ও বাংলা : সোনার কৈতর

আমাদের গ্রামটি আয়তনে বেশ বড়ো। পায়ে হেটে এর চার পাশ ঘুরতে প্রায় এক দিন লেগে যাবে। আকৃতি জ্যামিতিক ভাবে প্রায় রম্বাস আকৃতির, তবে এক দিকে লাগোয়া অন্য গ্রাম।সেটা সম্ভবত ডহরনগর ও উজির পুর হবে। আমাদের গ্রামের তিন দিকে ঐতিহ্য বাহী কুমার নদী দিয়ে ঘেরাও করা। এই কুমারের একমুখ বিশাল পদ্মা এবং অপর মুখ আড়িয়াল খাঁ নদীর সাথে সংযুক্ত। আমাদের বাড়িটি প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর। এটি গ্রামের পশ্চিম দিকে পশ্চিম মিয়া পাড়ায়। পাড়াটির নাম আমদের বংশের মিয়া টাইটেল থেকে নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে বসত করার ছয়টি বড়ো ঘর রয়েছে। এর মধ্যে আধা পাকা একটি বেশ বড়ো দৃষ্টি নন্দন দোতালা ঘর। একটি দালানঘর মসজিদ। একটি বৈঠক খানা বা কাচারি ঘর শোভা পাচ্ছে। বাড়ির সামনে কাচারি ঘর ও মসজিদের মাঝে বড়ো খোলা যায়গা রয়েছে। এখানে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল ও অন্যান জমায়েত হয়। গ্রামের বিচার আচার, শালিস বৈঠকাদি আমাদের পরিচালনায় এখানে ও কাচারি ঘরে হয়ে থাকে। বাড়ির উত্তরে নারকেল বীথি বন, কিছু কিছু ফলের গাছ রয়েছে।দক্ষিণ ও পূর্বপাশে বাগান বাড়ি। সেখানে ঘন গুবাক তরুর মায়াবী বেষ্টন, আম কাঠাল, নারকেল, বেল জাম্বুরা সহ আরও অনেক ফল ফলাদি রয়েছে। বাড়ির উত্তরে নারকেল বীথি বন সংলগ্ন আমার বাবার প্রতিষ্ঠিত প.মিয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এখানে তিনটি বিল্ডিংয়ে স্কুলের কার্যক্রম পরিচালনা হয়। এই স্কুলই আমার প্রথম বিদ্যাপিঠ। এখানে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে শ্রীনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হই।

আমাদের বাড়ির তিন পাশেই এখন পাকা রাস্তা। বাস ট্রাক সহ অন্যান্য গাড়ি চলে। বাড়ির সামনে পাকা রাস্তার পরেই আমার প্রি কুমার নদী। অনেক স্মৃতির অনেক রঙের স্বাধের প্রিয় কুমার নদী। নদীর ওপর আমাদের স্কুল সংলগ্ন একটি পাকা ব্রিজ হয়েছে বেশ ক বছর। এটি উদ্বোধন করেছিলেন সংসদ উপনেতা আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আমার ফুফু সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। আমাদের গ্রামে বিদ্যুত সংযোগ হয়েছে প্রায় বিশ বছর হবে। এ ব্যাপারে আমাদের মহল্লার বিশিষ্ট শিল্পপতি ড. আবদুল মান্নান সাহেবের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। তিনি আমাদের মহল্লায় তার পিতা ও আমার ধর্মীয় শিক্ষক সুলতান আহমদের নামে সুলতানিয়া দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। মহল্লায় তিনি একটি চিকিত্সা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন। সুলতানিয়া দাখিল মাদরাসায় আমার বাবা ডোনার হিসাবে প্রায় দু বিঘা জমি দান করেন।

আমাদের গ্রামের চারপাশে সাত, আটটি গ্রাম রয়েছে। আমাদের বাড়ির পশ্চিম দিকে কুমার নদীর ওপারের গ্রামের নাম সেখপুরা। সে গ্রামের আব্দুল মোল্লা ও ধোনা মোল্লারা অর্থ বিত্তে শক্তিশালী। তবে মান্দার সেখ নামের এক ঘর সেখেরা বসবাস করে। তারা অতি সাধারণ মানুষ। গ্রামের নামটি কিভাবে সেখপুরা হল তা এখনো আমাকে ভাবিয়ে তোলে।এটি বোয়াল মারি থানার অন্তর্ভুক্ত। আমাদের গ্রামের পশ্চিম উত্তর দিকের গ্রামের নাম পরমেশ্বরদী। এর পূর্ব নাম ছিলো বড়ুর কান্দী।এটিও বোয়ালমারী থানার অন্তর্ভুক্ত। সেখপুরার পরের গ্রাম রঙ্গ রায়ের কান্দী এটি আমাদের গ্রামের পশ্চিম দক্ষিণে অবস্থান করছে। এরপররে গ্রামের নাম বঙ্গরাইল বা বাংরাল।এটি আমাদের গ্রামের দক্ষিণে কুমার নদীর ওপর পাড়ে। আমাদের গ্রামের দক্ষিণ, পূর্ব দিকের গ্রামের নাম গুলো যথাক্রমে ফুলবাড়িয়া, জগনদ্দী বা জগন্নাথদী, যদুনন্দী, কালীনগর,ডহর নগর, উজিরপুর। উল্লেখ্য, যদুনন্দী আমাদের ইউনিয়নের নাম। উজির পুর মুসলিম নামাঙ্কিত গ্রাম হলেও এই গ্রামে বৃটিশ আমলে এবং তার পূর্ব আমলে প্রায় শতঘর শুধু ব্রাহ্মণ হিন্দু ভদ্র লোক বসবাস করতো।তারা এখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাস করে।

গ্রামের সাথে একসময় আমার নিবিড় সম্পর্ক ছিলো, এখন দূর থেকে সুগন্ধি নেই। স্কুল কলেজ জীবনে আমি গ্রামের বাড়িতে ও ফরিদপুর শহরের বাড়ীতে থেকে লেখা পড়া করেছি। এর ফলে গ্রামের বাড়ি ও গ্রামের সাথে আমার গভীর সম্পর্ক বজায় রাখতে তেমন বেগ পতে হয়নি। আমি বাড়িতে গেলেই মামা বাড়ি, খালাবাড়িতে বেড়াতে যেতাম।গ্রামের বিভিন্ন দরবারে আব্বা আমাকে সাথে করে নিতেন। বিভিন্ন দরবার, শালিস বৈঠকে আব্বার সাথে কমপক্ষে পনেরো বিশজন লোক থাকতো। তারপরেও তিনি আমাকে গ্রামের আচার বৈশিষ্ট্য ও দরবারি কৌশল হেকমত জানাতে এ সবের পরশ দিতেন। বংশের ঐতিহ্য, শানশওকত, জমিজমা ঠিক রাখতে বাবার এই কৌশল ছিল বলে আমার মনে হয়। কিন্তু তার পুত্র ধন যে অন্য রত্ন, অন্য মশলা দু’হাতে তুলে নিচ্ছে তা বোধ হয় পরবর্তী কালে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন। আমি নিবিড় ভাবে গ্রামীন সৌন্দর্য, কবিতার ফুল মন্জরী তুলে ভান্ডার সমৃদ্ধ করছিলাম। গ্রামের নাম বঙ্গরাইল, গ্রামের নাম বাংরাইল। বাহ্, চমৎকার। আমি ছোটকালে এ গ্রামের বাগান ও জমি জমায় এক ভিন্ন চিত্র দেখে অবাক হয়েছি। এ গ্রামের জমিতে চারপাশে উচু উচু আইল বা মাটির ঘেরাও দেওয়া বেড় দেখেছি। আমার মনে তখন নানান প্রশ্নের উদয় হলেও তার জবাব পেয়েছি অনেক পরে। বই পড়ে, ইতিহাসের আকর খুড়ে বুঝেছি বঙ বা বাঙাল জাতি জমিতে আল দিয়ে পানি আটকে ফসলের আবাদ করে। বাংরাইল গ্রামের লোকেরা সেই প্রাচীন কাল থেকে জমিতে আল বেধে ফসলের চাষবাস করছে তাই এ গ্রামের নাম এমনটা। আজ আরও ভাবছি কিভাবে বঙ্গ এর উত্পত্তি।

আর্যদের মনু সংহিতায় একটি শ্লোক আছে :
অঙ্গ বঙ্গ কলিঙ্গেসু সৌরাষ্ট্রমগধেষু চ
তীর্থ যাত্রাং বিনা গচ্ছন্ পুনঃসংস্কার মর্হতি।
অর্থাৎ অঙ্গ, বঙ্গ, কলিঙ্গ (উড়িষ্যা, সুরাট, মগধ বা বিহার দেশে কেবলমাত্র তীর্থ যাত্রা ছাড়া অন্য কোন কারণে গমন, করলে সে পতিত হবে। পুনরায় সংস্কার ছাড়া জাতে ঠাঁই পাবে না। এখানে বঙ্গ এলাকার নাম দেখা যায়। এই বঙ্গ কোথায় তা বাঙ্গালা নামের ভেতর পাওয়া যায়। এই এলাকা হল গঙ্গা ও পদ্মা নদী সংলগ্ন জঙ্গলময় জলাকির্ণ এলাকা।বংলা হল বাদিয়াতুলকানকেল আলিয়া বা গঙ্গানদীর জল জঙ্গল এলাকা। বঙ্গ হল বং জাতি। এরা আদি ভারতীয়। হযরত নূহ আঃ এর উত্তর পুরুষ দাবির বা দ্রাবিড় দের বংশধর। দার -এ-আবিরের বা আবিরের উত্তর প্রজন্ম। অন্যদিকে আবির হলেন হযরত নূহ আঃ এর বংশধর। এই বং জাতি জমিতে আল দিয়ে ফসল উৎপাদন করত।বং,+আল=বংআল>বাংয়াল্য>বাঙ্গাল এই বাঙ্গালরাই বাঙ্গালী হিসেবে এখন পরিচিত।

বাংলা এলাকা গুপ্তআমলে, পাল আমলে, সুলতানি আমলে, বৃটিশ আমলে, সুবেদারি শাসন আমলে বিভিন্ন নামে, বিভিন্ন ভৌগোলিক সীমানায় চিহ্নিত ছিলো। মূল বঙ্গ এলাকা আয়তনে ছোট ছিল। বরিশাল, ফরিদপুর, খুলনা, যশোর নিয়ে বঙ্গ এলাকা চিহ্নিত ছিল। স্বাধীন সুলতানি আমলে শামসউদ্দিন ইলিয়াস শাহ বঙ্গ, সমতট, হরিকেল, পুণ্ড্র, বরেন্দ্র, রাঢ়, গৌড় এলাকা একত্রিত করে মিলিত দেশের নাম দেন, শাহীবাংলা। নিজেকে শাহীবাংলার শাহীবাঙ্গালী শাসক হিসেবে ভূষিত করেন। তিনিই বৃহত বাংলার প্রথম নৃপতি। এই শাহী বাংলা বৃটিশ আমলে ভারতের অধিন বাংলা প্রেসিডেন্সি, বাংলা প্রোভিন্স, পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা যা বঙ্গভঙ্গের সময় খন্ডিত হয়, স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ নামে পরিচিত। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্বে সাবেক পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়। এই বাংলাদেশের জন্ম ১৯৭১ সালে হলেও এর নাম করন হয়েছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ ও গানে।
যেমন:
১.
এই পবিত্র বাংলাদেশ৷
বাঙালি-আমাদের
দিয়া প্রহারেণ ধনঞ্জয়
তাড়াবো আমরা, করিনা ভয়
যত পরদেশী দস্যু ডাকাত
রামাদের গামাদের।

২.
জাগো আজ দন্ড-হাতে চন্ড বঙ্গবাসী
ডুবাল পাপ-চন্ডাল তোদের বাংলাদেশের কাশী
জাগো বঙ্গবাসী।
মোহান্তের মোহ-অন্তের গান: ভাঙার গান)১৯২৫,

৩. নমঃ নমঃ নমো বাংলাদেশ নম
চির-মনোরম চির মধুর
বুকে-নিরবধি বহে শত নদী
চরণে জলধির বাজে নূপুর।

স্বাধীনতার প্রস্তুতি ছিল অনেক আগে থেকেই। হঠাৎ করেই কোন দেশ স্বাধীন হয় না। বঙ্গভঙ্গ হয় বাংলা প্রোভিন্সকে ভেঙে পূর্ব বাংলা অর্থাৎ বর্তমান বাংলাদেশ ও আাসাম,মেঘালয়,তৃপুরা অঞ্চল নিয়ে। এর রাজধানী হয় ঢাকা। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়ে আবার পূর্ব অবস্থানে ফিরে যায়।কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার জন্য এর সাথে যুক্ত হয় পূর্বের ভাঙা অংশের কেবল পূর্ব বাংলা। এই ভাঙা গড়ার মধ্যে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি রয়েছে, যা এ আলাপচারীতায় নাইবা বলি। স্বাধীনতা সংগ্রামের বীজ লুকিয়ে ছিল ১৯৫২ এর ভাষা আন্দোলনে। উনসত্তরের গনঅভ্যুত্থানে এটি আরও চাঙ্গা হয়। রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এ সময় ময়দানের চারদিক থেকে জয়বাংলা শ্লোগান ওঠে। স্বাধীনতা সংগ্রামে জয়বাংলা শ্লোগান মুক্তিযুদ্ধের অমিয় শক্তিতে পরিণত হয়। জয়বাংলা বাংলাদেশের পরিচয় বহন করে। এই জয়বাংলা শব্দটি আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার ভাঙার গান কাব্যের পূর্ণ অভিনন্দন কবিতায় সেই ১৯২৫ সালে প্রথম ব্যাবহার করেন। মাদারিপুর শান্তি -সেনা-বাহিনীর প্রধান অধ্যক্ষ শ্রীযুক্ত পূর্ণ চন্দ্র দাস মহাশয়ের কারা মুক্তি উপলক্ষে রচনা করেন।
কবিতার অংশ বিশেষ :
জয়বাংলার পূর্ণ চন্দ্র, জয় জয় আদি-অন্তরীন!
জয় যুগে যুগে আসা সেনাপতি, জয় প্রাণ আদি অন্তহীণ!
স্বাগত ফরিদপুরের ফরিদ, মাদারিপুরের মর্দবীর
বাংলা মায়ের বুকের মানিক, মিলন পদ্মা ভাগীরথীর।

স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছর হতে চল্ল কিন্তু আমাদের সমাজে সাম্য, ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন তেমন ঘটেনি। আজও হিংসা বিদ্বেষ, হানাহানি, গুম, খুন, ধনিক শ্রেনীর অর্থনৈতিক নিপীড়ন দাপটের সাথে চলছে। গ্রামে গঞ্জে চলছে দলিয় কোন্দল, মারামারি, লুটপাট, ডাকাতি রাহাজানি। নারী নির্যাতন। গোত্রীয় ভিত্তিক কাইজা ফাসাদ। সম্মানিত লোকের মানহানি। স্বাধীনতার সুখ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছেনি। এখন গ্রামেও শান্তি নেই। আত্মমর্যাদাশীল মানুষ এখন গ্রাম্যরাজনীতি থেকে দূরে থাকতে চায়। কিন্তু দূরে আর কতদূরে, কতক্ষণ থাকা যায়! বদমাশ কিছু মানিষ ওত্ পেতে আছে। নিকটে পেলেই কামড় বসাবে। ক্ষেতের ফসল, বাগানের ফল, পাওনা টাকা দেবে না। কাউকে দিতে দেবেনা। এই নামে মোসলমান লোকেরা এখন নিজেরা কামড়া কামড়ি করছে। এদের অনেককে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের, দূর্বল মুসলমানদের নির্যাতন করছে, তাদের ঘরবাড়ি লুটপাট করছে। আমার একটি কবিতা এমন করেই লিখেছি বেশ কিছু দিন আগে।
একাত্তর থেকে দু হাজার একুশ
স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর চলে এল
আমরা স্বাধিন কতটুকু
এখনোতো ভিটেমাটি আছে, আছে ফসলের ক্ষেত
মুক্ত আঙিনাও আছে, পুকুরের মাছ, ফলমূল
মোটা ভাত মোটা কাপড়ের গন্ধ এখনও
নাসারন্ধ্রে সুড়সুড়ি দেয়।
কেউ পায় কেউবা না পায়,তবুও নিজের বলে সুখটা পায়
জোর করে নিয়ে যায় কদাচিত

সেই একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কথা মনে পড়ে
আমি তখন বালক বয়সী সাহসী মানুষ
আমার যুদ্ধে যাবার সময় হয়নি

এলাকার গৃহহারা,পাক হানাদারদের শিকার অনেক
সম্ভ্রান্ত হিন্দু লোকের, আশ্রয় হীন মানুষের আশ্রয় দিয়েছেন আমার দয়ালু পিতা
তাদের থাকার জন্য ঘর ছেড়ে দিয়েছেন
খাবার আর সাহস দিয়েছেন
জীবন বাঁচাবার স্বপ্ন বুনেছেন।
আজ পঞ্চাচ বছর হতে যাচ্ছে
আমাদের ঘর দোর পড়ে আছে এতিম বালক যেন
মাত্র ক বছর হল ইদুরের উত্পাত।

আমরাতো আশ্রয় দিয়েছি অসহায় লোকদের
আমরা কিছুতে ছাড় দেবনা ঘাতক দূর্বৃত্তদের
আমরা স্বাধীন, স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে জানি
প্রতি ইঞ্চি জমিনের পাহারাদার আমরা
পিতৃ পুরুষের ভিটেমাটি, ছাপ্পান্ন হাজার বর্গ মাইলের
মুক্তিযোদ্ধা আমরা, এই আঠারো কোটি।