বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মোহাম্মদ সা.। তাঁর শানে বিগত পনের শত বৎসর অসংখ্য গবেষণা ও জীবনী রচিত হয়েছে বিভিন্ন ভাষায়। গবেষণা কর্ম ও জীবনীর পাশাপাশি ইসলামিক স্কলারর্স ও সাধারণ বিশ্বাসী মানুষ মহানবী সা.-কে নিয়ে তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন লিখনির মাধ্যমে। এসব লেখনির মধ্যে তথ্যবহুল ও শিক্ষণীয় বাছাইকৃত লেখাগুলো ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলাম সম্পাদনা করে আলো অনির্বাণ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেন।
বিদায় হজ্বে রাসূল সা.-এর অমীয় বাণী “তোমরা ততদিন বিভ্রান্ত হবে না যতদিন তোমরা কুরআন ও সুন্নাহকে আঁকড়িয়ে ধরবে।”-কে সামনে রেখেই মূলত এ সম্পাদনার কাজ করেন। সম্পাদক ইসলাম কেন পূর্ণাঙ্গ জীবন বিধান এবং জীবন বিধানের কোন দিকগুলো খেয়াল রাখা প্রয়োজন তার প্রতি দৃষ্টি রেখেই প্রবন্ধগুলোকে বিন্যস্ত করেন।
আলো অনির্বাণ-এ ইসলামিক অর্থনীতি, রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সামাজিক স্থিতিশীলতা, সমাজে মানুষের সহবস্থান নিশ্চিত করার বিষয়সমূহ, বর্তমান সভ্যতায় ইসলামের অবদান, নারীশিক্ষা, সংস্কৃতি ইত্যাদি বিষয়বস্তুকে প্রধান্য দিয়ে প্রাজ্ঞ-বিজ্ঞ ও প্রবীণ লেখকের সাথে নবীণ লেখদেরও প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।
দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের “হযরত মুহম্মদ সা. এর বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ”, অধ্যাপক শাহেদ আলীর “রাসুলুল্লাহ’র অর্থনৈতিক দর্শন”, সাংবাদিক সানাউল্লাহ নূরীর “মহানবীর মান্তিবাদী পররাষ্ট্রনিতি”, ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরীর “সীরাতুন্নবী সা. মহাসাগর মাঝে বালিবিন্দুসম আলোকপাত”, জুবাইদা গুলশান আরার “নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় মহানবী .সা.”, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ কাজী দীন মুহম্মদ, ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহর “সত্যের সংগ্রামে মহানবী সা.” আবুল হাশিমের “আধুনিকতা”, “এম. এন. ওায়-এর “বিশ্ব সভ্যতায় ইসলামের অবদান”সহ পঁচিশটি প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে।
একজন সম্পাদকের দক্ষ হাতে বিষয়বস্তু এমনভাবে নির্বাচিত হয়েছে যেখানে মহানবী সা.-এর শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার জন্য। কেন হযরত মুহাম্মদ সা. সকলের অনুকরণীয় সেবিষয়গুলোকে সময়ের প্রেক্ষপটে গুরুত্ব অনুসারে সাজিয়ে পাঠকচিত্তে রাসূল সা. সম্পর্কে নতুন দ্যুতির দ্যোতনা সৃষ্টি করেছেন।
মহানবী সা.-এর পুরো জীবনের সুখ-দুঃখের সাথে প্রকৃতির গতিপথও পরিবর্তিত হতো। কিন্তু এমন বিষয়কে ভ্রান্তি সৃষ্টি করছিল কেউ কেউ। কিন্তু ইসলামে এমন জায়গা নেই। উল্লেখ্য দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ তাঁর লেখায় বলেন, “যখন তাঁর একমাত্র পুত্র কাসেমের ইন্তেকাল হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে সূর্যগ্রহণ হয়, তখন কোন কোন সাহাবী এ দু’টো ঘটনার আকষ্মিক সংযোগে অভিভূত হয়ে মন্তব্য করেছিলেন যে, রসূলের পুত্রের মৃত্যুর জন্যই এ গ্রহণ হয়েছে। তখন আল্লাহর রসূল ভৎর্সনার সুরে বলেছিলেন যে, তাঁর ছেরের মৃত্যুও জন্য এ গ্রহণ হয়নি, তা স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে।”
উনবিংশ শতাব্দী হতে নারীর অধিকার বিষয়ে বিশ্ব সরব। এক্ষেত্রে কেউ কেউ ইসলামকে সেকেলে ধর্ম হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছেন। এক্ষেত্রে যুদ্ধের সময়ে নারীর ভূমিকা নিয়ে মহানবী সা.-এর দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে দেওয়ান মোহাম্মদ আজরয় উল্লেখ করে করেন, “রসূল সা. জিহাদের সময় হযরত রাফেদা নাম্মী এক মহিলা সাহাবীকে পরিচর্যার জন্য নিতেন।” এ উদাহরণের মধ্য দিয়ে কয়েকটি বিষয় নির্দেশনা হিসাবে বিশ্ববিবেকের কাছে স্পষ্ট হলো।
এক, ইসলামে নারীদের অন্দর মহলের বাহিরে কর্ম করার অনুমতি দিয়েছে। দুই, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় নারীর অবদান। তিন, নারীর শিক্ষার গুরুত্ব। চার, নারীর প্রাপ্য নারীকে দিতে সকল মানুষ বাধ্য।
এমনিভাবে পঁজিবাদী সমাজ যখন বিশ্বে আধুনিক দাস সৃষ্টির নিমিত্তে কাজ করছে তখন ইসলামের অর্থনৈতিক রূপকল্প প্রকাশ করে এবং রাসূল সা.-এর অর্থনৈতিক দর্শন প্রকাশের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতি চরিত্র এ বইয়ে প্রকাশ পায়। তেমনি রাসূল সা.-এর কর্মকা- আধুনিক মানদ-েও আধুনিক এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় পররাষ্ট্রনীতি প্রকাশ করে দেশ জাতির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার নিদের্শনা পাওয়া যায়।
পরিশেষে একথা বলা যায় তমদ্দুন মজলিস ভাষা আন্দোলনে ভুমিকা রেখে যেমন বাঙালিকে স্বাধীনতার দিকে গেছে তেমনি ধারাবাহিক প্রকাশনার মাধ্যমে আলো অনির্বাণ পথহারা মানুষকে পথের সন্ধান দিতে সক্ষম হয়েছে।