গীতা-১

সম্মুখে কুরুক্ষেত্র- বিস্তৃত হিংসার ক্রোধ।

ফণি মনসার ঝোপে-
ক্রন্দনরত বিমর্ষ প্রজাপতি।

মহাবীর ভীষ্ম খেলছেন সাপলুডু…
অসহায় বিধুর।

বৃত্তে রক্ত-রক্তে স্নাত ধরণী
চৌকস শকুনি খেলেন রাজনীতি-

রথের চাকায় নগ্ন গৌধূলি- মিথস্ক্রিয়ায় সুতপূত্র
ধরনীর বিভাজন- ধর্ম এবং অধর্ম
সটিবনে ঠিকুজি খুলে বসেছেন বেদব্যাস।

কৃষ্ণের বিশ্বরূপে নতজানু অর্জূন
অথচ দ্রৌপদী নির্বাণ-

আজকাল সূর্য প্রণাম হয় না– জবা কুসুমে
তবুও সূর্যপুত্র হাসে অগ্নিবাণে…

একা দাতা কর্ণ
মহিমান্বিত আপন সংসারে।
…………………………………………..

গীতা-২

কুরুক্ষেত্রে সমবেত আজ ধর্ম ও অধর্ম-
প্রিয়ম্বদার সুরে রাত জাগে
তবুও অশ্বখুরের কর্ষণে ধূলো ওড়ে হওয়ায়…

যদিও হাওয়ারা বেসামাল– রসায়নের সূত্রে
শূন্য থেকে প্রথম মুক্তি-
তবুও ধৃতরাষ্ট্র গান বাঁধেন অহমের।

সন্ধ্য আইনে যদিও প্রেম নিষিদ্ধ
তবুও কেউ কেউ আজ অন্ধ-
কেউ খুলে জানালার কবাট।

রক্তপ বিবেক খুঁজে কিছু স্বজনের রক্ত
কে ঈশ্বর ?
অথচ কেউ কেউ বলেন- মানুষের শেষ যেখানে…
বেচারা ঈশ্বর, সেখান থেকে করেন শুরু।
…………………………………………..

গীতা-৩

ধরো নদীটি তোমার- রাতগুলো আমার
ওখানে আকাশ… একটা আকাশ।

আকাশে তারারা জ্বলে ওঠে- নিভে আসে
ভেসে যায়- ভেসে আসে…
সরুজ নদীর কোল ঘেঁষে মহাভারত…

আমিও স্বপ্ন দেখি উঠে আসে পঙ্গপাল
যারা চায় রক্ত… রাষ্ট্র চায়
চায় শুধু ক্ষমতার মোহ-

আহ…
আমিও যদি রাজা হতাম ক্ষুধায়ও হাসতাম
খিল খিল করে।
…………………………………………..

গীতা-৪

বুকের বাঁপাশে ক্ষত- টনটন করে ওঠে
পুরোণ ব্যথা হারানো কথার পুষ্পাঞ্জলি।

কান্নার ছবিটা কদম ফুলে আষ্টেপৃষ্টে
অথচ অরণীর কাষ্টের গানগুলো
বর্ষার জলে হয় স্নাত।

চোখ বুজলেই আজকাল ভেসে ওঠে-
কুরুক্ষেত্র।

সঞ্জয়ের উবাচ থেকে ক্রমান্বয়ে খসে পড়ে
ঝরাপাতার মতো-
রক্ত
প্রতিশোধ
এবং খাণ্ডবদাহন।
…………………………………………..

গীতা-৫

অভিমুন্য- অভিমানে জন্মকথা…

তালপাতায় – তালপাখায়
খোঁজে কদম বিষণ্নতা।

অথচ
উত্তরায় জানে কী ছিল বুকের ব্যথা!

কেউ কেউ বলে গর্ভে অনন্ত শিক্ষা-

অর্জূন পুত্র। তবুও মহাবীর…
বাণে নির্বাণ ক্লান্ত চোখ
বিকেলের হাওয়ায় স্থির কতিপয় বিষণ্নতা।

অথচ
সপ্তরথী নুপংসক হানে মৃত্যুর গান
তান হয়ে আসে রাতের আঁধার।
…………………………………………..

গীতা-৬

মর্মর পাতারা আজ কৌশিকীর তীরে-
শকুন্তলার জন্ম বৃত্তান্ত পাতাহীন ডালেরা যেমন।

অথচ ঐশ্বরিক খেলায় মত্ত কাম এবং ক্রোধ
ক্ষমতায়নের রক্তে হিন্দোল ওঠে-
অশরীরিয় আত্মায়।

আজ শুধু মহাভারত হবে চোখে চোখে
নিয়মতান্ত্রিক আগুনের পাতায়।
ভগবতের চতুর্দশ অধ্যায় হয়ে চলে যাবো
কর্ণের মানবিক চেতনায়।
…………………………………………..

গীতা-৭

নদীটা ছিলো শরশয্যায়-

কেউ কেউ বলে নদীটা ফুরিয়েছে স্রোত
উজান চিনে না-গায় না ভাটির গান।

রক্তপাত হীন সংসার অপ্রত্যাশিত
তবুও নায়ক খুঁজি মহাভারতের যোজনায়
ভীষ্ম নাকি কৃষ্ণ!

পার্থিব সুরে কে ভাজে অমিয় সুর?
নাকি অপার্থিব চেতনায় একে একে হয়ে যাই
আমরা অসুর।

তবুও রেললাইন ধরে শেষ আউটার সিগনাল
খড়ের চৌচাল আগুন-
আগুনে দাউদাউ করে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড।