মায়ার বাঁধনে রেখো

কি কঠোর হয়েছিলে তুমি আকাশ
অথচ পেরেছ কি রুখতে তোমার চোখকে?
প্রথমে ছলছল পরে বাঁধভাঙা স্রোতের ন্যায়
অঝোরে ঝরলে।
তৃষ্ণাতুর পথিক যখন ছটফটিয়ে মরছে
তোমার মরু হৃদয়কে একটুকুও স্পর্শ করেনি
তপ্ত হতে হতে তুমি কঠোরতার উচ্চাসনে হলে আসিন।
কি সঙীন,কি রঙীন,রৌদ্রস্নাত হরিণ দুপুর
দেখেছি তোমার সকল রূপ
তুমি যখন কঠোর হও জ্বালিয়ে অঙ্গার করো
আবার যখন নরম হও সবকিছু ভাসিয়ে নাও।
এ কেমন খেয়ালী তোমার মন!
কখনো দহনে দাহ্য হই কখনো অতি কোমলতায় বানের জলে ভাসি?
তোমায় মিনতি ওরে সর্বনাশী
আর হয়ো না নিঠুর
একটু মায়াবতী হও
তোমার মায়ার বাঁধনে রেখো হাসি মধুর।
…………………………………………..

একজীবন

ঘুরে ফিরে আসো সেই
মনের কোণে
একদা ছিলে যে হৃদয়ের
গহীনে
মাতাল হাওয়ার মতো
এখোনো করে দাও সব লন্ডভন্ড
তাইতো দখিনা সমীরণে
তোমাকে পাই খন্ড খন্ড
ক্ষনেক আসো ক্ষনেক যাও
এই যে আসা যাওয়ায় কি
আনন্দ পাও!
আসোই যদি তব কেন যাওয়া
একজীবনে কি হবে তোমায় পাওয়া?
…………………………………………..

প্রেম

কোনো কাজে মন বসছে না
শুধু অধীর অপেক্ষায়
বলেছিলে তুমি প্রেম দেবে
তোমার প্রেমের হেম হবো।

একলাই দগ্ধ হচ্ছি তোমার নিঃশ্বাসের আগুনে
তুমি বলা পর্যন্তই শেষ কোথা চলে গেলে!
পথ চেয়ে দিন কাটে,রাতগুলো অশান্ত
কবে আসবে বল হৃদয়কে করতে প্রশান্ত?

বেলা যে শেষের পানে ধায়
এসো এসো মনের কোনায়
শরৎ আসে শরৎ যায়
শুধু তুমি প্রেমের ছলাকলায়।

এসো প্রেম নিয়ে বিরহের যাতনা
আর সয় না,মনে যে বেদনা
উপেক্ষা সওয়া আমার কর্ম নয়
জানি তোমার প্রেম মিছে নয়।

বিরহ না থাকলে প্রেম জমে না
তা জেনেই নীরবে সই সব যাতনা
হয়তো জানি এখনই আসছো মনের টানে
প্রতিক্ষায় আছি ভাসবো দুজন প্রেমের বানে।।
…………………………………………..

বিরানভূমি

আমি জানি কতোটা পাষাণ তুমি
একদিন এ হৃদয় জুড়ে ছিলে
এখন সেথায় শুধু বধ্যভূমি
একদিন মেলেছিলে যেথা ভালোবাসার ডালপালা
নিড়ানি দিয়ে নিংড়ে গেছ আছে কিছু নারা।

জানি অন্যখানে বসতি গড়েছ
আমাকে একা করে রেখে গেছ
জেনো একদিন ঐ আবাসও হবে খালি
তোমার শেকড় গ্রথিত কর অল্পখানি
এভাবেই তুমি ছুটে চলেছ গ্রহান্তরে।

যেদিন বুঝবে শুধুই হেঁটেছ হৃদয় থেকে হৃদয়ে
কৃচ্ছতা বলে ছিল না কিছু অন্তরে
নোঙর ফেলার থাকবে না ভূমি
কোথায় আশ্রয় হবে শুনি
নিজেই বানিয়েছ বিরানভূমি।।
…………………………………………..

বেলা

একটি মন
করেছে পণ
কখনো হবে না কারও দুঃখের কারণ
দুঃখই যে মনের নিয়তি
সে কি করে হবে আরেক বিয়োগান্তের পরিণতি!
কল্যানীয়াষু তুমি সুখে থেকো
সুখানুভূতিতে মাতিয়ে রেখো
তোমার ভালো -মন্দ তোমার
দিতে চাইনে তোমাকে দুঃখভার।।

আমার নিয়তি যে দিয়েছে গুরুদণ্ড
পলে পলে যেথা বিচরণ করে সুখ-দুঃখের মানদণ্ড
কতোটা দুঃখের পর সুখ আসে জানা নেই
গভীর ঘুমেও দেখি স্বপ্নের আসলে ডানা নেই
দূরের নৈসর্গিক দৃশ্যপটেও দেখি শুধুই দুঃখের ভেলা
জীবনের হিসেব কষতে কষতেই চলে যায় বেলা।।
…………………………………………..

মাঝি

মাঝি এমন কেন তুমি
নির্মল বন্ধুতাকে বানাও বিরান ভূমি!
তোমার নাওয়ে পার করো কতো নাইওরী
আমায় কেন প্রলুব্ধ করো
একটুকু সমঝে চলো
দেখো কেমন করে বাঁধি
বন্ধুত্বের বন্ধনে।

আমি গাঁয়ের এক সরলা বধূ
তোমার নাওয়ের সওয়ারী
তাই বলে ঝাঁপ দিতে বোলোনা
মাঝ নদীতে কেমনে সাঁতার কাটি!
মাঝি তোমায় বুঝতে হবে
সবকিছুরই বেলা আছে
অবেলায় ডুবলে মরণ হবে
পাবে না কূল কিনারা
একূল ওকূল দুকূল হারালে
জাত মান ডুবে যাবে।

দোহাই মাঝি এ অবেলায়
ডুবতে বলোনা
নির্মল বন্ধুত্ব গড়ি
হয়না যার তুলনা।
…………………………………………..

চিঠি দিও

চিঠি লিখে জানিও প্রিয় কেমন আছো
দিনগুলো এখনো আছে কি আগেরই মতো
চাইনে প্রতিদিন তোমাকে পড়তে
সপ্তাহ, মাস যা পূর্বে লিখে জানাতে।

প্রতিক্ষায় থেকে থেকে যখন হাতে পেতাম হলদে খাম
অনেকক্ষণ নেড়ে চেড়ে ভাঁজ খুলে নিতাম তোমার হাতের ছোঁয়া ঘ্রাণ
কি যে সৌরভ! তুমি কখনো দিতে কিছু গোলাপ
পাপড়ি,কখনো কাঁঠালি চাঁপা ফুল
প্রিয় ঘ্রাণে ঘ্রাণে মনটা হতো ব্যাকুল।

তারপর এক নিঃশ্বাসে পড়ে নিতাম তোমাকে
হৃদয়ের আকুতি, ভালোবাসার সৌরভ সবেতে
পরে ধীর, লয়ে পড়তাম প্রতিটি বাক্য বারংবার
হারিয়ে যেতাম তোমাতে করে দিতাম নিজেকে উজাড়।

যুগের তালে এলো সেলফোনের আগমন
প্রতি মুহূর্তেই পেয়ে যেতে লাগলাম খবর
কি করছো,কেমন থাকছো, কোথায় যাচ্ছ
তাও ভালো ছিল,এখন কি যে শুরু হলো!
ফেসবুকের কল্যাণে হলো সব এলোমেলো।

এখন আর সেই আবেগ পাই না খুঁজে
চিঠির ভাষায় যা পেতাম প্রতিটি অক্ষরের পরতে পরতে
রাতগুলো আছে আগেরই মতো
ভালোবাসার গভীরতা নেই অতো।
শত,কোটি বিনিদ্র রজনী কেটে যেত
কখন আসবে তোমার চিঠি
লেখা থাকবে সেথা কতো হৃদয়ের আর্তি
কখনো মন হাসতো,হৃদয়ে লাগতো কাঁপন
পড়া শেষ হলেও বুকে চেপে হতো রাত্রি যাপন।

প্রিয় চাইনে তোমার সাথে ম্যাসেঞ্জার চ্যাটিং
ফিরে পেতে চাই আগেরই মতো চিঠি লেখার দিন
কিছু রজনীগন্ধ্যা অথবা শিউলীর শুকনো পাতা
আসবে হলুদ খামে চিঠির ভেতরে সযতনে রাখা
প্রিয়তম আবারো বলছি আসো তুমি হলুদ খামে
নিদেনপক্ষে সপ্তাহ,মাসে নাহয় ছ’মাসে।

ওতেই পেতে চাই আমার ভালোবাসা ভালোলাগা
চাইনে এ যুগের কৃত্রিম সেলফোনি বা চ্যাটিং উষ্ণতা।
…………………………………………..

সেদিনেরই মতো

একটু আড়চোখে দেখা
লুকিয়ে মুচকি হাসা
একদিনের সেই চাহনি
এখনো ভুলতে পারিনি।

তোমার লজ্জারাঙা মুখ
দেখে পেয়েছি সুখ
কতো ভাবে দেখেছি
স্বপ্ন বুনতে শুরু করেছি।

মনে কি পড়ে প্রিয়?
সেদিনও এমনি বরষা ছিল
ঝিরিঝিরি বরিষণে
ভিজেছি দুজনে।

অথচ দেখো দুজনের পথ আলাদা
বারিষ করেছে আমাদের একসাথ
আমার পরনে ছিল ঢাকাই তাঁত
তোমার পরিধানে ছিল জলছাপ টিসার্ট।

অফিস ছুটি হলে যাচ্ছিলাম রিক্সা পানে
হঠাৎ বৃষ্টি এসে মারলো ছাট
দৌড়ে চলেছি একটু আশ্রয়ের সন্ধানে
উল্টোদিক হতে তুমিও দৌড়ে এলে।

আনত মুখে দুজনে দাঁড়িয়ে দুদিকে
একফাঁকে আড়চোখে দেখে নিলে
অস্বস্থি নিয়ে কাকভেজা আমি জুবুথুবু
তুমিও একইরকম,কেমন অসহায়।

আজও প্রবল বারিষে আশ্রয় নিলাম
হঠাৎ তোমাকে মনে করলাম
প্রিয় তুমি কি আজো কোথাও আছো
সেদিনেরই মতো?
…………………………………………..

খুশির ঈদ

আর মাত্র কদিন বাকি
আসছে খুশির ঈদ
খোকা খুকুর মনে আনন্দ
চোখে নাই নিদ।

নতুন জামা পরবে
মায়ের হাতের মজার রান্না
খেয়ে পেট ভরবে
বন্ধুদের নিয়ে মনের সুখে ঘুরবে।

খোকা খুকু শোনো
দেশে অনেক দুখি আছে জানো?
যাদের নেই খাবার অন্ন
নতুন কাপড় তাদের কাছে স্বপ্ন।

এমন হলে কেমন হয়
মা-বাবাকে বলে,সবাই একটু এগিয়ে আসো
গরীব দুখির তরে
ওদের মুখে হাসি ফুটবে নতুন জামা পেলে।

সবাই যদি একটু করে নিজের থেকে
বিলিয়ে দাও কিছু
ওদের মনটাও হাসবে
খুশির তরে নাচবে।

এসো তবে ছোটবড় যে যেমন পারি
একটু করে ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিই
দেখবে ঈদের খুশি হবে দ্বিগুণ
হাসবে তোমাদের ফূর্তিতে মন।
…………………………………………..

সিয়াম

এলো সিয়ামের মাস,একদিন হলো গত
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি জীবন ওষ্ঠাগত।
সারাবছর ব্যবসায়িক লাভের ফায়দা
এ মাসেই তীর্থের কাকের মত বসে থাকে কায়দায়।

সারা বিশ্বে বিশেষ দিবস গুলোতে যেখানে চলে মূল্যছাড়
আমরা হারামীর মত আচরণে বুঝিয়ে দিই তোরা কোন ছার!!
এখানেই মানবিকতা আর বিবেকের ফারাক
দিনান্তে যাদের কপালে জোটে কোনোরকমে ভাত
সিয়াম সাধনার পাশাপাশি মনেতে তাদের ঘাত।

ধনীক শ্রেণি মেতে উঠে উল্লাস আর খানাপিনায়
রকমারী খাবারে থরে থরে সাজানো টেবিল
অর্ধেকই যার নষ্ট করে বিলাসী ডেভিল।

যাকাতের নামে লোক দেখানোর কায়দায়
সস্তা কিছু শাড়ী আর লুঙ্গী যারপরনায়
ওগুলো নিতে গিয়ে ভীড়ের চাপে প্রাণ হারায় কতো অসহায়!!!
দরকার কি বাপু লোক দেখানো এসব করার!
পারলে একবার এক পরিবারকে করে দে ব্যবস্থা
যাতে দ্বিতীয়বার দ্বারস্থ না হতে হয় কারোর।

সারাবছরই তো কতো খাও কতো বিলাসী খাবার
এমাসে না হয় তাকাও একটু ভুখা নাঙ্গাদের পানে
অপচয় যেটুকু করো সেটুকুই না হয় ওদের দাও
অন্ততঃ কোনোরকমে সিয়ামটা করুক পার।