আমি তখন শিল্পকলা একাডেমীতে। এক শ্মশ্রুমন্ডিত সৌম্য সুন্দর যুবক হাতে বই খাতার বান্ডিল নিয়ে আসতো, যেতো, নিজে লেখতো, আমার লেখা পড়তো। পেশায় হোমিও চিকিৎসক। দরদী মানুষ পেশায় এবং লেখায়। তার লেখার মান নিয়ে যদিও আমার উৎসাহ ছিলো কম, তবুও সে আসতো। কথা বার্তা হতো। কখনো কখনো আমি তার চেম্বারেও দেখা করতাম। সে হলো আমার চেনা জামেদ আলী।
জামেদ আলীর কাছাকাছি অনেক হয়েছি- আসা যাওয়া এবং চিকিৎসার মাধ্যমেই। তখন সকল সময়ই একটা অপরিহার্য উপস্থাপনা তার পক্ষ থেকে ছিলো তাহলো তার আদর্শ নিয়ে কথা। তিনি ছিলেন একটি আদর্শের জন্য নিবেদিত। আর সে নিবেদনের দাবীতেই আমি জামেদ আলীকে যেমন পেয়েছি একজন আদর্শবাদী ব্যক্তি ও চিকিৎসকরূপে, তেমনি একজন আদর্শবাদী লেখকরূপেও।
কারো সাহিত্য বিচার করতে গেলে সব বিষয়ে একমত হওয়া কঠিন। আমি একটা মান নির্ণয় করে রেখেছি-সাহিত্য বিচারে। এখানে আমি তাকে মনোত্তীর্ণ বলতে পারি নাই। তবুও তার সাহিত্যকর্মে আমার উৎসাহ ছিল। আগেই বলেছি ডা: জামেদ আলী একজন একান্তনিষ্ঠ আদর্শবাদী ব্যক্তিপুরুষ এবং আদর্শের প্রচারক। সাহিত্যেও তিনি আদর্শবাদী। এখানেও তাঁর ব্যক্তিসত্ত্বায় লালিত ধ্যান-ধারণার পরিস্ফুটন। তিনি লেখা লেখির প্রতি যে ছিলেন গভীর আন্তরিক সেটাও কাছে হতেই দেখেছি।
তিনি আমাকে চাইতেন। চাইতেন যেন আমি তাঁর মত আদর্শের কঠোর অনুসারী হই। কিন্তু আমি তা হতে পারিনি। কেন পারিনি সে ভিন্ন কথা। তবে এতটুকু- আমারও একটা বলয় আছে। এ বলয় ভেদ করতে পারিনি। আামি চাইওনি।
তার আলাপ চারিতা, আদর্শবাদী সংলাপ কখনো কখনো বিতর্কে রূপ নিতো। এক-আধদিন তা চরম রূপও লাভ করেছে। তবুও জামেদ আলীর আদর্শপ্রীতি আমার ভালো লাগতো। এতে তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা ভালবাসা বাড়তো বৈ কমতো না।
তিনি তাঁর আদর্শের সামাজিক, রাজনৈতিক রূপ দানেও আকাঙ্খী ছিলেন। এটা আদর্শের প্রতি তার কঠোর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতারই প্রয়াস। একারণেই তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা অনেক বেশী।
আমার কল্যাণ কামনায় তিনি অনেক নসীহত করেছেন। আজ তাঁর অভাব বোধটা তীব্র হয়েই হৃদয়ে ধাক্কা দেয়। আমার কল্যাণকামীকে আল্লাহ কল্যাণ দান করুন।