রসায়নের ক্যাম্পাসে

ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগে আমার প্রায় সাত বছর কেটেছে রসায়নের রস মালাই আর সহপাঠীদের সাথে আনন্দ বেদনার রঙ্গ রসে। ক্যাম্পাসে লেখা পড়ার সাথে সাথে অন্যান্য কার্যক্রমও চালিয়েছি। আমি ফজলুল হক হলের আবাসিক ছাত্র ছিলাম। দুপুরে হলের ক্যান্টিন ক্যাফেটেরিয়া থেকে নাকে মুখে খেয়ে হন্তদন্ত হয়ে আবার ল্যাবরেটরীতে ঢুকতাম রসায়নের প্রাকটিকাল ক্লাসে।

বি.এস.সি অনার্সে আমারা ২৭ জন মাত্র ছাত্র ছাত্রী চার বছর ক্লাস করেছি। শুধু ক্লাসই বলা যায়। কারণ পড়াশোনার চাপে রসায়ন আমাদের শরীরের রস বের করে দিত, রাজনীতি আর প্রেমপ্রীতির সুযোগ দিতো না। তারপরও, কিছুটা হাল্কা ছাত্র রাজনীতি চলতো। অনার্সের তৃতীয় বর্ষে রসায়ন বিভাগ ছাত্র ইউনিয়ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৩ সন হবে তখন। ভি.পি. পদ নির্ধারিত ছিলো এম.এস.সি ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের জন্য, জি.এস. পদ ছিলো অনার্স ফাইনাল ইয়ারের ছাত্রদের জন্য, এ.জি.এস. পদ ছিলো অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রদের জন্য। নির্বাচন পদ্ধতি একটু আলাদা ছিলো। কোন রাজনৈতিক প্যনেল হিসেবে কেউ দাড়াতে পারতোনা।বিভাগের পুরো ছাত্ররা সবাইকে ভোট দিতে পারতো না। যার যার ইয়ারের ছাত্রদের ভোটে যে বেশি ভোট পাবে সেই নির্বাচিত হতো।

আমি আর রিজু ওরফে রেজওয়ানুল হক এ.জি.এস. পদে দাঁড়ালাম। শ্রেণী নির্বাচনে যে প্রথম হবে সে নির্ধারিত পোস্টে জয়ী হবে আর যে দ্বিতীয় হবে সে পাবে ক্লাস ক্যাপ্টেনের দায়িত্ব। আমি মাত্র এক ভোটে জিতে গিয়ে এ.জি.এস. হলাম। রিজু হলো ক্লাস ক্যাপ্টেন। আমাদের রসায়ন বিভাগের এই নির্বাচনে ভি.পি নির্বাচিত হলেন সাজজাদ হোসেন, জি.এস. হলেন, সাব্বির হোসেন। এরা সকলে মেধাবী এবং জনপ্রিয় ছাত্র ছিলেন।

আমি রিজুকে হারিয়ে জিতে যাবো ,ভাবিনি। আর আমি কেমন মানুষ ছিলাম তা আমার সহপাঠীরা ভালো জানেন। তবে ক্লাসে রিজুর সাথে আমার খুব ঘনিষ্ঠতা ছিলো। আমাদের একটি আড্ডার গ্রুপ ছিলো। কামরুল, এমদাদ, রিজু, কবির হোসেন, বাচ্চু, প্রদীপ বকসী, রতন, কামাল, সাজাহান সাজু, গোলাম রসুল আর আমি মিলে প্রায় সময় একত্রে চলাফেরা, আড্ডা, খুনসুটি, ক্লাসে হাল্কা দুষ্টুমি করতাম। ছাত্র রাজনীতি নিয়ে আমাদের মধ্যে মৃদু বিতর্ক হতো কিন্তু নোংরা রাজনীতি হতো না। হলে ছাত্র রাজনীতিতে আমরা অংশ গ্রহণ করেছি স্বাধীন ভাবে, কেউ কারো আদর্শ ও বিশ্বাসের প্রতি কটাক্ষ করিনি।