অব্যক্ত

প্রাক বর্ষায় দেখা হয়েছিল রিমঝিম এক ভোরে,
ভিজেছিলাম অচেনা দুজনেই না চেনা এই শহরে

তার পরেতেই গল্প শুরু নিটোল একটা প্রেমের,
দুর্বার বেগে চলেছে আজও, যায় নি তো তা থেমে।

নিঝুম দুপুর কিম্বা সন্ধ্যা, শুনসান কোনও রাতে,
ভরসার হাত রেখেছিলাম, দুজনে দুজনের হাতে।

পেরিয়ে এসেছি অনেকটা পথ, বন্ধুর বা মসৃণ,
স্বপ্নগুলো অনেকটা সত্যি, পিছুটানে নেই ঋণ।

অজানা সকালে অচেনা দুজন, শুরু ‘এক সাথে পথ চলা”,
জীবন যুদ্ধে কাটলো তিনপ্রহর, হয়নি ‘ভালোবাসি’ বলা।
…………………………………………..

আজব শহর

ঠান্ডা গাড়ি চইড়ে সেদিন যেই বুসেছি হাইসে
রাইস্তা ভইর্তি মানুষ, গাড়ি, ভীড় ধইরলো ঠাইসে

এ কেমনতরো জেগা বটে!! মাইনুষে কিলবিল
ডোবা পুকুর লাইখো ইদের, নাই যে কুনো ঝিল

ছিল্যে পুল্যে রেস্কা চইড়ে, মাটি থিক্যে দূর
মাটি হিথা লাইখো বটে, করংকিটে ভরপুর

হুড়মুড়িয়ে গাড়ি এসে পইড়লো বুঝ্ঝি ঘাড়ে
বাবার দেওয়া প্রাইণটা বটে যাবেই ইবারে

চুপটি কইরে ভাইবছি বুইসে গালে দিয়ে হাত
রাইস্তা পাইর হত্যে হইলে মরবোই লিঘ্ঘাৎ
…………………………………………..

উও লমহে

তোর বুকে এর আগে আর কোনও পাখি বাসা বেঁধেছে কি না জানি না…
তবে এবার যে বাসা বাঁধতে এসেছে, সে চড়ুই… ফিনিক্স নয়
গৃহস্থের ঘরের কড়ি বরগায় বা
ঘুলঘুলি তে থাকে সে…
উড়িয়ে দিলেও এসে বসবে ছাতের কার্নিশে…
বারান্দার রেলিং এ…
কিংবা জানলার গ্রীলে…

বারান্দায় টগর গাছের যে বনসাই আছে, তার পাশে…
কিংবা টেবিলে রাখা চায়ের কাপের পাশে…
সিলিং ফ্যানের উপর এসে বসবে যখন তুই একা…
তোর একলা সময় ছেয়ে থাকবে সে অবাক চোখে চেয়ে…

জগজিৎ সিং এর গজল…
জুড়িয়ে যাওয়া মাটির ভাঁড়ের চা…
তোর উদাস মনের পলি জমা মাঠ…
সঅঅঅঅঅব খানে থাকবে সে তোর সাথে…

চুপি চুপি…

নাহলে তোরও মনে ছোঁয়াচে অসুখ দানা বাঁধবে…
ছড়িয়ে যাবে শিরা উপশিরা দিয়ে সারা শরীরে…
অতীত শিখন্ডী হয়ে সামনে দাঁড়াবে…
…………………………………………..

লুকাছুপি

বিকিয়ে যাচ্ছে বিশুদ্ধ প্রেম
চৈত্র মাসের সেলে
বোশেখ মাসে, নতুন দাম
নতুন কাউকে পেলে।

নতুন নতুন বন্ধু রা সব
সাজুগুজু ছবি,
কাব্য ভুলে রূপেই গলেন
ফেসবুকিয় কবি।।

কত কত প্রেম জমা ছিল
অলীক ভুবন জুড়ে,
কতটা সময় পেরিয়ে গেল
বৃথা বাস্তবে ঘুরে।

চিচিং ফাক!! খুললো দরোজা
অ্যাকাউন্ট ওপনে,
অঢেল আনন্দ!! আকাশ ছোঁয়া
হিমালয় গোপনে।।

পাহাড় খুশির নীচে জমাট
ঈর্ষা, দীঘল শ্বাস,
টাগ অফ ওয়ার, টানেই কবি
হতেই পারে লাশ।।

গোপন কথা নেই গোপন
খুল্লমখুল্লা সবই,
প্রমাণ সমেত পড়েও ধরা
তক্কে মাতাই হবি।।
…………………………………………..

বাবা

পেরিয়ে গেছে অনেক বছর, চলে গেছো বহুদূরে,
সবার অলক্ষে রেখেছো হাত, শক্ত করে ধরে।
মন খারাপ বা খুব কষ্টে তোমার কথাই ভাবি,
মুচকি হেসে বলছো তুমি, ‘সব পেরিয়ে যাবি’।
আমিও আবার সব ভুলে করি নতুন দিনের শুরু,
তুড়ি তে ওড়াই সব বাধা, হোক লঘু বা গুরু।
পরজন্ম যদি কিছু থাকে, তোমাকেই যেন পাই,
ডাকবো আমি ‘বাবা’ বলে, যেমন বলে সবাই।
…………………………………………..

শেষ বর্ষায়…

বরষা শেষে বৃষ্টি এসে করলো ছেলেখেলা,
শহর বুকেই চলবে আবার গাড়ির বদলে ভেলা।

জল ঠেলে ঠেলে স্কুল কলেজ আর অফিস যাবার পালা,
রাস্তা এখন একগলা জল ঠিক যেন নদীনালা।

তিলোত্তমার তিল তিল রূপে,ধোঁয়া ধুলো আর কাদা,
অঝোর বারিষ ধুয়ে মুছে করলো তাকে সাদা।

জগতজননী আসার আগেই বিদায় নিও সাময়িক,
নীল-সাদা মেঘ, শিউলি কাশে ভরে যায় যেন চারিদিক।

মাঘের শেষে এসো বৃষ্টি, রাজা-রানীর দেশে হোক পূণ্য
খনার বচন সত্যি করে, করো দেশকে ধন্য।
…………………………………………..

আজ এমন ই

ঘটছে ঘটনা কতনা আজব
কতই চোখের আড়ালে,
সবটা জেনেছো, এই না ভেবেই
ভুল পথেই পা বাড়ালে।

চলছেই খেলা দিনে থেকে রাত
হচ্ছো খেলো তা বোঝোনি,
বন্ধু ভেবেই ধরেছি যে হাত
ছাড়লে!! আর তো খোঁজোনি।

টুকি টুকি খেলা আড়াল থেকেই
সূঁচ খোঁজা খড় গাদায়,
নখে নখ নয়, চোখে চোখ রেখে
ঘোরাই গজব ধাঁধায়।।
…………………………………………..

স্বাধীনতা বাহাত্তুরে…

আরও একদিন….তারপরই তুমি বাহাত্তুরে
উদ্দীপনায় কত শোভায় সাজবে! সারা দেশ জুড়ে
উৎসবের আবহে তেরঙ্গায় মুড়ে…
আমি তখন শহর ছেড়ে অনেক অনেক দূরে..

আরও একদিন… তুমি বাহাত্তুরে
ভর করেছি মেঘ ডানায়, উড়োজাহাজ চড়ে
উড়বে তিরঙ্গা ‘বন্দেমাতরম’ স্বরে
রাখবো পা শোষক দেশের ঠিক বুকের ‘পরে

আরও একদিন… তুমি বাহাত্তুরে
স্বাধীন দেশ তবু মানুষ মরছে অনাহারে
দেশ ছেয়ে ভুখা- নাঙ্গা যৌন অত্যাচারে
আকাশ বাতাস উঠছে কেঁপে শোষণ হাহাকারে

কাঙ্খিত সেইদিন… তুমি বাহাত্তরে
প্রশ্নের পর প্রশ্ন হারায়, না মেলা উত্তরে
সস্তা মানুষ উড়ায় ফানুস স্ব অধিকারে
রক্ত ঝরা দিন পেরিয়ে এলাম খুশির বাহাত্তরে…
…………………………………………..

একলা

অন্ধকার ক্রমাগত গাঢ় হয়ে আসছে
মহানগরী জনসমুদ্রে থিক থিক করে ভাসছে…

এত ভীড় এত কোলাহল… মুখরতা,
তার মাঝেই তোমার আমার একলা চলা…

শুকনো পাতার মাঝে নতুন চারা যেমন একা বেড়ে ওঠে স্পর্ধিত সাহসে…

আগাছারা ঘিরে থাকলেও তুমি আমি সেই সাহসে কাছাকাছি সবসময়…

আমিও এড়িয়ে চলি কলতান মানুষের

ধু ধু বালির মাঝে জেগে থাকা পিরামিডে
অনন্ত শয়নে একলা তুতেনখামেনের মতো যাপন

যুগযুগ ধরে আবিষ্কারের অপেক্ষায়
…………………………………………..

খুশির পল

বনের পাশে ঝিলের ধারে কান পেতে কেউ শোনে
হালকা হাওয়া আলতো ছোঁয়া জাগায় শিহরণ
এ ডাল থেকে ও ডালেতে মাকড়সা জাল বোনে
বনের পাশে ঝিলের ধারে কান পেতে কেউ শোনে

বাবুই পাখি বুনছে বাসা তালগাছে, এক কোণে
বেঁধে বেঁধে রাখা খুশির পল করছি আহরণ
বনের পাশে ঝিলের ধারে কান পেতে কেউ শোনে
হালকা হাওয়া আলতো ছোঁয়া জাগায় শিহরণ
…………………………………………..

অপেক্ষা

অপেক্ষা অনন্ত সুখের হোক ঝরাপাতার মত
ঝোড়ো হাওয়ায় এলোমেলো ওড়ে খুশি যত

কোথাও গিয়ে খুঁজে পাবেই গোপন খুশির ঘর
সেই আশাতে বুক বেঁধেছে, উঠলে পরেও ঝড়

থামলে ঝড় শান্ত বুকে অপ্রত্যাশিত মিলনে
অপেক্ষার অবসান হবে মাধুকরী জীবনের