সবুজ পাতার গায়ে দ্রোহের উৎপাত

সবুজ পাতা বেয়ে যে দ্রোহ নেমে আসে
তাকে দেখেছি আমি।
সে চৈতন্যে ফিরেছিলো
শিশির উপাখ্যানের শেষে।
সবুজ পাতার শিরা উপশিরায়
বিপ্লব কথা বলে অনর্গল,
“নষ্টালজিয়া “, কোন স্বপ্নের উপসংহার হয় না।
টগবগ করে শরীরের ঘাম
ঘামার্ত স্বপ্নরাজ্যে শিস দেয়
তোমার প্রেমে পরা শেষ ঝড়া পাতা।
জারজ প্রেমালাপ বাড়িয়ে দেয় যন্ত্রণার তিব্রতা
সবুজ পাতা বারবার ফিরে আসে
কোকিলের আক্ষরিক গানের কাছে।
দ্রোহের উৎপাতে কাছে।
…………………………………………..

অন্ধকার শেষে

রাত্রির গহীনে যে নিরবতা আমার
সেও দ্রোহের জলের স্নান করে,
কৃষ্ণপক্ষীয় অন্ধকারের শেষে।
…………………………………………..

ব্যথা

আমি যখন হাবুডুবু খাই তোমার প্রেমে,
তুমি তখন নিষ্ঠুর উল্লাসে মেতে উঠো
পরজীবী প্রেমিকার মতোন।
বিছিন্নবাদী হয়ে গেছে যে নদীটা,
তারও চোখে জল এলো বিরহের অববাহিকায়।
…………………………………………..

আত্মার সৎকার

কিছু জ্যোৎস্না রং একান্তই অর্থহীন
ভবঘুরে ভালবাসার কষাঘাতে,
ঘোলাটে সংসারে সহজাত উদ্বাস্তু।
হলির সন্ধ্যা নেমে আসে পৃথিবীতে
আরও রক্ত চাই, মৃত্যুর বুনো উৎসবের।
আবীরের বুকে চলে হিমোগ্লোবিনের ধারাপাত,
কত সহজেই শহরের বুকে শূন্যতা নামে
স্বর্গীয় ঈশ্বরের ফুলের গন্ধে মন ভরে না।
উপত্যকায় দাড়িয়ে আছি,
আমার ক্রিয়াহীন আত্মার সৎকার হেতু।
…………………………………………..

অনার্য পংক্তি

কতটা পৌরাণিক জ্যোৎস্না গায়ে মেখে আছো!
মাঝ বয়সী কবিতারা অনার্য হয়ে গেছে
প্রিয়তমার বুকের আগুনের গন্ধে।
পৌঢ় হৃদপিণ্ড নিয়ে জুঁই বেলীর,
গন্ধ পাবার উচ্চ বিলাসী স্বপ্ন
ঘোড় শেষে শুন্যতাকে আঁকরে ধরে কবিতা।
তাত্ত্বিক প্রেমের কাছে ফিরে এসো
উপাস্য দেবতাকে খুঁজে পাবে
পৃথিবীর শরীরের যেখানে ঈশ্বর অনুপস্থিত।
…………………………………………..

নষ্ট কবিতারা

কবিতারা নষ্ট হয়ে যায় কিংবদন্তীর মত,
যেমন নষ্ট হয়েছে শরীরের মানচিত্র।
ধুসর প্রেমের ফ্রেমে বন্দী হয়ে পরে আছি
ঈশ্বরের আর্শীবাদপুষ্ট নষ্টামীর শহরে।
…………………………………………..

সমাজতন্ত্র ও গনতন্ত্রের কবিতা

দুর্ভিক্ষের ওপাশে তুমি দাড়িয়ে আছো প্রিয়তমা,
তোমার বুকের হাঁড়ের ভিতরে চলে গানিতিক আস্ফালন।
সমাজতন্ত্র এতিম হয়ে যায় প্রথাগত অনাদরে,
তথাকথিত গনতান্ত্রিক বিষবৃক্ষের আদলে।
…………………………………………..

সীলমোহর

এইযে তোমার ঠোঁটে আমি ঠোঁট ছোঁয়ালাম,
এ তো আমার আজন্মের ছোঁয়াচে রোগ।
তবুও আমার গায়ে লেগে যায় নাস্তিক্যের লেবাস
আর ঠোঁটের কোণায় বসে ঈশ্বরের সীলমোহর।