ভারতবর্ষ

মানবিকতা বলে কোনো শব্দ আর ভারতবর্ষে নেই
একটি হত্যার দেশ, একটি বিভেদের দেশ
একটি সাম্প্রদায়িক দেশ

এসব কথা শুনে অনেকেই প্রতিবাদের ঝড় তুলবে
তারা কেউ কেউ ভালো মানুষ
এখনও মানবধর্ম বিশ্বাস করে

আমরা হিংসা আর যন্ত্রণার শিকার
প্রতিমুহূর্তে আতঙ্কগ্রস্ত
মৃত্যুর চিৎকার শুনি

আমরা আর চাঁদ দেখার মতো আনন্দের শরিক হতে পারি না
আমরা আর কলাবাগানে দু’দণ্ড ছায়ায় বসি না
আমরা আর সুন্দরী মেয়েদের দিকে তাকাতে পারি না

একদল উন্মত্ত মানুষ রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমা হয়
তারা উগ্র শ্লোগান দেয়
তারা মানুষ হত্যার মহড়া করে

আমরা নীরবে অশ্রু ঝরাই
আর কোনো বিশ্বাসের কাছে গিয়ে দাঁড়াতে পারি না

ভারতবর্ষে প্রতিদিন আমাদের কবর খোঁড়া হয়
ভারতবর্ষ আজ মৃত্যুর একটি দেশ
……………………………………………

জন্মের দেশ

মানুষকে হত্যা করার কৌশল শেখানো হয় যে দেশে
সেই দেশে কারা কারা জন্ম নিতে চায়
ঈশ্বর তার তালিকা তৈরি করে দেন।
যে যে অস্ত্র দিয়ে মানুষকে হত্যা করা হবে
সেইসব অস্ত্র বানিয়ে দেন সম্রাটগণ।

আমরা সাধারণ মানুষেরা সেই দেশে কেন জন্মালাম তাহলে?

আমরা দাঁড়কাক হয়ে চেঁচালাম
আমরা শালিক হয়ে ডাকলাম
আমরা চড়ুই হয়ে উড়লাম সারাদিন

বন ফুরিয়ে আসা, মন ফুরিয়ে আসা, দয়া ফুরিয়ে আসা দেশ

আমরা ঘৃণা আর কাতরতা
হিংসা আর অসহিষ্ণুতা
খুঁটে খুঁটে খেলাম সারাদিন…
……………………………………………

এই শতাব্দী

আমাদের বিহ্বল ধারণাগুলি নম্র কোনো আলো পেতে চায়
বিষাদের তেতোদিন জ্বরের তাঁবুতে অপেক্ষায় থাকে

চারিদিকে মৃত প্রজাপতি ওড়ে
নিগূঢ় শ্মশানে ডুবে যায় গান
শূন্যতার ছায়ারা নাচে অবলম্বনহীন

আমরা শতাব্দী পার হই
হাহাকার রক্তস্রোতে দাহ আর দহনের রাতে
ঘৃণা ও বিদ্বেষের নৌকায়

ঘাম, মৃত আকাঙ্ক্ষারা আর কল্লোলিত স্নায়ু
অভুক্ত স্বপ্নের ছিন্ন দেহ এখানে রয়ে গেল
অত্যাচারী প্রবঞ্চকের কদর্য উল্লাস শুধু বাজে

কোনো চিহ্ন পাও যদি ইতিহাস থেকে
মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী বাতাসের পদধ্বনি
অথবা বৃষ্টির কান্নায় তার অজস্র বর্ণনা
……………………………………………

বসন্ত

দাঁড়ানো যাবে না পাশে
ইচ্ছেগুলি তবুও দাঁড়াতে চায়
রোজ একা একা বাঁশি বাজে
এমন নীরব বাঁশি কে এসে বাজায়?

রাষ্ট্রবাদী ঘোর তমসায়
সম্পর্কগুলি কোথায় হারাল?
কেবল মানব-ছায়ার গাছ
কেবল মানব-বাগান
এ ছাড়া আর কী থাকে আমাদের?

ঘরের দরজায় তুমি
আমিও দরজায়
মাঝখানে চেতনার রাস্তাগুলি
রাস্তায় নিরীহ আবেগ
আবেগের স্পর্শে জেগে ওঠে
অনুভূতির পাখিগুলি

যে কোনোদিন বসন্ত আনা যায়
যে কোনোদিন রঙিন সকাল
……………………………………………

কিছুটা মানুষ

প্রতিদিন হাত তুলে বলি : আছি আছি আছি
সবাই হইহল্লা করে, ঘোর চেঁচামেচি
ভিড় ঠেলে এগোনো যায় না কিছুতেই
শুধু ভিড়ের মাঝখানে কোনো কোনো চোখ
বড়ো চেনা মনে হয়

আমি কি তাদের কেউ হই?

প্রকীর্ণ আলো, দেখতে দেখতে যতটা যাওয়া যায়
হয়তোবা দূরে, হয়তো কাছাকাছি
হাত তুলে শুধু বলি : আছি আছি আছি

কিছুটা মানুষ আমি, হৃদয় ভেঙেছে যদিও
কখনও বলিনি

কালচক্র ঘুরছে দেখেছি দাঁড়িয়ে একা একা মানব-ছায়ায়
……………………………………………

মুঠো

বিদ্রোহই কি সব?
এ বিভেদ সরাবো কী করে?
চারপাশে বিভেদের উৎসব!

কাছাকাছি থেকেও তো দূর
আলোয় ঘেরা অন্ধকারপুর
তুমি আমি সব সর্বনামে
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখি হাত
কতটুকু পাই?

আজ সব অন্তরীক্ষে জ্বর
একে একে ভেঙে যাচ্ছে ভরসার ঘর
উঠোনে দাঁড়িয়ে মুঠো খুলি
কতটুকু বাকি আছে দেখি অঞ্জলি