আমি একবার নিজেকে পেতে চাই

আমি একবার নিজেকে পেতে চাই,
এ বিশ্ব ভূবনে তোমাদের সমাজে আমি কোথাও নেই।
অনেকটা দিন হলো নিজেকে হারিয়েছি
নিজের অস্তিত্ব,নিজের ঠিকানা খুঁজেছি প্রতিটা মুহূর্ত।
কোত্থাও নেই আমি!
আমি কেমন নিজেকে ভুলে গিয়েছি,
আমার চোখের পাতায় আমার নিজের প্রতিচ্ছবি আজ ঝাপসা লাগে,
নিজের কণ্ঠসরে নিজেই কেমন চমকে উঠি!
এ স্বর আমার নয়!
আমি একবার নিজেকে পেতে চাই!
বাতাসে হাসির শব্দে রোদ খেলে,
পদক্ষেপের লয়ে সুর জাগ্রত হয় পশ্চিমাকাশ রঙিন করে,
চঞ্চলতায় সত্তর দশকের প্রাণটিও অনুভব করে তার ফেলে আসা তারুণ্য।
বিরামহীন কথার স্রোতে কার্নিশে বসা শালিকও বলেছিলো…’বাড়ি ফেরার আগে তোমাকে শুনতেই আসি’
এসব আজ রূপকথার গল্প লাগে,
নিজেকে বড্ড অচেনা লাগে আজ!
খুব মেঘ করে এলে হয়তো দু’টো শব্দ আসে তবুও তারা চোখের কোনে দু’ফোঁটা জলেই শেষ হয়ে যায়।
এ আমি কেমন!
শব্দহীন ঠোঁট কাঁপেনা,
প্রাণহীণ দৃষ্টিতে চোখ রাখি অন্ধকার আকাশে যখন কোনো আলো থাকেনা।
আমি একবার নিজেকে পেতে চাই!
দায়ীত্বের ভিড়ে,সম্পর্কের জালে,বয়সের ভারে,সময়ের স্রোতে
যে আমিকে হারিয়েছি
আমি একবার তাকে পেতে চাই!
…………………………………………..

একটাদিন শুধু আমি

একটা দিন খুব শখ করে শাড়ি পরবো।
চোখে গভির কালো কাজল,কপালে টিপ আর দু’হাত ভরা কাঁচের চুরি।
শুধুমাত্র একটি দিন!
মুঠোফোন রেখে খুব ভোরে উদ্দেশ্যহীন ঘর ছাড়বো।
একহাতে ঘাসফুল আর অন্যহাতে জুতোগুলো দোলাতে দোলাতে খালি পায়ে হাটবো অনেকটা
পথ।
কোথাও রক্তজবা দেখলে খোলা চুল খোঁপা করে তাতে গুঁজে নিব।
আমার সঙ্গী হবে অচেনা,অদেখা এক সিগারেট প্রেমি আমারই মত উদ্দেশ্যেহীন যুবক।
হতে পারে তাকে পেয়ে গেলাম ফুটপাতে বসে সিগারেটের ধোঁয়ায় জীবনের হিসেব কষছে,
অথবা সবুজে গা বিছিয়ে নিল শূন্যতায় হাহাকার দেখছে।
ঠিক দুপুরে পথের পাশে আকাশখোলা হোটেলে ভাত খাব!
মোটাচালের শক্ত ভাত,খুব ঝাল মরিচের লাল-টকটকে ভর্তা আর এক বাটি ডাল।
বিশ্রাম হবে তার সিগারেটের ধোঁয়ায়।
আধভাঙা কাঠের টুলে পা দোলাতে দোলাতে দেখবো,
নিকটিনের ধূসর ধোঁয়ার শুরু হতে হাওয়ায় মিলিয়ে যাওয়া।
আর তৃপ্তি করে ডুব দিব আঁদাকুঁচি চায়ের কাপে।
বিকেলটা নদীর জলে।
মধ্যজলে ডিঙি নৌকা,জলে ভাসা কচুরিপানা,
খোলা আকাশ,গভির জল আর দূরে সবুজ সীমারেখা।
মাঝি সুর তুলুন আপন মনে_
আমি রক্তজবাটি পাশে রেখে খোলাচুলে শীতল হাওয়ায় গা ভাসাবো।
গোধূলি আলোয় নদীর জলে আঙুল ছুঁয়ে ভেতরের আমিকে স্নান করাবো বেশ সময় নিয়ে।
মুগ্ধ হয়ে দেখবো পশ্চিমাকাশে রঙিন আলোখেলা।
আঁধার নামতেই শহরে ছুটবো,
হুটখোলা রিক্সায় চেপে লাল-নিল বাতি দেখবো,মানুষ দেখবো।
যদি পথের পাশে দেখি ছেলেদল গিটারে সুর তুলেছে,
থেমে যাব আমি,বসবো তাদের পাশে।
শ্রোতা হয়ে তাদের সুর গেঁথে নিব মনে,আর শব্দগুলো ঠোঁটে আওড়াবো আনমনে।

রাত নামতেই বিদায় নিব,
বিদায় নিব সেই অচেনা মুখ থেকেও।
ফিরে তাকানো বারন,মায়া পরে যাবে হয়ত!
মায়া,স্নেহ,পিছুটান… ভিষণ রকম জ্বর তোলে,
আমায় যে ঘরে ফিরতে হবে!
…………………………………………..

শুভ্র লালে শিউলিফুল

আমার উঠোনের ঠিক মধ্যখানে একটি শিউলিফুল গাছ,
কবে,কিভাবে উঠোনের ঠিক মধ্যখানে ও জন্মালো আর ধীরে ধীরে কখন যে ছোট চারা গাছ
থেকে এখন সারা উঠোন জুড়ে তার অস্তিত্ব আমি এসব কিচ্ছু জানিনা,
আসলে আমি খেয়াল করিনি…
তার স্বতেজতা আর উদারতায় আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে এক দৃষ্টিতে দেখেছি তাকে।
এই গাছটিতে অসম্ভব রকম অবাক করে প্রচুর ফুল ফোঁটে সারাটা বছর,
তার চারপাশ ছোট্ট ছোট্ট শুভ্র রঙের ফুল গুলো কেমন নরম চাদরের মত বিছিয়ে থাকে।
ছোট্ট সেই ফুলের শুভ্র অংশটুকু তার সুখ
আর লাল ক্ষিণ অংশটুকু তার দুঃখ।
এখানটায় তার এই অপরূপ সৌন্দর্যে,স্নিগ্ধতায় মানুষের অনেক আনাগোনা,
তারা আসে,এসে মুগ্ধ হয়…
তারা চারপাশে বিছিয়ে থাকা ফুলগুলো একটি একটি করে কুড়িয়ে নেয়,
একটি ফুলও তারা অবশিষ্ট রাখেনা।
মানুষগুলো তার ছায়ায় বসেই মনের স্বাধ মিটিয়ে ফুলগুলো দিয়ে নিজের সুখ তৈরি করে,
সবগুলো ফুল তাদের লাগবে বলে তারা ছোট্ট নরম ফুলের শুভ্র অংশটুকু নিজ হাতে
স্বার্থপরের মতন লাল অংশ টুকু থেকে আলাদা করে নিয়ে মালা গাঁথে।
আর লাল অংশটুকু ছুড়ে ফেলে দেয় নির্মমভাবে…
এভাবে দিন শেষে যখন সন্ধ্যা নামে তখন গোধূলির শেষ আলোয় কেমন করুণ লাগে গাছটির
চারপাশ…
মনে হয় যেন সারাদিন যুদ্ধ শেষে এক রক্তাক্ত প্রান্তর!
নির্জন,ভিষণ রকম নিরবতায় ক্ষত নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে গাছটি।
সকলে তার সুখ টুকু নিয়েছে,খেলেছে তা দিয়ে
আবার স্বাধ মিটলেই সেই ফুলগুলো দুমড়ে মুচড়ে,পিষে ফেলে রেখে গিয়েছে উঠোনটাতেই,
কেউবা সঙ্গে করে নিয়ে গেছে সুখ দিয়ে তৈরি মালাটি।
কিন্তু কেউ দুঃখ টুকু সাথে নেয়নি,
অনেক শুভ্রতায় একটু খানি লাল তারা গাঁথেনি।
বরং দুখের সেই লাল অংশটুকুকে তারা পা দিয়ে পিষেছে নির্মমভাবে।
গাছটির স্নেহ কেউ বুঝেনি,তার উদারতায় কেউ তাকে কৃতজ্ঞতায় ছুঁয়ে দেখেনি,

বরং সকলে নিজ স্বার্থে সুখটুকু নিয়ে দুঃখগুলোকে আরো ক্ষত করে ফেলে রেখে বাড়ি
ফিরেছে,
শূন্য উঠোনে একা পরে থেকেছে গাছটি।
তবু সে থেমে থাকেনি…
সারারাত ভিজেছে যন্ত্রণায়,
আঁধারে পাতা ঝাপ্টিয়ে ছটফটিয়ে চিৎকার করেছে।
ভোর হতেই সে আবার সব ভুলে নতুন ফুলের চাদর বিছিয়েছে তার চারপাশে,
প্রতিটিবার সে এভাবেই নতুন করে তার কাছে আসা মানুষগুলোর জন্য সহস্র ফুল
ছড়িয়েছে…
আর আমি শুধু মুগ্ধ হয়ে তাকে দেখে যাচ্ছি আমার দুয়ার হতে,
আমার ভাঙ্গা ঘরটুকু খুব ছোট্ট,
এ ঘরে তার দুঃখগুলো সব আটেনা,
তবু আমি লুকিয়ে আমার সুখগুলো ঘরের পিছনটায় ফেলে দিয়ে এসে চুপিসারে তার দুঃখের
লাল অংশগুলো দিয়ে আমার ঘর ভরি।
…………………………………………..

নীল অপরাজিতা

অপরাজিতা
সবুজের মাঝে ছোট্ট কোমল এক টুকরো সুন্দর।
ভেজা ঘুনে ধরা কাঠ কিংবা
পরিত্যাক্ত বাড়ির বারান্দার জঙ পরা কালচে খয়েরী স্পাত,
তুমি ভালবেসে আগলে ধরো সব।
সবুজে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে
আড়াল পরে যায় সেসবের অপূর্ণতা,একাকিত্বের বেদনা কিংবা অবহেলার যন্ত্রণা,
সেখানে তুমি দক্ষ হাতে তৈরী করো স্বর্গ।
তোমার আরেক নাম নীলকণ্ঠ …
যে শিশু শূন্য উঠনে তামাটে শুকনো পাতায় জীবন খোঁজার বৃথা চেষ্টায় ক্লান্ত,
তুমি নীল তার চোখে স্বপ্ন দেখাও,
কাছে টানো ভীষন রকম আপন হয়ে।
তোমার কণ্ঠে উঠনের আদিম মরা গাছটিতেও কোকিলেরা চুপটি করে বসে,
অসীম গর্বে মাথা উঁচু করে থাকা গোলাপটিও সেজদায় লুটিয়ে পরে
এর পরের প্রতি জন্মে অপরাজিতা হবার প্রার্থনায়।
তুমি মনের বিশালতা প্রকাশে গাঢ় ঘন নীল,
খুব খেয়ালে বেদনার আবছা বেগুনী,
নীলে সবুজে সে বেগুনী সবাই দেখতে পায়না,
এ তোমার দক্ষতা।
তুমি সৃষ্টির সকল রঙ হার মানিয়ে,
অপার সৌন্দর্যের অধিকারী
নীল অপরাজিতা…
…………………………………………..

দুঃস্বপ্ন

একটি রক্তাক্ত হাত…
ডান হাতের তালুর উলটো পিঠে(কি বলে এপাশকে আমি ঠিক মনে করতে পারছিনা)
ইঞ্জেকশন দেয়ার নল আটকানো।
তাও ২টো…
জায়গাটায় বেশ অনেকখানি রক্ত জমাট বেঁধে কালো হয়ে আছে,
হাতখানিতে প্রাণ নেই,
হাতের আঙুলের হাড়গুলোর সাথে রগ গুলোও স্পষ্ট গুনা যাচ্ছে একটা একটা করে…
পাশে বসলাম…
চোখের দিকে তাকানোর সাহস আমার নেই।
আমি ভেজা চোখে তার
ক্লান্ত অসার হাতখানি খুব সাবধানে নিজের হাতের উপর নিলাম।
হঠাৎ আমার হাত ভেজা লাগছে,
একটু খেয়াল করতে চোখে পরলো…বিছানার যেখান টায় হাতটি ছিলো সেখানটা রক্তে
ভেজা,
চাদর চুঁইয়ে রক্তের বন্যা হয়ে যাচ্ছে মেঝেতে!
আমার নিজের দু’টি হাতও রক্তে ভিজে লাল হয়ে আছে…
ভেতরটা খামছে ধরে আমার,
আমি সাথে সাথেই তার চোখের দিকে তাকাই…
পৃথিবীর সব থেকে সুন্দর মায়াভরা দু’টি চোখ আজ রক্তশূণ্য,নিষ্প্রাণ,ক্লান্ত
সে চোখে অনবরত জল পরছে নিঃশব্দে।
ঠোঁট গুলোও কাঁপছে,
যন্ত্রণার প্রতিটি ছাপ তার পুরো মুখ জুড়ে….
কিছু একটা বলতে চাইছে সে…
একটি দুঃস্বপ্ন!
মুহুর্তেই চোখ খুলে যায়,
আমি কাঁপছি,
আমার হৃদপিণ্ডের গতির বেগ তীব্র,

আমি সে গতির শব্দ শুনতে পাচ্ছি…
সব কিছু আবার চোখে সামনে ভেসে উঠে,
নিষ্প্রাণ দুটি চোখ,কাঁপা ঠোঁট,মেঝেতে রক্তের স্রোত আর
আমার হাতের উপর সেই হাত…
আমি বালিশের কোন খামছে ধরে ডুকরে কেঁদে উঠি!
আমার কোনো পাপের শাস্তি আমার আপনজনরা না পাক,
আমার সকল পাপের শাস্তি একান্ত আমার হোক।
বরং আমার পূণ্যগুলো তাদের হোক…
তারা বেঁচে থাকুক হাসি মুখে সুস্থতায় সুখে…
…………………………………………..

অস্তিত্ব

জন্মান্ত নারী আমি!
একান্ত কিছু শব্দ ছাড়া আমার কিছু নেই,
আমার নিজেস্ব কোনো নাম নেই,
ঘর নেই,ঠিকানা নেই,আশ্রয় নেই…
মাথার উপর করুণার ছাদ টুকু কেবল বদলেছে সময়ের সাথে।
যেটুকু নিজের বলে হাত বাড়িয়েছিলাম ছুঁতে
পায়ে শেকল পড়িয়ে হাতখানি তুলে দিয়েছে অন্য কোনো হাতে।
সেদিন আমার কোনো মতামত নেয়া হয়নি,
আমার শব্দ প্রকাশেও ছিলো ১৪৪ ধারার কড়া নিয়ম!
শব্দহীন চোখের জলে কেউ নাম লেখেনি সেদিন…
আজ আমি তাদের মেয়ের নাম মুছে অন্য কারোর বউ।
এখানেও আমার কোনো নাম মেলেনি
একান্ত নিজের বলে হয়নি কিছু।
যেটুকু আমি বেঁচে ছিলাম আপনায় আঁধারে কিংবা শেষ বেলার শেষ আলোয়
সেটুকুও আমি দায়ীত্বের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছি নিজের অজান্তেই।
একান্ত আমার ইচ্ছায় মালাতো পাইনি কোনোদিন,
আমার গলায় শুধু অধিকারের শক্ত বাহু।
আমার চোখ বেয়ে যে জল গড়িয়ে পরে অন্ধকারে
সেটুকুও কখনো আমার হয়নি,
প্রাণখুলে সে জলের শব্দ করা বারণ!
বিশাল জমিনে পাঁকা দালান আছে,
খোলা বারান্দায় সবুজ আছে
ঘর আছে,বর আছে…
শুধু আমি নেই,
আমার একান্ত নিজের বলে কিছু নেই!
আমার সুর নেই,চোখে আলো নেই।
জন্মান্ত নারী আমি!
একান্ত কিছু শব্দ ছাড়া আমার কিচ্ছু নেই।
…………………………………………..

পৃষ্ঠা নম্বর তেত্রিশ

বৈশাখ ০১,১৪২৬
দুপুর ২.১৫
এস.এ. পরিবহন,মিরপুর ১০ থেকে বলছিলাম। মায়মনসিংহ থেকে আপনার বই আসছে।

বলেই লোকটা ফোনটা রেখেদিল।
কেমন যেন রোবোটিক কথা।মনে হলে রেকোর্ড করা একটা বুলি ছেড়ে দিল।
কিন্তু এপাশটায় যে নিশ্বাসের গতি বেড়ে গিয়েছে একটি স্বাভাবিক প্রাণের থেকেও বেশি।

আমি এক্ষুণি আসছি!
আজ চোখের কাজলটা খুব গাঢ় করে লাগিয়েছি বেশ খানিকটা সময় নিয়ে,
কপালের কালো টিপটা লাগানোর পর এক পলক আলাদা করে স্বচ্ছ আয়নায় নিজেকে দেখে নিলাম,
কোথাও নিল নেই…

বৈশাখের প্রথম বিকেল,
বিকেল ৩.৩০ মিনিট
অপেক্ষা করছি এস.এ. পরিবহন(প্রাঃ) এর সামনে।
মনে মনে ভাবছি…কি বলবো ভেতরে যেয়ে?কিভাবে চাইবো?
আমার নামে এর আগেতো কখনো কুরিয়ার আসেনি যে আমি জানবো কোথায় যেয়ে কিভাবে বলতে বা চাইতে হয়!

আপুর কি লাগবে? কিছুক্ষণ আগে একটা কল এসেছিলো এখান থেকে। মায়মনসিংহ থেকে বই এসেছে।
পাশের টেবিলটায় যান… পাশের টেবিলটার সামনে যেয়ে চুপ করে দাঁড়ালাম। মোবাইল নাম্বার?
০১৯১…… নাম?

নিজের নাম বললাম। লোকটা অবাক হলো মনে হলো।
এখানেতো অন্য নাম! আপনি কি টগর? নামটা শুনে আমি একটুও অবাক হই নি। একটা কথা মনে পরলো… “আমার সময় প্রায় শেষের দিকে,টগর” খুব স্বাভাবিক ভাবেই বললাম… জ্বী,আমিই টগর।
লোকটি একটা রেজিস্টার খাতা এগিয়ে দিলো সামনে।
_এখানটায় নাম লিখুন।
আমি দ্বিধায় পরে গেলাম…
কি লিখবো আমি? নিজের পরিচিত নাম নাকি যে নামে দু’ফোঁটা জল গড়িয়েছে কারো চোখে,যে নামে বৈশাখের প্রথম বিকেল শুরু হয়েছে?
যদি টগর লিখি তাহলেতো আমি বাঁধা পরে যাবো এক অদ্ভূত সম্পর্কে, বাঁধা পরে যাব সারাটা জীবন কোনো এক মায়ায়,বেঁচে থাকবো
কারো শেষ নিশ্বাসে শুধুমাত্র তার টগর হয়ে।
লিখে দিলাম…
“টগর”

কুরিয়ারটি হাতে নিলাম। কেমন যেন মনে হলো একটা কিছু ছুঁইয়ে দিয়ে গেলো আমায়,
হৃদস্পন্দন বেড়ে গেলো…এ আমি কেমন যেন নতুন!হাতের মুঠোয় যেন সুখ…
হঠাত করে কেমন খারাপ লাগছে…অনেক অনুরোধেও যে নিল পরিনি আমি।
আজ হতে পারতো…

নিল শাড়িতে চোখে গভির করে কাজল মেখে
কপালের কালো টিপ আর পায়ে লাল রঙিন আলতার রেখা,
দু’হাতে মেহেদীর আলপোনা আর নিল কাচের চুড়ি…
খোলা চুলে বৈশাখের প্রথম বিকেল ছুঁইয়ে
আমার হাতে একটি খোলা বই…
ময়ূরাক্ষী, হুমায়ূন আহমেদ…
পৃষ্ঠা নম্বর তেত্রিশ…
…………………………………………..

অনুতাপ

সময়ের আবর্তনে হেঁটে চলেছি,
হেঁটে চলেছি চির সত্যের পথে।
জানি কোনো মায়াজাদুতে এ পথ
ফুলে আচ্ছন্ন চিরস্থায়ী হবার নয়,
তবু মিছে স্বপ্ন বুনি সব কিছু পেতে,
যা কিছু আছে এই বিশ্বময়।
কিছু প্রাপ্তির পর যেমন উম্মাদ নৃত্যে নাচি,
তেমনি অনেক হাড়ায়ে কান্নার স্রোতে ভাসি।
প্রাপ্তির নেশায় উম্মাদ হয়ে নিজেকে দিয়েছি মেরে,
জন্ম হবার কিছু কাল পরে।
জীবনের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে পিছু ফিরে
পাওয়া নাপাওয়ার হিসেব করি জখন,
শূন্যতায় ভরা এক জীবন দেখি তখন।
হায়! আজ অনুতাপ করা ছাড়া কিছু নাই,
আনমনে বলি,আর হবেনা ভুল,
যদি জীবনকেকে নতুন করে আবার ফিরে পাই।
…………………………………………..

জীবন

সৃষ্টি খুব অদ্ভুত রকম কঠোরতায় সুন্দর…
জন্মই তোমার পরম ভালোবাসায়,
তোমার প্রথম চোখের আলো কিংবা তোমার প্রথম আওয়াজ,
তোমার প্রথম স্পর্শ কিংবা তোমার পথম পদক্ষেপ…
সবটাই পরম মমতায় স্নেহে আগলে বেড়ে উঠা।
দিন যত যায় ততোই পায়,তবু পিপাসা বাড়ে,
পেতে হবে আরো পেতে হবে,
দু’চোখ ভরে তৃপ্তি নিয়ে জল খেলুক,
সম্পর্কের নাম হয়,পরিনতি হয়…
বাবা,মা,বন্ধু,প্রিয়জন,সঙ্গী
একেক রকম নাম,একেক রকম স্নেহে একেক রকম টান!
জীবন সুন্দর ভালোবাসায় রঙিন কৃষ্ণচূড়া
আর স্বচ্ছ নোনা জলে।
হাহাকার তবু বৃষ্টি জলের স্নানে পূর্ণতা,
নিল বেদনা তবু ঐ নিলেই রঙিন কাগজের ঘুড়ি উড়িয়ে ছেলেমানুষী নিষ্পাপ হাসি…
মৃত্যু অবধারিত!
বয়স বলে যে অদৃশ্য নির্মম বাস্তবতা আছে তা
তোমার প্রথম চোখের আলো কিংবা প্রথম আওয়াজেই ঝড়ের গতিতে বেড়ে চলেছে!
তুমি বেঁচে থাকতে আসোনি,
তুমি এসেছো মায়া বাড়িয়ে, মায়ায় জড়িয়ে চলে যেতে।
মায়া, স্নেহ, ভালোবাসা, বেঁচে থাকা…
সময়, বয়স, সৃষ্টির নিয়ম, চলে যাওয়া…
সৃষ্টি আসলেই খুব অদ্ভুত রকম কঠোরতায় সুন্দর!