নিষিদ্ধ প্রেম

উত্তপ্ত এ নগরী
কষ্টে চৌচির এ রাজপথ,
উরেযায় শিমুলের তুলা
ভুলেগিয়ে তার শপথ।

আমার নগরীতে তুমিই সেরা
আমি অবহেলিত তোমার শহরে,
তুমি রেখেছো তোমার মনবাধিয়া
আমি হারিয়েছি মন তোমার রঙ্গিলা সাগরে ।

যতবার যায় বাঁধা আমি বাঁধি
তোমার মনেতে এমন,
শতবার চেও পারিলামনা আমি
এ দেহেতে জ্বলে অনল।

কোন জলেতেই মিটেনা স্বাদ
প্রেমের তৃষ্ণায় হাহাকার ,
দেখবার তোমায় বড্ড ইচ্ছে
মনে আছো, চারিদিকে শুধু নিরাকার।

আমার ভালোবাসা আজ নিষিদ্ধ প্রেম
তোমার জীবনের খাতায় ,
আমার গোছানো জীবন কাহিনী
তোমার বাগানের ঝরেপরা সুকনো পাতায়।
………………………………………

প্রকৃতির প্রেম

শোন, তুমি ফিরে এসো
কোথায় , কোথায় ফিরব আমি ?

শান্ত নদীর তীর
তীর ঘেষে শুকনো পাতা বয়ে চলা,
ঝাকে বাঁধা কচুরি পানার ভিড়
ধীর গতিতে বয়ে চলা শেওলা ।

প্রকৃতির প্রেমে আমি যে,
আজ মনভোলা।

ঘাটে বাঁধা একমালাই নৌকার দোল
জেলেদের হারিকেনের আলো,
ঝপের ধারে মাথা জাগিয়ে থাকা শোল
তীব্র নেশা ভরা পূর্ণিমা চাঁদের আলো।

তোমার পৃথিবী কি,
আমার পৃথিবীর থেকেও ভালো ?

তুমি কি পাও এসবে ?

সন্ধা আকাশে
অন্ধকার নেমে আসা নদীর বুকে,
আচড়ে পরা সূর্যের সোনালী একটুকরো আলো।
চুইয়ে পড়া চাঁদের দূতি বাগানের ফাঁকে।

প্রকৃতির এ সান্নিধ্য,
কে দেবে আমাকে?

কুঁড়েঘর
পুরানও ঝুলে থাকা হারিকেন
এক কোনের নিরব আলো,
অন্ধকারে সঙ্গী আমার জোনাকি পোকা।
ঝিঝি পোকার ডাকে অন্ধকার নামে,লাগে ভালো।

পাইনিতো সুখ,
নিষ্ঠুর তোমাদের আলো ।

তুমি এসো এই শহরায়নে।

না,
আমি রয়ে যেতে চাই শতকোটি যুগ
প্রকৃতির এ নিয়মের সাথে,
তুমি যাও,যাও তুমি
তোমার আধুনিকতার সাথে।

আমি থাকব এনদীর কলতানে,
কৃষিজীবীর সাথে।

চাইনা যেতে
যেথায় নেই মানব প্রেম
সার্থের তৈরি অট্রালিকায়,
আমি রয়েযেতে চাই সেকালেতে
আমার জন্মযে ভাই মানব সেবায় ।
………………………………………

যখন আমি গত হব

যখন আমি গত হব
ছেড়ে যাব সবি ,
আমার নামক ঘরের দরজায়
ঝুলে থাকবে ছবি ।

কবর পাশে নিম গাছটায়
বসে হলদে পাখি ,
সুর তুলিবে হরেক রকম
আমি শুনতে পাবকি সখি ?

মা গেছে অনেক আগে
বাবাও হয়ত যাবে,
আমার কথা চিরকাল আর
কে মনে করবে ?

মায়ের পাশে থাকব পরে
জনম জনম ভর ,
মা আছেযে আমার পাশে
আমার কিসের ডর ?

কবর পাশে কলপারটায়
আসবে কত জন ,
তাদের সাথে কথা কইতে
ছটফট করবে মন।

সন্ধাকালে কলপারেতে
আসবে আপন জন ,
আমার ডাক কেউ না শুনবে
রক্তের প্রিয় স্বজন।

ক্লান্ত শেষে , বসে পাকা শানে
মনে করবে কেউ আমায় ,
একদিন সবাই ভুলে যাবে
ছুটে চলবে সময় ।
………………………………………

প্রবাসী

বিদেশেতে থাকি আমি
আমি একজন প্রবাসী ,
সবার মুখে হাসি ফুটাই
আমার মুখে নেই হাসি ।

টাকা হলে সব পাওয়া যায়
যায়না পাওয়া মায়ের হাসি ,
মানব কুলের যে জিসটা
সবচেয়ে বেশি দামী।

রক্তের বন্ধন খুলে এসে
আছি পরে পরদেশে ,
স্নেহ,মায়া, ভালোবাসা
নেই যে ভাই এ প্রবাসে।

ভাই-বন্ধু সব ছেড়ে
থাকি পরে পরদেশে ,
টাকা ছাড়া সব মিছে
রঙ্গীন কাঁচের ভিনদেশে।

প্রবাসেতে টাকা উড়ে
ধরতে খুবি কষ্ট ,
প্রবাসীরা টাকার পিছে
সময় করি নষ্ট।

এক জীবনের বেশি সময়
অতিবাহিত হয় ,
প্রবাসী জীবনটা তাই
সুখের জীবন নয়।
………………………………………

জীবনের অঙ্ক

পাওয়ার আনন্দ কিছু দিনের ,
না পাওয়ার বেদনা সারা জীবনের।
পেলে তার মূল্য থাকে না,
না পেলে তারে, জীবনে সুখ থাকে না।

কত সাধের পিরিতের গড়া ঘর,
আপন জন করে অন্যের ঘর।

মনদিয়ে যারে ভালোবাসে,
জীবন নামের অঙ্ক কষে।
কেউ পায় শূন্য,
কেউ হয় পূণ্য।
………………………………………

তোমায় দেখার নেশা

ঝরা পালক আসেনা ফিরে
ময়ূরের পাখায়,
ভবঘুরে ময়না পাখি
ফেরেনা আপন বাসায়।

ঝরা বৃষ্টি কভু যায়না
বৃষ্টি রূপে মেঘে ফিরে,
প্রিয়সীর মুখের হাসি
যায়না দেখা শত মানবের ভিড়ে ।

তবুও তাকে দেখার
মনে থাকে আশা,
নকশী করা চোখ যেন তার
বাবুই পাখির বাসা।

শীতে ফোটা কলমী লতা
কিংবা হলুদ সর্ষে ফুল
কাঁচা রঙের অঙ্গ ভেবে
ছুঁয়ে করি ভুল।

শত কলসী গঙ্গার জলে
মেটে না পিপাসা,
কি করে মিটবে আমার
তাকে দেখার নেশা ?
………………………………………

নবান্নের উৎসব

হেমন্তের কুয়াশাছন্ন আবহাওয়ায়
পেকেছে ধান মধূ লগ্ন এ নবান্নে।
কৃষকের গোলা ভরবে ধানে
হলদে রঙ্গের আউশ আমন ধানে।

কৃষানের মুখে সুখের সে গান
কেরেছে মনিবের প্রান।
সারা বছরের জমানো কথা
সুরে হয়েছে আজ গান।

শরৎকে দিয়েছে পাকা ধান বিদায়
হেমন্ত শুধু তারই।
সুখের হাওয়ায় ভরেছে এ বুক
কৃষক আজ নবান্নে পুজারই।

কূল কূল ঐ বহমান নদী
বইছে শিতল ঢেউ।
শিশিরের ছোঁয়ায় ধানের শিশ ধোয়া
দেখেছোকি কেউ ?

নবান্নের ধানে পিঠাপুলির ঘ্রান
পাটালি গুরের পায়েস।
কৃষকের মনে এযেন এক
অন্য রকম আয়েশ।

নবান্ন এসেছে নববধূকে তাই
আনা নেয়ার খুব ধুম ।
পারায় পারায় এখন নবান্নের উৎসব
চোখে নেই কারও ঘুম ।
………………………………………

রেষারেষি

আরকত কাল ঝড়বে প্রাণ
রাজীব, মীমের মত,
ইতিহাসের সাক্ষি ওঁরা
মরছে শত শত।

কত রাজীব মরলোরে ভাই
গাড়ির চাপায় পরে,
মীমের মত মেধাবীরাও
অকালে যায় ঝড়ে।

কেউবা হারায় হাত-পা
কেউবা মরে ডরে,
হায়াৎ থাকতে যেতে হয়
পৃথিবী ছেড়ে ওপারে।

কেউ হারায় নিজের প্রাণ,
কেউ হারায় তাঁর জীবন।
কেউ ভোগে দিনেরপর দিন,
কেউ বাঁচে আমরণ।

গাড়ির চালক আচ্ছা বেটা,
বোঝে অনেক বেশি।
ভাই-বোন কত হারাইয়েছি,
ভুগছে প্রতিবেশি।

অশিক্ষিত মূর্খের দল,
করছে হেল্পারগিরি।
ওদের শুধু টাকা দরকার,
মোদ-গাঁজা খায় ওঁরা,আরও খায় বিড়ি।

রেষারেষি করে ওঁরা,
কে যাবে কার আগে।
এর কারনেই সাধারন আজ,
মরছে আগেভাগে।
………………………………………

আমার বাড়ি

তোমার মতন নেইকো আমার
ঘরটি ইটের পাকা,
আমার বাড়ি আছে ঘরটি
টিন দিয়ে ভাই ঢাকা।

আমার বাড়ি নয়কো ভাই
নয়কো বহুদূর,
এখান থেকে ঐ দেখাযায়
উত্তর হোসেনপুর।

ছোট ডিঙ্গি বাঁধা ঘাটে
শাপলা ফোঁটে ভোরে,
পল্লীবধূ স্নান করে
জল ভরে নেয় ঘরে।

ইচ্ছে হলে যেতে পারও
খেতে পারবে বেশ,
মায়ের হাতের ভর্তা-পিঠা
নতুন ধানের পায়েস।

দেখতে পাবে ধানের শিশের
মাথা দোলানো নাচ,
নতুন বৌয়ের রান্না করা
ইলিশ শর্ষের ধাচ।

বৈশাখেতে আমের মূকুল
গাছে ফোটে ওরে,
ভোমর গুলো ইচ্ছে মত
নেচে নেচে ওড়ে।

ভাদ্র মাসে তালের পিঠা
খেতে লাগে বেশ,
চিতই পিঠা ডালের সাথে
খেলেও থাকে রেস।

বর্ষা কালে কদম ফোটে
সবুজ রাঙা গায়ে,
মিষ্টি খুকির হাসি ছুটে
আলতা রাঙা পায়ে।

ডাহুক,দোয়েল বাসা বাঁধে
দেখবে নিজের চোখে,
চড়ুই পাখি ঘরের কোনে
থাকে আপন সুখে।

বাবুই পাখির সুন্দর বাসা
ঝুলে থাকে গাছে,
চাচির মুখের হাসি দেখতে
চাচা ঘুরে পিছে।
………………………………………

বর্ষা

পাকা রোদখানি পড়ছে
জুড়ে ভিজে সবুজ পাতায়,
জীবনানন্দের কবিতাখানি
উরছে বনের হাওয়ায়।

স্যাঁৎ স্যাঁতে হয়ে ফুটেছে বনে
ঝিয়ারী কদম ফুল,
সবুজের সমারোহে ছেয়ে গেল যেন
জীবন নদীর কূল।

টিপটিপ তাঁর ছন্দের তালে
বর্ষার খেলা বাড়ে,
মাঠঘাট আর শুকনো পাতায়
বৃষ্টির মায়া ঝড়ে।

বর্ষার যৌবন বাড়ে দেখে
মেঘের আগমন,
গ্রাম্য বধূ সাতার কাটে
ইচ্ছে হ্য় যখন।

বৃষ্টি ঝড়ে অঝোর ধারায়
নদীর স্রোত বয়,
প্রিয় বন্ধুর কথাখানি
তখন মনে হয়।

ভোর বেলায় সূর্য্য ওঠে
জলো ধারায় রাশি,
রাশি গুলো ভেসে আসে
ঘুম ভেঙ্গে দেয় শশি।

গন্ধ বাড়ে ফুলের গায়ে
ভিজলে বৃষ্টির জলে,
রোদের বেলায় মোন হারিয়ে
আনন্দে সে দোলে।

বৃষ্টি হারায় বর্ষার জলে
নিজের আত্মগোপন,
বর্ষা তারে কাছে টেনে নেয়
স্বপ্ন করে পূরণ।

আকাশে বাতাসে মেঘ উড়ে যায়
শ্রাবণ বর্ষার দিনে,
রাখাল ছেলেরা পল্লী পথে
সুখ খুঁজে নেয় বনে।