কেউ যাবে কেউ যাবে না,কত তার পরিকল্পনা অবশেষে মিটিং বসা হলো কাজিরহাটে। সবাইকে ডাকা হলো সবাই আসলো সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো কাল ৮ টায় রওনা দিবো এরি মধ্যে রাব্বির বাবা ফোন দিলো কিছু না বলেই আমাদের ফেলে রাব্বি চলে গেল।আমরা সবাই ভাবতে শুরু করলাম ও এভাবে কেন চলে গেল।আশিক বললো আমরা একদিন রেললাইনে গিয়েছিলাম গান গাইতে,তখন তার বাবা অনেক বকা দিয়েছে ওকে এবং আমরা ভালো না তাও বলেছে।আমরা শুনে চুপ হয়ে গেলাম, পরে বললাম চল আমাদের বাড়িতে ছোট দাওয়াত এর আয়োজন করা হয়েছে সবাই আসলো,বেশি সময় না নিয়ে তারাতারি খাওয়া দিয়ে দিলাম আরিফ,আশিক শরমে খাসছিলোই না আর ইমানের হচ্ছিলই না।ওরা সবাই মিলে যা খেলো ইমান একাই তা খেলো,আমি জানি না নরায় কি আছে, কিন্তু ইমান বলছে দেখ ওখানে কি আছে, আমি দেখলাম মাংস পরে ওকে দিলাম।ও বেশি খাই বলেই ওকে নিয়ে মজা করি এবং ও অনেক রসিক।সবাই খাওয়া দাওয়া শেষে ছোটন বলছে চল আমাদের বাড়িতে যাই, এর মধ্যে রাব্বি sms দিয়ে বললো আশিকে বলিস বাবা ফোন দিলে,বলতে আমি তোদের বাড়িতে দাওয়াত খেয়েছি।আমি সবাইকে বললাম এবং আরিফ বললো ওদের বাড়িতে যাবো আশিক বললো আরে যাওয়া যাবে না, ওর খবর আমি জানি আমাদের বাড়ির সাথে ওর বাড়ি।কথা বলতে বলতে ছোটনদের বাড়িতে গেলাম নাস্তা করে চলে আসলাম।পরে সবাই নিজ নিজ বাড়িতে চলে গেলাম।এখনো সিওর না কাল রাব্বি যাবে।

আজ আমি তারাতারি উঠলাম সময় দেখি ৬ টা বাজে, মুখ ধুয়ে কিছু নাস্তা করলাম পরে গোসল করে রেডি হলাম আশিক ফোন দিলো আমি বললাম রেডি হলাম, তোরা কি রেডি।হু বাহির হচ্ছি, রাস্তাই এসে দাঁড়িয়ে আছি, অনেকক্ষণ হয়ে যায় কোনো খোঁজ খবর নাই মনে মনে ভাবছি ওরা কি আজ যাবে নাকি যাবে না ।এবার ছোটনকে ফোন দিলাম ওকে বললাম যাবি না? ও বললো টাকা নাই, তার মানে যাবে না, রাব্বিরও যা অবস্থা দেখলাম ও যাবে না ভাবতেছিলাম।কিছুক্ষণ থাকার পর সামনে হাটতেই দেখি অটো ভর্তি লোক রাব্বি, আশিক, আরিফ,ইমান, সেতু, রব্বানি। অটোতে চড়ে ছোটনের বাড়ির সামনে আসলাম ফোন দেই ধরে না,পরে বাড়িতে গেলাম দেখি ঘুম থেকে উঠলো,হায়রে নবাবের কান্ড দেখছো।সবাই দুই ঘন্টা আগে থেকে রেডি ও এখনো রেডি হয় নাই।পরে ওর মা কিছু টাকা দিলো ও তারাতারি রেডি হয়ে শার্ট হাতে নিয়েই রওনা হলো অটোতে এসে উঠলাম।অটো ছাড়লো রেল স্টেশনে যাইতে ১০ টাকা লাগে তার একটু সামনে নামলে ৫ টাকা আমি জোরেই বললাম শান্তিগঞ্জ নামবো,এখান থেকে চোরাই পথে দুই মিনিট হাটলেই রেলস্টেশন।শান্তিগঞ্জ নেমে টাকা দেওয়া শেষে দেখি তৌহেদুল ভাই , আমি সংক্ষেপে বললাম তৌহিদ ভাই আপনি বললো এখন তো চিনবি না যা যা।মনে মনে ভাবলাম রেলস্টেশন নেমেও ৫ টাকা করে দিলেও নিতো। যা হোক আমরা সবাই হেঁটে রেলস্টেশন গেলাম , আশিক টিকিট কাটবে আমরা কেউ টিকিট কাটবো না ।আশিক টিকিট কাউন্টারে গিয়ে বুড়িমাড়ির ভাড়া দেখে ৭৫ টাকা, পরে আশিক ও টিকিট কাটলো না, কিছুক্ষণ পর ট্রেন আসলো আমরা সবাই ছাত্র কেউ বাড়িতে বলেছে আবার কেউ বাড়িতে বলে নাই টাকা পয়সা তেমন নাই ।টিকিট ছাড়াই ট্রেনে উঠলাম, সবাই মিলে প্ল্যান করলাম একটা করে স্টেশন পার হবো আর বলবো এখানেই উঠলাম ।করোনার সময় হওয়ায় তেমন যাত্রী নাই।সিট খালিই ছিল আমরা সবাই আরাম মতো বসলাম।এক স্টেশন পার হওয়ার পর আমি বললাম গান হবে না?আশিক গান গা।আশিক ইমান গান ধরলো আরিফ রাব্বি ফোন টিপছে আমিও গানের দলে।নির্দিষ্ট কোনো গান নাই যা মুখে আসে তাই গাওয়া হচ্ছে ।কিছুক্ষণ গাওয়া হলো পরে আমি আর আরিফ সিট চেন্স করলাম আমি রাব্বি,ছোটন, আর রব্বানি এক পাশে।একটা ফেরিওয়ালা আসলো রাব্বি থামালো একটা মানিব্যাগ নিবে।একটা মানিব্যাগ পছন্দ হলো দাম ১৮০ টাকা,আমি শুধু ৬০ টাকা বললাম , রাব্বি ৭০ টাকা বললো , ছোটন ৮০ টাকা বললো,আমি রাব্বিকে বললাম পছন্দ হয়েছে রাব্বি বললো হু।আমি বললাম ৯০ টাকা তো দিবেন, বললো নাও । রাব্বি বললো নিবো না এত টাকা দিয়ে,তা কত টাকা দামি নিবি পরে ফেরিওয়ালা শুনে ১০ টাকা দামি মানিব্যাগ বের করে দিল। আমি বললাম আর কম দামি নাই বললো যাও ৫ টাকা দাও।ছোটন বলে যা ৯০ টাকা দিয়ে আমি নিবো , আমি তো অবাক যার কাছে আসার মতো টাকাই নাই সে মানিব্যাগ কিনবে।রাব্বির কাছ থেকে হাওলাদ নিয়ে আজকের ঘুরতে আসার কথা ছিল আর ও মানিব্যাগ কিনবে।যার টাকাই নাই তার লাগবে মানিব্যাগ ।খুব রাগ ওঠে গেলো টাকাটা আমাকে দিতে বললো।আমি বললাম রাখ তোর মানিব্যাগ পরে কিনিস।ফেরিওয়ালাকে বললাম আপনার তো অনেক সময় নষ্ট করেছি তা একটা কান পরিষ্কার করা জন্য কটন দেন?১০ টাকা দামি নিলাম ।ফেরিওয়ালা চলে গেল ।আর একটা স্টেশন পাড় হলাম , বুড়িমাড়ি যাইতে আটটা স্টেশন তার মধ্যে চারটা পার হলাম ।এবার সম কন্ঠে গান গাইতেছি ।গানের আওয়াজে পুরো ডাব্বা ভরে গেল, সবাই আমাদের দেখে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে, আমাদের সাথের সেটে একজন বই পড়েছেন, গান গাওয়ার ফলে তার পড়তে সমস্যা হচ্ছে তবুও বললো এই বয়সে গান বাজনা করবে না তো কোন বয়সে করবে গাও।আমরা দিক বিদিক না তাকিয়ে গান গাইতেছি গানের কোনো সুর নেই, নেই কোনো তাল, একবার গাইতেছি আমার মত এত সুখি নাই তো কারো জীবন , আবার জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো, তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দিবোরে,সূর্যদয়ে তুমি সূর্য অস্তে তুমি ।কোনো ঠিক নাই এক সময়ে একেক গান উল্টোপাল্টো গান।গান গাইতে গাইতেই পাচঁ স্টেশন পার হলাম ।টিটি এখনো আসে নাই ।টিকিট ছাড়াই পাচঁস্টেশন পার হলাম ।ইমানের বাড়ি থেকে ফোন দিয়েছে, ও উচ্চ কন্ঠে ফোনে বলছে আব্বু মুই বুড়িমাড়ি যাগ চল তোমা কটে ।এটা নিয়ে আরিফ বারবার ওকে ক্ষ্যাপাইতেছে। আমি জানালা দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে দেখি,অপূর্ব সৌন্দর্যের নীলাভূমি আমাদের এই বাংলাদেশ ট্রেনের ভিতর থেকে ধান ক্ষেতের সৌন্দর্য দেখে আমি মুগ্ধ ।সুফলা ধরণীর আসল রূপ যেনো আমি খুঁজে পেলাম এই ট্রেন ভ্রমনে এসে।আমি খাতা নিয়ে লেখতে বসলাম “সবুজ বাংলা” কবিতা ।আট লাইন লেখলাম।দৃষ্টি নন্দন এই দৃশ্য যে কারো মন কেড়ে নিবে।আমি যেনো কল্পনার জগতে হারিয়ে যাচ্ছি ।অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে দেখতে চলে আসলাম বুড়িমাড়ি ।এখনো ট্রেনের ভিতরে ট্রেন থেকে দেখতেছি বড় বড় পাথর ভাঙ্গতেছে।চারিদিকে শুধু পাথরে ভরা,ট্রেন স্টেশনে চলে আসলো আমরা নামলাম ।বিনা টাকাই আমরা বুড়িমাড়ি আসলাম ।ট্রেনের ইন্জিন ঘুরিয়ে আবার আগের ঠিকানায় চচললো।

আমরা একটু সামনেই গিয়ে দেখি একটা অটো।আমি বললাম জিরোপয়েন্ট যাবেন?বললো হু, কত টাকা ভাড়া,বলল ১০ টাকা।আরিফ বললো ৫ টাকা করে তো।অটো ওয়ালা বললো তোমাদের তিনবিঘা কড়িডোর,দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা, এগুলো জায়গা ঘুরাবো এবং ৪ টার সময় ট্রেন ধরিয়ে দিবো।আমরা গাড়িতে উঠলাম , ইমান অটোর ডাইভারের সাথে আলাপ আলোচনা করে অনেকটা আপন করে নিয়েছে।জিরোপয়েন্ট গেলাম আমাদের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ভারত বাংলাদেশের জরুরি মিটিং হচ্ছে।এখান থেকে চলে আসলাম।ইমান অটো ভাড়া ঠিক করে ফেললো ৪ টা পর্যন্ত ঘুরাবে, অটো ওয়ালা চাইলো ৬শ টাকা ইমান বললো ৪৫০ টাকা , অটো ওয়ালা বললো না, ইমান বললো কমবেশি করে নেন ৫০০ টাকা ঠিক হলো।অটোতে চড়ে রওনা হলাম আঙ্গরপোতার উদ্দেশ্যে।কত কথা কত গান, হইচই সেরকম আনন্দ।আমরা তিনবিঘা কড়িডোর আসলাম, এখানে ভারতের ভিতরে বাংলাদেশের জমি।তিনবিঘা কড়িডোর অনেক সুন্দর ছবির মতো দৃশ্য।কেউ বললো এখানে থামবো কেউ বললো আসার সময় থামবো।দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা ভারতের মাঝে বাংলাদেশের ছোট অংশ,এখন সেখানে যাচ্ছি।অপূর্ব সৌন্দর্য ভিতরে আমি বললাম আরিফ দেশের গান গা।একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা,আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি, ধন ধন্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা,আরো অনেক দেশাত্মবোধ গান গাইতে গাইতে অঙ্গরপোতা চলে গেলাম ।ওখানে অটো থেকে নেমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওদের কাছে অনুমতি নিয়ে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম।ভিতরে গিয়ে দেখি আরো কিছু বিজিবি ওদের কাছে বললাম আরো সামনে যাওয়া যাবে না ।একজন বলল যাও,আমি বললাম আপনার দেশের বাড়ি কই? বললো ময়মনসিংহ বললাম ভাষাটা খুব পরিচিত আমার দাদার বাড়ি ময়মনসিংহ ছিল।সামনে গিয়ে দেখি বাংলাদেশ শেষ ভারতের চা বাগান সবাই মিলে ছবি তুললাম ।ছবি তুলে চলে আসলাম, যেখানে এসে নেমেছি সেখানে দুই তিনটা দোকান আছে।সামনে মসজিদ, মসজিদের জন্য টাকা তুলতেছে।আমি জোরেই বললাম ভারতের চা বাগান যদি যাইতে পারতাম ।কত সুন্দর দৃশ্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে।বলল দক্ষিণ পাশে ১ কিলোমিটার গেলে বাংলাদেশের চা বাগান ,আমি বললাম যাবো।সবাইকে বললাম যাবে, এখানে এসেও সবাই মিলে ছবি তুললাম।আমি অটোওয়ালাকে ডাকতে গেলাম, অটো ওয়ালা সিগারেট পান করছে, একটু দেরি হবে ।এখন রাব্বি আর ছোটন গেল, তারা সকালে কিছু খায়নি।কেক নিয়ে খাইতে বসলো , সবাই বলল এখানে খেয়ে নেই, ওরা খাইতেছে আমরাও খাই।সবাই গেলাম খেতে,নিজ নিজ টাকা দিয়ে নিজ নিজ ইচ্ছা মত খেয়ে টাকা দিয়ে চা বাগানের দিকে রওনা হলাম।কিছু দূর গিয়ে একটা নতুন ছোট চা বাগান দেখে বলছে এই সেই চা বাগান!আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম সামনে কি আরো চা বাগান আছে?বললো আছে অনেক সুন্দর।কেউ আর গেলো না, ব্যাগ হয়ে চলে আসলাম আগের পথে।ভিতরে প্রবেশ করলে কোনো জায়গা দিয়ে বাহির হবার পথ নাই।চারিদিকে ভারত তারি মাঝে ছোট জায়গা দহগ্রাম।ওখানে স্কুল , কলেজ , হাসপাতাল , মেম্বার, চেয়ারম্যান সবই আছে ।তিনবিঘা দিয়ে শুধু প্রবেশ করা যায় এবং এখান দিয়েই শুধু বাহির হওয়া যায়।আমরা তিনবিঘা কড়িডোর আসলাম এখানে সবাই নেমে ছবি তুললাম , আমি বাংলাদেশের বিজিবি সদস্যকে জিজ্ঞেস করলাম সামনে কি ছবি তুলা যাবে? বললো সেভাবে তোলা যাবে না, একাই দুই একটা তুলতে পার।ওখানে ছবি তোলা নিষেধ।কেউ ভয়ে ছবি তুললো না, আমি ছবি তুললাম ।ভারতেরও বিজিবি আছে, ওরা দেখলে সমস্যা হতে পারতো, যাক কিছু হয় নাই।তিনবিঘা কড়িডোর প্রবেশ পথে দুই জন বাংলাদেশী বিজিবি একজন রং করতেছে , আর একজন পাহারা দিচ্ছে, আমি বললাম ছবি তোলা যাবে? বললো না ! না নিয়েই চলে আসলাম । আরিফ একটা মেয়ে দেখে বললো সেই সুন্দর ! আশিক বললো এই তো ভেজাল। যাবার সময় ইমান খুব কথা বলছে এবার ইমান কোনো কথা বলছে না।আরিফ ওকে ক্ষ্যাপাইতেছে আব্বু মুই বুড়িমাড়ি যাং চল ।কখন জানি রব্বানি বলছে অংপুর এই নিয়ে সেই হাসাহাসি!শিক্ষিত হয়ে মূখ্যের মত কথা বলিস, রাব্বি ফোন নিয়ে ব্যস্ত, আমি লেখালেখি, ছোটন নিশ্চপ ।কাউকেই ছাড়লো না।সবাইকে ফাস্ট ওয়াস,পঁচা সাবান দিয়ে খোসলো।আমরা পাটগ্রাম আসলাম , এখানে আমাদেরকে নামিয়ে দিতে চায়।কিন্তু তখন বাজে ২টা । কেউ এখানে নামলো না, বুড়িমাড়ি যাবে ।এত তাড়াতাড়ি এখানে নেমে কি করবে , ট্রেন আসবে ৪টায় ।এখন বুড়িমাড়ি যাবে জিরো পয়েন্ট দেখবে অবশেষে বুড়িমাড়ি আসলাম।
আমরা একটু সামনেই গিয়ে দেখি একটা অটো।আমি বললাম জিরোপয়েন্ট যাবেন?বললো হু, কত টাকা ভাড়া,বলল ১০ টাকা।আরিফ বললো ৫ টাকা করে তো।অটো ওয়ালা বললো তোমাদের তিনবিঘা কড়িডোর,দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা, এগুলো জায়গা ঘুরাবো এবং ৪ টার সময় ট্রেন ধরিয়ে দিবো।আমরা গাড়িতে উঠলাম , ইমান অটোর ডাইভারের সাথে আলাপ আলোচনা করে অনেকটা আপন করে নিয়েছে।জিরোপয়েন্ট গেলাম আমাদের ভিতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না ভারত বাংলাদেশের জরুরি মিটিং হচ্ছে।এখান থেকে চলে আসলাম।ইমান অটো ভাড়া ঠিক করে ফেললো ৪ টা পর্যন্ত ঘুরাবে, অটো ওয়ালা চাইলো ৬শ টাকা ইমান বললো ৪৫০ টাকা , অটো ওয়ালা বললো না, ইমান বললো কমবেশি করে নেন ৫০০ টাকা ঠিক হলো।অটোতে চড়ে রওনা হলাম আঙ্গরপোতার উদ্দেশ্যে।কত কথা কত গান, হইচই সেরকম আনন্দ।আমরা তিনবিঘা কড়িডোর আসলাম, এখানে ভারতের ভিতরে বাংলাদেশের জমি।তিনবিঘা কড়িডোর অনেক সুন্দর ছবির মতো দৃশ্য।কেউ বললো এখানে থামবো কেউ বললো আসার সময় থামবো।দহগ্রাম, আঙ্গরপোতা ভারতের মাঝে বাংলাদেশের ছোট অংশ,এখন সেখানে যাচ্ছি।অপূর্ব সৌন্দর্য ভিতরে আমি বললাম আরিফ দেশের গান গা।একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা,আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি, ধন ধন্য পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা,আরো অনেক দেশাত্মবোধ গান গাইতে গাইতে অঙ্গরপোতা চলে গেলাম ।ওখানে অটো থেকে নেমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ওদের কাছে অনুমতি নিয়ে আমরা ভিতরে প্রবেশ করলাম।ভিতরে গিয়ে দেখি আরো কিছু বিজিবি ওদের কাছে বললাম আরো সামনে যাওয়া যাবে না ।একজন বলল যাও,আমি বললাম আপনার দেশের বাড়ি কই? বললো ময়মনসিংহ বললাম ভাষাটা খুব পরিচিত আমার দাদার বাড়ি ময়মনসিংহ ছিল।সামনে গিয়ে দেখি বাংলাদেশ শেষ ভারতের চা বাগান সবাই মিলে ছবি তুললাম ।ছবি তুলে চলে আসলাম, যেখানে এসে নেমেছি সেখানে দুই তিনটা দোকান আছে।সামনে মসজিদ, মসজিদের জন্য টাকা তুলতেছে।আমি জোরেই বললাম ভারতের চা বাগান যদি যাইতে পারতাম ।কত সুন্দর দৃশ্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে।বলল দক্ষিণ পাশে ১ কিলোমিটার গেলে বাংলাদেশের চা বাগান ,আমি বললাম যাবো।সবাইকে বললাম যাবে, এখানে এসেও সবাই মিলে ছবি তুললাম।আমি অটোওয়ালাকে ডাকতে গেলাম, অটো ওয়ালা সিগারেট পান করছে, একটু দেরি হবে ।এখন রাব্বি আর ছোটন গেল, তারা সকালে কিছু খায়নি।কেক নিয়ে খাইতে বসলো , সবাই বলল এখানে খেয়ে নেই, ওরা খাইতেছে আমরাও খাই।সবাই গেলাম খেতে,নিজ নিজ টাকা দিয়ে নিজ নিজ ইচ্ছা মত খেয়ে টাকা দিয়ে চা বাগানের দিকে রওনা হলাম।কিছু দূর গিয়ে একটা নতুন ছোট চা বাগান দেখে বলছে এই সেই চা বাগান!আমি একজনকে জিজ্ঞেস করলাম সামনে কি আরো চা বাগান আছে?বললো আছে অনেক সুন্দর।কেউ আর গেলো না, ব্যাগ হয়ে চলে আসলাম আগের পথে।ভিতরে প্রবেশ করলে কোনো জায়গা দিয়ে বাহির হবার পথ নাই।চারিদিকে ভারত তারি মাঝে ছোট জায়গা দহগ্রাম।ওখানে স্কুল , কলেজ , হাসপাতাল , মেম্বার, চেয়ারম্যান সবই আছে ।তিনবিঘা দিয়ে শুধু প্রবেশ করা যায় এবং এখান দিয়েই শুধু বাহির হওয়া যায়।আমরা তিনবিঘা কড়িডোর আসলাম এখানে সবাই নেমে ছবি তুললাম , আমি বাংলাদেশের বিজিবি সদস্যকে জিজ্ঞেস করলাম সামনে কি ছবি তুলা যাবে? বললো সেভাবে তোলা যাবে না, একাই দুই একটা তুলতে পার।ওখানে ছবি তোলা নিষেধ।কেউ ভয়ে ছবি তুললো না, আমি ছবি তুললাম ।ভারতেরও বিজিবি আছে,ওরা দেখলে সমস্যা হতে পারতো , যাক কিছু হয় নাই।তিনবিঘা কড়িডোর প্রবেশ পথে দুই জন বাংলাদেশী বিজিবি একজন রং করতেছে , আর একজন পাহারা দিচ্ছে, আমি বললাম ছবি তোলা যাবে? বললো না ! না নিয়েই চলে আসলাম । আরিফ একটা মেয়ে দেখে বললো সেই সুন্দর ! আশিক বললো এই তো ভেজাল। যাবার সময় ইমান খুব কথা বলছে এবার ইমান কোনো কথা বলছে না।আরিফ ওকে ক্ষ্যাপাইতেছে আব্বু মুই বুড়িমাড়ি যাং চল ।কখন জানি রব্বানি বলছে অংপুর এই নিয়ে সেই হাসাহাসি!শিক্ষিত হয়ে মূখ্যের মত কথা বলিস, রাব্বি ফোন নিয়ে ব্যস্ত, আমি লেখালেখি, ছোটন নিশ্চপ ।কাউকেই ছাড়লো না।সবাইকে ফাস্ট ওয়াস,পঁচা সাবান দিয়ে খোসলো।আমরা পাটগ্রাম আসলাম , এখানে আমাদেরকে নামিয়ে দিতে চায়।কিন্তু তখন বাজে ২টা । কেউ এখানে নামলো না, বুড়িমাড়ি যাবে ।এত তাড়াতাড়ি এখানে নেমে কি করবে , ট্রেন আসবে ৪টায় ।এখন বুড়িমাড়ি যাবে জিরো পয়েন্ট দেখবে অবশেষে বুড়িমাড়ি আসলাম।

তখন ৩টা বাজে অটো থেকে নেমে সবাই স্টেশনে আসলাম।এখন কেউ জিরোপয়েন্ট যাবে আবার কেউ যাবে না, আমি বললাম যাবি না যখন তাহলে বুড়িমাড়ি আসলি কেনো, পাটগ্রাম স্টেশনে থাকলেই তো হতো , পরে আরিফ আর ইমান শুধু গেল না, আমরা গেলাম, রেল লাইনের পথে, অনেক দূর যাওয়ার পর দেখি রেল লাইন শেষ,ওখানে কিছু ছবি তুললাম পরে হাটতে হাটতে জিরোপয়েন্ট গেলাম, ভারত থেকে পাথরের ট্রাক বাংলাদেশে আসছে আবার বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাচ্ছে, আমি বিজিবি এর একজন সদস্যকে বললাম ভিতরে কি প্রবেশ করা যাবে?বল না!ভারতে করোনা ভাইরাসের প্রভাব বেশি এখন ভিতরে প্রবেশ করা যাবে না।আমি মন ভাঙ্গা গান গায়ে এলাম ফিরে,এত দূর থেকে এসে কি লাভ হল বলোরে।নিরাশ মন নিয়ে চলে আসলাম, ওদের দুজনকে তো বলা যাবে না আমরা যে ভিতরে প্রবেশ করতে পারিনি, সে কারণে হোটেলে ডুকে সবাই পরোটা খেলাম, কিছু সময় থেকে রেলস্টেশনে আসলাম, এসে বললাম আমরা অনেক কিছু দেখেছি, ভারতেও গিয়েছিলাম, ভারতের সেনাবাহিনী দৌড়ালো তাই দৌড়িয়ে চলে আসলাম।কিছুক্ষণ পরে ট্রেন আসলো ট্রেন ইন্জিন চেন্স করতে একটু সময় লাগবে।আশিক টিকিট কাটবে আমরা কেউ টিকিট কাটবো না,পরে আশিক আর সেতু টিকিট কাটলো আমরা কেউ টিকিট কাটলাম না । টিকিট না কেটেই ট্রেনে চরলাম,ট্রেন ছেড়ে দিল, আমরা খুব আনন্দেই আছি।আমি রাব্বি এক জায়গাই , আশিক, ইমান , ছোটন, সেতু এক জায়গাতে,আরিফ আর রব্বানি এক জায়গায়।আমাদের সামনে সিটে একটি মেয়ে এবং তার বাবা-মা আছে।আমরা যাওয়ার সময় যেমন গান বাজনা করেছিলাম এখনো তাই করছি।একটা স্টেশন পার হলাম, গান চলছেই মেয়েটি চিকলিৎ চিকলিৎ করে হাসছে , ওই পাশে ততোটা গুরুত্ব দিলাম না।রাব্বি মেয়েটির ছবি তোলার জন্য ফোন বাহির করছে এবং ক্যামেরারো ফোকাস করেছে আমি রাব্বিকে নিষেধ করলাম এবং তুলতে দিলাম না ।দেশের যে অবস্হা ইভটিজিংয়ের মামলা নারী নির্যাতন ও শিশু নির্যাতন মামলা ধর্ষণ মামলা অনেক কঠিন, ছবি তোলালে এবং ধরা পরলে কাউকে আস্ত ছাড়বে না।আমি খাতা বাহির করে লেখতে চেষ্টা করতেছি, আমি কোনো কথা বললেই মেয়েটি হাসে ! বুঝতে ছিলাম না।অনেক কয়টা স্টেশন পার হয়েছি, সামনে হাতিবান্ধা স্টেশন তার আগে টিটি আমাদের রুমে প্রবেশ করল, এর আগে অনেক দোয়া ও মুনাজাত করছি জাতে টিটি না আসে , এও বলেছি এই ছোট্ট রুমে যদি টিটি উঠে তাহলে টিটির দয়া মায়া নাই, মেয়েটি হেসেছে।কিন্তু অবশেষে টিটি উঠলো, আমি সেভাবে লেখতে শুরু করলাম, রাব্বি কে বললাম বলবি আমরা স্টুডেন্ট টাকা পয়সা তেমন নাই, টিটি সামনে আসলো , ছোটন টাকা দিলো , আমাদের কাছে আসলো আমরা ইতস্তত হয়ে গেলাম । মেয়েটি বললো এখন কি করবা ? এখন আর কিছুই করার নাই টাকা বের করে দিলাম, এবং মেয়েটি হাতিবান্ধা স্টেশনেই নেমে গেল।অনেক ফন্দি করেও টাকা বাচাতে পারলাম না।আমরা কিনতে গিয়ে দেখি আমাদের সামনে ডাব্বায় অনেক সুন্দর চেয়ার, এবং ফাঁকা ও আছে অনেক সিট।টাকা যখন দিয়েছি তবে এখানে ওখানে থাকবো কেনো।আমি এখানে চলে আসলাম, পরে রাব্বি এবং ছোটন আসলো, আরাম করে বসে আছি, পাশের সিটের ছোট মেয়ে এমন সব কথা বলছে এমন হয় না সে ছোট, তার কথা শুনে মনে হচ্ছে নাইন-টেনে পরে ।চমৎকার মেধা, পরে সেই মেয়েটির কথা ভাবতেছিলাম,সে তো চলে গেল, শুধু রেখো গেল, এখন কি করবা?