বসন্ত পর্ব

বসন্ত ফিরে যাচ্ছে।
অথচ গা ভাসিয়ে দিয়েছ
দূর্বাঘাসের শিশিরে জমা রেখে
তেত্রিশ বছরের ঠোঁট-

সর্ন্তপণে তুমি শেষ করে যাচ্ছ
নাগরিক সম্পর্ক-
আর আমরা ভেবে চলেছি
মাছ কাটাকুটির মতো
মাতৃবংশ খণ্ড খণ্ড ভাগ করে
তুলে দেওয়া জখমের তরবারি!
…………………………………………..

আগস্টনামা

কবিতারা স্লেট হোক
লেখা হোক তার বুকে
১৫ কিংবা ২১
কাঁচা রক্ত শিরোনাম-
কবি একটি কবিতা লেখো

আমাকে সঙে নিয়ো
আইবুড়ো মাইক্রোফোনে
কেন তোমাকে চাই
গাঢ় সলোজ মুখে
শব্দ পেলবে বাধিয়ে দেব
বিশাল এক বর্ণমালা-
বাঙালীর এ মাস-আগস্ট!
…………………………………………..

দু’জোড়া কালো চোখ

ঘাসের আলগোছ শেকড়ে
আঁকাবাঁকা দীর্ঘ নগর গ্রাম
মাংসাদি উরুত একত্রে গুঁজে রাখা-
কোনো নিঃসঙ্গ রমণী
কোলাহল নগরীর
ধূসর প্রাসাদ ছেড়ে
কমলা রঙের সিম্পনি রোদ,
পৃথিবীর মায়াবী বাতাস
বিমিশ্র সকল প্রেরণাস্থল
দু’জোড়া কালো চোখের ভেতর
দিগন্তের গাঢ় প্রেমপদ্য
তার মুঠো হাত ভরা
নীলকাঁচা দানাদার বাদামে
কাটিয়ে যাক
মাঠচরা সোনালী ধানের জীবনী
…………………………………………..

সশব্দের প্রেসনোট

আজকাল নাতিদীর্ঘ কথা শোনা যায়
দেওয়ালেরও কান রয়েছে
-দেওয়াল শব্দ নৈঃশব্দ্য শোনে
কেবল উচ্চারণ করে না
প্রাণীর ভাষা প্রাণী বোঝে।উদ্ভিদ সেভাবে;

অথচ মানুষ তার কমল মননে
সাচ্চাপট সংকোচ বাধায়-
নিপুণ মেইলবার্তা,সশব্দের প্রেসনোট
না পড়ে ঈর্ষান্বিত হয়-
লেখাজোকা পড়লেও
নিরন্তর মৃত্যু ঘটায়-
চিরহরিতের রেইনফরেস্ট-আমাজন
সকল কিছুর শিরদাঁড়া
মুদ্রিত সারিক স্বপ্নজোড়
সরকারি কলোনি বানিয়ে ফেলায়!
…………………………………………..

আমার পায়ের গহীন শব্দ

আঙ্গুলের কররেখার পাশে উন্নত রঙ্গশালা।
আমার পায়ের গহীন শব্দ
প্রজাপতি বহুক্ষণ লুকিয়ে দেখছে
অরণ্যের ভেতর থেকে ডুমুর ফুল হাসছে

শুনতে পাচ্ছে-
রঙ্গশালায় এলানো উজ্জীবিত সহবাস
সকল আভিজাত্য শিল্প
হৃদয়ের ভেতর সচরিত্র পাহারা দিচ্ছে
আমি চারদিকে ডাগর মাথা তুলে
আঙ্গুলের কররেখা খুলে
এক বিপজ্জনক সাঁকো পার হয়ে যাচ্ছি
…………………………………………..

আমার নির্জন প্রাসাদ

একদিন কবিতার কাছে গেলাম
আমার সমস্ত হৃদয় শরীর নিয়ে
হেমন্ত সন্ধ্যায় পা-পাতা নখ টিপে
বহুদিন পর,প্রথম দেখা-নবান্ন চারদিকে
বহুত সুন্দরী যে পৃথিবীর কাছে-
বিপুল কারুকার্য-নগরে,কমলা রোদ
আমি দেখলাম তার কাতুকুতু শিয়র দেহ
আসে আর যায় আমার নির্জন প্রাসাদে
বহুরূপী রমণী হারিয়ে অনন্য রমণী সে;
…………………………………………..

নীলঘন বেদুঈন চোখ

মৃত্যুর কফিনে পেরেক গুঁজে দিয়ে
তুমি জ্যোৎস্নার রজনীসাল কাটাও
ভাদ্র রাতে-একটুকরো বুকের ভেতর
ডানপাশ কাত হওয়া
সবুজ ট্রেতে লুটিয়ে
হরিণের মতো ঘাই খাওয়া প্রাণীদেহ;
জেগে ওঠে আত্মীয় অন্ধকার-
আকাশের গায়ে হেলান দেয়া
নক্ষত্র জ্যোৎস্না,কাওয়ালি বাতাস
স্বপ্ন রাখা চামড়ার মানিব্যাগে
শিরা উপশিরা লাল রক্ত,মাংসল-
জাগর কাটে কীটপতঙ্গ,আরশোলা
এসব সাবধান বোঝাপড়া পেরিয়ে
তোমার দিকে নীলঘন বেদুইন চোখ
হেমন্তের ফাঁকা মাঠ পৃষ্ঠা করে তাকায়-
…………………………………………..

আলোর মাল্টিপ্লাগ

সিজার করার মতো
আষাঢ়ে বৃষ্টি
সহজ-সদিচ্ছা মাতৃগর্ভ সুর বিলাচ্ছে
যেভাবে সবুজ ধানখেত নিয়মিত হাঁটছে-
বাঁকা দিগন্তরেখা নদী হয়ে পা চালায়-
বাদলাভ্রম মেঘ,সকালের রৌদ্রহাস,
হাওয়ার করোটি পাখি শিস বাজায়-

ইউনিফর্মিটি রং সেলাই বাধানো গহিন পৃথিবী
একেকটা ঠিকানা ওড়ায়-
ঋতুর গ্যালারী হতে আলোর মাল্টিপ্লাগ!
…………………………………………..

শিল্পছবি

এই নিভৃত ঠিকানায়-তুমি এমনই এক শিল্পছবি
শুন্য থেকে ভরাট-পড়শিবাড়ির মালকোচা জানালায়
-নতুন প্রতীক্ষা,অজান্ত উদাসীন-বিনির্মাণে সঙ্গম শরীর
ঘন ঘুৎকারে ভৌতিক প্যাঁচা,সজনেডাঁটায় সুরপাগল
-লিরিক বাতাস,আঁধারশাসিত ঘন মেঘ,ব্যাকুল রূপকথা-

এভাবে আষাঢ়,খুচরো রোদ-বৃষ্টি,ভেজা দিগন্ত
-ধানখেত,আলপথ-ঝরাপাতা,সকল সম্প্রদায় পেরিয়ে
কারোর কালোছাতির বগলদাবা টেনে-শৈশব উঠানে
নাগরিক চোখের ভেতর;নিজের ভেতর-আহ!মনোবক্সঃ
…………………………………………..

নীলরত্ন মৌন আকাশ

শরীরের সুস্বাদু চিনিমাখা নীলরত্ন মৌন আকাশ
তেখাঁজ বরফ,শাদা কাফনের মতো;ছড়ানো-
আলুথালু মাছকাঁটা হ্রদ-শিতিল বৃক্ষ,
বোবাবাতাস পরিযায়ী ডানায় হিমালয়-উর্বর দ্বীপপুঞ্জ
ঘাসের পাখনায় রোদগলা বিকেল-সোনাধান
অদূরে বাতাবিলেবু থোড়-থমথম রাত-নক্ষত্র;

এভাবে,যেভাবে-প্রশস্ত চোখ চমকায়
সৌধ ফসলির অভয়ারণ্য-হাঁটুভর সমুদ্র
হরফের মতো মাটি থেকে বালুকণা-পাথর-নদী,
যুগল বাধা গাঙচিল,ঠোঁটে ঠোঁটে দুই শামুক-
সুসম্পন্ন রমণী ও পুরুষ-গাঢ় ছায়ায় ডুবছিল