আক্কাছ আলী সাহেব ঢাকা ইলিফ্যান্ট রোডে অবস্হিত একাধিক শপিংমলসহ হাই রাইজড বিল্ডিংয়ের মালিক যার মাসিক আয় প্রায় হাজার কোটি টাকা

বর্তমানের আক্কাস আলী সাহেব ৬০ দশকে
বাড়ী বাড়ী, পারা মহল্লায় ফেরী করে দুধ বিক্রি করত বয়স্ক মানুষ থেকে শুরু করে ছেলে পুলে সবাই
দুধ ওয়ালা বলেই ডাকত দুধ ওয়ালা হিসেবেই পরিচিত,

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটি তখন গ্রেটার পাকিস্তানের প্রভিন্স ছিলো

প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আয়ুব খান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের টালমাটাল রাজনৈতিক অবস্হার কথা
বিবেচনা করে ভৌত অবকাঠামো নির্মান অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারী শিল্প সহ প্রভূত উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রনয়ন করত:
রাষ্ট্র পরিচালনার নেতৃত্ব দিতে থাকেন
প্রেসিডেন্ট আয়ুব খান
সে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ঢাকা শহরকে পাকিস্তানের দ্বিতীয় রাজধানী ঘোষনা করার সাথে সাথে
আর্থসামাজিক অবস্হার ব্যাপক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরী হয়ে যায়
যার সুফল এ অঞ্চলের অধিবাসীদের ভাগ্যের নয়া দিগন্ত উন্মোচন করে দেয়,

বিশেষ করে নয়া ঘোষিত দ্বিতীয় রাজধানী ঢাকার উন্নয়নের পরিকল্পনা ভৌত অবকাঠামো শিল্প বিপ্লবের পথ তরান্বিত হতেই ঢাকাস্হ জমির মূল্য উর্ধ্বগামী হতে শুরু করে দুধ বিক্রেতা আক্কাছ আলী সাহেবদের মত অনেকের ভাগ্য সহসাই বদলে যাওয়া শুরু করে যেনো আলাদিনের চেরাগ হাতে এসে সহসাই ধরা দেয়

এ্যলিফ্যান্ট রোডের পরিত্যাক্ত ভূমিতে ক্রমন্নয়ে গড়ে উঠতে থাকে বিচিত্র ময় শপিংমল গগনচুম্বী দালান কোঠা যেথায় সরকারী অফিস থেকে শুরু করে ব্যাংক বীমার মত বৃহৎ বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গুলো
উচ্চমূল্যের ভাড়ার অর্থ
মাসান্তে হাতে পাওয়া শুরু হয়ে যায় ৷

সে সুবাদে তাঁকে আর পিছন ফিরে আর তাকাতে হয়নি
খুব স্বল্প সময়ের ব্যবধানে প্রচুর বিত্ত বৈভবের মালিক বনে যান দুধওয়ালা নামে খ্যাত ব্যক্তি,
তাঁর চলাচলের জন্য দামী গাড়ী শোভা পেতে থাকে

দুধওয়ালা নামটি বদলে আক্কাস আলী সাহেব কারও নিকট uncle রূপে সমাদর পেতে থাকেন ৷
কাজের প্রয়োজনে রাস্তায় বেরুলে দামী গাড়ীতে চড়ে বের হতে হয় পূর্বের দুধ বিক্রেতাকেই মানুষ আগ বাড়িয়ে সালাম বয়সে তরুনেরা uncle সম্বোধন করে,
আক্কাস আলী সাহেব (দুধওয়ালা) সালামের জবাব না দিয়ে
বলেন
ঠিক হায় বেটা কাঁহে দেওংগা

বলে চলে যান,

এমন করেই দিন যায় মাস যায়
হঠাৎ একদিন বয়সে তরুণ ছেলেপুলেরা uncle কে গাড়ী থেকে নামিয়ে এমন আচরণ

ঠিক হায় বেটা কাঁহে দেওংগা

রহস্য জানতে চায়,
মনটা ভার করে বলে
তোমরা হোটেলে মে চলো চা সিংগাড়া খাও
কিন্তু কারনটা বলতে অনিহা প্রকাশ করতে
থাকে,
তরুণ ছেলে পুলেরা নাছোড় বান্দা রহস্যটা
জানার জন্য পীড়াপীড়ি করতে থাকে

ছলছল নয়নে স্মৃতিচারণ করে বলা শুরু করে দেখ বেটা এই আমি যাকে তোমরা সাহেব uncle বলো, পাহলে সালাম দেওয়ার সুযোগ মোর কমই হয়,
কারন আমার বিত্তবৈভব দামী গাড়ীতে চলাচল সে কারন নয় কি বেটা সকল ?
এক সময় জীবন জীবিকার
প্রয়োজনে বাড়ী বাড়ী পারা মহল্লায় দুধ ফেরী করে বিক্রি করতাম তখন আমাকে সবাই সালাম দেয়া তো দুরাস্ত, বয়সে তরুন অথবা বয়স্ক ব্যক্তি
সবাই দুধওয়ালা বলেই ডাকতো কখনও বা তুই তুকারীও বলতো

এখন আল্লাহ পাকের করুনায় ধন সম্পদের মালিক বনে গেছি এই তোমাদের মত তরুন অথবা সমাজের উচ্চবিত্তের প্রভাবশালী মানুষও আমায় কদর করে সালাম দেওয়ার ফুরসুতও দেয় না,

তোমরা যখন সালাম দেও
তখন আমার মনে হয়
যখন আমি দুধ বিক্রি করতাম তখন তো বয়স্ক মানুষ হওয়া স্বত্বেও কেহ আমারে সন্মান করা বা সালামও দেয় নাই
সম্বোধন করতো
এদুধ ওয়ালা বেটা এদিক আসো, শুনো ইত্যাদি

অহন

দেখা মাত্রই
সবাই আমারে সালাম দেয় সন্মানও দেখায়
আমি তখন ভাবী এ সালাম আমারে দেয় না
দেয় আমার গাড়ী আর টাকারে,
তাই সালামের জওয়াব না দিয়ে

বলি

ঠিক হায় বেটা কাঁহে দেওংগা

কাজ কাম শেষ করে যখন বাসায় ফিরি
টাকার সিংদুক খুলে বলতে শুরু করি
এই টাকা তোমারে অমুক সাব অমুক বাঁচ্চারা সালাম দিছে !

আমারে সালাম দেয় নাই,
এখন তুই টাকাই আমারে সালাম পাওয়ার যোগ্য করেছিস
অতএব
তু এখন সালাম লে ৷৷