এসেছ শঙ্খচিল

যখন আমি চলেছি অরণ্যের বুক চিরে,
শঙ্খচিল তুমি জাগিয়েছো স্বপ্ন,
আমার মনের সাধ গুলোকে ।
এসো হে মিত্র,
আমার প্রিয় জীবনানন্দের শঙ্খচিল হয়ে ।
তুমি কোথায় উড়ে যাও?
নিয়ে চলো আমাকে সাত সাগরের পাড়ে,
আমার সব দুঃখ গুলো মলিন বদনে থাকবে,
তুমি কি দেখতে পাবে শঙ্খচিল?
তুমি কি চাঁদকলঙ্কের কালি ছেটাবে?
আমার স্বপ্ন থাক সমুদ্র তীরে ।
কত ঝিনুক কুড়িয়ে,
মালা গাঁথবো বসে,
শঙ্খচিল আমার বিবেক আত্মা কাউকে খোঁজে?
সে তো আজ থেকে দশটা বছর আগে,
ওই সমুদ্র তীরে মাটিতে প্রোথিত আছে ।
আমার বিবেক কাঁদে,
যাকে বসেছিলুম এত ভালোবাসা দিয়ে,
সেই বিবেকের কোলজে ছিঁড়ে,
সে দশটা বছর ধরে ওখানে ঘুমিয়ে আছে!
আমি আসি তার খোঁজে বারে বারে,
শঙ্খচিল তুমি তার আত্মা নিয়ে,
এসেছো কি আমার কাছে?
এখুনি আমার হৃদয়ে এঁকে দাও তুমি,
চাঁদ কলঙ্কের দাগ,
আমার মলিন বদনে,
যেখানে আমার ভালবাসা প্রোথিত রয়েছে,
দশটা বছর ওই সমুদ্র তীরে!
…………………………………………..

অনাথ শিশু

দরিদ্র তুমি কি জানো?
শুধু পেটের জ্বালায় কত শিশু ভিক্ষা করে।
ওদের বিবেকের কষ্ট কেউ কি বোঝে?
শুধু সভ্যতার দুনিয়া ওদের দেখে হাঁসে।
কত ছোট্ট ওদের বয়স,
যেখানে ভালোবাসার স্পর্শ পায়,
কত শিশু মা-বাবার কাছে?
ওরা ছোট্ট বেলায় হারিয়েছে মা-বাবাকে,
ওদের পরিচয় ওরা আজ ভুলে গেছে।
শুধু পেটের খিদের জ্বালায়,
দ্বারে দ্বারে গিয়ে ওরা ভিক্ষে করে।
দরিদ্র আজ ওদের বন্ধন দিয়ে আটকে রাখে।
শুধু একমুঠো ভাতের তরে,
বাটি হাতে নিয়ে ওরা ফুটপাতে বসে।
খাবার না পেয়ে ওরা,
সভ্যের পায়ে ধরে বলে,
বাবু খাইনি কাল থেকে,
দুটো পয়সা দাওনা আমাকে,
খিদের জ্বালায় আমার পেট কাঁদে।
সভ্যতা তুমি জবাব দিতে পারবে?
তোমার দ্বারে ওরা বাটি হাতে নিয়ে ভিক্ষা করে।
…………………………………………..

প্রতিশোধ

সাম্রাজ্যের অগ্রসরে,
যুগে যুগে কত ক্ষমতাশালীর অগ্রসর ঘটেছে।
তাদের রুদ্র বাহুর ক্ষমতার জোরে,
একদিন সারা বিশ্ব কেঁপেছে।
শুধু ক্ষমতার জোরে,
ওরা উল্লাসের সাম্রাজ্য অধিকারে মেতেছে।
যুদ্ধ তুমি কি ওদের শান্তি দিতে পারবে?
তাহলে কেন এতো প্রাণের খিদের জ্বালায় মাতো।
শুধু কি ক্ষমতার জোরে?
ওই রুদ্র বাহুর ক্ষমতা একদিন,
যৌবন থেকে যখন বার্ধক্যে যাবে?
তখন ওদের উল্লাসের কেতন নড়বড়ে হয়ে পড়বে।
ক্ষমতা তোমাকে ওরা ঠেকাতে একদিন,
মানব বন্ধনের বেড়া বুনবে।
সেদিন ওরা তোমাদের সেই ছলনা নিয়ে,
মহাকালের তান্ডব চালাবে।
তোমার ঔদ্ধত্যের ওই হাসিতে,
ওরা মরণ যন্ত্রণার লাল চিহ্ন দেবে এঁকে।
কতদিন তোমরা ক্ষমতা বাহুর যুদ্ধলীলা চালাবে?
একদিন রক্তের লাল চিহ্নের পথ ধরে,
হাজার হাজার বংশ ছুটে আসবে।
সেদিন তোমার সোনায় গড়া ঔদ্ধত্যের সাম্রাজ্য,
টুকরো টুকরো হয়ে খয়ে পড়বে,
ওই হাজার বংশের যুদ্ধদেহী প্রতিবাদের কোলাহলে!
…………………………………………..

অমর পাঠক

লেখনী তুমি কি বুঝেছো তারে?
তার অস্তিত্বে তোমার সম্মান বাড়ে।
তুমি কি তার পরিচয় জানো লেখনী?
সে সরস মনে যখন তোমার লেখনী পাঠ করে;
তার চিন্তনশীল মনে,
ভালোবাসার স্পর্শ জানায় তোমাকে।
তোমার লেখনীর সাম্রাজ্যে,
সে রয়েছে অমর পাঠক হয়ে।
এ দৃড় বন্ধনের মাল্যে গাঁথা,
এই সূতো না যেন যায় ছিঁড়ে।
যদি তোমার লেখনীর সাম্রাজ্যে,
পাঠক না থাকে,
সেই লেখনী কে পড়বে?
পাঠক তোমাদের কোমল ভালোবাসার স্পর্শে;
লেখার উদ্দিপনা জাগে!
যদি তোমাদের স্পর্শ না থাকে?
বিবেকের কোলজে ছিঁড়ে,
লেখনী তুমি কাঁদো অশ্রু নয়নে!
পাঠক তুমি কি বোঝাবে তাকে?
তোমাদের ভালোবাসার স্পর্শে,
কত লেখনী গেছে অমৃত সাগরে।
আজ পুষ্পে ভরা মাল্য গাঁথতে চাই লেখনীর সাম্রাজ্যে;
অমর পাঠক শুধু তোমাকে নিয়ে।
শুধু তোমার ভালোবাসায় লেখনীর উদ্দিপনা জাগে;
পাঠক তুমি চিরকাল রইবে পাশে,
শত শত লেখনীর অমর অমৃতময় জগতে।
…………………………………………..

ধ্বংসলীলা

ধ্বংস তুমি এসেছো কি প্রলয় উল্লাসে?
এই বিভৎস ধ্বংসের বিজয় উল্লাসে।
তোমার মহাকালের এ প্রলয় চিহ্নে,
দামামা বাজিয়েছো কি এ মহাকেতনে?
তোমার রূপের ধ্বংস দেখে ওরা কাঁদে,
নতুন বসন্ত আজ হারিয়ে ও গেছে।
নিদারুন যন্ত্রণায় পৃথিবী ও কাঁদে,
রূদ্র বাহুর ক্ষমতা আষটে ধরেছে।

পৃথিবী তোমার রূপ এ গন্ধ কোথায়?
ওরা ধ্বংসের ধূলিতে লুটো পুটি খায়।
মানুষ আজ ধ্বংসের ধূলিতে মরছে?
মহাকাল তোমার এ ধ্বংসে ওরা তুচ্ছ,
ভাঙা গড়ার খেলায় ওরা ও যে মাতে,
তোমার প্রলয় চন্ডী রূদ্র মহাকালে।
…………………………………………..

বৃদ্ধাশ্রম

খোকা তোর পরিবার থাক সুখে,
তোর বৃদ্ধা মা -বাবা আজ কোথায় যাবে?
রক্ত ঘামের সেই পরিশ্রমে,
কত স্বপ্ন দেখেছি তোকে নিয়ে।
আজ স্বপ্ন সব চোরা বালির মতো ধূলিষাৎ হয়ে;
চুরমার হয়ে দাঁড়িয়ে আছে,
ক্ষেপা তেষ্টার খিদের জ্বালায় মরুভূমির বালুতটে।
নিথর দুপুরে খিদের জ্বালায় পেট কাঁদে,
তোদের পাতে উঠছে হয়তো,
ভালো কত খাবার ওখানে।
আমরা ছিলাম যে অবাঞ্ছিত বস্তু হয়ে,
কত ঝড় চলেছে তোদের মধ্যে,
শুধু দুটো অবাঞ্ছিত এই প্রাণীকে নিয়ে।
আজ আমাদের শেষ ঠিকানা ঠেকেছে খোকা,
অজানা এক বৃদ্ধাশ্রমে!
চোখের ধারা কেন বৃষ্টি ঝরার মতো ঝড়ে পড়ে?
নয়ন তুমি কি আমাকে বোঝাবে?
কত পরিশ্রমের সেই রক্তঝরা কালোঘামে,
ছেলে আজ বড়ো অফিসার কত বড়ো আপিসে;
কত অঢেল প্রাচুর্যের ছোঁয়া তাদের,
শুধু এই দুটো অবাঞ্ছিত প্রাণীর জন্য খরচ করতে;
গায়ে তাদের বড়োই ব্যথা লাগে।
আমাদের ব্যথা চোখের জলে ভাসা বৃদ্ধাশ্রমে,
মন তবু পড়ে থাকে,
সেই ছোট্ট খোকার স্মৃতি আঁকড়ে ধরে।
আজ বড়ো হয়ে তারা মূল্যের দাম ভুলে গেছে?
নিজের সুখে দাঁড়িপাল্লায় মাপা,
নিজের বৃদ্ধা বাবা- মাকে বাড়ি ছাড়া করে।
আজ বৃদ্ধাশ্রমের কত স্মৃতি গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে;
স্বপ্ন ছিল অনেক,
শুধু শেষ জীবনে একটু ভালোবাসার স্পর্শ পাবে!
নিজের ছেলে আজ পরিচয় দিতে লজ্জা করে;
বাবা মায়ের সেই পরিচয়ে আজ বাঁচতে?
ওরা অর্থের লালসায় ললায়িত হয়ে ওঠে,
বৃদ্ধা বাবা- মা বৃদ্ধাশ্রমে চোখের জলে শুধু কাঁদে।
তবু দেয়না অভিশাপ বৃদ্ধা বাবা- মা তাদের,
দু-হাত তুলে বারে বারে আশীর্বাদ করে।
যদি দেখতো তাদের কত দুঃখ ব্যথার সে যন্ত্রণা;
কত বেদনা সহে তারা আজ বৃদ্ধাশ্রমে থাকে।
আজ অশ্রু নয়নে কাঁদছে কত-
বৃদ্ধা বাবা মা বৃদ্ধাশ্রমে!
হে নিষ্ঠুর তোমারা কি জানো?
মন্দিরের ভগবান আজ কাঁদছে,
অজানা এক বৃদ্ধাশ্রমে!
…………………………………………..

রক্তের স্বাদ

নিশুতি রাতের গভীর অন্ধকারে,
লালসার মত্তবাসনা।
রক্তের তেজ উগরে ওঠে,
বাসনার সাধ পেতে।
রক্ত পিশাচের কামনা,
ওই নিশুতি রাতের গভীর অন্ধকারে।
কত গোপনের গুপ্ত গহ্বরে,
পশুদের উগ্র লালসার উচ্ছাস।
সমাজ আজ কানে তুলো গুঁজে,
শুধু চোখের জলে কেঁদে যায়,
ছিঁড়ে যায় বক্ষ হৃদয়,
তবু চলে লালসাহীনদের রক্তের স্বাদ।
কামনা কি মরবে?
তার প্রত্যুত্তর কবে মিটবে?
বিচার আজ অন্ধকারাগার,
নিশুতি রাতের গভীর অন্ধকারে।
রক্ত পিশাচ নাচে উল্লাসে,
জনসমক্ষে যখন সত্য প্রকাশিত হবে,
কোলাহলে ডঙ্কা বাজিয়ে,
ফসিল যেদিন জেগে উঠবে?
ওরে রক্ত পিশাচ নাচিস না উল্লাসে,
সত্য যেদিন প্রকাশিত হবে-
তোদের সাধ সেদিন চিরতরে মিটবে।
…………………………………………..

হে মানব তোমার বংশধর

মানব তুমি কি এখনো সভ্য হওনি?
না সেই প্রাচীন শিল্পাঞ্জির মতো থেকে গেছো?
তোমার সভ্য দুনিয়া,
তুমি কি খুঁজে পাও না?
তুমি জগতের শ্রেষ্ঠ জীব,
তোমার খোলসের রূপান্তর হতে হতে,
কত যুগের পরে পেয়েছো,
তোমার এই সভ্য রূপ!
সেই আদিমতার খোলসে ভরা,
তোমার পদ চিহ্ন তুমি কি ভুলে গেছো?
তোমার স্বার্থের মলিন হৃদয়ে,
এই মানবজাতিকে আঘাত করো?
স্বার্থ তখন ফুলে ওঠে,
যখন শুধু নিজের বিবেকে নিজেকে চিন্তা করো!
আদিমতার পুষ্পে ভরা তোমার সেই বংশ,
ওরা এক সাথে থাকতো মিলে,
একে অপরের সুখে দুঃখে।
আজ আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়ে,
নিজের বংশধরের শিক্ষা ভুলে গেছো?
হে মানব তোমার সেই পরম বংশধর,
আজ কোথায় বলো?
ওরা হাতে খড়ির মতো দিয়ে গেছে শিক্ষা,
একতাই মোদের শ্রেষ্ঠ ভালোবাসা!
আজ কত রূপান্তর হতে হতে,
তুমি আজ কত উন্নত?
আধুনিকতার কম্পিউটার মস্তিষ্ক নিয়ে,
স্বর্গ মর্ত্য পাতাল ছুঁয়ে ফেলেছো!
মানব তোমার সেই বংশধরের;
আদিমতার শিক্ষা তুমি কি ভুলে গেছো?
…………………………………………..

পৃথিবীর রূপ

পৃথিবী ডাকিছে প্রেমে আকাশে আকাশে,
তোমার চরণ স্পর্শে হিজলের বনে।
মলিনতা যায় ভুলি পৃথিবীর প্রাণে,
মুকুলিত দেহরসে কুসুম প্রকাশে।
স্নিগ্ধ ছায়া কুঞ্জ তলে এ বিশ্ব আকাশে,
জাগিয়েছো বিশ্ব তুমি শান্ত দেহে টেনে।
বিশ্বময় মুগ্ধ করে রবে তুমি মনে,
হিল্লোলিত চামেলির সুন্দর প্রকাশে।

পৃথিবী তোমার রূপে সম্ভাষণ জাগে,
হিজলের কাঁঠালের এ যৌবন সাজে।
যুগে যুগে যত ব্যথা প্রেম সিংহাসনে,
বসুন্ধরা তোমার এ সিঞ্চিতের রাগে।
পৃথিবীর কোন পথ স্নিগ্ধ ছায়া লাজে,
কেশবতী কন্যা আমি দেখেছি নয়নে।
…………………………………………..

ফসিলের কান্না

সেদিনের সেই গভীর নিশুতি রাতে,
উন্মত্ত পিশাচ নাচে উল্লাসে ।
হায়নার মতো ওদের চিৎকার ভেসে আসে,
গহন অরণ্যের ওই নিশুতি রাতে ।
এ তো পাগলের উন্মত্ত লালসা নয়,
সচেতন মানব আজ,
আফিমের নেশায় কালগ্রাসে মত্ত ।
যৌবনের রক্তের সাধ পেতে,
রঙিন পৃথিবীর নেশায় মত্ত ।
জানে কি ওরা?
গোপনতার আড়ালে কত পাপ রচেছে ।
মনুষত্ব বিবেক আজ দানবরূপী সেজেছে ।
যৌবনের আফিমের নেশায় ওরা সাধ পেতে,
ছুটে নিশুতি রাতের গহন অরণ্যে ।
ধকড়ে ধকড়ে ওরা মরেছে,
নির্মম অত্যাচারের সাক্ষী আজ গোপনে ।
চাপা পড়ে আছে ফসিল আজ কত বছরে,
কেউ কি তা জানে?
সভ্যতার পোশাক পরে,
উন্মত্ত পিশাচ নাচে উল্লাসে ।
মাটিতে চাপা পড়ে ফসিল আজ,
ডুকড়ে ডুকড়ে কাঁদে,
কেউ কি তা জানে?
একদিন সত্য প্রকাশিত হবে,
যেদিন প্রত্নতাত্ত্বিকরা ফসিল নিয়ে পরিক্ষা করবে ।
সত্যরূপী মানব সেদিন জানবে,
রক্ত লালসাহীন পিশাচ,
তোদের অত্যাচারের শাস্তি দেখে,
একদিন সারা বিশ্ব কেঁপে উঠবে!
…………………………………………..

শ্রমিক

বুকঝরা কালোঘামে,
তোমার পরিশ্রম ওরা কি বোঝে?
শ্রমিক!
তোমার ওই রক্তঝরা কালোঘামে,
ওরা দাম দিতে নাহি পারে।
শুধু ক্ষমতার জোরে,
অর্থলোলুপ শাসন চালাচ্ছে।
শ্রমিক! তোমার রক্তঝরা ঘামে,
ওরা দাম দিতে নাহি পারে,
ওরা জানবে সেদিন?
তোমার বিনাশে,
যেদিন তুমি থাকবে না,
এই পৃথিবীলোকে।
তোমার রক্তঝরা কালোঘামে,
ওই সুন্দর সিংহাসন গড়ে উঠেছিল,
তোমার পরিশ্রমের কালোঘামে।
ওরা মূল্য নাহি দিতে পারে,
একদিন জানবে?
সেদিন মাথানত হয়ে,
তোমার পায়ে ওরা একদিন ক্ষমা চাইবে!
শ্রমিক! তোমার পরিশ্রমে,
ওই রক্তঝরা কালোঘামে।
…………………………………………..

মাগো আমার মা

মাগো আমার মা,
তোমার মেয়ে আজ বড়োই সুখে।
যখন তুমি পাশে ছিলে,
কত আনন্দের কোলাহল জাগত মনে।
তুমি কেন গেছো আমায় একা করে?
বাবা আর ভালোবাসেনা আমাকে,
বলে মুখ পুড়ি,
তুই কেন গেলি না মরে তোর মায়ের সাথে।
বড়ো কষ্ট লাগে মা এই সংসারে থাকতে,
খেতে দেয় না পেট পুরে,
বাবা নতুন বিয়ে করেছে।
আমি ভালোবাসা নিয়ে নতুন মায়ের কাছে গেলে;
আমায় দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয় বাড়ি থেকে।
একদিন প্রচণ্ড পেটের খিদের জ্বালায়,
মাত্র দুটো রুটি নিয়ে ছিলাম রান্নাঘর থেকে,
শাস্তি হিসাবে দিয়েছে মা,
আমার পায়ের পাতা আগুনে ঝলসে।
আজ কান্না ভরা চোখে,
বাড়ি থেকে বেরিয়েছি পথে;
ওরা হায়নার মতো তাকিয়ে থাকে আমার যৌবনে।
সমাজ আমায় দেখে হাসে শুধু লালসার যৌবনে,
মা আজ তোমার মেয়ে বড়োই সুখে,
সে প্রতি রাতে রমণীর সাজে যৌবনে মাতে।
মা আজ তোমার মেয়ে কত সভ্য সেজেছে?
ওরা সভ্য সাজতে দেয়নি তোমার এই মেয়েকে,
আজ তোমার মেয়ের কতই না দাম হয়েছে।
সে আজ রূপসীর সাজ সেজেছে,
কত অর্থ প্রাচুর্য তার যৌবনে লুটিয়ে পড়ে,
শুধু একটু কামনার সাধ পেতে।
এতো প্রাচুর্যের ছোঁয়ায় তবু কেন কান্না চোখে?
যখন মা তোমার কথা মনে পড়ে,
সেই বিকেল বেলায় দরজার সামনে বসে,
আমার চুলের বিনুনিতে বেঁধে দিতে,
কত ফুল সুন্দর করে সাজিয়ে;
কত সুন্দর না লাগতো আমায় তোমার হাতের স্পর্শে।
আজ আমার সব দুঃখ গুলো জড়ো হয়ে কাঁদে,
মা তোমার মেয়ে কত না বড়োই সুখে।
এই যৌবনের খেলায় খেলতে খেলতে,
একদিন তোমার মেয়ে যাবে মরে।
মা তোমার মেয়ে আর পারছেনা কষ্ট সইতে,
সমাজের লাঞ্ছনার কাছে,
সে আজ বারবনিতা সেজেছে,
মা তোমার মেয়ে আজ কত না বড়োই সুখে।
আজ তার দুঃখ গুলো-
চারদেওয়ালের যন্ত্রণায় ডুকরে ডুকরে কাঁদে!
…………………………………………..

বিরহ জ্বালা

বঙ্গ কুলেশ্বরী মোর আনন্দ সদনে,
কেন গেলে দয়াময়ি সে ফুল শুকায়ে।
ভিখারী করেছো তুমি তোমার আলয়ে,
বিরহের অভিসারে অমূল্য রতনে।
কেন এতো নিরানন্দ এ প্রেম সদনে,
বসন্তে হেরিয়া শশী নিঃস্ব রাত্রি ছায়ে।
নব নব সঙ্গীতের বিরহ এ লয়ে,
দিয়েছো বিরহ জ্বালা এ মোর পরাণে।

সারা ফুলবন খুজে করিনু ভ্রমণে,
ফেলে দিয়ো ফুল যদি দুরন্ত সমীরে।
নিবাও এ দীপ যদি উদয় অচলে,
বসে থাকি কেশবতী নয়নে নয়নে।
এ দীর্ঘ বিরহ জ্বালা হৃদয় গহ্বরে,
হাসি মুখে নিয়ে চলো কামরাঙা লালে।
…………………………………………..

আমার ভারত

এই ভারতের মহামানবের তীরে,
তাজা রক্ত দিয়ে লিখে গেছে কত-
এ মহান ভারতের ইতিহাস!
তেরাঙ্গা পতাকার উচ্চ শিরে,
এ মহান ভারতের অমৃত পরিচয়।
কত সংগ্রামের রণক্ষেত্রে,
বিপ্লবী তুমি দিয়েছো প্রাণ,
স্বদেশ প্রেমে তোমার তাজা রক্তে।
জাগিয়েছো এ মহান ভারতের ইতিহাস,
এই ভারতের মহামানবের তীরে,
এসেছে যুগে যুগে কত বাহু ক্ষমতা,
ভারত তোমার সাম্রাজ্য অধিকার করতে!
রণক্ষেত্রের ওই রক্তে রাঙা ইতিহাসে,
স্বাধীনতার পরিচয় পেতে,
যুগে যুগে তোমার কত বীর সন্তান,
তেরাঙ্গা পতাকা নিয়ে ঝাঁপিয়েছে রণক্ষেত্রে,
এই মহান ভারতের পরিচয়ের সম্মান বাঁচাতে!
কত মহামানবের অমৃত বাণীতে,
স্বাধীনতার সংগ্রামে জেগেছে মাঠ-ঘাট-প্রকৃতি।
ভারত তোমার মহামানবের তীরে,
ওই রক্তে রাঙা হয়ে আছে,
স্বাধীনতা সংগ্রামে লড়া রণক্ষেত্রের মাঠে।
যুগে যুগে কত বাহু ক্ষমতা এসেছে,
ভারত তোমার সম্মান কুলষিত করতে!
পারেনী ওরা বাহু ক্ষমতা দিয়ে,
তোমার তেরাঙ্গা পতাকা মাটিতে লুটাতে।
ওই রক্তে রাঙা সংগ্রামে,
ওরা ভয় পেয়েছে,
তোমার সত্য অমর অমৃত বাণীকে।
যুগে যুগে ওই মহামানবের তীরে,
কত বীর সন্তান জন্ম নিয়েছে,
ভারত মা তোমার ওই সম্মান বাঁচাতে।
ওরা পারেনী কোন দিন,
তোমার সম্মান মাটিতে লুটাতে।
এ ভারতের মহামানবের তীরে,
কত রক্ত রাঙা সংগ্রামে,
আজ এই স্বাধীনতা এসেছে।
ভারত তোমার এ মহামানবের তীরে,
অমর অমৃত জগৎ রয়েছে।
তোমার কত বীর সন্তান,
স্বদেশ প্রেমের তাজা রক্ত দিয়ে লিখে গেছে,
স্বাধীনতার অমৃত নাম।
আজ মহান ভারতের প্রতি কোনে কোনে বাজছে,
স্বাধীনতার আনন্দের কোলাহল,
এ মহান ভারতের মানবতার অমৃতময় সাম্রাজ্যে।
…………………………………………..

বন্দে মাতরম্

ভারত আমার দেশ,
মহান এ ভারতে।
রেখে গেছে অমর কীর্তি,
বিশ্ব কবি তোমার লেখনীর জাতীয় সংগীতে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
কত বীর বিপ্লবী,
জন্মেছে এ মহান ভারতে!
তাদের মহাসংগ্রামে,
দিয়ে গেছে লাল রক্তের তাজা প্রাণ,
কেউ বা ফাঁসির মঞ্চে!
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
কৃষকের কঠোর পরিশ্রমে,
ফলছে সোনার ফসল ক্ষেতে।
কত মা কাঁদছে-
বীর সন্তানের মৃতদেহের পাশে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
মোরা লড়বো এক সাথে,
দৃড় বন্ধনে হাতে হাত রেখে,
মানবতার এ ভারত সাম্রাজ্যে।
থাকবে না জাত- ধর্ম বিচার,
সকল ভাই বোনে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
দিয়ে গেছো হাতে খড়ির শিক্ষা,
দয়ার সাগর তুমি বিদ্যাসাগর,
তোমার লেখনীর বর্ণপরিচয়ে।
বীর সন্ন্যাসী বিবেকানন্দ,
চিনিয়েছো ভারতের পরিচয়,
তোমার স্বদেশ প্রেমে সেই শিকাগো সম্মেলনে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
ভারতের প্রথম রক্ষা কবজ,
হে মহান রাজা পুরু,
দিয়েছো ওদের শিক্ষা,
তোমার গভীর স্বদেশ প্রেমে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
কত ভারতরত্ন জন্মেছে,
ভারত মা তোমার স্বদেশে।
যুগে যুগে তোমার কত সন্তান,
জন্মেছে তোমার ভারতে।
ওরা দিয়ে গেছে লাল তাজা রক্তে প্রাণ,
তোমায় শৃঙ্খল মুক্ত করতে।
এসেছে দেশের স্বাধীনতা
কত সংগ্রামের 1947 সালের 15ই আগষ্টে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
কত বিজ্ঞানী জন্মেছে,
ভারত তোমার এ মহান জন্মভূমে।
চিকিৎসা আজ উন্নত,
ডাক্তারের মহান সেবাব্রতে।
থাকবে তোমরা ভারতে,
যুগে যুগে বেঁচে চির অমর মাল্যে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে।
আজ এই মহান ভারত ভূমিতে,
এসো সকল ভাই- বোনে।
মোরা নয় হিন্দু- মুসলিম- খ্রিস্টান -বৌদ্ধ ও জৈন,
থাকবো মানুষ হয়ে পাশে,
এ মহান মানব সাম্রাজ্যের ভারতে।
বলো বন্দে মাতরম্,
সোনায় গড়া ভারতে!
…………………………………………..

আমার প্রণয়িনী

প্রণয়িনী কোথায় গেলে তুমি?
তোমাকে দেখতে পাইনে।
চোখের আলো ঝাপসা হয়ে আসে,
আমার মন আজ প্রেম-প্রণয় গেঁথেছে।
প্রণয়িনী তুমি কত দূরে?
তোমার চিন্তা এলে সুখের সাধ জাগে।
বাস্তবের রূপে তুমি কখন আসবে?
যদি আসো দু- হাত দেবো বাড়ায়ে।
ওই পদ্ম পুকুরের ধারে,
ছিপ নিয়ে মাছ ধরতে বসবো দু-জনে ।
কত আনন্দের কোলাহলে,
তুমি আর আমি থাকবো ভালোবাসার বাস্তবে।
প্রণয়িনী তোমার দেখে আমার স্বপ্নের সাধ জাগে,
যতোই থাকোনা তুমি দূরে।
অর্জুনের মতো দিব্যদৃষ্টি নিয়ে,
ভালো থাকবে আমার মন তোমার স্বপ্ন ঘিরে।
…………………………………………..

বিশ্বকবি

রবি ঠাকুর তুমি কোথায় গেলে?
তুমি কি এসেছো আবার এ মহাপৃথিবীর বুকে?
তোমার জন্ম শতবর্ষে-
তুমি চির জাগ্রত রয়েছো বিশ্ব মননে।
তুমি বিশ্ব কবি হয়ে রেখে গেছো কীর্তি,
এ মহাপৃথিবীর সকল শিক্ষার অমৃতময় জগতে ।
তোমার চিন্তার অগ্রভাগে,
সভ্য শানিত সমাজ তোমার কীর্তিতে দাঁড়িয়ে।
তুমি বিশ্ব কবি হয়ে রয়েছো বিশ্বে,
আমাদের সকল এ বিশ্ব জগতে!
তোমার শৈশবের কত যন্ত্রণা নিয়ে ,
কাটিয়েছো জীবন শ্যামের আঁকা লক্ষণ গন্ডিতে।
তোমার লেখনীর অমৃতময় স্পর্শে
তুমি জাগিয়েছো এ বিশ্ব সংসারকে!
আমরা পড়ে মুগ্ধ হই তোমার লেখনী জাদু স্পর্শে,
তাই তো তুমি আমাদের কাছে রয়েছো বিশ্বকবি হয়ে।
শ্যামের সেই লক্ষণ গন্ডি,
গুরুদেব তোমার সেই শৈশব স্মৃতি মনে আছে?
ছোট্ট বালক হয়েও তুমি শিক্ষার আঙিনায় চলতে।
লক্ষণ গন্ডি পেরিয়ে সীতার কী বিপদ হয়েছে,
এতো ছোট্ট বয়সে কষ্ট চেপে,
তবুও তুমি বের হওনি সেই লক্ষণ গন্ডি থেকে,
জগৎ সংসারকে দেখিয়েছো নিয়মানুবর্তিতা কাকে বলে ।
তোমার কষ্ট তুমি চেপে রাখতে বুকে,
ওই চারদেয়ালের ঘরে জানলার পাশে বসে।
কত গল্প করতে বিশ্ব প্রকৃতির সাথে,
লিখে গেছো কত কবিতা, গল্প, নাটক,
তোমার ভাবের লেখনী সেই গীতাঞ্জলিতে।
গুরুদেব তুমি পূজনীয় এ বিশ্ব সংসারে,
কত স্নেহ দিয়ে ভালোবাসতে এ বিশ্ববাসিকে।
কোমলতার পুষ্পে ভরা তোমার হৃদয়ে,
লিখে গেছো গীতাঞ্জলি নবেল জয়ী বিশ্বকবি হয়ে।
তবুও তোমার সংসারে তুমি দেখেছো কত বিপদ,
তোমার আত্মীয়- স্বজনের মৃত্যু একে একে করে।
নিজের কন্যাদের মৃত্যুর যন্ত্রণা বুকে চেপে,
কষ্ট তোমাকে কষ্ট দিয়েছে,
নিজের কষ্ট তোমার লেখনীতে ফুটিয়ে তুলতে।
কষ্ট ভাগ করতে এ বিশ্ব সংসারে,
তোমার কল্পনার অমৃতময় মননে।
আমরা কষ্ট পেয়েছি তোমার ব্যাক্তিত্বের কষ্টতে,
আজও মনে পড়ে গুরুদেব তোমাকে।
কত স্নেহ দিয়ে লিখতে তোমার লেখনী ভালোবাসার স্পর্শে।
আমরা মহিত হতাম পড়ে তোমার অবিস্মরণীয় সৃষ্টি ওই গীতাঞ্জলিতে!
জানি জগতের নিয়ম কেউ থাকেনা পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে।
পূজনীয় গুরুদেব তুমি যেদিন গেলে এ বিশ্ব সংসার ছেড়ে!
কেঁদেছিল জগৎবাসি,
এ বিশ্ব সংসার তোমার কথা মনে করে,
তুমি থাকবে চিরকাল বেঁচে অমর অমৃতময় জগতে।
২৫ শে বৈশাখ যখন আসে,
শিক্ষারজগৎ আনন্দের কোলাহলে মাতে।
তোমার সৃষ্টি সেদিন বেজে ওঠে চারিদিকে,
কত নাটক কবিতা গান তোমার সেই শান্তিনিকেতনে।
তুমি আজ নেই এ বিশ্ব সংসারে?
রয়েছো চন্দ্র সূর্যের মতো,
গুরুদেব আমাদের সকল জগৎবাসির হৃদয় কমলে!
…………………………………………..

মানবতার পরিচয়

মানবতা! তুমি কোথায় গেছো হারিয়ে?
আজ যুগের সাম্রাজ্যের কত অগ্রসরে,
তোমার পরিচয়ের স্পর্শ কোথায় গেছে?
তুমি কি আছো সেই রক্তে রাঙা লাল পরিচয়ে।
যখন মহাকালের বাহু তোমাকে আঘাত করে,
কাল তোমাকে তাদের সাম্রাজ্যে আটকে রাখতে চায়।
মানবতা তোমার কি পরিচয়?
তুমি তো কোন জাত ধর্ম নও,
তোমার পরিচয় তুমি মানবতাবাদী।
যখন বীভৎস মহাকাল তোমাকে আঘাত করে?
তুমি মানবতাবাদের সেই রক্তের লাল রঙে,
মৃত্যু আঘাত- যন্ত্রণা সহ্য করে,
এঁকে দিয়েছো মানব চিহ্ন ওদের সম্মুখে!
একদিন জাগবে সেই মানবতাবাদ,
যেখানে জাত -ধর্মের নির্বিশেষে,
ওরা সকলে ছুটে আসবে,
মানব সাম্রাজ্যের সোনার তরী গড়তে।
ওরা একই বৃন্তে দুইটি কুসুমের মতো –
একদিন হাতে হাত রেখে,
মানবতার মানব সাম্রাজ্যের বংশ গড়ে তুলবে।
যেখানে থাকবেনা কোন-
জাত ধর্মের আমি হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান,
থাকবে মানব সাম্রাজ্যের এক মানবতাবাদ!
মহাকাল তখন তুমি ওদের ঠেকাতে পারবে?
তোমার হিংসার রাজত্বে ওরা মুখ ঘুরিয়ে,
একদিন মানব সাম্রাজ্য গড়ে তুলবে।
মহাকাল তখন তুমি লজ্জা পাবে,
ওদের এতদিন অশিক্ষার আঙিনায় আটকে রাখতে চেয়েছিলে।
আজ ওরা সভ্য শিক্ষার ছোঁয়া পেয়ে,
এখন মানবতার মানব সাম্রাজ্যে যেতে চায়,
সব বন্ধনের বেড়া কাটিয়ে।
ওরা মানবতাকে আঁকড়ে ধরতে চায়?
না হলে যুগে যুগে মহাকাল এসে,
ওদের অশিক্ষার আঙিনায় আটকে রাখতে চায়।
…………………………………………..

মহাপৃথিবী

রূপসী নন্দিনী তুমি এতো কি ভাবো?
তোমার প্রেমাস্পদের বন্ধনে,
আমি হিজলের কাঁঠালের বনে আটকে।
যখন তুমি চুল এলিয়ে বসেছিলে?
তোমার রূপে আমার হৃদয় যন্ত্রণা বাসা বেঁধেছে।
তুমি রূপসী চিত্রকল্পতরু রমণী,
যখন বাসিনীর সাজ সেজে তুমি হাঁটতে;
আমার হৃদয় কমলে,
দেখেছি তোমায় অমাবস্যার চাঁদনি রাতে।
গৃহহীন হয়ে ছুটে যেতে চাই,
রূপসী নন্দিনী তোমার হিজলের কাঁঠালের বনে।
কোমল ঘাসের তলে বসে,
লাবণ্যময়ী রূপ দেখেছি বারে বারে।
হে নিষ্ঠুর রবিকিরণ তুমি যাও কেন ডুবে,
এখুনি আসবে আমার মোহিনী,
সে বাসিনীর সাজ সেজে।
এ অমোঘ আকর্ষণ আমায় যাযাবর করেছে,
হে বিশ্ব মহাপৃথিবী,
তুমি নারী সেজে জোনাকির ক্ষীণ আলোয়,
আমার স্বপ্ন দিয়েছো সাজিয়ে।
এখন আমি কোমল ঘাসের তলে বসে,
শিশির বিন্দু ফোঁটা আমায় নিয়ে গল্প করে।
আজ আমি প্রেমাম্পদের বন্ধনে আটকে,
পূর্নিমার চাঁদনি রাতে দেখেছি তারে।
হে বিশ্ব মহাপৃথিবী তুমি চুল এলিয়ে,
আমায় দিয়েছো প্রেমাম্পদের বন্ধনে আটকে।
…………………………………………..

সম্মান

সেদিনের সেই চলার পথে,
কিছু দূরে কালোরাত্রির পদধূলি।
পরিচয়হীন মেয়েটি যখন একা পথে হাঁটে;
অন্ধকারের গুপ্ত গহ্বরে,
কেউ হায়নার মতো চিৎকার করে,
আতঙ্কের বিভীষিকা তার আশে পাশে।
জনকোলাহলের সেদিন রব গেছে থমকে,
ওই গুপ্ত গহ্বরে নেকড়ে বাঘ গুলোর;
জিহ্বা রক্তের লালসায় লক লক করে ওঠে।
কাঁদে পরিচয়হীন মেয়ে,
বিভীষিকার গহ্বরে তাকে আটকে রেখে,
ধারালো নখওয়ালা নেকড়ে রক্তচোষে।
হে চন্দ্রশেখর তুমি কি ঘুমিয়ে?
পরিচয়হীন মেয়েটি নিজের সম্মান বাঁচাতে,
নিজেই আজ যমুনার জলে ঝাঁপ দিয়ে মরে।
সে তো পরিচয়হীন মেয়ে,
তাতে কার কি বা যায় আসে।
গুপ্ত গহ্বরে ওই বিভীষিকা নেকড়ে,
কত পাপ রচেছে ওরা গোপনে,
কেউ কি তা জানে?
ওরা ধারালো নখ কেটে সভ্য সাজতে চায় সমাজে;
সমাজ তুমি কি ওদের বরণ করবে?
পরিচয়হীন মেয়েটি গেছে হারিয়ে,
কেউ প্রতিবাদ করেনি তার এই ঘৃণ্য অপরাধের।
সমাজ তুমি কি তার আত্মীয় হবে?
না হলে গুপ্ত গহ্বরের বিভীষিকা,
তোমাদের আনাচে-কানাচে।
এই ভাবে কি দেশের সম্মান লুন্ঠিত হবে প্রতিরাতে?
জাগো সমাজ, অলিগলি, পাড়া প্রতিবেশী,
ওই ধারালো দাঁতওয়ালা নেকড়ে আসছে ধেয়ে,
তোমরা কি সহ্য করবে?
উঠুক প্রতিবাদের ধ্বনি,
সমাজ তার অভিবাবক হয়ে এসেছে বিচার চাইতে?
ওই নেকড়ে বাঘ গুলো ভয়ে আঁতকে ওঠে,
তোদের পাপ আজ সমাজের সম্মুখে।
সমাজ আজ রুদ্ররূপী চন্দ্রশেখর সেজে,
তোদের পিপাসার স্বাদ চিরতরে মিটবে।
পালাবি কোথায় ধারালো দাঁতওয়ালা নেকড়ে,
সমাজ আজ রুদ্ররূপী চন্দ্রশেখর সেজেছে!
…………………………………………..

ছেলেবেলা

মাগো আমার মা,
তুমি যখন জুড়ে ছিলে,
আমার হৃদয়ের কোল ঘেষে।
সেই হাঁটি হাঁটি পা পা করে,
আমায় তুমি চলতে শিখিয়ে ছিলে।
ভুবনের প্রান্তে তুমি আমার কাছে,
স্নেহময়ী মা হয়ে রয়েছো আজীবন হৃদয়ে।
ছেলেবেলার স্মৃতি পড়লে মনে,
মা তোর স্মৃতি জাগে হৃদয়ে বারে বারে।
মাগো আমার মা,
তুমি ছেলেবেলা ভরিয়েছিলে স্নেহ-মমতা দিয়ে।
তখন আমি জানতাম না মা,
একদিন তুমি যাবে আমায় ছেড়ে।
মাগো আমার মা,
তুমি কি আছো ওই স্বর্গ পানে,
দেখেছো কি তোমার ছেলেকে?
ছেলেবেলা থেকে এসেছে সে আজ যৌবনে।
আজ তার জীবনে মায়ের সাধ শুধু খালি খালি লাগে।
চায় না সে বার্ধক্যে যেতে,
তুমি ও কি আছো মা তোমার ছেলের জন্যে?
তুমি কোথায় জন্ম নেবে?
একদিন তোমার এই ছেলে মরে,
তোমার মাতৃগর্ভে সে জন্মাবে।
চায় খুঁজে সে ছেলেবেলাকে,
যেখানে মা ছেলের ভালোবাসা,
হাঁটি হাঁটি পা পা করে।