ফ্লাইটের অ্যানাউন্সমেন্টে যখন চোখ খুললাম, তখন ঘড়িতে সকাল ৭টা ২০ বাজে। উড়োজাহাজ তখন রানওয়ের বুক জুড়ে তীব্রগতিতে ছুটে চলেছে। বাইরে তখন ১৬°সেন্টিগ্ৰেড। ঘোষণানুযায়ী নির্দিষ্ট বেল্ট থেকে নিজেদের লাগেজ নিয়ে হায়দ্রাবাদ এয়ারপোর্টের ‘পুষ্পক বাস-সার্ভিস’-এর দিকে এগোতে লাগলাম। ওলা বা উবারেও যেতে পারতাম কিন্তু তাতে সেমন্তীদের বাড়ি যেতে প্রায় ১০০০ টাকা ভাড়া দেখাচ্ছিল। আর হামরা যে গরীব আদমি, তা তো আগেই বলেছি, তাই, বি২ রুটের বাসে উঠে বসলাম। অত সকালে আমরা বাদে বাসে আর দু’জন ছিল, একটি লোক ও একটি মেয়ে। এ. সি. বাস, খোলামেলা জায়গা, কোনো অসুবিধে নেই, লাগেজ রেখে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসলাম। বাসের টাইমিং আর রুট আগেই নেট থেকে দেখে নিয়েছিলাম। দশ মিনিট পর পর বাস আছে। আমরা ল্যান্ডিং-এর টাইম অনুযায়ী ৭টা ৪০-এর বাস ধরব, ঠিক করেছিলাম। সেই বাসেই উঠলাম। বাস ছাড়লে পার হেড ২৬৫ টাকা করে টিকিট কেটে এয়ারপোর্টের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে শহরে ঢুকলাম। এয়ারপোর্টে অনেক ফুলের গাছ এবং বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। আমার হায়দ্রাবাদ ঘুরতে আসার জন্য দুটো কারণ ছিল, প্রথমত তো সেমুর বাড়িতে ঘুরতে আসা আর দ্বিতীয়ত ‘প্যারাডাইজ়’-এর স্পেশ্যাল হায়দ্রাবাদী বিরিয়ানি খাওয়া। এয়ারপোর্ট থেকে শহরে ঢুকতেই ডানদিকে চোখে পড়ল সেই বিরিয়ানির খনি। নিজেকে তখনের মতো সামলে নিলাম কারণ প্ল্যান তো বানানোই আছে, ঐদিন রাতেই ঐ দোকানে বিরিয়ানি ভোজনের। দু’পাশে শহরের ঐতিহাসিকতার নিদর্শনবাহী বিভিন্ন স্থপতি দেখতে দেখতে সেমুকে লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে দিলাম কারণ আদিত্য দা (সেমুর হাজ়ব্যান্ড) বাসস্ট্যান্ডে আমাদের নিতে আসবে। শহরটাকে জানবার তাগিদে একটু পড়াশোনা করে নিলাম বাসে বসেই। প্রাচীন এই শহরটি দক্ষিণ ভারতের উত্তর অংশে দাক্ষিণাত্য মালভূমিতে, মুসি নদীর তীরে ৬৫০ বর্গ কিলো মিটার এলাকা জুড়ে অবস্থিত। হায়দ্রাবাদের বেশিরভাগ অংশ গড়ে ৫৪২ মিটার উঁচু এবং কৃত্রিম হ্রদের চারপাশে পার্বত্য অঞ্চল অবস্থিত। তেলেঙ্গানা রাজ্যের রাজধানী ও সবচেয়ে বৃহত্তম শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৬৯ লক্ষ। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক স্যার জন এভারেট-হিথ সাহেবের মতে, হায়দ্রাবাদের অর্থ ‘হায়দারের শহর’ অর্থাৎ ‘সিংহের শহর’। ‘হায়দার’ কথাটির অর্থ সিংহ এবং ‘আবাদ’ কথাটির অর্থ শহর। খলিফা আলী ইবনে আবী তালিব যুদ্ধে সিংহের মতো বীরত্ব দেখিয়েছিলেন। এই কারণে তিনি ‘হায়দার’ নামেও পরিচিত ছিলেন। ওনাকে সম্মান জানাতেই শহরটির এই নামকরণ করা হয়েছিল। আবার ইসলামী স্থাপত্যের পণ্ডিত স্যার অ্যান্ড্রু পিটারসনের মতে, শহরটিকে ‘আসলেবাগনগর’, যার অর্থ ‘উদ্যানের শহর’ বলা হতো। আবার কিছু কিছু জনপ্রিয় তত্ত্ব মতে, নগরটির প্রতিষ্ঠাতা গোলকোন্ডা সালতানাতের মুহাম্মদ কুলী কুতুব শাহ্। তৎকালীন স্থানীয় নাচনেওয়ালী ভাগমতীর প্রেমে তিনি পড়েছিলেন। তাই, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘হায়দার মহল’ উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। তার সম্মানে এই শহরটির নামকরণ করা হয় হায়দ্রাবাদ। তবে এই তথ্যটিকেই সঠিক বলে ধরা হয় যে, কুতুব শাহি রাজবংশের পঞ্চম সুলতান মুহাম্মদ কুলি কুতুব শাহ-এর আমলে ১৫৯১ সালে নগরীর গোড়াপত্তন হয়েছিল।

এত সব তথ্য পড়তে পড়তে কখন যে রাতজাগা চোখে ঘুম নেমে এসেছিল, টের পাইনি। বাসওয়ালাকে বলাই ছিল। আমাদের যখন বাস ‘পর্যটক ভবন’ স্টপেজে নামাল, তখন ঘড়িতে ৮টা ৩০ বাজে অর্থাৎ পুরো এক ঘন্টাও লাগে নি, রাস্তা ফাঁকাই ছিল শনিবারের অত সকালে। নেমে দু’মিনিট দাঁড়াতেই আদিত্য দা গাড়ি নিয়ে চলে এলো। দাদার সাথে এই প্রথম আলাপ। লাগেজ তুলে গাড়িতে উঠলাম। আমাকে দুটো সোয়েটার পরে থাকতে দেখে দাদা বেশ অবাক, আমার কিন্তু তখনও দুটো সোয়েটার পরে বেশ কম্ফর্টেবলই ফীল্ হচ্ছে। মিনিট সাতেকের মধ্যে সেমুদের ঝাঁ-চকচকে অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে গেলাম। আন্ডারগ্ৰাউন্ডে গাড়ি রেখে দাদা লিফ্টে করে থার্ড ফ্লোরে নিয়ে চলল। অনেক দিন পর সেমুর সাথে দেখা হবে, সেই এক উত্তেজনা রয়েছে, আবার বুঝতে পারছি, সেমুও আমাদের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। লিফ্টের দরজা খুলে বেরোতেই হা রে রে রে রে করে আমাদের ওয়েলকাম করতে এগিয়ে এলো সেমু। আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে খানিক নেচে নিলাম। তখনও বিশ্বাস হচ্ছে না যে, একা একা এতদূর চলে এসেছি।

দাঁত মেজে গরম জলে স্নান করে ফ্রেশ্ হয়ে ব্রেকফাস্ট সারলাম স্পেশ্যাল হায়দ্রাবাদী পীস্ মশালা ধোসা দিয়ে। ঐদিন সেমুর কাছে একটি বিশেষ দিন ছিল কারণ ঐদিন আদিত্য দার জন্মদিন ছিল। তাই, পূর্ব পরিকল্পনানুযায়ী, সেমু আর তুলি কোমর বেঁধে দাদার জন্য রান্না করতে শুরু করল আর আমি আর দাদা চিটবাদাম খেতে খেতে উনো খেলা শুরু করলাম। আমি সেই প্রথম উনো খেলা শিখলাম দাদার থেকে, নাহলে এতদিন অবধি স্কুলে স্টুডেন্টদের উনো কার্ড ধরপাকড় করে জমা নিয়ে নিতাম শুধু। আমাকে প্রচুর ভুল বুঝিয়ে, চিটিং করে দাদা-ই বারবার জিতে গেল।

দুপুরে পিঁয়াজ-ডাল, বেগুন ভাজা, আলু ভাজা, মাছের কালিয়া, ডিমের ঝোল দিয়ে লাঞ্চ সেরে বেরিয়ে পড়লাম ঘুরতে। দাদা ড্রাইভ করছিল আর আমরা তিন জনে গাড়ির মধ্যে হুল্লোড় করতে করতে চললাম। হুসেইন সাগরের ধারে গাড়ি পার্কিং করে পার হেড ২০ টাকা টিকিট কেটে প্রথমেই ঢুকলাম এন. টি. আর. গার্ডেন। হুসেইন সাগরের একদিকে গোল করে ঘুরে পঞ্চান্ন একর জমি নিয়ে শহরের একেবারে মধ্যিখানে গার্ডেনটি অবস্থিত। সেরকম কিছু বিশেষত্ব নেই। আমাদের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও সায়েন্স সিটি একত্রে করলে যেরকম হবে, অনেকটা সেরকম। ভিতরে প্রচুর ফুলের সাজানো বাগান আর টাইম মেশিন, বিভিন্ন খেলার জায়গা, রাইডস্ ইত্যাদি রয়েছে। সব কিছুর জন্যই আলাদা আলাদা টিকিট রয়েছে। আমরা কোনো রাইডসে চড়ি নি কিন্তু টাইম-মেশিনে চড়লাম পার হেড ৫০ টাকা টিকিট কেটে। খুবই লঝঝড়ে তার অবস্থা, স্ক্রিনটাও ঝাপসা এবং তথৈবচ। ‘হায়দ্রাবাদ আরবান ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’র ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা প্রোজেক্ট’-এর আন্ডারে অন্ধ্রপ্রদেশের চিফ্ মিনিস্টার এন. টি. রামারাওয়ের স্মরণে চন্দ্রবাবু নাইডুর তত্ত্বাবধানে ১৯৯৯ সালে গার্ডেনটি তৈরী হয়।

গার্ডেনের বাইরে প্রচুর স্ট্রিট-ফুডের দোকান। সবগুলো খাবার চাখতে চাখতে হুসেইন সাগরের আরেক দিকে পার হেড ২০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে লুম্বিনী পার্কে ঢুকে পড়লাম। অন্ধ্রপ্রদেশের লেট চিফ মিনিস্টার টি. আনজাইয়াহর স্মৃতিতে ১৯৯৪ সালে ৭.৫ একর জমির ওপর পার্কটি গঠিত হয়েছে। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও রয়েছে ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা প্রোজেক্ট’-এর আন্ডারে। মিউজ়িক্যাল ফাউন্টেন, লেসার অডিটোরিয়াম ইত্যাদি এই পার্কের অন্যতম আকর্ষণ। ২০০৭ সালের ২৫ শে আগস্ট একটি টেররিস্ট বোম ব্লাস্টের ফলে এখানে ৪৪ জন নিহত হয় ও ৬০ জন আহত হয়। তারপর ইনভেস্টিগেশনের কারণে পার্ক কিছুদিন বন্ধ ছিল কিন্তু এখন সকলের জন্যই সব মরশুমে খোলা। এই পার্কের ভিতর দিয়েই পৌঁছে গেলাম একেবারে হুসেইন সাগরের তীরে।

সন্ধ্যে হয়ে আসছে তখন, লুম্বিনী পার্কের গাছগুলিতে পাখিরা নিজেদের ঘরে ফিরে আসছে, কলকাকলিতে ভরে উঠেছে চারিদিক। আধা আলোয় হুসেইন সাগরের একেবারে মাঝে অবস্থিত আর্টিফিশিয়াল জিব্রাল্টার রক দিয়ে তৈরি বুদ্ধমূর্তিকে অপূর্ব সুন্দর লাগছিল। কিছুক্ষণ পরে বুদ্ধমূর্তিতে লাইটিং শুরু হলো। আমরা বোটিং-এর জন্য ৭০০ টাকার টিকিট কেটে অপেক্ষা করছিলাম। তখন টিকিট নম্বর ৪৯৬ চলছিল আর আমাদের নম্বর ছিল ৫২৭। একটা বোটে চারজন উঠতে পারবে। আমরা চারজনই ছিলাম। তাই, ৭০০ টাকায় একটা পুরো বোটই আমরা বুক করলাম। ওখানে দাঁড়িয়ে তখন ওখানকার সৌন্দর্য দেখা আর ফটো তোলা ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। ওখানে দাঁড়িয়ে অনেকক্ষণ ধরে ভাবছিলাম যে, এটা কোন্ সাগরের অন্তর্গত। সেমুকে জিজ্ঞাসা করতেই বলল যে, এটা কোনো সাগর নয়, এটা একটা আর্টিফিশিয়াল লেক, যা মুসি নদীর জল দিয়ে তৈরি হয়েছে। ১৫৬৩ খ্রিস্টাব্দে ইব্রাহিম কুলি কুতুব শাহ্ হার্ট শেপের এই লেকটি তৈরি করিয়েছিলেন, যা হিমায়ত সাগর ও ওসমান সাগরের আগে অবধি হায়দ্রাবাদের মূল জলাধার ছিল। হুসেইন শাহ্ ওয়ালি এই লেকটির নবরূপায়ণ করেন। তাই, ওনার নামেই লেকটি নামাঙ্কিত। ৩.২ কি. মি. লম্বা এবং ২.৮ কি. মি. চওড়া এই লেকটির গভীরতা প্রায় ৩২ ফুট। লেকটি হায়দ্রাবাদ ও সেকেন্দ্রাবাদকে বিভক্ত করেছে। যাই হোক্, আমাদের নম্বর আসার পর লাইফ-জ্যাকেট পরে সকলে তৈরী হলাম। তুলি খুবই ভয় পাচ্ছিল, আমার বেশ থ্রিলিং একটা ব্যাপার লাগছিল। বোটের সামনের সিটে তুলি আর সেমু, পিছনের সিটে আমি আর দাদা বসলাম। প্রথম থেকেই বোট-চালককে আমরা বলছিলাম যে, বোটের স্পীড বেশি তুলতে না আর বোটকে যেন বেশি কাত না করে কারণ পারে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আমরা দেখছিলাম যে, অসম্ভব স্পীডে বোটকে বাঁকিয়ে একেবারে জলের সাথে মিশিয়ে দিচ্ছিল। বোট যখন স্পীড তুলে সামনের দিকে এগোতে লাগল, তখন বেশ মজাই লাগছিল কিন্তু যখন সাইডে কাত করতে লাগল, তখন উত্তেজনায়, ভয়ে আমরা সবাই চ্যাঁচাতে লাগলাম। তুলি উত্তেজিত হয়ে ভুলভাল হিন্দিতে বোট-চালককে নির্দেশ দিতে লাগল। সে বেচারা কিছুই বুঝতে না পেরে আরও জোরে চালিয়ে লেকের ঠিক মাঝখানে একেবারে বুদ্ধমূর্তির সামনে নিয়ে গেল। অত্যন্ত রিস্ক নিয়ে আমরা কয়েকটা সৈল্ফি তুলে নিলাম সেখানে। মিনিট দশেক লেকের জলে উড়ন্ত বোটের মতো রাউন্ড মেরে তারপরে আমরা আবার পারে নামলাম। সকলের চুলগুলো তখন দেখবার মতো ছিল।

বাইরে বেরিয়ে ওখানকার ফুচকা টেস্ট করে দেখলাম, ভিতরে কোনো আলু নেই, রয়েছে শুধু ঘুগনির মটর আর পিঁয়াজ। একটা খেয়ে আর খাই নি, বাবা। এদিক দিয়ে কলকাতাই জ়িন্দাবাদ! গাড়িতে উঠে রওনা দিলাম বিড়লা মন্দিরের দিকে। শনিবার থাকায় প্রচুর গাড়ির লাইন ছিল। বেশ কিছুদূরে গাড়ি রেখে আমরা মন্দিরে প্রবেশ করলাম। ২৮০ ফুট উঁচুতে নৌবাত পাহাড়ের ওপর ১৩ একর জায়গা নিয়ে এই হিন্দু মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত। ১৯৬৬ সালে বিড়লা ফাউন্ডেশন মন্দির নির্মাণের কাজ শুরু করলেও মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত হয় ১৯৭৬ সালে রামকৃষ্ণ মিশনের সন্ন্যাসী স্বামী রঙ্গনাথনন্দর দ্বারা। ভিতরে প্রধানত বালাজীর মন্দির হলেও বিভিন্ন হিন্দু দেবদেবী যেমন শিব, শক্তি, গণেশ, হনুমান, ব্রহ্মা, সরস্বতী, লক্ষ্মী, সাঁঈবাবার আলাদা আলাদা ঘরে মূর্তি রয়েছে। সিঁড়ির সংখ্যা দেখে দাদা আর তুলি উপরে উঠল না, আমি আর সেমু জুতো খুলে অগণিত সিঁড়ি বেয়ে ওঠা শুরু করলাম। ওপরে অনেকক্ষণ লাইন দিয়ে দর্শন করলাম। কিছু মানুষ থাকে, যারা পৃথিবীর যে জায়গায়ই যাক্ না কেন, স্বভাব পরিবর্তন করতে পারে না। তাই, মন্দিরের ভীড় লাইনে দাঁড়িয়েও সামনে মেয়েদের দেখলে নিজেদের সংযত করতে পারে না। ব্যাপারটি ভালো করে বুঝতে পারার পর তাকে বেশ কটু কিছু কথাও শুনিয়ে দিলাম। এরপর আর তাকে আমাদের আশেপাশে কোথাও দেখলাম না। বালাজীর দর্শন করে মন্দিরের উঁচু চাতাল থেকে তাকিয়ে রাতের গোটা হায়দ্রাবাদ শহরটাকে দেখতে পেলাম। আলোকসজ্জিত শহর, হুসেইন সাগর, বুদ্ধমূর্তিকে অত উঁচু থেকে অপূর্ব লাগছিল। নামার সময় খুব তাড়াতাড়ি নেমে আসলাম।

এরপরের গন্তব্যস্থল আমার প্রিয় প্যারাডাইজ়। বিরিয়ানি আর কাবাবের কম্বো ফ্যামিলি প্যাক নিলাম। উটি চকোলেট খুঁজছিলাম কিন্তু পেলাম না, তার বদলে স্পেশ্যাল কুকিজ় দেখলাম, এক বাক্স চকোলেট কুকিজ় নিয়ে ঘরে ফিরলাম। সেমুদের অ্যাপার্টমেন্টের খানাপিনা ছিল ওদেরই ছাদে। সেখানে গেলাম ঠিকই কিন্তু সবই সেখানে ভেজ। ওগুলো আর কী খাব, যেখানে ঘরে আমার জন্য মাটন বিরিয়ানি, চিকেন কাবাব ওয়েট করে রয়েছে! ওখানে কিছুক্ষণ থেকে অ্যাপার্টমেন্টের কিছু মানুষের সাথে পরিচয় করে ঘরে ফিরলাম। দাদার জন্মদিন উপলক্ষ্যে বেলুন আর রাংতা কাগজ দিয়ে ঘরটাকে চটপট সাজিয়ে ফেললাম। এরপর দাদার কেক কাটা পর্ব শেষ হলে সকলে মিলে গল্প করতে করতে মুভি দেখতে দেখতে বিরিয়ানি আর কাবাবের সমুদ্রে ডুবে গেলাম…