কম্পমান মসৃণ অনুভব ।
সবুজ শৈবাল স্নিগ্ধ ভরন্ত বুকে চেপে
রিরংসার আঁকাবাঁকা সর্পিল পথ
মেরুদণ্ডী কিছু ঐ মুখ টিপে হাসে
তাদেরই মাঝ দিয়ে চলে মৈনাক রথ ।
নীল তারা ছুঁয়ে এসে তোমাকে দেখেছি
দেখেছি জোনাকির ডানা বুকে জুড়ে
ভাবনায় জারিত রেণু নিশ্চয় দেব
দ্রাঘিমা রেখা ধরে একটি একটি করে ।
রাতের গভীরে যে রাত জেগে থাকে
স্বপ্নের বেড়াজালে তারা হাঁসফাঁস করে
তবুও একটিবার তাকে কাছে টেনে
এঁকে দেব তার নাম চুম্বন আখরে ।