বেদনার বালুচরে

শিশু কালে আমার একবার জল বসন্ত হয়েছিল। সে ঘটনা আমার মনে নেই। কিন্তু আমার আদরের ছোট ভাই বোন আসাদ, হাবিব ও ফরিদার গুটি বসন্ত বা স্মল পক্স হয়েছিল ১৯৬৭ সনের দিকে। তখন আাসাদ ক্লাস টু,হাবিব ও ফরিদা খুবই ছোট। হাবীবের বয়স পাঁচ বছর আর ফরিদার বয়স এক/দুই বছর হবে। আমি তখন খুব সম্ভব ক্লাস ফাইভে পড়ি। তখন শীত কাল।জানুয়ারি/ফেব্রুয়ারী মাস হবে খুব সম্ভব। এই সময়ে তখন গ্রাম বাংলায় কলেরা ও বসন্ত রোগ মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ত। জেলায় জেলায় কোন কোন এলাকা ভিত্তিক শত শত লোক এই রোগে প্রাণ হারাতো। কোন বাড়িতে এই রোগ কারো প্রথম হলে একে একে এলাকার প্রায় লোকই এই রোগে সংক্রামিত হত। জীবন হারাতো অনেকে। এলাকায় মৃত্যু ভয়ের কালো ছায়া নেমে আসতো। কেউ কারো বাড়িতে যেতোনা। সন্ধ্যা হলে রোগের আশ্রয়দাতা জ্বিনের ভয়ে লোকেরা ঘরের বাইরে যেতোনা। রোগের আশ্রয় দাতা জ্বিনকে তাড়াতে এলাকার স্বল্প শিক্ষিত মোল্লাশ্রেণীর কোন একজনকে মহল্লাবাসীরা ঠিক করতেন। তিনি হতেন কিছুটা সাহসী এবং চালাক চতুর প্রকৃতির। তার নির্দেশনায় যে রাতে কলেরা বসন্ত রোগের জ্বিনকে তাড়ানোর আয়োজন করা হতো, সে রাতে সবাইকে ঘরের ভেতর থেকে কুপি বা হারিকেন নিভিয়ে অন্ধকারে থাকতে হতো। জ্বিন তাড়ুয়া মোল্লাসাহেব বিশেষ কায়দায় আরবি বাংলা মিশৃত বকাবকি আওয়াজ করে আওড়াতে আওড়াতে দ্রুত বেগে বাড়ি বাড়িগিয়ে শব্দ করতেন আর ঘরের কপাট এবং বেড়ায় লাঠি দিয়ে আঘাত করতেন। এই প্রকৃয়ার নাম ছিলো রণ-ফেরানো। আমি তাদের এই কর্ম প্রকৃয়া ভয় এবং কৌতুহল মিশৃত হৃদয়ে ধারণ করতাম। যদিও সাধারণ লোকদের এ সব শোনা এবং দেখা একেবারে নিষিদ্ধ ছিলো। এর কারণ পরে জেনেছি এই জ্বিন-তাড়ুয়া তথাকথিত ব্যাক্তি উলঙ্গ শরীরে দৌড়াতে দৌড়াতে এই মহত কর্মটি সম্পাদন করতেন। এর সত্য মিথ্যা আজ পর্যন্ত যাচাই করতে যাইনি। কারণ কলেরা বসন্ত রোগ সারানোর এই প্রকৃয়া কুসংস্কার। হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকেরা এই রোগ থেকে বাঁচার জন্য শীতলা দেবীর পূজা করতেন। এখন এ রোগ নেই আর এ পূজাও নেই। তবে হক্কানি আলেম সম্প্রদায় জ্বিন -তাড়ুয়া কুসংস্কারকে ঘৃণা করতেন এবং এসব করতে বারন করতেন।

আমাদের বাড়িতে এই কুসংস্কারের প্রশ্রয় ছিলো না। তবে মহল্লার সাধারণ লোকদের জ্বিন-তাড়ুয়া বিশ্বাসে আব্বার কোন মতামত ছিলো না।তারা আব্বাকে না জানিয়েই এই মহত! কর্ম সম্পাদন করতো। শ্রীনগর বাজারের ডাক্তার মুকুন্দ লাল সাহার পরামর্শ মোতাবেক আমার ছোট ভাই বোনদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। আাসাদ ও ফরিদা খুব বেশি রকম বসন্ত হয়েছিল। আসাদ ও ফরিদার মুখে প্রচুর গুটি বসন্ত হয়েছিল। আাসাদ চোখ মেলে তাকাতে পারতো না।ওর চোখের ওপরও গুটি উঠেছিল। এক অজানা আশংকায় আমার শ্বাস প্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতো।প্রিয় ছোট ভাই বোন দের এই কঠিন মুমূর্ষু অবস্থায় আমার কলিজা ফেটে কান্না আসতো।মায়ের অশ্রু সজল নির্ঘুম চোখের দিকে তাকিয়ে আমার প্রাণ টা আড়ষ্ট হয়ে যেতো।মনে হতো ওদের কিছু একটা হলে আমি বোধ হয় বাঁচব না। মা সারা রাত ওদের বিছানায় বসে থাকতেন। আমি মার পাশেই যতক্ষণ পারি রাত জেগে খাকতাম। ওদের শরীরে ব্যাথার সাথে প্রচন্ড জ্বর থাকতো।মা রাত জেগে ওদের মাথায় পানি ঢালতেন। আমি মাকে সহযোগিতা করতাম। ছোঁয়াচে রোগের জন্য আমরা অর্থাৎ আমিও হামিদা আলাদা ঘরে ঘুমাতাম না।ওদের পাশেই আমরাও থাকতাম।আল্লাহর রহমতে
মা সহ আমি ও হামিদার ওই ছোঁয়াচে রোগ গয়নি। সে বছর আমাদের মহল্লার অনেকেই বসন্ত রোগে মারা
গেছে।যে বাড়িতে এই রোগ ঢুকেছে সে বাড়ির প্রায় সকলকেই সংক্রমিত করেছে।

ছোট্ট সোনা বোন মিষ্টি অর্থাৎ মাহবুবা জেসমিন মিষ্টি শিশুকালে মারা যাওয়ার পর চন্দ মানে ফাহমিদা ইয়াসমিন চন্দনা ছোট্ট বোন হয়ে যায়। সে অবশ্য শাহ সাইফ জঙ্গ এবং ছোট মিয়া আবদুল্লাহর মেজপা বা সেজআপা। খুব সহজ সরল আবেগি মনের অধিকারী এই চন্দনা, আমার ছোট্ট পাখি চন্দনা। ভাই বোন এবং মা বাবার বড়ো আদরের মেয়ে সে। ছোট্ট বেলায় সোনা পাখিটা দেরী করে ঘুম থেকে উঠতো। সকাল এগারোটা বারোটায় মিয়ারবেটিকে ঘুম থেকে ডেকে নাস্তা খেতে দিতে হতো। কোন কোন দিন মা তার আদরের মেয়েকে শীতের সকালে লেপের নীচে রেখেই খাবার লোকমা মুখে তুলে দিতেন। আমরা যারা বড়ো ভাই আমি,আসাদ, হাবিব এর জানের জান ছিলো সে। তাকে বাড়ির গৃহকর্মীরাও দারুণ আদর করতো।

মিয়ার বেটি যখন হাসাম দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে তার মেজপা ফরিদার সাথে স্কুলে যেতো, তখন অবশ্য সকাল সকাল ঘুম থেকে ইঠতো। স্কুলে তাদের বইয়ের ব্যাগ, টিফিন কেরিয়ার বহন করার জন্য মহল্লার বয়স্কা মহিলা নিয়োজিত থাকতো। মিয়ার বেটি কোন কোন দিন নাখেয়েই হুটহাট করে স্কুলে চলে যেতেন। মা টিফিন কেরিয়ারে খাবার দিলে কি হবে, তার মুখে রোচতোনা প্রায়ই। আমি জানতাম মিয়ারবেটি খাটি গাওয়া ঘি ছাড়া ভাত খেতেন না। সকালে নাস্তার সময়ে তাকে হাফ বয়েল ডিম দেওয়া হলেও তিনি তা মাঝে মাঝেই তার বই ব্যাগ কেরিয়ারকে জোর করে খাইয়ে দিতেন। খাওয়া দাওয়ায় তার অনিয়ম ছিলো ছোট বেলা থেকেই, মা তার সাথে কুলিয়ে উঠতে পারতেন না। ছোট বেলায় অবশ্য তার কোন বড়ো অসুখ হয়নি
কিন্তু তার খাওয়া দাওয়ার হাল হকিকত দেখে আমি প্রায়ই তার অসুখের আশংকা করতাম। তাকে মৃদু রাগও করতাম কিন্তু অন্য ভাই বোনদের বেলায় যে ভাবে বড়ো ভাই সুলভ কঠোর মনোভাব প্রকাশ করতাম
তার বেলায় তা পারতাম না। আমি এক মাত্র আসাদ ও হাবিব ছাড়া আর কোনও ভাই বোনদের গায়ে টোকাটি পর্যন্ত দেইনি। হামিদা আমার পিঠে পিঠি বোন। ওর ওপর বড়ো ভাই সুলভ কর্তৃত্ব সব সময় ফলাতে পারিনি। গায়ে টোকা দেওয়া থাক দূরের কথা সেই প্রয়োজন হলে রক্ত চক্ষু উন্মিলিত করতো।

আমি তখন রাজেন্দ্র কলেজের আই.এস.সি’র দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তখন আমার ছোট্ট সোনা বোনটি দারুণ অসুস্হ হয়ে পড়ে। ওকে তখন গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রথমে ফরিদ পুর শহরের বাড়ীতে নিয়ে আসি, উদ্দেশ্য পরের দিন ঢাকায় নিয়ে যাব। শহরের বাসায় ফাতেমা, শাহীদা আাপা বা হালিমা, সেলিমা কেউ না কেউ ছিলো। ওনাদের মাও ছিলেন। চন্দনা তখন একা একা হাটতে পারেনা, গায়ে জ্বর আর দু হাটুতে প্রচন্ড ব্যাথা।হাটু ঈশত ফুলে গিয়েছিল। ওকে আমি ধরে ধরে টয়লেটে নিয়ে গিয়েছি, এমনই নাজুক অবস্থা ছিলো ওর। পরদিন ঢাকা নিয়ে যাই। রাতেই ডাক্তার দেখিয়ে মালিবাগ মোড়ের খাদেম
ক্লিনিকে ওকে ভর্তি করে দেই। ওকে ক্লিনিকে একা রেখে কোন আত্মীয়ের বাসায় রাত্র যাপন করতে মন সায় দিলোনা।আমি সারা রাত ওই ক্লিনিকে নির্ঘুম কাটিয়ে দিলাম।আশংকা ছিলো হয়ত রিউম্যাটিক আর্থ্রাইটিসের ও ফেভার হয়েছে। রিপোর্টে তাই হল।

বুকটা ধক করে মোচড় দিয়ে উঠলো, হায় যদি ওর কোন অপারেশন লাগে! আল্লাহর দরবারে ওর বিপদ মুক্তির প্রার্থনা করছিলাম। অন্য দিকে মনের অজান্তেই দুচোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছিল। এক অজানা আশংকায় আমার ভেতর টা দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছিলো। আমার পাশে বড়ো কেউ নেই। ছোট্ট বোন কে নিয়ে একাকি ক্লিনিকে বেদনার বালুচরে হেঁচড়ে হেঁচড়ে চলছি, জানি না কখন সোনা সূর্যের সকাল হবে! কখন জানবো ওর কোন অপারেশন লাগবে না। আল্লাহ আমাদের সহায় হলেন।আমার ছোট্ট বোনটিকে সে যাত্রায় আল্লাহ মাফ করলেন।হৃদয়ের বেদনাশ্রু গলে গলে উপশমের জল জোছনা আমাকে নতুন পৃথিবীর উপকুলে পৌঁছে দিলো।

আমরা সহোদর ভাই বোন দের মধ্যে হাবিব তৃতীয়। অবশ্য ওর আর আসাদের মাঝে আমাদের আরেকটি
বোন জন্ম নিয়েছিলো, তার নাম ছিল রাশিদা। সে মাত্র কয়েক মাস হায়াত পেয়েছিলো। সেই বোনটি নিউমোনিয়া রোগে মৃত্যু বরন করে। সে বেচে থাকলে হাবিবের অবস্থান হতো চতুর্থ। তবে ভাইদের সিরিয়ালে
তৃতীয়। তাকে ছোটরা সেজদা বলে ডাকে। এখন সে অবশ্য কোরানে হাফেজ, মাওলানা এবং সতন্ত্রভাবে ডিগ্রী পাশ।মাওলানা ডিগ্রি এম.এম। অর্থাৎ মাস্টার্স অব মাদ্রাসা। তাকে এলাকার লোকেরা হাফেজ শাহেব বলে। সে একটি মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল। ওই আমাদের মধ্যে একমাত্র আরবি শিক্ষিত।এটা আমাদের বাবার একান্ত ইচ্ছার প্রতিফলন। আব্বা তার একটি ছেলেকে দ্বীনি শিক্ষা দেবেন। আল্লাহর কোরান হেফজ করাবেন। আল্লাহ তাঁর ইচ্ছা পুরণ করেছেন।

আমি তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়নের বি.এস.সি. অনার্সের ছাত্র। ফজলুল হক মুসলিম হলের এক্সটেনশন ৩৩ নং রুমে থেকে লেখাপড়া করি। ইতোমধ্যে হাবিব হাফেজিপাশ করে ঢাকার নরসিংদীতে একটি বড়ো নাম করা মাদরাসার দাখিল শ্রেণীতে ভর্তি হয়েছে। বুলবুল সায়িদী, তারিক মনোয়ার, ছাদাকাতুল বারী সাদীও ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র। ফোন বা কারো মাধ্যমে জানলাম ওর জ্বর ও বসন্ত রোগের লক্ষ্মণ দেখা দিয়েছে। ওকে হোস্টেলে থাকা চলবে না। তাই ওকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার রুমে আসতে বললাম কারো সহযোগিতায় অথবা আমি তাঁকে আমার রুমে নিয়ে আসলাম ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। ওকে ওই অবস্থায় ফরিদ পুর শহরের বাড়ীতে প্রথমে নিয়ে গেলাম।আমাদের ফরিদপুর শহরের বাড়ীতে তখন আমাদের কেউ থাকতোনা। খালাম্মা অর্থাৎ মন্টু ভাইয়ের আম্মা তার কয়েক সন্তান’সহ থাকতেন। তিনি পরম যত্নে হাবিবকে দুই/একদিন দেখাশুনা করেছেন। এর পর আমি ফরিদপুর পুর শহরের নৌকাঘাটা থেকে নৌকায় করে ওকে নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলাম। নৌকার মাঝি জানে না আমি বসন্ত রুগি তার নৌকায় তুলেছি। যান বাহনে ওকে নিয়ে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো। নৌকায় শহর থেকে প্রায় পনেরো কিলোমিটার দূরে কদমতলা পর্যন্ত গেলাম। সেখান থেকে পাল্কীতে করে ওকে নিয়ে আরও দশ কিলোমিটার দূরে বাড়িতে পদব্রজে রওয়ানা দিলাম। ঢাকা থেকেই ওর অবস্থা দেখে আমার মনে বেদনার মেঘ জমা হলেও ওকে নিয়ে আমাকেই একা বাড়িতে যেতে হবে তাই কিছুটা নিঃশঙ্ক ও শক্ত হলাম। বাড়িতে এ খবর দেওয়া তখন সম্ভব ছিলো না। কারণ তখনও মোবাইল ফোন আবিষ্কার হয়নি।

অনেকে ভাবতে পারেন বসন্ত রোগীকে ঢাকায় কোন হাসপাতালে ভর্তি না করে কেন গ্রামে নিয়ে গেলাম। আমি তখন ঢাকায় নতুন, তা ছাড়া ঢাকায় আমার নিকট স্বজন ছিলো না। যারা ছিলেন তাদের সহযোগিতার চেয়ে অসহযোগীতার যে কাটা গায়ে বিদ্ধ হতো তার চেয়ে কস্ট করে ঝুঁকি নিয়ে মায়ের পরশ অনেক দ্রুত আরোগ্যতার পথ্য বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো। আর পক্স তখন ষাট দশকের মতো ভয়ের ডোরাকাটা বাঘ ছিলো না। তবে সে যে মেছো বাঘ তা আমার মনে আশংকার থাবা হয়ে মুখ ব্যদান করেছিলো। আমাদের বাড়িতে ষাটের দশকে আসাদ, ফরিদা ও এই হাবিবের গুটি বসন্ত হয়েছিল। আমি নিকট থেকে ভাই বোন দের প্রতি আমার মায়ের সেবা যত্ন প্রত্যক্ষ করেছি। স্হানীয় ডাক্তার দের চিকিৎসায় ওরা আল্লাহর রহমতে আরোগ্য লাভ করেছিলো। তাই হাবিবের সুচিকিৎসা ও মায়ের সেবা যত্নের আশায় বুক বেধে ওকে নিয়ে এত দূর থেকে ছুটে গিয়েছিলাম।

সব বড়ো ভাইয়েরা এটা করেই থাকে। আমিও তার ব্যতিক্রম নয়।তবে আমি একটু নীরব প্রকৃতির ও নির্ঝঞ্ঝাট, অনাড়ম্বর। কখনও কখনও বিপদের সময় স্বজনদের জন্য আমার সাধ্যের মধ্যে কিছু করার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহপাক আমাকে এ জন্য সহযোগিতা করেন। জীবনের বিভিন্ন বাঁকে বিভিন্ন রকম কাজ করেছি। সময় ও সুযোগ হলে তা বিবৃত করবো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য।