ঘাসফুল

শেষবেলায় দেখা, তারপরে একটু হেসে
বললে, একবার দাও দাম।
দেবতার ঘরে রেখে দাও,যদি।
স্বার্থক হবো আমি।এক কোণায় রেখে দিও।
সুগন্ধি ফুলের মাঝে দেবে আমায় মান?
দেবতা কি দেবে স্থান? কতোকাল চেয়ে আছি দূরে।
একবার নেবেনা তুলে। দেবে না পূজায় স্হান।
মালা নাই বা গাঁথা হলো। পায়ের তলায় একটি বার
একটি বার দাও স্থান। ভিজে আছি দেখো। এক্কেবারে গঙ্গা স্নান। আরো কি চাই প্রমাণ।
পবিত্র আমি, ঘাসফুল আমি। তবে নেই কেন মান?
প্রভু, প্রভাত হলো। একবার শুধু দাও ঘ্রাণ।
…………………………………………..

আলো

আলোর উৎসব দেখো, প্রদীপের শিখা কথা কয়।
আলো চাই, আলো, আমাদের দিন কি গেল?
শহরে আজ কতো আলো, আলোক মালা ভালো?
তোমরা শুধুই ইলেকট্রিক বাতি জ্বালো।
সাজিয়ে দিলে শহর, আলো শুধুই আলো।
টিমটিমে আলোর শিখা বলে ওঠে, একি পরাজয়?
প্রদীপের আলো, কেন তোমরা ভুলে গেলে বলো।
শান্ত স্নিগ্ধ এই যে মায়া, কোথায় পাবে এই ছায়া?
পরিবর্তন বুঝি, হারিয়ে যাবার দিন খুঁজি?
তাইতো,যাবার বেলায় বলে যেতে চাই।
আলো চাই আলো। মাটির প্রদীপ নেই ভালো।
একটু যদি জায়গা দাও। দায়িত্ব নিয়ে দেবো আলো
আলো চাই আলো। অনেক আলো।
…………………………………………..

নোলক

ময়নাকে নোলক পড়িয়ে দেওয়া হয়।
সাজিয়ে দেওয়া হয় সামান্য নারী হিসেবে।
পরিচয়টা যদিও ফাঁকি। ওদের দেওয়া নাকি।
পায়ের পাতায় মানচিত্র আঁকা। সবটাই তো বাঁকা।
হাতটা কেমন পাঁজি, বায়না এমনকি?
একটা নোলকের অধিকার।
ময়নার নোলক, শ্বাসবায়ু নিজের হোক।
বন্ধ হোক, আচার বিচার বাঁচিয়ে রাখার লোভ।
নোলক নিশ্চিন্তে, অপেক্ষা নেই কোন নেতার।
ময়নাকে ভালোবাসবে।নেই কোনো চুক্তি পত্র ।
নেই কোনো সিংহাসন। নেই কোনো মুখোশ।
আছে শুধু মুক্তি। আছে সহজ মৃত্যু।
…………………………………………..

এসো উমা

এসো উমা, আমার ঘরে এসো।
আসন পাতি।বরণডালায় রাখি পান।
প্রদীপ জ্বালিয়ে দিলাম। মন্ত্র উচ্চারিত হল।
এসো উমা, তোমার জন্য একশত আটটি পদ্ম।
শিউলি, গোলাপ, রজনীগন্ধা, তোমার যেমনটি ইচ্ছে।
তোমাকে সাজিয়ে দেবো, অন্তরের সবটুকু সুখ দিয়ে।উমা সাজো। সাজো উমা।
অস্ত্রশস্ত্র সাথে রেখো। এখানে আজ মানুষ রুপে অসুরের দলাদলি। হানাহানি। রোগ, ব্যাধি, শোক।
চেয়ে দেখো উমা, তোমার জন্যে উৎসব। আনন্দ।
আকাশে রংবাহারি মেঘ।কাশের দোলা, শিউলির মেলা। আর কথা বলা তোতা।দশটি দিন।
উমা মানিয়ে গুছিয়ে থেকো। ভুলত্রুটি ক্ষমা করো।
ভালো থেকো উমা। ভালো থেকো।
…………………………………………..

ঘৃণা

চোখের সামনে ঝুলন্ত স্মৃতির চাদর।
স্মৃতি বাঁচে, শুধু পুড়ে যায় শরীর।
কাকভোরে গঙ্গা স্নান করবে।
তুমি হয়ে উঠবে সতী সাবিত্রী।
না এমনটি নয়। ওরা তোমার পিছু ছাড়বে না।
একটু একটু এগিয়ে আসবে, কাঁদামাটি ছিটিয়ে দেবে। তোমার গায়ে কেরোসিন ঢেলে দেবে।
প্রয়োজন হলে তোমাকে বাড়ে বাড়ে মৃত্যু দেবে।
তুমি প্রতিবাদ করবে। দরকার হলে মিছিল করবে।
শহরের বুকে দেখবে কত কত দূর্যোধন, দুঃশাসন
বুক ফুলিয়ে,মাথা উঁচু করে ঘুরছে।ওরা শুধু বাঁচে।
সময়ে তুমি থমকে যাবে, নিভে যাবে আলো।
তাই বলেকি, ওদের মৃত্যু হবে?
ঈশ্বর দেখবেন। হু, ঈশ্বর দেখছেন।
তুমি এক বুক ঘৃণা নিয়ে আবারও
ঘুমিয়ে পড়বে।ঘৃণা বাঁচে।বাঁচবে।
…………………………………………..

এ কেমন উৎসব

শরৎ আসবে জানি। বাতাসে পূজোর গন্ধ।
ভাসমান মেঘ আমার চোখে।
আর কদিন, মায়ের আগমনী সুর দূরে।
চোখে এমন এক রোগ, চিরবর্ষা ঘন।
ভাল লাগেনা দেশ, কাল, সময়।
শিউলির গন্ধে পুড়ে যায় মন।
ভয় করছে। ভীষণ ভয়।
ভিড় রাস্তা দেখলে ভয় করে।
ঝুলন্ত নতুন পাঞ্জাবী দেখলে ভয় করে।
ঘুমিয়ে থাকা চটি জুতো দেখলে ভয় করে।
ভয় করে, ভীষণ ভয়, কপালের ক্ষয় দেখলে ভয়।
মা তুমি এসো, সাথে যদি পারো নিয়ে এসো
আস্ত একটি বন, বনফুল, সাথে বাবা।
…………………………………………..

এই জীবন

জীবন যখন বারোআনা। তখন তুমি চৈত্রের চড়াই।
রোদের খেলা। সারাবেলা, প্রশ্ন শত। তারপরে তো
ভাদ্র এলো। তোমার তখন রোগ। বাহারি শোক।
আমি কেমন ভ্যাবলা হই। কত কথা, শিকল কই?
আমার চোখে তখন রোদ, টানাপোড়েন ক্রোধ।
তুমি কেমন আবোলতাবোল।ভুলে ভরা হাকিম।
খয়েরী রঙের সুতোয়, ফুল বাঁধো দেখি।
আমি বলছি, জীবন যখন আছে।
বাঁচার মতো বাঁচো। একটা জীবন চেয়ে আছে দেখো। নদনদী, পাহাড়পর্বত, সব কেমন একলা।
আমি, তুমি, তোমরা।সবাই আজও একা।
আমি আজ পদ্মপাতায় পদ্য লিখি।
মানুষ সেজে, মানুষ খুঁজি। এমনটাই ভালো বুঝি।
এক জীবনে চাওয়া পাওয়া ডুবিয়ে দিয়ে।
জীবনটা কে ভাসিয়ে রেখো। জীবন যেন জীবন্ত হয়। ভালোবাসা খাঁটি। সাধের জনম সাজিয়ে নিও।
নইলে সব কেমন ফাঁকি। এই তো জীবন।
…………………………………………..

সেই, বিখ্যাত চীনের প্রাচীর

আজ রোদ কেন?বৃষ্টি হোক। যেমনটি হয়েছিল সেই সালে। শ্রমিকের চোখের জলে বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা যেমন। আজ সেই রক্ত জলে ভিজে আছে মাটি। আমি এখন দক্ষিণ দ্বারে। পূর্ব পশ্চিমে বাঁধা আছে বাঁচার লড়াই।সেই প্রাচীর, দীর্ঘ বড়ো দীর্ঘ এই পথ। রুক্ষ মাটি।রক্ত জলে সজীব সবুজ গাছের দল সাক্ষী। সাক্ষী ছিল হলুদ সবুজ পাতাদের কোলাহল। মৃত্যু সহজ ছিল, ইতিহাস কঠিন। আজ কোন যুদ্ধ নেই। নেই কোন রাজা রাণী নেই। আছে মৃত্যু শোক। আছে শ্রমিকের শ্রমের নির্দশন। আছে আশ্চর্য এক সূর্য।
শ্রদ্ধাঞ্জলি হোক। শ্রমিকের বাঁচার লড়াই দৃঢ় হোক।
শ্রমিকের জন্য উৎসব হোক।
…………………………………………..

বিসর্জন

ওই দেখো ভেসে যায় উমা।
ভাসিয়ে দিলে, ভাবলেনা একবারও,
উমা তোমাদের করবেতো ক্ষমা?
ক্ষমতা দেখাও, আর কতকাল
চলবে খেলা, বলোতো?
তোমরা ভাবছো এতো নিয়মের খেলা।
আসবে যাবে সময়ের সেই ভেলা।
সহজ নয়, প্রশ্ন কত শ্যাওলা চাপা।
নুড়ি পাথর চোখের কোণে, রক্তক্ষরণ জলের দরে।
স্বপ্ন শত ভাসছে দেখো, ভিজিয়ে দিলে চুলের বেণী
মিথ্যে ছিল ভালোবাসা, মাটির দরে কেনাবেচা।
ছিনিয়ে নিলে গয়নাগাটি, অস্ত্রের দাম কি ভারী?
পদ্মফুল জড়িয়ে ধরে, চোখের জলে ভিজিয়ে বলে
আয় ফিরে, ঘরের মেয়ে ঘরে, চল সব ভুলে।
এমন করে ভেসে যাবি কেন বল।
…………………………………………..

হাওয়া বদল

শীতের শুরু, চললাম গুরু।
ভোরের বেলা, নতুন হাওয়া।
চলরে ছুটে, সবটা ভুলে।
বনের মাঝে, মনটা সাজে।
পাখি ডাকে, পথের বাঁকে।
একটি কথা বলতে চাই।
দাঁতের পাটি খুলবি ভাই।
মনের ব্যাথা জ্বালিয়ে ছাই।
হাসতে হবে, নতুন করে বাঁচতে হবে।
এমন কথায় বনের ঘরে।
কাকের সাথে কা কা।
বকের সাথে বকবক।
বাঘের শুধু বড়াই।
হাতির সাথে লড়াই।
মাছটা কেমন খেলা করে।
গাছটা শুধুই ভালো।
দাঁতের ঘরে আলো।
মনটা ভালো।