আঁধারের প্রহসন

এভাবেই রাতগুলো কাঁটাতারে ঝুলে থাকে
তবু রক্তক্ষরণ হয় না;
বিষাদে বিমুগ্ধ প্রহরগুলো প্রহসনের খোলসে মোড়া
অর্বাচীন হাসি হাসে,
দূরত্ব গিলেছে সীমানা বন্ধ মনের কামরা
হাতছানি দেয় আঁধার ললাটে লেপ্টে অমীমাংসিত গল্পরা;
চোখের কার্নিশে থাকে দুঃস্বপ্নের কাজল মাখা অন্ধকার আলো ছায়া
ওষ্ঠে থাকে লেপ্টে রক্তাক্ত ক্ষত ঠোঁট পালিশের আস্তরে ঢাকা,
অন্তর্বাসের গন্ধে ছুঁকছুঁক করে পথের নেড়িকুকুর গুলা
নিয়নবাতি আর অন্ধকার রাত্রি থাকে সাক্ষী…
আরো একটি রজনী বিষাক্ত হয়ে ওঠে অন্ধ কুটিরে নিবারনে কাম যাতনা ;
পরিস্থিতির শিকারে বরণ করে নেয় পরিযায়ী আগন্তুকের সকল চাহিদা
কলুষিত হয় আরো একটি পূত, পুণ্যময় ফুলেল শয্যা,
ভুল সমীকরণে উত্তর কভু সমীক্ষাতেই মেলে না
হাহাকার, আর্তনাদ, যন্ত্রণা তাই লেপ্টে থাকে ;
মেকাপে মোড়ানো রঙিন মুখোশের প্রতিটি ভাঁজের গভীরেই,
সত্যিই সে জ্বালা সাধারন লোচনের দর্শিত দৃষ্টিতে কভু দর্শনের গণনাতেই পড়ে না…!!!
…………………………………………..

নান্দনিক শৈল্পিকতায় উদ্বাস্তু চরিত্র

আমি নারী আমি জানি ;
তোমরা শৃঙ্গার কর আমাকে
কোন নতুনত্বে…??
দোয়াতের কালির কলংকিত কালো দাগে
অক্ষরের আক্ষরিক শব্দার্থে,
তোমাদের বর্ণনায় আমি রহস্যময়ী।
ভেজা চঞ্চুর তৃষ্ণার্ত মোহে
শিল্পীর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গি ;
মাংসল শরীরে উঁচুনিচু খাঁজে
হিমাদ্রীর যৌবন নির্গত,
যার অতলে হারিয়ে যায়
সকল উন্নত মস্তিষ্ক ;
ডুবন্ত ডুবুরির জল সিঞ্চনে
উন্মাদনার চরম শিখরে…
হয় সবে মত্ত।
সুডৌল পেটের
বৃন্তচ্যুত নাভিকমল ;
তোমাদের আকর্ষণের শীর্ষ বিন্দু…!!!
ধীরেই নেমে গেছে অরণ্যের গভীরে
যেখানে উর্ণা জাল বিছিয়ে এক রহস্যঘেরা দ্বীপ ;
মুখিয়ে থাকে উৎসুক পর্যটকের বিচরণের প্রত্যাশায়
নগ্ন কামনার প্রস্ফুটিত চিত্র।
নারী রূপী প্রকৃতির খেয়াল
এক সুবিশাল ঝর্ণা ধারা ;
যার ঘর্মাক্ত শরীরের বিন্দু ফোঁটা জলেও
এক অপরূপ ধোয়াশা শিশির বিন্দুর…
জলছাপ অংকিত পরিপুষ্ট ফলজ ক্ষেত ;
যা অঙ্কুরোদগমে হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ স্ত্রী।
আকার ইঙ্গিতে যে চিত্রই ফুটিয়ে তোল না কেন…
নারী আজীবনই দীর্ঘশ্বাস জড়িত রহস্যাবৃত
এক উদ্বাস্তু চরিত্র…!!!
…………………………………………..

অন্যের নিবাস

তোমার বিস্তৃত কপালের টিপটাকে আজ রোদ পোহাতে দেখলাম সকালে ;
কাজল চোখের গভীরে প্রেমের বিষন্নতা ছুঁয়ে গিয়েছে দিরাগমনে,
কী এত খেয়ালের জাল বুনো শূন্যে তাকিয়ে…?
পটলচেরা নাকের উঠনে আজ অন্য কারো যতিচিহ্ন ;
সেখানে আজ অন্যের নামে নাকফুলের বসবাস,
রক্ত জমা ঠোঁট জোড়ায় লেগে আছে
তোমার পতি দেবের লালসার চিহ্ন স্বরূপ লালার সুবাস ;
রাতভর বিছানাকে ব্যস্ত রেখেছ বুঝি…??
প্রশস্ত পিঠখানা জুড়ে গালিচার মত বিছিয়ে রেখেছ ভেজা চুলের সমাহার ;
চুল চুইয়ে পানি শিশির বিন্দু হয়ে ঝরে
মাটিকে চুমু খাচ্ছে পরম যত্নের আলিঙ্গনে,
এই তোমার শরম নেই বুঝি…?
প্রভাতের স্নান সেরে কেউ কি এভাবে চুল খুলে রোদে ভিজতে বসে…??
তোমাকে বেশি দেখিনি কিন্তু আমি ;
এক পলকেই দেখেছি দীর্ঘক্ষণ,
এক নজরে তাকিয়ে থাকা যায় যতক্ষণ।
যে দিয়া আমার ঘরে জ্বালবে বলে কথা দিয়েছিলে ;
সেই দিয়া জ্বালো আজ অন্যের কুটিরে,
তুমি আজ অন্য কারো আলো ;
অন্য কারো নিজস্ব প্রদীপ জ্বলা নিবাস…!!!
…………………………………………..

বিশুদ্ধকরণ

ঘুমের কাঁটাতারে স্বপ্নের, রক্তাক্ত সহবাস ;
অন্ধকারে লাল, মিলেমিশে একাকার,
পরদিন জন্ম নিল একটি শিশু ;
জারজ ভোর বলে স্বীকৃত,
বিশুদ্ধ রোদে নাজায়েজ ;
জায়েজ বলে প্রমানিত…!!!
…………………………………………..

প্লাস্টিক হাসির দহন

জ্বলছে তবে পুড়ছে না,
আলোর সাথে সখ্যতা গড়ার
আদিম প্রয়াসে ;
নিজেকে জ্বালিয়ে দূর করছে
অন্ধকারের শূন্যতা।
জানে বৃথা চেষ্টা ;
হাসির মুখে হাজারো আহাজারি…!!
তবু ব্যঙ্গাত্মক হাসিই এখন
বেঁচে থাকার অবলম্বন।
হাসির জরায়ুতে দুঃখের টিউমার,
ব্যথায় কুঁকড়ে যায় ;
তবু অভিনয়ের তালিকায় প্রথম সারির
একজন হয়ে বাঁচার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
প্লাস্টিক হাসি সবাই ভালোবাসে,
প্রাণ থাকবে না, ঘ্রাণ থাকবে না ;
তাও ওষ্ঠদ্বয়ের উপর
কী নির্দ্বিধায় বসবাস…!!
ঠোঁটদুটোকে প্রতিনিয়ত ধর্ষণের যন্ত্রণা দেয় ;
ক্ষতবিক্ষত ঠোঁটের যোনিতে বসে
বংশবিস্তারের পরিকল্পনাও আঁটে।
চোখজোড়া নির্লজ্জ,
লুকিয়ে লুকিয়ে ব্যথার গর্ভপাতের আগেই
পানি ভেঙে দেয় ;
হাসির হাস্যোজ্জ্বল মুখে
প্রতিনিয়ত জন্ম নেয়
দুঃখের অপরিণত জীবন্ত কদাকার বাচ্চা…!!
…………………………………………..

বিজ্ঞাপন

প্রসবিত হাহাকার চিৎকার করে
কলিজা কামড়ে ;
আদিম মিনতি
তবু সদ্য ভূমিষ্ট আর্তনাদ,
আহুতির তাঁবেদার
যেভাবে আত্মহননে মরছে প্রতিটি মুহূর্ত।

গ্লানির জন্ম লজ্জার দুয়ারে ;
উন্মোচিত মুখশ্রী কালো ধোয়ার কবলে পড়ে
ফুসফুসে জমছে ক্ষত।

ধোঁকার মহামারি ছড়িয়ে পড়েছে
হৃদয়ের আনাচেকানাচে ;
বিদ্রুপাত্মক নিঃসঙ্গতা অগোচরে বেহায়ার সাজে
উদম হাসি হাসে।

কৃতকর্মগুলো দাস হয়ে পড়ে থাকে
কৃতদাসীর বেশে ;
পাপিষ্ঠার লেবাসে ফিরে আসে যোগফল হয়ে।

ভালোবাসার ভূমিতে ধ্বস নেমে
চোরাবালি প্রেমে মশগুল ;
ডুবে যায় স্বপ্ন,আত্মা, ভালোবাসা
তৈরী হয় একটি পূর্ণাঙ্গ আহুতির বিজ্ঞাপন…!!!
…………………………………………..

দুধের ঘ্রাণ

ইঁদুর, বেড়ালের লেজ ধরে ;
নিজেকে খুঁজে চলে বেড়ালের পায়ে,
দুধ খেকো বেড়াল
শরীরের গন্ধ শুঁকে
এগিয়ে যায় ;
ঘোলাটে কাচের বলে
ফুটন্ত দুধ টগবগিয়ে ঘ্রাণ ছড়ায়,
খানিক কিছু বাদে ;
একটা কালো কাক
সাদা জামা পড়ে
বক হয়ে উড়ে যায় আকাশে…!!!
…………………………………………..

ঋণ

সম্পর্কের দই হয়ে গেছে ;
খাওয়া শেষ।
ঠোঁটে লেগে আছে কিছু এঁটো ;
ধুয়ে ফেলার আগে মুছে ফেলার চেষ্টা,
ঋণ জমে আছে জিহ্বায় ;
স্বাদও কখনো,কখনো বোঝায় পরিনত হয়…!!
…………………………………………..

বিলাপ

প্রকৃতি হনন করছে পাপ
অন্ধকার গিলে খাচ্ছে আস্ত এক রাত;
জীবন জুড়ে অভিশাপ
অসময়ের বিষফোড়া করছে অনুতাপ,
নিস্তব্ধ আত্মার সংলাপ
বিধাতাকে বিধিয়ে রেখে পড়ছে কিতাব।

পুন্যের হিসাব ;
গোঁজা মিলে ভরিয়ে রেখেছে
দু’চোখের খোয়াব।

ক্ষমার সুরতহাল মর্গে পড়ে আছে ;
পোসমর্টেম শেষ হলে শুনানি দেওয়া হবে,
পুড়ছে তবে জ্বলছে না
আগুনের অভাব ;
কৃতকর্মের ফোসকারা আজ
করছে বিলাপ…!!