নেই মৃত্যুর ভয়

আতঙ্ক নেই আর, নেই মৃত্যুর ভয়,
এখনই জীবনের করুণ পরাজয়।
মানুষ মৃত্যুতে বিচলিত নই আমি,
গলিত লাশের মিছিল, যাবে তুমি?

মন খারাপের দেশে করছি বসবাস,
ধুয়ে মুছে সাফ হোক বিষাক্ত নির্যাস।
আমাকে নিয়ে ব্যস্ত, ভাবনায় শূন্যতা
হিসাব কষি অর্জন, যা কিছু পূন্য তা।

আমিত্ব সব আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত এখন,
প্রস্তুত আমি, ওপারে যেতেই হবে যখন।
হিংসা বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে এসো সকলে
গড়ে তুলি শান্তির পৃথিবী সবাই মিলে।
…………………………………………..

ওরা নির্বোধ নয়…

ওরা নির্বোধ নয়…
ওরা অসহায়, ওরা ক্ষুধার্ত, ওরা নিঃস্ব যুগলে,
বেঁচে থাকার ক্ষুদ্র প্রয়াসে ছুটে চলে দলে দলে।
ভূমিষ্ট শিশুটির ক্রন্দনে বাধ্য স্থান পরিবর্তনে
কর্মহীনের বিমর্ষ বদনে, আঁচল ঢাকা ক্রন্দনে।

ওরা নির্বোধ নয়…
ছুটছে ওরা মা আর মাটির আশ্রয়ে, নিরুপায়
ক্ষুধা নিবারনে গ্রামের লতা গুল্মের ভরসায়।
হতাশার পদব্রজে ছুটছে যে আবার কর্মস্থলে
একটু বাঁচার তাগিদে ছুটে চলে জলে স্থলে।

ওরা নির্বোধ নয়…
নির্বোধ আমি, তুমি, আমরা, যারা নির্বিকার
যারা চেয়ে দেখি পরাস্ত মানবের হাহাকার।
যারা ওদের প্রাপ্য অধিকার কেঁড়ে নিয়েছি
যারা ওদের খাদ্য লুটেরার ন্যায় হরণ করেছি।

নিশ্চিত হোক সকলের অন্ন, বস্র, চিকিৎসা
নিপাত যাক মহামারি, শুধু প্রশান্তির ভরসা।
…………………………………………..

অলৌকিক আলামত

চন্দ্র, সূর্য, গ্রহপুঞ্জ আপন অস্তিত্বে বিদ্যমান
দশ দিগন্তের নিদর্শনও অবিকল দৃশ্যমান।
অপরিবর্তিত সব, নদী সমুদ্রের প্রাণ চঞ্চল
আসমান জমিন নিয়মের আবর্তে বিহব্বল।

মাছেরা সানন্দে খেলা করে নিজ ভঙ্গিমায়
পাখির কোলাহল, মুখরিত প্রকৃতি ছায়ায়।
পশুর বিচরণ ক্ষেত্রগুলোও আছে মহিমায়
রঙ বেরঙের প্রজাপতি উড়ে উড়ে বেড়ায়।

শুধু স্তম্ভিত বিশ্ব, কম্পিত হৃদয়ে মানবকূল
অহঙ্কার আর দাম্ভিকতায় পরাস্তে ব্যাকুল!
হেরে যাচ্ছে আজ সভ্যতার উচ্চ আদালত
এ যেনো স্রষ্টার এক অলৌকিক আলামত।

নেই তো সময় যে, ক্ষমা চাও যতো দুষ্কর্ম্মের
মেনে নাও তাই সকল বাণী, যা কিছু ধর্মের।
…………………………………………..

যদি আমি মরে যাই…

যদি আমি মরে যাই…
রুমের মেঝেতে পড়ে থাকবে নিথর দেহ
বন্ধ হবে রুমের দরজা ওপাশে নেই কেহ!
শুরু হবে ত্রিমাত্রিক সংঘর্ষ, করে রুদ্ধদ্বার
মায়ার বন্ধন, মৃত্যু ভয় আর জিজীবিষার।

শরিরের পচন আর মগজের গলিত ফোঁটা
কার্নিশ বেয়ে ও সিঁড়ি শেষে শুকাবে গোটা।
ভুতুড়ে বাড়িতে শুনশান নীরবতা আর লাশ
এই মৃত্যু যেনো না হয় কারো শুধু দীর্ঘশ্বাস!

যদি আমি মরে যাই…
হয়তোবা মহাসড়কের ধারে বেওয়ারিশ লাশ
হতে পারে শেয়াল ও কুকুরের রসনা বিলাস!
ছিন্নভিন্ন আমি সর্বাঙ্গ ধূলোময়লার সন্নিবেশ
মহামারির প্রচন্ড তান্ডবে নষ্ট হবে পরিবেশ।

অথবা কোনো একটি হাসপাতালের বিছানায়
স্বজন অনুপস্থিত, ডোম আর ডাক্তার পালায়!
লাশের স্তুপের সঙ্গী হয়ে যেতে হবে গণকবরে
খুঁজবে না তো কেহ কোনদিন কোনো আসরে।

আমি যদি মরে যাই…
রেখে দিও যা-কিছু ছিলো ভালো সব আমার
দেখে নিও নব প্রভাত ফিরে আসবেই আবার।
…………………………………………..

পরাস্ত বিজ্ঞান!

বিদঘুটে অন্ধকার, অসহায়ের আর্তচিৎকার
বাহিরে হিংস্রতার আভাস, চলছে হাহাকার!
অপেক্ষা বড়ই নির্মম, সময়টা বড্ড অসময়,
বাড়ছে হৃদ স্পন্দন প্রতি সেকেন্ডে পরাজয়।

আতঙ্কিত ভীতসন্ত্রস্ত মস্তিষ্ক বিভ্রান্তিতে মানব,
অদৃশ্য শক্তির উদ্ভব, শৃঙ্খলিত, পরাস্ত দানব।
স্তব্ধ প্রাণ, নিথর দেহ, স্পর্শ নিষিদ্ধ, সমাহিত!
আত্মজের অন্তর রক্তক্ষরণ, হৃদপিন্ড গলিত!

অনিয়ন্ত্রিত অস্পৃশ্য শক্তিতে নাস্তানাবুদ বিজ্ঞান,
চক্রবৃদ্ধিতে ভয়ংকর মৃত্যুর মিছিল, নিস্ক্রিয় প্রাণ।
অদৃশ্য চালকের স্পৃহায় নিস্ক্রিয় হোক মারণাস্ত্র,
মুছে যাক পাপিষ্ঠের কর্ম, গঠন হোক মানব শাস্ত্র।

একটি পবিত্র সোনালী সূর্যোদয়ের অপেক্ষায়…
মেনে নাও নির্দেশনা যা আছে আত্মরক্ষায়।
…………………………………………..

জিজীবিষা

নৃশংসতায় অতিষ্ঠ মানবিকতার স্খলন
পাপিষ্ঠ হৃদ মুকুলে বিষাক্তের সংক্রমণ।
ধর্ম কর্ম বর্নের দাম্ভিকতা, উচ্ছিষ্ট জীবন
বিবেক বর্জিত সাম্রাজ্যে চলছে বিচরণ !

ক্ষমতায়, পেশিশক্তিতে অস্তিত্ব বিসর্জন
দূর্বলে নির্মমতা যেনো নিজেরই অর্জন।
রক্তে রঞ্জিত হতে নেই বিন্দু হৃদ কম্পন
আছে উল্লাসের মাতম, মস্তিস্কের ক্ষরণ।

অনাগত সম্মুখ ঝড়ে ভীত সচকিত মন
স্তম্ভিত কম্পিত চিত্তে অতীতে পদার্পণ।
জীবন দর্পনে দৃশ্যায়িত শূন্যতার হতাশা
আদ্যোপান্ত আত্মকেন্দ্রিকতায় নিরাশা!

বর্ধিষ্ণু পাপাচরণে পূণ্যের ডাইরি আঁধার
জিজীবিষা! পাপিষ্ঠের ক্রন্দন, স্তব্ধ ইথার।
…………………………………………..

লাশের মিছিল

থমকে গেছে বিশ্ব, স্তব্ধ, শঙ্কিত সব মানব
আতঙ্কিত বিবেক, ভীত সন্ত্রস্ত হচ্ছে দানব।
উবে গেছে সব দাম্ভিকতা ফিরছে মানবতা
ধর্ম কর্ম বর্নে নেই অহমিকা আছে সমতা।

বেঁচে থাকার নিমিত্তে পাপ পূণ্যের হিসাব
বুঝেছি সকলে, দিতে হবে কর্মের জবাব।
নেই অস্রের ঝনঝন থেমে আছে কামান
নেই হিংসা বিদ্বেষ ফিরে আসছে ঈমান।

শহর বন্দরে বিচিত্র চিত্র! কম্পিত চিত্ত
ভূতুড়ে গলির রাস্তাগুলো, দেখছি নিত্য।
লাশের মিছিল আজ পথে ঘাটে প্রান্তরে
মারনাস্র কীটের তান্ডব বিধেছে অন্তরে।

ধ্বংসপ্রাপ্ত বিবেকে বিন্দু প্রাণের স্পন্দন
রক্ষা করো তুমি প্রভু থামিয়ে দাও ক্রন্দন।
…………………………………………..

করোনা ও পঙ্গপাল

চলছে দেশে করোনা, আসছে তেড়ে পঙ্গপাল
চলছে সাথে তামাশা, কর্তারা হচ্ছে বেসামাল।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নির্বাচনে টালমাটাল
বিজ্ঞ সেজে উপদেশ দিতে নিজেরাই হচ্ছে মাতাল।

বিশ্ব যখন শঙ্কিত হয় বিপর্যস্ত অর্থনীতির রেখা
আমরা তখন করছি নাটক খেলি নিয়ে ভাগ্য চাকা!
সর্দি, জ্বর, কাশি হলে ডাক্তার সব পালিয়ে যায়
এই হলো ভাগ্য মোদের সবাই যে আজ নিরুপায়।

কেউ বলে শক্তিশালী কেউ বা বলে সব সাধারণ
কেউ বা আবার তেলের মাঝে ডুবে থাকে অকারণ।
কেউ দোষে রাজনীতিকে কেউ বা বানায় হাসপাতাল
আবোলতাবোল কথার স্রোতে জনগণ হয় মাতাল!

নিজের যত্ন নিজেই নিবো করবো না আর ভরসা
আল্লাহ মহান তিনি মহীয়ান রক্ষা করবেন সহসা।
…………………………………………..

শৃঙ্খলিত বৈশাখ

বঙ্গীয় উৎসবের স্মৃতিরা বিস্মৃত
আবছায়ারা দিগভ্রান্ত, প্রায় মৃত।
রমনার বটমূল শূণ্যতায় নিস্পৃহ
আতঙ্কিত শিল্পীরা, অবরুদ্ধ গৃহ।

কষ্টরা বিস্তৃত ও শৃঙ্খলিত বৈশাখ
বাজে না আর রমণীর বরণ শাঁখ।
শঙ্কিত শুষ্ক ওষ্ঠে সংস্কৃতি থমকে
নববর্ষ এক অদৃশ্য শক্তির চমকে।

নষ্টরা উবে যাক বৈশাখী হাওয়ায়
অন্তরীক্ষে সুশৃঙ্খল জীবন ধারায়।
…………………………………………..

বিজিগীষা!

স্বপ্নের কারিগর হয়ে বসবাস ‘স্বপ্নবিলাস’ ধামে
জুই, চামেলি, রক্তজবার অঞ্জলিতে সন্ধ্যা নামে।
হাসনাহেনা ও বকুলের সৌরভে মুখরিত রজনী
গোলাপ, শিউলি, বেলী’র স্পর্শে নিদ্রায় স্বজনী।

ঝড়! অনুক্ত স্বপ্নবিলাস’র স্বপ্নগুলো দোদুল্যমান
শ্বাপদসংকুলে যে হৃতসর্বস্ব! চলছে রোরুদ্যমান।
অবিমৃষ্যকারী লোলুপ দৃষ্টে হয়েছো নশ্বর? ঈর্ষা!
ঐন্দ্রজালিক লাস্যে অভ্রংলিহ! শুধুই বিজিগীষা!

অশ্রুসিক্ত নয়নে স্তম্ভিত! হৃদকম্পনে স্তব্ধ সকল!
ভ্রান্ত পথে কলুষিত রথে অর্জিত সম্মান নকল!