ইহকাল-পরকাল

চোখ মেলিয়া দেখো ঐ আলো
দেখিলে তোমার লাগিবে শুধু ভালো
নয়ন মেলিয়া দেখো যাবে মন ভরে
চিন্তা করিলে অশ্রু তোমার যাবে ঝরে

সকলে মিলে কর সদা পুণ্যের কাজ
দশে মিলিয়া করিতে কাজ কভু করিও না লাজ
স্রষ্টার ইশারা ছাড়া খুলিবে না তোমার আঁখি
তাই চলো সবে তার প্রার্থনা করিতে থাকি

সারাদিন থেকো না মেতে দুনিয়ার খেলায়
পরকালে কেমনে বাঁচিবে আজাবের ঠেলায়?
দুনিয়ার বুকে উঠো না বাহারি উৎসবে মাতি
পুলসিরাতে পাবে না খুঁজিয়া এমন কোনো সাথী

বাঁচিয়া থাকিতে কর কেন মানুষের নিন্দা?
কবরে কি হবে ভাবিয়া দেখেছ কি?
যখন তুমি হবে জিন্দা?
মানুষের দিলে দিও না অযথা কষ্ট
দিলে তোমার সকল পুণ্য হয়ে যাবে নষ্ট

কতো রোহিঙ্গা মুসলমান ভাসিয়া মরিয়াছে সর্বনাশা নদী নাফে
তাদের কি হবে যারা লিপ্ত হয়েছিল রোহিঙ্গা মারার পাপে?
দুষ্ট লোকের কথা শুনে দিও না আগুনে লাফ
ভুল কথা যদি বলিয়া থাকি করো মোরে মাফ।
…………………………………………..

উৎকণ্ঠা হৃদয়

বহুদিন হয়ে গেলো মসজিদে যাওয়া হয় না
কতদিন জুমার সালাত আদায় করা হয় না
কতদিন হলো খতিব সাহেবের খুৎবা শুনিনা
জুমাবারে জোহরের নামাজ আদায় করেই শেষ?

হে মালিক এ কেমন দুনিয়াদারি করছি আমরা?
মুসলমান হয়েও এমন জীবন অকল্পনীয়
হয়তো তোমার মুমিন বান্দা হতে পারিনি
তাই বলে কি তোমার ঘরে গিয়ে সিজদাহ্ দিবো না?

মাহে রমজানে তোমার ঘরে হতো কতো আয়োজন
হতো তোমার মুমিন বান্দাদের মক্কা শরিফ তাওয়াফ
তারাবির নামাজে হাফেজি কুরআনের কণ্ঠে তেলাওয়াত
অথচ এই রমজানে যাচ্ছি কাটিয়ে দিন বদ্ধ ঘরে

শুধু মুয়াজ্জিনের সুমধুর কণ্ঠে আজানের ধ্বনি শুনি
মুয়াজ্জিনের কণ্ঠে তোমার ঘরে আহ্বান শুনি
হে রহমান, তুমিই সর্বময় ক্ষমতাধর, তুমিই মহাজ্ঞানী
তাই তো তোমার চূড়ান্ত ফায়সালার প্রহর গুনি।
…………………………………………..

মুসলিম

তুমি মুসলিম
তুমি সৃষ্টির সেরা জীব
চোখ দু’টি বুঝে দেখো সব হবে পর
মাঠি দিয়ে বাঁধা হবে তোমার আমার ঘর
সোনায় মুড়ানো সাজানো বাগান পড়ে রবে সব
যেতে হবে ছেড়ে সব, ডাক দিলে রব।

মিছে মায়া অভিনয়ে পড়ে আছি আজ
আরাম আয়েশ আর রাজকীয় সাজ
থাকবে না এই রাজমহল, থাকবে নাকো কিছু
অযথাই দৌড়াদৌড়ি এ মায়ার পিছু।

একদিন মুছে যাবে এমন উচ্ছ্বাস
নাম ধরে ডাকবে না কেউ ডাকা হবে লাশ
সেইদিনের মুখোমুখি সবাই হবে
জানি নাকো সেই দিনটি কবে?

সেইদিন হতে পারে আজ কি-বা কাল
উড়বে না আর বেশি কাল এই জীবনের পাল
তাই বলি সময় থাকতে সরল পথ ধর
পরকালে শান্তির নিবাস গড়

আজ আছি কাল নেই
তবে অন্যকে কেন করো হেয়?
তোমার আমার ঠিকানা হবে সেই মাঠির ঘর।
…………………………………………..

অভিযোগ

তোমার শহরে চাপাবাজীর শেষ নেই
আমার গাঁয়ে নিয়মের শেষ নেই

তোমার শহরে বিভিন্ন যন্ত্রের শব্দে আমার ঘুম আসে না
আমার গাঁয়ে পাখিদের আর শিশুদের কিচিরমিচির খেলার শব্দে আমার ঘুম ভাঙে

তোমার শহরে ভোরে রাস্তায় হাজার হাজার শ্রমিকেরা হামাগুড়ি খায়
আমার গাঁয়ে ভোরে চায়ের দোকানে আমজনতা হামাগুড়ি খায়

তোমার শহরে মানুষকে মানুষ মুহূর্তে বিক্রি করে দেয়
আমার গাঁয়ে প্রভাবশালী মহাজন দরিদ্রের জমি বিক্রি করে দেয়

তোমার শহরে গভীর রাতে যানবাহনের শব্দে নির্ঘুম রাত কাটে
আমার গাঁয়ে বন্ধুর নাক ডাকার শব্দে নির্ঘুম রাত কাটে

তোমার শহরে অসহায় মানুষের রাস্তায় রাত্রি যাপিত হয়
আমার গাঁয়ে পূর্ণিমার আলোয় দাঁড়িয়ে কিষাণীর রাত্রি যাপিত হয়

তোমার শহরে কমিউনিটি সেন্টারের খাবার কুকুরের পেটে ঠাঁই পায়;
তবু অনাথের মুখে আহার জুটে না।
আমার গাঁয়ে দালানবাড়ির পাশে অসহায় রমিজ উদ্দিনের ঘরে অনাহারে দিন কাটে;
অথচ দালানবাড়ির বিলেতি কুকুরের পেটে আহার জুটে।

তোমার শহরে মা-বাবারা বৃদ্ধাশ্রমে থাকে
আমার গাঁয়ে মা-বাবারা অনাহারে থাকে

তোমার শহরে দিনদুপুরে খুনাখুনি হয়
আমার গাঁয়ে রাতে আড়ালে ডাকাতি হয়

তোমার শহরে ভোর হলে ছোট্ট শিশুরা স্কুলে যায়
আমার গাঁয়ে ভোর হলে ছোট্ট শিশুরা মক্তবে যায়

তোমার শহরে ভুয়া কাবিননামায় বিয়ে হয়
আমার গাঁয়ে বিয়ের নামে কুসংস্কারের তামাশা চলে
…………………………………………..

আধুনিক ভালোবাসা

সেদিন কতই না ভালোবাসা হয়েছিলো
আধুনিক যুগলপ্রেমের সাক্ষী শহরের সজ্জিত পার্ক
শতশত প্রেমের সূচনা হয়েছিলো
একগুচ্ছ ফুল হাতে নির্জন গাছ তলায়
প্রেমিক তার নব প্রেমিকাকে প্রেমনিবেদন করিছিলো
প্রেমিকা খুব হাসিমুখে মেনে নিয়েছিলো
ভালোবাসা দিবস বলে কথা
ভালোবাসা যদি না হয় বন্ধুরা বলবে বলদ একটা
বিশেষ দিবসে বিশেষ মুহূর্ত শেষে কি হবে?
কি হবে সেই উত্তর কারো নেই
জীবনের একটা দিন না হয় বেহিসেবী থেকে যাক
শুধু ক্ষণিকের সেই মুহূর্ত
দুটি মন একাকার হয়ে দিনটি ভালোই লেগেছিলো
সেই উজ্জ্বল আলোর ভালোবাসা দিবস শেষে
সেই পার্কের ডাস্টবিন থাকে ফুলে ফুলে সাজানো
পরিচ্ছন্নতাকর্মী ফুলের দিকে তাকিয়ে ভাবেন
আহা একি কাণ্ড কারখানা
ফুলের পাপড়ি এখনো শুকায়নি
অথচ বাগানের ফুল ডাস্টবিনে
ওরে মূর্খের দল
গতকাল রমণীর টলমলে হাতের অপূর্ব সুন্দর ফুল ডাস্টবিনে?
এই বুঝি ভালোবাসা?
আহা কতই না আধুনিক আমরা
কতই না দিবসে ভালোবাসাবাসি
যান্ত্রিক শহরে কতই না সাদা-কালো মানুষের বসবাস
এতো মানুষের ভিড়ে সবার মুখেই তো আবরণ
বাহিরে চাকচিক্যময় ভালোবাসার ভিড়ে
ঠিকবেঠিক মুখোশের রহস্য জানা বড়ই মুশকিল
তবে একথা সত্যি যে আধুনিক হয়েছি বটে
হয়নি শুধু আমাদের বিবেক জাগ্রত
এতবড় শহরে অন্ধকার নেমে এলেই বুঝা যায়
শহরের মূল্য কতটুকু
শহরের বাইরের দৃশ্য দেখলে
কি শহর কি গ্রাম পার্থক্য বুঝা মুশকিল হয়ে পড়ে
নির্জন রাত্রি শহরকে গ্রামের চেয়েও নিস্তব্ধ করে দেয়
রাত গভীর হতেই চাকচিক্যময় বাতি নিভতে থাকে
দিনের আলোতে আবারো সেই চাকচিক্যময় শহর বুক ফুলিয়ে বলে আমি তোমার মুখে অন্য দিই
এই তো ছিলো ভালোবাসার গল্প
আরো কতো গল্প রয়ে যায় অগোচরে
আহা কতই না আধুনিক আমরা।
…………………………………………..

কতদিন কতকাল দেখিনি তোমায়

তোমাকে দেখেছি সেই রাঙা প্রভাতে
বহু পথ পাড়ি দিয়ে অচেনা শহরে আমার ছুটে চলা
শহরের কোনো এক শপিংমলের সন্নিকটে
রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে তোমার অপেক্ষায়
আমার তারুণ্যের সেই দিনটি;
এখনো চোখে ভাসে
তুমি তখনো আপন মনে চুল আছড়াচ্ছিলে
আপন মানুষের সান্নিধ্যে আসার জন্য তোমার দীর্ঘক্ষণ প্রস্তুতি
দুটি মনের প্রতীক্ষার প্রহরের প্রান্ত যাবে;
কখনো দেখিনি তোমায়
কখনো কোনো অচেনা বালিকার মুখোমুখি হওয়ার সাহস হয়ে উঠেনি
তোমার সাহসে আমি সাহসী হয়ে উঠি
অবশেষে তুমি নামলে রিক্সা থেকে
আমি দেখেই চিনেছি তোমায়
তোমার চাহনিতে আমি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে;
চেয়ে ছিলাম তোমার পানে
দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে;
জিগ্যেস করি এই তুমি কে সেই?
যাকে না আমি চিনি?
হ্যাঁ গো আমি তোমার সেই চিরচেনা প্রণয়িনী
এরপর দুজন পাশাপাশি হেঁটে চলি শহরের অলিগলি
তোমার হাত ধরার মতো দুঃসাহস তখনো মোর হয়নি
অবশেষে তুমি হাত ধরে বললে আমি তোমার গো
আমি তোমায় ভালোবাসি
কিছুকাল পর মনে হলো আমি তোমায় দেখিনি
আবার দেখতে চায়, আবার তোমার সান্নিধ্যে একাকার হতে চায়
ভালোবাসার সুভাষ ছড়াতে চায়
রঙিন আলোই আবার তোমার পথে নিরুদ্দেশ হতে চাই
রঙিন স্বপ্নে ভেসে ভেসে
তোমায় ভাবতে ভাবতে
আবারো একাকার হতে চায়
তোমার হাত ধরে শহরের অলিগলি প্রতিটি ধূলিকণায় পদচিহ্ন রাখতে চায়
হে রূপসী প্রণয়িনী
কতদিন কতকাল দেখিনি তোমায়।