রসায়নের রসে : আমরা রসিক জনা

রসায়ন সাবজেক্ট রসের রসদে ভরপুর। সে কেবল নিজেই রসে রসগোল্লা নয়, তার রসে যারা মজে যায় তাদেরও রস চিপড়িয়ে বের করে দেয়। নিজে রস দেবে যেমন, তেমন রসিক জনের রসও বের করে নেয় সময় মতো।আয়ন লেনা দেনার কারবার। মানে কেটায়ন ও অ্যানায়ন পরস্পর পরস্পরকে লেন দেন করতে হবে।

ভালোবাসা তো একতরফা হয়না। দৃঢ বন্ধন তৈরি করতে হয়।বন্ড তৈরি করতে হয়। হোক সে আয়নিক বন্ড তৈরি, কোভ্যালেন্ট বন্ড তৈরি কিম্বা কো-অর্ডিনেশন বন্ড তৈরি- তাকে বন্ধন তৈরি করতে হলে এই তিন রকমই ভালো বাসতে হবে।

তাই রসায়ন রসের সাগর। রস বিভিন্ন রকম স্বাদের, রঙের ও চরিত্রের। কোনটা তীব্র ঝাঝালো, কোনটা তিতে, কোনটা টকাস্বাদ যুক্ত, কোনটা জ্বালানো পোড়ানো দহনময়, কোনটা ক্ষারীয়, কোনটা অম্লীয় হরেক রকম স্বাদের। এদের রঙও বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে, কোনটা বর্ণহীন, কোনটা বর্ণচোরা, কোনটা লাল, বেগুনি, হলুদ, নীল, সবুজ কালো, সাদা হাজার রঙের হয়ে থাকে তারা, তবে বর্ণহীনাদের সংখ্যা বেশি।

আমাদের থিয়োরী ক্লাস প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে প্রায় বিরতিহীন দুপুর বারোটা পর্যন্ত চলতোএরপর ল্যাবরেটরীতে দুপুর একটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত চলতো প্রাকটিক্যাল ক্লাস। আমরা ৫০ জন ছাত্র ছাত্রী ছিলাম প্রথম বর্ষ বি.এস.সি অনার্সে। ছয় মাস পর এই সংখ্যা কমে ২৭ জনে দাড়ায়। লুতফর রহমান খোন্দকার ও তৌকির হোসেন আমেরিকার ইউনিভার্সিটিতে বৃত্তি নিয়ে চলে যায়, ওরা দুজনে ঢাকা বোর্ডে প্রথম ও চতুর্থ স্হান অধিকারী ছিলো। বাকি বন্ধুরা মেডিকেল এবং ইন্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটিতে চলে যায়। কেউ কেউ রসায়নের রসাস্বাদনে বিফল মনোরথে বেরসিক বনে অন্য কোথাও চলে যায়। তাদের কেউ কেউ রসায়নের রসুই ঘরের ঝাঁঝালো কূট গন্ধময় তীব্র তিক্ত ও দহন জ্বালায়
ঝালাপালা হয়ে দিকবিদিক চলে যায়।

আমাদের বি.এস.সি. অনার্সের তিন বছরের কোর্স শেষ হয়েছে পাঁচ বছরে এবং এম.এস.সি.র এক বছরের কোর্স শেষ হয়েছে দুই বছরে। অনার্স এবং মাসটার্স কোর্স শেষ হয়েছে মোট সাত বছরে। অনার্সে ভর্তির সাত মাস পর ক্লাস শুরু হয়েছিল। কারণ এ সময়ে সামরিক শাসক এরশাদের ছাত্র সংগঠন নতুনবাংলা ছাত্র সমাজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগঠন করার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ঢোকার প্রচেষ্টা করছিলো।
বিশ্ব বিদ্যালয়ের সম্মিলিত ছাত্র সংগঠন গুলো তাদের প্রতিহত করার অব্যাহত প্রচেষ্টা করছিলো। এর ফলশ্রুতিতে ঢা.বি.তে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। এর সাত মাস পর অবস্থা স্বাভাবিক হলে ভার্সিটির খুলে যায়। এ ভাবে শুরুতেই আমাদের শিক্ষা জীবনের মূল্যবান সাত মাস সময় নষ্ট হয়ে যায়।

আমাদের শিক্ষা ও পরীক্ষা পদ্ধতির পরীক্ষাও আমাদের ওপর চালানো হয়। পাশ্চাত্যের সেমিস্টার সিষ্টেমে আমাদের পাঠদান এবং পরীক্ষা চালু হয়। সিলেবাসের তিরিশ পারসেন্ট শেষ হলে মিডটার্ম পরীক্ষা এবং সত্তুর পারসেন্ট শেষ হলে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। কোন কারণে বা ছাত্র আন্দোলনের কারণে ক্লাস না হলে ৩০% এবং ৭০% সিলেবাসের লেকচার শেষ না হলে এ সব পরীক্ষা হতো না। বাস্তবে তিরিশ পারসেন্ট সিলেবাস শেষ হতে ৪৫ দিন লাগার কথা থাকলেও তা শেষ হতে সময় লাগতো দুমাস/তিনমাস। আর সেমিস্টার ফাইনাল ১০৫ দিন এর পরিবর্তে প্রায় ২০০দিন লেগে যেতো। এর ফলে আমাদের শিক্ষা জীবন দীর্ঘ হয়েছে। এই অসুবিধার জন্য পরবর্তী কালে সেমিস্টার সিস্টেমের পরিবর্তে কোর্স সিস্টেমে চালু হয়। কোর্স সিস্টেমে সময় নির্ধারিত থাকে এর মধ্যে সিলেবাসের যতটুকু শেষ হোক না কেন পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠিত হতো এর ফলে সেশন জট কমে যায় কিন্তু শিক্ষার মান সম্পূর্ণ হয় না।

রসায়নের অজৈব রসায়ন পড়াতেন প্রফেসর ড. এস. জেড. হায়দার, প্রফেসর ড. এস. নবী বা সৈয়দ নুরুন্নবী, প্রফেসর ড. এতমিনা আহমেদ, প্রফেসর ড. আবুল খায়ের, প্রফেসর ড. মোহাব্বত আলী, প্রফেসর ড. শফিউল আলম, প্রফেসর নুরুল আমিন, প্রফেসর ড. হুমায়ুন আহমেদ। হায়দার স্যার আমাদের অনু, পরমানু, এদের গঠন, রাসায়নিক বিক্রিয়া, অনুগঠনের বন্ধন বা বন্ড ফরমেশন, আর নুরুন্নবী স্যার আনুবিক গঠন, পরমাণু বিক্রিয়া, ফিউশন ও ফিশান রিয়্যাকশন সম্পর্কে বিষদ বিষয়ে নিবিড় ভাবে পাঠ দান করতেন। তারা ক্লাসে ঢুকেই ইংরেজিতে আনরিপিটেড অনর্গল লেকচার দিতেন। আমরা অনেকে তাদের লেকচার নোট করে নিতাম। হায়দার স্যার তার নিজের লেখা In organic Chemistry, Advance In organic chemistry বই থেকে পড়াতেন। নুরুন্নবী স্যার কিছু বইয়ের Reference দিতেন কিন্তু সে বই গুলো কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী থেকে তোলা যেতো না। আমাদের সময় বইয়ের জেরক্স কপি করতে হতো। তখন ফটোকপি মেশিন ছিলো না। এতমিনা ম্যাডাম আমাদের সলভেন্ট কেমিস্ট্রি (Solvent) পড়াতেন। কোন কোন দ্রাবকে (Solvent,) কোন কোন সল্যুট (Solute) বা লবন দ্রবীভূত হয়ে দ্রবণ (Solution) তৈরি করে। এ জন্য কি কি ভৌত অবস্থা, রাসায়নিক বন্ধন, দ্রাব্যতা বা সলিউবিলিটি ক্রম নির্ভর করে তা বিষদ ভাবে পড়াতেন। আবুল খায়ের স্যার মৌলিক পদার্থের পর্যায়সরণি (Periodic Table) সম্পর্কে বিস্তারিত ভাবে পড়াতেন। মৌলের প্রিয়ডিক টেবিল আমার মুখস্থ ছিলো। একশো দশটি মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা, পারমাণবিক ওজন, ইলেকট্রনিক বিন্যাস আমার মুখস্থ ছিলো। এ জন্য আমি বেশ আনন্দ বোধ করতাম।

শফিউল আলম স্যার আমাদের বিশ্লেষণ রসায়ন পড়াতেন। তিনি Vogels এর Analytical Chemistry রেফারেন্স বই হিসেবে আমাদের জন্য নির্বাচন করেন। বিভিন্ন লবন বা সল্ট, দ্রবণ, বিভিন্ন যৌগিক পদার্থ বিশ্লেষণের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে পড়াতেন। তিনি টাইট্রেশন, (Aqueous, Nonaqueous), ক্রোম্যাটোগ্রফিক সিস্টেম সম্পর্কে (PC, GLC, HPLC, GC,) বর্ণালী বিশ্লেষণ (Spectromicroscope Analyses) সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াতেন।

প্রফেসর ড. হুমায়ুন স্যার আমাদের পলিমার কেমিস্ট্রি পড়াতেন। তিনি খুব সুন্দর করে পড়াতেন। পদার্থের কোন কোন প্যারামিটার পলিমার সৃষ্টিতে প্রভাব বিস্তার করে তা আমাদের সুন্দর করে গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে বুঝিয়ে দিতেন। আমি স্যারের কাছে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নাম্বার কখনও বা সর্বোচ্চ নাম্বার পেতাম। নুরুল আমিন স্যার আমাদের কয়লা, খনিজ পদার্থের সৃষ্টি ও রাসায়নিক গঠন সম্পর্কে পড়াতেন। উল্লেখ্য তিনি বেশ কিছু খনিজ পদার্থের রাসয়নিক সংকেত এর পরিবর্তে সংখ্যাতাত্ত্বিক নাম্নারের ফর্মূলা দিয়েছিলেন। তিনি হঠাৎ করেই অল্প বয়সে লোকান্তরিত হন। জানি না তার এই সংখ্যা তাত্ত্বিক ফর্মূলা (I,U,P,A,C) দ্বারা স্বীকৃত কিনা।

প্রফেসর ড. মোহাব্বত আলী আমাদের অরগানো মেটালিক রসায়ন পড়াতেন। তার লেকচারের একটা ভালো বৈশিষ্ট্য ছিলো। আর তা হল তিনি যে কয়টি ক্লাসে যে বিষয়ে পড়াতেন তার নোট ক্লাসের সবাইকে দিতেন। এর ফলে আমরা সকলে তার লেকচারের ওপর পরীক্ষায় শতকরা ৫৫%-৬৫% নম্বর অনেকেই পেয়ে যেতাম। আর অধিকাংশ প্রফেসরবৃন্দ তাদের লেকচারের কোন পেপার আমাদের সরবরাহ করতেন না। এ জন্য খুব কম ছাত্র তাদের কাছে ৬০% নম্বর পেতো।ক্লাসে হাতে গোনা দু/চার জন তাদের লেকচারে
৬০% নম্বর পেতো।

মোহাব্বত আলী স্যার ইংরেজিতে পড়ালেও মাঝে মধ্যে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতেন। লেকচার শেষে বলতেন, বুজছত নি।বালা কইরা লেখা পড়া কর।ওই ছেলেরা রাজনীতি কইরস না।মিছিল দিবিনা। তিনি ফজলুল হক হলের নামকরা প্রভোস্ট ছিলেন তাই ক্লাসে বলতেন, “ওই ছাওয়ারা, তরা ক্যাডা ক্যাডা এফ.এইচ. হলের ছাত্র, হাত ওঠা। শোন, তরা আমার হলের ছাত্র। তগো কম্পিটিশন দিয়া পড়তে অবে, বুজজতনি।”

ক্লাসে শহীদুল্লাহ্ হল জগন্নাথ হল, রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হলের ছাত্র ছাত্রীরা রয়েছে, তাই তাদের উদ্দেশ্যে বলতেন, “ওই তরা যারা অন্য হলের ছাত্র আছোস, কিছু মনে করছ না। তরা সগ্গলে বালা ছাত্র। তরা বেগ্গুনা বালা।”

অরগানোমেটালিক কেমিস্ট্রি বেশ ইন্টারেস্টিং সাবজেক্ট। এই বিষয়ে প্রখ্যাত রসায়ন বিঞ্জানী প্রফেসর ড. মোকাররম হোসেন খোন্দকার এর আবিষ্কার রয়েছে। তিনি অরগানো-বোরন সহ আরও অনেক যৌগিক লবন তৈরি করেছেন।

জৈব পদার্থের সাথে, খনিজ বা ধাতব বস্তুর রাসায়নিক বিক্রিয়ায় যে যৌগিক লবন তৈরি হয় সেটাই অরগানোমেটালিক কেমিস্ট্রির মূল রসায়ন। এ ক্ষেত্রে আরও নতুন কাজ করার অবকাশ আছে। বোরন প্রকৃতিতে খুব কম থাকে। অন্যান্য ট্রেস ইলিমেন্টের মতো বোরন বেশ জটিল ও রহস্য ময়।

অনার্স তৃতীয় বর্ষ এবং মাসটার্সে দুটি কোর্স ছিলো বর্নালী রসায়ন বা স্পেক্ট্রোসকপি। এটি অত্যন্ত জটিল বিষয়। ইউভি.আই.আর স্পেক্ট্রোসকপি, ভিজিবল স্পেক্ট্রোসকপি, মাস স্পেক্ট্রোসকপি, এন.এম.আর. স্পেক্ট্রোসকপি, রমন স্পেক্ট্রোসকপি প্রভৃতি বিষয় এর অন্তর্ভুক্ত ছিলো। প্রফেসর ড. জাফর মাহমুদ, প্রফেসর ড. তৌফিক হোসেন, প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ স্যার আমাদের এই জটিল রসায়ন পড়াতেন। তবে ড. তৌফিক হোসেন স্যার বিভিন্ন আননোন জৈব বস্তুর বর্ণালী বিশ্লেষণ করে তাদের এবজর্পশন পিক নিয়ে আলোচনা করতেন এবং বস্তুর ফাংশনাল গ্রুপের পিক মান এবং তার অন্যান্য বৈশিষ্ট্য নিয়ে চমৎকার লেকচার দিতেন। এতে ক্লাসেই আমাদের পড়া আত্মস্থ হয়ে যেতো।

নিউক্লিয়ার কেমিস্ট্রি, কোয়ান্টাম মেকানিক্স, স্টাটিস্টিক্যাল কোয়ান্টাম মেকানিক্স পড়াতেন যথাক্রমে, প্রফেসর ড . সৈয়দ নুরুন্নবী, প্রফেসর ড. আলী নওয়াব, প্রফেসর ড. রওশন জাহান মান্নান। এই বিযয়ে পদার্থ বিজ্ঞান, অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিক্সের সাথে রসায়নের অনেক মিল রয়েছে। বড়ো বড়ো জটিল ক্যালকুলাস গণিতের মাধ্যমে এই বিষয়ের পাঠদান করা হতো। বস্তুর মূলে রয়েছে পরমাণু এবং আদি হাইড্রোজেন পরমাণু যা ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র অংশ হচ্ছে আলো। সৃষ্টির আদি শক্তি এই পরমাণু কুন-ফা-ইয়াকুনের মাধ্যমে প্রচন্ড বিস্ফোরনের মাধ্যমে বিগব্যাংগ এর মাধ্যমে সমস্ত অনু পরমাণু এবং এই বিশ্ব জগতের সৃষ্টি। আলোর ফোটন, বান্ডিল তত্ত্বের মাধ্যমে স্রস্টার সৃষ্টি তত্ত্ব নিয়ে দারুণ লেকচার দিতেন প্রফেসর ড. আলী নওয়াব। আমার স্মৃতিতে তা এখনো ভাস্বর হয়ে আছে।

আমাদের জৈব রসায়নের ক্লাস নিতেন প্রফেসর ড. মফিজ উদ্দিন, প্রফেসর ড. আবদুল জব্বার মিয়ান, প্রফেসর ড. প্রফেসর ড. নীলুফার ম্যডাম, প্রফেসর রেনুবালা দে, প্রফেসর আবদুল কাদের প্রফেসর ড., বাহার উদ্দিন, প্রফেসর ড. মসিহুজ্জামান, প্রফেসর ড. রেহানা রহমান, প্রফেসর ড. খাদিসা, প্রমুখ।

জৈব রসায়নের প্রথম ক্লাস নিয়েছিলেন রসায়নের ততকালীন হেড অব দি ডিপার্টমেন্ট প্রফেসর ড আবদুল জব্বার মিয়ান। তিনি জৈব যৌগের রাসায়নিক বন্ধন, শক্তির ব্যাবহার, সম্পৃক্ত ও অসম্পৃক্ত হাইড্রোকার্বন, এলডিহাইড, কিটোন গ্রুপের মৌল ও যৌগ সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াতেন। তিনি মৃদুস্বরে ইংরেজিতে লেকচার দিতেন। একবারও রিপিট করতেন না। প্রফেসর ড. মফিজ উদ্দিন স্যার রিয়্যাকশন ম্যাকানিজম নিয়ে সুন্দর করে পড়াতেন। রাসায়নিক বিকৃয়ায় ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন কিভাবে ধাপে ধাপে বিকৃয়া করে অগ্রসর হয়ে সর্বশেষ উতপাদ তৈরি করে তার ভেতরের ভাঙাগড়া।

প্রফেসর ড মসিহুজ্জামান স্যার সাইক্লিক স্ট্রাকচারের এবং চাকৃক আকারের জৈব রসায়ন পড়াতেন। তিনি খুব সম্ভব ন্যাচারাল প্রোডাক্ট এবং এন্টিবায়োটিক সম্পর্কে বিস্তারিত পড়াতেন। এই বিষয়ে প্রফেসর ড. রেহানা ম্যডামও ক্লাস নিতেন। রেনু বালা ম্যডাম গ্লুকোজ এবং পলিস্যাকাডাইড নিয়ে পড়াতেন। পেট্রোকেমিক্যাল পড়াতেন প্রফেসর আবদুল কাদের ও বাহার উদ্দিন স্যার।

নীলুফার ম্যাডামও ন্যচারাল প্রোডাক্ট পড়াতেন। ন্যাচারাল প্রোডাক্ট সম্পর্কে অনার্স তৃতীয় বর্ষ এবং মাস্টার্সে বিস্তারিত ভাবে পড়ানো হয়। প্রাকৃতিক উপাদান বলতে মূলত ফাইটোক্যামিক্যালস, এলকালয়েড, প্রকৃতিক এলডিহাড, সুগন্ধি ফুল ফলের রাসায়নিক উপাদান, স্টেরয়েড, গ্লুকোজ, ফ্রুকটোজ, রেফিনোজ, ল্যাকটোজ জাতীয় উপাদান সহ আরও অনেক বিষয় পড়ানো হতো।