কথাশিল্পের রসায়ন : রসায়ন বিঞ্জানী প্রফেসর ড হুমায়ুন আহমেদ

প্রফেসর ড হুমায়ুন আহমেদ আমার সরাসরি শিক্ষক এজন্য আমি গর্বিত এবং তার কাছে ঋণী। আমি তাকে এম.এস.সি’তে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছি। অনার্স পড়ার সময় তাকে পাইনি। তিনি আমেরিকা প্রবাসী ছিলেন। ঢাবি’র অনেক শিক্ষক ছুটি নিয়ে এ ভাবে বিদেশে উচ্চশিক্ষা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজের জন্য গিয়ে থাকেন। তিনি খুব মেধাবী এবং জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। এম.এস.সি.তে তিনি আমাদের পলিমার কেমিস্ট্রি পড়াতেন। আমি তার কাছে বেশ ভালো নম্বর পেতাম। হুমায়ুন আহমেদ স্যার শহীদুল্লাহ্ হলের হাউস টিউটর ছিলেন। আর আমি ছিলাম পাশের মানে পুকুরের ওপর পাড়ের বাসিন্দা। ফজলুল হক হলের ছাত্র।

স্যারের সাথে আমার লেখক হওয়ার গল্প খানিকটা বিদ্যুত্চমকের আকস্মিকতায় জড়িত। ক্লাসে আমার কবি হওয়ার গল্পের সূত্রপাত করেছিলো আমার সহপাঠী এমদাদুল হক এমদাদ। ও একটু মুখরা ও ডানপিটে প্রকৃতির ছিলো। আমিও কবিতা লিখি, আমার কবিতার বই বের হয়েছে, তা ও-ই স্যারকে জানিয়ে দিলো।তার এ জানানো প্রকৃয়াটি আমাকে বেশ বিবৃত করেছিলো।আমি জানতামই না ও এ ভাবে ক্লাসে বিষয়টি ডিসক্লোজ করে দেবে।রসায়নের জটিল ক্লাস তার মধ্যে হুট করে কাব্য চর্চার বিরস সংবাদ যে রস সৃষ্টি করবে তা আমার কল্পনায় ছিলোনা। ভেবেছিলাম রসায়নের ছাত্র হয়ে কাব্য করছি, এটি স্যার বাকা ভাবে গ্রহণ করবেন। এমদাদের সংবাদটি কি নালিশ, সুসংবাদ না দুঃসংবাদ তা নিয়ে মুহূর্তে দ্বিধায় পড়লেও
স্যার রসায়নের বর্ণালী বীক্ষণ করলেন। আমাকে স্বাগত জানালেন, ক্লাস শেষে সায়েন্স ক্যাফেটেরিয়ায় মিষ্টি মুখ করালেন। স্যারের দুটো উপন্যাস” নন্দিত নরকে” ও “শঙ্খনীল কারাগার “উপহার দিলেন। ক্লাসের সবাইকে আমার কাব্য গ্রহ্ন টি কিনে নিতে বল্লেন। আমি স্যারের এমন মোহনীয় আচরণে বিস্ময়ে বিমুগ্ধ হলাম।এরপর থেকে স্যারের বাসায় আমার যাতায়াত অনেক টা সহজ হয়ে গেলো।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের কোন স্যারের বাসায় কোন ছাত্রের সহজ প্রবেশাধিকার ছিলোনা। আমাদের স্যারদের অধিকাংশ রাশভারি প্রকৃতির ছিলেন, ক্লাসে শিক্ষা বিষয়ক ছাড়া অন্য রকম আলোচনার সুযোগ ছিলো না।তদুপরি রসায়নের জটিল বিষয় কোনরকম গল-উদগীরণ করে স্যার ও ম্যাডামেরা গটগট করে শ্রেণি কক্ষ পরিত্যাগ করতেন।

একদিন মাগরিব নামাজ পড়ে হল গেটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি। এমন সময় খবর এলো বেশ রসাত্মক। হুমায়ুন আহমেদ স্যার পুকুরের জলে নেমে মেয়েদের সাঁতার শেখাচ্ছেন। আমি তো অবাক, এই সন্ধ্যা রাতে ফাল্গুনের ঈষদুষ্ণ পরিবেশে স্যার তাঁর বাচ্চা মেয়েদের নিয়ে পুকুরে নেমেছেন! অনেক ছাত্র বিষয়টি দূর থেকে মজা করে দেখছে। উপভোগ করছে স্যারের পাগলামো। স্যার লেখক মানুষ আবার রসায়নের প্রফেসর তাই তাঁর এ রকম একটু আধটু রস থাকতেই পারে। কিন্তু বিষয়টি নিকট থেকে কেউ উপভোগ করার সাহস পাচ্ছিলো না।

আমার বন্ধুরা বল্ল, তুই যা, স্যারের কাছে, একটু সংগ দে। তোকে স্যার কিছু বলবে না। আমি স্যারের স্নেহের চাদর আর ভালোবাসার রেশমি রুমালের সৌগন্ধে পুকুরের শহীদুল্লাহ হলের ঘাটলায় হাজির হলাম। স্যার আমাকে দেখে বল্লেন, আলীম তুমি এসেছো।বাহ্ ভারী সুন্দর। আজ আকাশে দ্বাদশী চাঁদ উঠেছে, ফাগুন মাস।বল, এখন ঘরে থাকা যায়?

আমার মেয়েরা সাঁতার জানে না। আজকের দিনটির অপেক্ষা করছিলাম।পূর্ণিমা চাঁদের পূর্ব মূহুর্ত। চাঁদের শরীরের যৌবন ছড়িয়ে পড়ছে পুকুরে। ওদেরকে এ মুহূর্তে সাতার শেখানো হলে এক সাথে দুটো কাজ হয়ে যাবে। তুমি ইচ্ছে করলে পুকুরে নামতে পারো, নচেত্ প্রস্হান করতে পারো। আমি কিছুক্ষণ থেকে চলে এসেছিলাম। স্যারের তিন মেয়ে নোভা, শীলা ও বিপাসা। ওরা তখন খুব ছোট। স্যারের তখনও কোন পুত্র জন্মেনি। ওদেরকে স্যার খুব আদর সোহাগ করতেন। তাই ওদের সাঁতার কাটার বায়নাটা ফেলতে পারেননি।

১৯৭৩ সনে গুলতেকিন খানকে বিয়ে করেন। গুলতেকিন বুনিয়াদি ঘরের মেয়ে।প্রিন্সিপাল ইব্রাহিম খার নাতনী। ছেলের ঘরের মেয়ে।রূপসী। শুনেছি স্যারের লেখক সত্তাকে ভালোবেসে তিনি তাঁর সঙ্গে ঘর করতে আগ্রহী হয়েছিলেন। এরপর শীলার বান্ধবী শাওনকে বিয়ে করেন। এ ঘরে তিন সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। মেয়ে সন্তান টি মারা যায়। নিষাদ হুমায়ুন, নিনিত হুমায়ুন ছোট দুই পুত্র। বড় পুত্রের নাম নূহাশ হুমায়ুন। হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম কথাশিল্পী। তিনি একাধারে প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার, নাট্যকার, চিত্রনাট্যকার, গীতিকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা। তিনি আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পথিকৃৎ। কথাসাহিত্যে তিনি চমকপ্রদ সংলাপ, রস ও দর্শন সৃষ্টি করেছেন। তিনিই নাটক, সিনেমা এবং বিশেষকরে টি.ভি নাটকে বাঙালি মধ্যবিত্ত মুসলিম সমাজের প্রকৃত রুপ সার্থক ভাবে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে মুসলিম বেশ ভুষা, দাড়ি টুপির ব্যাবহার যথার্থ ভাবে নাটকের প্রধান চরিত্রে রূপায়িত করেছেন।

আগে এ সবকে বিকৃত ভাবে নাটকে, সিনেমায় তুলে ধরে মুসলিম মানসে আঘাত করা হতো।কিন্তু তিনি তা করেন নি বরং বাঙালি মুসলিম চরিত্রের সঠিক রুপ তুলে ধরে ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয় হয়েছেন। জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন। আমার প্রিয় শিক্ষক আমার লেখক জীবনের অনুপ্রেরণা হুমায়ুন আহমেদ স্যার তিনশতাধিক গ্রহ্নের জনক। শুধু বাংলা ভাষায় নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় তার গ্রহ্ন অনুদিত হয়েছে। বেশ কিছু গ্রহ্ন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচীর অন্তর্ভুক্ত। তার প্রথম গ্রহ্ন,প্রথম উপন্যাস” নন্দিত নরকে “প্রকাশিত হয় ১৯৭২ এবং “শঙ্খনীল কারাগার “বের হয় ১৯৭৩ সনে।

এরপর দীর্ঘ বিরতি অর্থাৎ ১৯৮৫ তে বের হয় “আমার আছে জল”। ১৯৮৫ থেকে ২০১২ এই সাতাশ বছর তিনি একটানা লিখেছেন প্রায় সাড়ে তিনশত গ্রন্থ, যা বিস্ময়কর। আমাদের আলোড়িত করে, বিলোড়িত করে আনন্দ জোছনার জল জোয়ারে। হিসেব করলে দেখা যায় এই সাতাশ বছরের প্রতি মাসে তিনি এক একটি সম্পূর্ণ গ্রন্থ রচনা করেছেন। যা রীতিমতো মতো বিস্ময়কর, মেশিনের মতো তিনি অনবরত তুলনারহিত গ্রন্থসমূহ রচনা করেছেন। তিনি প্রায় ৩৫৩টি গ্রন্থ রচনা করেছেন। কথাসাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় তিনি রচনার সম্ভার সাজিয়েছেন। নতুন বিষয় ও শাখাও তিনি নির্মাণ করেছেন। তারমতো আর কোন প্রতিভাবান কথাশিল্পী আমাদের বাংলা সাহিত্যে কন্ম নেয়নি, এ কথা প্রায় নির্দ্বিধায় বলা যায়।

তিনি সমকালীন উপন্যাস লিখেছেন ১০৫টি। এর মধ্যে নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, আমার আছে জল, ফেরা, প্রিয়তমেষু, সম্রাট, আকাশ জোড়া মেঘ, দ্বৈরথ, সাজঘর, এইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, দুই দুয়ারী, আশাবরী, জলপদ্ম, কৃষ্ণপক্ষ, জল জোছনা, পোকা, শ্রাবণ মেঘের দিন, গৌরীপুর জংশন, কবি, দূরে কোথাও, বৃষ্টি বিলাস, মেঘ বলেছে যাবযাব, আজ চিত্রার বিয়ে, কুটুমিয়া, নীল মানুষ, রজনী, নক্ষত্রের রাত, লীলাবতী, লিলুয়া বাতাস, মানবী, মাতাল হাওয়া, ম্যাজিক মুনশি, বাদশাহ নামদার, মেঘের ওপর বাড়ি।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ও রাজনৈতিক উপন্যাস লিখেছেন আটটি-এর মধ্যে আগুনের পরশমণি, ১৯৭১, শ্যামল ছায়া, জোছনা ও জননীর গল্প, দেয়াল,একাত্তর ও আমার বাবা, প্রভৃতি প্রধান।

উপাখ্যানমালাঃ হিমু লিখেছেন তেইশটি, এর মধ্যে হিমু, ময়ূরাক্ষী এবং হিমু, হিমুর হাতে কয়েকটি নীলপদ্ম, হিমুর দ্বিতীয় প্রহর, হলুদহিমু কালো রেব, আজ হিমুর বিয়ে, হিমুর বাবার কথামালা, হিমুর নীল জোছনা, হিমুর আছে জল, প্রভৃতি প্রধান। উপাখ্যানমালাঃ মিসির আলি লিখেছেন বিশটি। এর মধ্যে দেবী, নিশীথিনী, নিষাদ, ভয়, অনীশ, মিসির আলির অমীমাংসিত রহস্য, তন্দ্রাবিলাস, আমিই মিসির আলি, কহেন কবি কালিদাস, হরতন ইশকাপন, মিসির আলির চশমা, যখন নামিবে আঁধার প্রভৃতি প্রধান। উপখ্যানমালাঃ শুভ লিখেছেন ছয়টি এর মধ্যে দারুচিনি দ্বীপ,মেঘের ছায়া,রূপালী দ্বীপ, শুভ,শুভ্র গেছে বনে প্রভৃতি প্রধান। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি লিখেছেন বারোটি। এর মধ্যে ইরিনা, অনন্ত নক্ষত্রবীথি, নি, ফি হা সমীকরণ, শূন্য, ইমা, ওমেগা পয়েন্ট, তারা তিন জন, দ্বিতীয় মানব প্রভৃতি প্রধান। আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা লিখেছেন সতেরোটি। এর মধ্যে- এলেবেলে, আমার ছেলেবেলা, অনন্ত অম্বরে, এই আমি, বলপয়েন্ট, কাঠপেন্সিল, ফাউন্টেন পেন, রঙ পেন্সিল, বসন্ত বিলাপ, হিজিবিজি প্রভৃতি প্রধান। ভ্রমণ কাহিনী লিখেছেন ছয়টি। এর মধ্যে হোটেল গ্রেভার ইন, মে ফ্লালাওয়ার, দেখা না দেখা, রাবণের দেশে আমি ও আমরা, পায়ের তলায় খড়ম প্রভৃতি প্রধান। নাটক লিখেছেন চারটি যথা, নৃপতি, মহাপুরুষ, মঞ্চ নাটক ১৯৭১, স্বপ্ন ও অন্যান্য।

হুমায়ুন আহমেদ তার অনেক উপন্যাস নাটক ও ধারাবাহিক নাটকে রুপান্তর করেছেন। এ গুলোও তার আলাদা সৃষ্টি হিসেবে গন্য করতে হবে। উপন্যাসের কাহিনি নিয়ে সংলাপ প্রধান করে নাটকে রুপান্তর করেছেন। এমন নাটক ও ধারাবাহিক নাটকের সংখ্যা ১১৩। এটিও বিস্ময়কর ঘটনা। বাংলা সাহিত্যে এমন কাজ কেবল তিনিই করেছেন। তার ধারাবাহিক নাটক এগারোটি যথাঃএইসব দিনরাত্রি, বহুব্রীহি, অয়োময়, নক্ষত্রের রাত, আজ রবিবার, সবুজ সাথী, উড়ে যায় কাকপক্ষী, কালো কইতর, চন্দ্রকারিগর। এক পর্বের নাটক ৮৭টি। এই সংখ্যাও বাংলা নাট্যকারদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক। প্রধান নাটকগুলোর নামঃ অচিন রাগিনী,অন্তরার বাবা, অতঃপর শুভ বিবাহ, আংটি, ইবলিশ, একা একা, একি কাণ্ড, এনায়েত আলীর ছাগল, এসো, ওপেনটি বায়স্কোপ, কূহক, কাকারু, চোর, গুণীন, চন্দ্র গ্রহণ, জইতরি, জুতাবাবা, জল তরঙ্গ, তৃতীয় নয়ন, নিম ফুল, জিন্দা কব্বর, জোছনার ফুল, পাপ, পাথর, পুষ্পকথা, বৃহন্নলা, ভুত বিলাস, মিসড কল, রুমালী, রুপালী রাত্রি, রুপালী নক্ষত্র, স্বর্ণ কলম, সবাই গেছে বনে, হিমু প্রভৃতি।

চলচ্চিত্র নির্মান এবং কাহিনি লিখেছেন ১৫টি। এ গুলে হচ্ছে -আগুনের পরশমণি, শঙ্খনীল কারাগার, শ্রাবণ মেঘের দিন, দুই দুয়ারী, চন্দ্র কথা, শ্যামল ছায়া, সাজঘর, আমার আছে জল, ঘেটুপুত্র কললা প্রভৃতি। শিশুতোষ ও কিশোর উপন্যাস লিখেছেন ২৪টি। এগুলো হচ্ছে -সূর্যের দিন, পুতুল, বোতলে ভুত, ভূতভূতং ভূতৌ, বোকাভু, পিপলী বেগম, পরীর মেয়ে মেঘবতী, কানাডাইনী, টগর এন্ড জেরী, ব্যাং কন্যা এলেং, তিনি ও সে, হিমু মামা, হলুদ পরূ, বনের রাজা, ভূতমন্ত্র, প্রভৃতি। ছোট গল্প সংকলন ১৫টি। এগুলো হচ্ছে- নিশিকাব্য, গল্পসমগ্র, জলকন্যা, ছোটদের সেরা গল্প, অদ্ভুত সব গল্প, উদ্ভট গল্প, প্রিয়পদরেখা, ছায়াসংগী, লীলাবতীর মৃত্যু, সেরা দশ গল্প প্রভৃতি।

ইংরেজিতে অনুদিত গ্রহ্ন ছয়টি, যথা-নন্দিত নরকে, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, ফিহা সমীকরণ প্রভৃতি। অন্যান্য ভাষায়, বিশেষ করে হিন্দিতে ও জার্মান ভাষায় তার গৌরীপুর জংশন উপন্যাস অনুদিত হয়েছে। তাঁর অসমাপ্ত ও অপ্রকাশিত রচনাটির নাম নবীজি (২০১২), তার উপন্যাস সংকলন এবং সমগ্র হয়েছে ৯৮টি। এ সংখ্যাটি যোগ করলে তার গ্রহ্ন সংখ্যা দাড়ায় ৪৬০টি। কোন লেখকের জন্য প্রকাশিত এ গ্রহ্ন সংখ্যা বিরাট গর্বের এবং বিশ্ব সাহিত্যে প্রায় তুলনাহীন।