সাজঘর

দহনেরও একটা নিজস্ব বাতিঘর থাকে, যেখানে
অনন্ত জ্বেলে রাখি দীপ, সভ্যতার
আর আকাশ থেকে হঠাৎ নেমে আসা মেঘের মাদলে
ভাসিয়ে দিই সকল বহ্নিশিখা
যদি ফিরিয়ে দেয় কখনও শীতার্ত ছাই ও শুভেচ্ছা বার্তা

একা সিদ্ধার্থ পেতে রয়েছে হাত।কপিলাবস্তুও অপেক্ষায়!
একটু পরেই পায়েসান্ন থেকে ছড়িয়ে পড়বে
শ্রমণগাথা ও গীতবিতানের বিনীত অক্ষরসকল,
শান্ত পরিভ্রমণ সেরে তখন একাকি সুজাতা
মাত্রাবৃত্তে পার হয়ে যাবে শোণিত রাজপথ, দয়িতাপ্রণয়

মৃদু আলোয় যেটুকু উদ্ভাস এরপর বুটিক হয়ে জেগে থাকে
আমাদের যৌবন দরজায়
তার ভেতরে সযত্নে গড়ে নেবো পোড়াকাঠের সাজঘর
…………………………………………..

বৃষ্টিভেজা নভেল

বৃষ্টির ভেতর যে যে অন্ধকার মনমরা হয়ে
জেগে থাকে
আমি তাদের নিয়ে উৎসবে যাই,পাশে
পড়ে থাকে অনিকেত অক্ষর সকল
শুধু বৃক্ষের নিচে চঞ্চল হয়ে পড়া ছায়াবৃত দৃশ্যগুলো
লোকায়ত মাধুরী নিয়ে
পার হয়ে যায় বাতানুকূল সাজঘর

হেসে ওঠে নীলাভ আবেশ; ডাইনিং টেবিল!
অনায়াস প্রান্ত বদল করে নেয় কাঁটাচামচ
সদ্য হৃদয় পোড়ানো যুবকের হাতও থমকে থাকে
মেহেনদি মাখা সলাজ মুঠোয় !
কেবল মৃদু আলোয় ভেসে থাকে মায়াবী রাত

অথচ বর্ষা বিমনা হলে পিথাগোরাসের গানিতিক আঁকে
মূর্ত হয়ে ওঠে মহাভারতের ঐশ্বর্য পর্ব আর
শাদা পাতায় লিপিবদ্ধ হয় বৃষ্টি ভেজা নভেল…
…………………………………………..

নৈঃশব্দ্য, বিছানা

ঘৃণারও নিজস্ব দ্রোহ আছে , অমীমাংসিত
আর প্রতিধ্বনি
সে তো অনিকেত আগুনের মত সীমান্তহীন
চর ভেঙে ভেঙে এগিয়ে চলে ঘোষনার দিকে

তখন পায়ে পায়ে জড়িয়ে ধরে অক্ষরসদৃশ
পোড়া রঙের মুখ, সোনালী সংসার
আর ত্বকের উপরে ব্ল্যাকহোলের মত উজ্জল তিল
ছন্দহীন বর্ণে লিপিময় করে অবিন্যস্ত যুবতীপরাগ

পাকা সড়ক ,নিয়ন সভ্যতা এসে মিশে যায় অরণ্যে!
ভার্চুয়াল পৃথিবী আঁকে আত্মগরিমা
জবার লাল পাপড়ি ক্রমে ফেরি হয়ে যায় উষ্ণ শয্যায়
অতল বন্যতায় আবৃত হতে থাকে গান,পাখির

নিভৃতে ভিজে ওঠে নৈঃশব্দ্য, বিছানার নরম আকাশ
…………………………………………..

হালুইঘর কিংবা কিংবদন্তি সংসার

এখন অন্ধকার দেখলে ভয় পাই না বরং কোন আলো
চকিত চৌকাঠ ছুঁলে লজ্জা পাই !
যেমন হঠাৎ কেউ ভাল বেসে ফেললে
উদাসীন গিয়ে দাঁড়াই মরুভূমির পাশে কিংবা
আনমনা বসে থাকে একাকি চাঁদ

দূরে ভেসে থাকা স্বপ্ন এখন গাছেদের কথা
শোনে না, শব্দও ক্রমে সালতামামির মত
হিংসুটে হয়ে ওঠে
নদীও হারিয়ে যায় বালিয়াড়ি অলসতায়,
তুমুল বৃষ্টি শুধু ভেজায় আমাদের মধ্যরাত

আলো এসে ফিরে যায় অচেনা পড়শির মত !
পড়ে থাকে অক্ষরের হালুইঘর, কিংবদন্তি সংসার
…………………………………………..

বিষাদ

একটা মৃদু হাওয়া নড়ে উঠল। আমি তার
ডানায় এঁকে দিলাম মৃত্যু!
রাত নামল, ছোট ব্যলকনির কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই
ক্ষণপ্রভা একা চাঁদ ডুবে গেল
হেমন্তের ভেজা আঁধারে

জেগে উঠলেন তিনি- ব্রম্ভ! শব্দ!
অচানক; রহস্য ছুঁয়ে থাকল বৃক্ষের মত নিরবধি
পথের প্রান্তে স্নিগ্ধ রেখায় লিখে রাখলাম
নির্জনতা আর সুদর্শনার বিষাদ
…………………………………………..

সংবেদ

ফাগুন সরিয়ে নিলাম! এখন মুঠোয় তোলা থাক
মেঘের গর্জন, শুধু
পথের কার্নিশ থেকে কুড়িয়ে নিই অপরাধকণা !
যদি একটু উপশম পেয়ে অক্লেশ হেঁটে যেতে পারে
মানবাধিকার কমিশন
কিংবা পাথুরে খাদান থেকে জেগে ওঠে বৃষ্টির সরগম

হে আমার অক্ষরমালা ছড়িয়ে পড়ো তমসাবৃত বসুধা জুড়ে,
শিমুলের মতো ভেসে যাও প্রান্তজনের দরজায় দরজায়
অন্ততঃ একবারের জন্য
জাগিয়ে তোলো কুসুমের গান, দুঃখ জাগানিয়া
তাহলে হয়তো আমার স্বদেশ ভুলে যেতে পারে
গৃধ্র দৃষ্টির ধূপছায়া ক্যানভাস, মাৎসর্য বিলাপ

ভাসিয়ে রাখলাম ফাগুন। এখন মেঠো ঠোঁটের পরতে পরতে
রামধনুর তাপিত প্রহ্লাদ
ঘাসের দহনেও দ্রোহ, পরমানন্দ। তবু
অসংখ্য ক্ষত এসে জড়িয়ে ধরে ঔপনিবেশিক চর
ক্রমে হারিয়ে যায় আকলাখ, তাবরেজ, মনিকার দল

অক্ষরেখা ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকে দাদরী; বান্দোয়ান, কাকদ্বীপ থেকে উন্নাও !
অন্তহীন কড়া নাড়ে শবের মিছিল ও মুখোশের রঙ
ভেঙে পড়ে একে একে বামিয়ান বুদ্ধ, আবক্ষ বিদ্যাসাগর
নৃতত্ত্ব থেকে উঠে আসা শ্রীরাম কিংবা হনুমান উড়ে এসে
মলিন করে দেয় রামকৃষ্ণ বোধ ও বিধাতার গান

বদলে যায় গৃহের সুখ ও শাশ্বত অলংকার; প্রতিবেশী স্বর!
যে স্বরে জারি থাকে নীল অবসেশান,
নিখুঁত আদলে সিঁড়ি ভেঙে অংক মেলায় ক্ষমতার জ্বর
নেচে ওঠে রাষ্ট্র, নাচে মেরুকরণের সামাজিক অনুকর্ষণ
আর আবাল্য সঞ্চিত সহজিয়া শ্বাস নেয় উচাটন আঙ্গিকে

তবু আমাদের পড়ে যেতে হয় নানকের গান কিংবা মাঙ্গলিক !
নদীও প্রশমিত হয়ে অনসূয়া
সমস্ত ত্রাস বিশল্যকরনী মন্ত্রে প্রসন্ন ঠাকুর,
তখন পাতায় পাতায় লেখা হয়ে যায় গৃহজনের নিষাদ
আর অতন্দ্র প্রহরায় দাঁড়িয়ে থাকে একা হিতৈষী সংবেদ
…………………………………………..

নগণ্য

বৃহন্নলা কিরীটি তুমি যে কৌশলে সাজিয়ে
রাখলে সময়ের জ্বর
তার ভেতরে কি কোন প্রবঞ্চনা জ্বলে !

আমি তো নগণ্য
জেগে থাকি বিদর্ভ নগরে, ওষ্ঠে মাতৃজল

অগত্যা বেঁচে দিই সীতার গর্ভ,অতল…
…………………………………………..

নগণ্য

বৃহন্নলা কিরীটি তুমি যে কৌশলে সাজিয়ে
রাখলে সময়ের জ্বর
তার ভেতরে কি কোন প্রবঞ্চনা জ্বলে !

আমি তো নগণ্য
জেগে থাকি বিদর্ভ নগরে, ওষ্ঠে মাতৃজল

অগত্যা বেঁচে দিই সীতার গর্ভ, অতল…
…………………………………………..

জন্মদিন

খসে পড়া পাতার আড়ালে অনন্ত থাকে যে রং
তার নাম দিতে পারো জন্মদিন
আর যেটুকু আভরণ হয়ে ছুঁয়ে থাকে দিনান্তে
তা অন্য কিছু নয়, তোমার ওষ্ঠের বৈকালিক
লালন গেয়ে উঠলে নিবেদিত হতে হয় আত্মজনে
তখন ভেসে যায় একে একে সকল কর্কটরেখা

এখন হৃদয়ের সমুদ্র অতল লোনাজলে ডুবে আছে!
উৎসেও ক্রমে ক্রমে ফুটে উঠছে মানবেতর তূণ
সমস্ত আশ্বাসগুলো কেমন ছাই ছাই
নিভে আসা আগুনের ভেতরেও তেমন কোন
ফুলকি নেই, যাকে অক্লেশে জ্বালিয়ে আর একবার
নতুন করে গড়ে দিতে পারি মহর্ষির চিরন্তন পথ

অথচ প্রতিদিন পলকের পর পলক গেঁথে
সৃজন করে দিই যে মানবতার প্রাচীর
সেখানে কোন অসূয়া নেই, নেই কোন চুম্বনহীন প্রীতি।
কলিঙ্গের উপর থেকে ভেসে আসা শোক শুধু
অতন্দ্র প্রহরীর মতো খেলা করে
সমস্ত বাসনা পুড়ে পুড়ে হয়ে ওঠে উপহারের দিন

আর হৃদয়ের লবণাক্ত স্রোত ভেঙে জেগে ওঠে
কবীরের দোঁহা, চৈতন্যবোধ
চন্ডাশোক অশোক স্নাত হয়ে যায় ধর্মাশোকের কাছে,
সমস্ত মনুষ্যত্বহীন গরল দুর্বাশার শাপ ছাড়িয়ে
হয়ে ওঠে পীরবাড়ীর মাজারের সোনালী আকাশ
মৃদু হাওয়ার দমকে সমস্ত ছায়াঘন অক্ষরগুলো তখন
করজোড়ে চিৎকার করে বলে ওঠে আজ জন্মদিন