কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট রসায়নের রসুই ঘর

পয়ত্রিশ বছর হল আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নের রসুই ঘর থেকে পাঠ সমাপন করে দেশের বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির রসুই ঘরে ঔষধ তৈরি, বিশ্লেষণ ও নতুন ঔষধের রেসিপি নিয়ে ব্যাস্ত জীবন অতিবাহিত করছি।শুরুতে অবশ্য রসায়নের শিক্ষক ছিলাম বিভিন্ন কলেজে। এখন পুরোদস্তুর ঔষধ বিঞ্জানী,ঔষধ বিশ্লেষক ও কাব্য-কর্মী, কবি আর শব্দবিশ্লেষক,ছন্দ বিশ্লেষক। কেউ কেউ অবশ্য ছন্দ বিজ্ঞানী টাইটেল, নজরুল সাহিত্য গবেষক টাইটেল দেন ভালোবেসে। তবে আমি নিজেকে বলি কবিতার ছাত্র, ছন্দের ছাত্র আর ঔষধ -অনুর,(Molecule) ছাত্র। শেখার কত কিছুই বাকি!এই বিশ্বচরাচর উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এর কতটা আমরা শিখতে পেরেছি? কত বিষয়ের ছাত্র হতে পেরেছি?

কেউ কেউ বলবেন রসায়নের ছাত্র হয়ে কেন কাব্য চর্চা? আমি বলবো, ভুল করিনি- রসায়নের রস শিখেছি পুরো ছাত্র জীবনে আর কবিতার চূড়ান্ত ব্যাকরণ হচ্ছে রস শাস্ত্র। কবিতার মূল উপাদান হচ্ছে, ভাব, বিষয়বস্তু, ছন্দ, অলংকার, চিত্রকল্প আর রস। রস হচ্ছে কবিতার ক্লাইমেক্স। যে কবিতায় রস নেই, সে কবিতা পাঠক হৃদয়ে প্রবেশ করতে পারে না। কবিতা হচ্ছে তরল ঔষধের মতো। ঔষধকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য, রং, মিস্টি, সুগন্ধি ও পানযোগ্য সুস্বাদু করা হয়- কবিতাকেও তদ্রূপ তৈরি করতে হয় বা তৈরি হতে হয়, নতুবা সে কবিতা পাঠক প্রিয়তা পায়না। এ জন্য বোধ হয় আমি কবি ও গবেষকের পঙক্তিতে পাঙতেয়। আর আমার রসায়ন শিক্ষক ড. হুমায়ুন আহমেদ জন নন্দিত কথাশিল্পী। বেশ ক বছর আগের তথ্য অনুযায়ী আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার প্রিয় রসায়ন বিভাগের কিছু একাডেমিক বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করব।

আমাদের রসায়ন বিভাগে শুরুতে অন্তর্ভুক্ত ছিলো, প্রাণরসায়ন, মৃত্তিকা বিঞ্জান, বোটানি, জুয়োলজী বিভাগ সমূহ। ফলিত রসায়ন বা কেমিক্যাল ইন্জিনিয়ারিং বিভাগ বেশ পরে সৃষ্টি হয়। এটিও রসায়ন বিভাগের জৈব রসায়ন ভবনে অবস্থিত।

বর্তমানে মূল রসায়ন বিভাগে রয়েছে তিনটি সেকশন যথাঃ অজৈব রসায়ন বা ইনঅরগানিক কেমিস্ট্রি, জৈবরসায়ন বা অর্গানিক কেমিস্ট্রি, ভৌত রসায়ন বা ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রি সেকশন। শিক্ষক বৃন্দঃ ৫৪ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩৮ জন বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। ১২ জন বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য বাইরে রয়েছেন। শিক্ষকদের মধ্যে ২৫ জন প্রফেসর, ৩ জন এসোসিয়েট প্রফেসর, ১৮ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, ৪ জন লেকচারার। এই শিক্ষকদের মধ্যে ৪৩ জন পি.এইচ.ডি. ডিগ্রিধারী, আর ৫ বাইরে ডক্টরাল ডিগ্রির জন্য বাইরে রয়েছেন। মোট ৫০ জন শিক্ষকের মধ্যে ১৩ জন নারী শিক্ষক এবং তাদের মধ্যে ৭ জন প্রফেসর, ১ জন এসোসিয়েট প্রফেসর, ৪ জন এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর এবং একজন লেকচারার।

বিভাগে ড. মোকাররম হোসেন খোন্দকার এর স্মরণে “খোন্দকার মেমোরিয়াল চেয়ার” সৃষ্টি করা হয়েছে। প্রথম বারের মতো প্রফেসর ড. সৈয়দ জহির হায়দার কে ১৯৮৬ সনে এই চেয়ারে সম্মানিত করা হয়। উপমহাদেশের প্রখ্যাত রসায়ন বিঞ্জানী প্রফেসর ড. কুদরত-ই-খুদা ১৯৭৬-৭৭ সনে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে রসায়ন বিভাগকে আলোকিত করেছেন। ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন নামি-দামি প্রফেসর বিভিন্ন সময়ে রসায়ন বিভাগে ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

রসায়নের রান্না করে মানুষের উপকার, দেশের উপকার করার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগ অনেক ভুমিকা পালন করেছে। বিঞ্জান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে রসায়ন বিঞ্জানীরা অনেক বড়ো বড়ো কাজ করেছ। রসায়ন বিভাগে বি.এস.সি. অনার্স, এম.এস.এম.ফিল. এবং পি.এইচ.ডি. কোর্সে ছাত্র ভর্তি করে রসায়ন বিঞ্জানী তৈরি করছে। এ ছাড়াও রসায়ন বিভাগে বেশ কিছু গবেষণা কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। গবেষণার ক্ষেত্রগুলো হচ্ছে :

  1. surface chemistry and Adsorption phenomena.
  2. Reaction Kinetics
  3. Photochemistry
  4. Synthetic Organic Chemistry.
  5. Organic Reaction Mechanism
  6. Natural Products and Carbohydrate
  7. Organometalic Chemistry
  8. jute and Cellulose.
  9. Medicinal Chemistry
  10. Pesticide residue
  11. inorganic Polymers including Phosphorus-Nitrogen, Sulphur-Nitrogen and Silicon Compounds.
  12. x-Ray Crystallographic studies and solid state Chemistry.
  13. Co-Ordination Chemistry
  14. Catalysis
  15. Analytical Chemistry. a) Development of Analytical techniques, b) Analysis of Water, Soil and bio-logical samples, c) Study of metal-drug infraction
  16. Environmental Chemistry. a) Monitoring of soil, water and air pollution, d) Development of pollutants remedial method from water, C) Characterization of different Organic Pollution in water and Soil.
  17. Electrochemistry and Electroanalytical Method.,
  18. Polymer Chemistry
  19. Bioinorganic Chemistry.