কাদম্বরীদের অভিমানী মন

কেউ কাদম্বরীর ভিতরটা খুঁজে দেখলে না
এক শূন্য নদীর বুকে কালো ঘনঘটা ঝড়,
দেখলে না কি বিরহ লুকিয়ে ভীষণ অভিমানে অপেক্ষায় পাড় হয় সারাটি দিন সারাটি সন্ধ্যা,
কেবলই নতুনের গান গাইলে সবে
কেউ অন্দরমহলের নতুন বৌঠানের চোখের পানে চাইলে না
কেউ তার বুকের ভিতরের উথাল-পাতাল ঢেউ দেখলে না
কেবলই নব্যজীবনের আহবানে নিজেকে উম্মুখ করে রাখলে
পিছন পানে একবারও চাইলে না, একবার খুঁজলে না কাজল কালো আঁখি মেলে কেউ অপেক্ষায় আছে
একবারও নতুন বৌঠান বলে ডাকলে না
একবারও সময় হলো না নতুন কাব্য রচিবার তরে তাকে ডেকে নেবার
এতই ভুলো মন তোমার? কত সহজে সব ভুলে রচিলে নতুন গল্প, নতুন সঙ্গীনির বুকে মাথা রেখে
এভাবেই কাদম্বরীরা ভুল স্মৃতির পাতায় নিঃশেষ হতে থাকে
মুছে যায় দ্বীপশিখা,
কেউ কেউ হয়তো বেঁচেও রয় ভালোবাসাহীন নষ্টনীড়ে।।

৮.৫.২১
সীগাল ভ্যালী
……………………………………………

ভালোবাসার প্লাবন চাই অথবা বৈশাখীঝড়

প্লাবান চাই প্লাবন
তা হোক ভালোবাসার অথবা কাল বৈশাখী ঝড়।
উহু মন মতন হলো না
হলো না হলো না কিচ্ছু হলো না
না হলো ভালোবাসার প্লাবন না হলো ঝগড়ার ঝড়
মরে গেছে ভালোবাসার ইচ্ছে
তোমাকে ভালোবাসার পর,
ঝড় তুমি থেমে গেলে কেন?
না তৃপ্তি পেল বৈশাখের বুক না শীতল হলো ধরণী
তুমি ভীষণ কৃপণতা করলে
ভেজাতে পারলে না অতৃপ্ত বৃক্ষের তৃষ্ণা,
তুমি ভেজাতে পারলে না উত্তপ্ত ধরনীর এলোমেলো বসন
আমিও তৃষ্ণার্ত এক জনম ভালোবাসার প্লাবনের
যেমনি তৃষ্ণার্ত কবি তার অসম্পূর্ণ কবিতার খাতায়
যেমনি কৃষক দাঁড়িয়ে থাকে ঠাঁয় ফাটা মাঠের দিকে তাকিয়ে
ঠিক তেমনি আমিও চেয়ে আছি কালো মুখ ভার করা আকাশের পানে,
এসো ভিজিয়ে দাও, ভাসিয়ে দাও আমায় অথবা ধরনীর বুক,
সবকিছু কিছু তোলপাড় করে দাও
যত অহংকার যত দম্ভ দাও গুড়িয়ে দাও,
কেন নিশ্চুপ রও?
কেন মান ভাঙাতে এত ভাবনা
কেন ভালোবাসায় এত দ্বিধা
কেন ভেঙে দাও না দূরত্ব?
এসো প্লাবন এসো কাল বৈশাখী ঝড় এসো,
আমি ভেসে যেতে প্রস্তুত তোমার ধরনীর মত
শুধু ভালোবাসার প্লাবন চাই অথবা কাল বৈশাখী ঝড়।।

২২.৪.২১
ঢাকা
……………………………………………

কবিতার ব্যাকরণ বুঝিনি কখনো

কবিতার ব্যাকরণ ভীষণ কঠিন
তারা ছিল দূর, বহুদূর যোজন যোজন
মনের ব্যাকরণ আরো দূর্বোধ্য
বুঝে উঠতে পারিনি আজো সেই রহস্য,

কবিতারা উদার,
মধুসূদনের ব্যাকরণ লাগে না বুঝতে
আমি কবিতা খুঁজে ফিরি নগরে নগরে
শহরের অলিগলি, আর তোমাদের চোখে,

কত কবিতা হারায় অতীতের ব্ল্যাক হোলে
কান্নার জল শুকিয়ে যায় গালে
কত কবিতা বুকের বাঁ পাশে থাকে ব্যথা হয়ে
থাকে শুধু ডায়েরির পাতায় বন্দী হয়ে

কত কবিতা শুরু হয় রাতে, হারিয়ে যায় দিনের আলোয়
কুৎসিত সব গল্প বলে যায় ফুটপাতের কোনায়
কত কবিতা অভিমানে যায় পুড়ে
কাগজে মুচড়ে পড়ে থাকে আস্তাকুঁড়ে

কত কবিতা থাকে শুধু ঝালমুড়ির ঠোঙ্গায়
স্ক্রল করে চলে যায় ভীষণ অবহেলায়
কত কবিতা হাজারো প্রেমিকের চোখের জলে ভাসে
আবার শুধু নিজের মনের আনন্দে ভিজে বরষে

কত কবিতা মায়ের আহাজারিতে চারিদেকে হাহাকার
আর থাকে শুধু বুকে দীর্ঘশ্বাস হয়ে বাবার
কত কবিতা বন্ধুর মনের সান্ত্বনা, বেঁচে থাকে আশায়
সবার অলক্ষ্যে অঝোরে ঝরে পড়ে দু’চোখের পাতায়

কত কবিতা থাকে কারো গোপন ফোল্ডারে
আবৃত্তি হয় আপন মনে বদ্ধ দুয়ারে
কত কবিতা শুধু প্রেমে মাখামাখি, চলে যায় হেসে খেলে
দুটি মনের খুনসুঁটি, শুধু দুজনের গল্প বলে

কত কবিতা বিদ্রোহী হয়
সমাজের বিষফোঁড়ার দিকে চোখ রাঙায়
আবার যুদ্ধের ডামাডোল বেজে উঠে
যুবকের বুকেরপাটায়

কত কবিতা খবরের কাগজে আসেনা কখনো
অপ্রকাশিত রয়ে যায় চিরকাল
কষ্ট, দুঃখ, হাহাকার গোপনে ফেলে চোখের জল

জটিল ব্যাকরণ বুঝার হয়নি কোন সময়
শুধু তোমাদের কষ্টে কাঁদে এ হৃদয়।।

১৮.৯.১৯
ঢাকা
……………………………………………

একুশ

ওই তোরা বাংলায় কথা বল
অ আ ই সবাই নেমেছে আজ রাজ পথে
বাংলাকে দিবো না আর পরাধীনতার শিকলে বাঁধতে
একুশ দীপ্ত পায়ে এসে দাঁড়িয়েছে আজ জনতার মঞ্চে,

ওই তোরা ভীনদেশী গান বন্ধ কর
তোরা বাংলায় গান কর
আজ বাংলা গানে মন ভরাবো
একুশ যেন বুঝতে না পারে
তোরা পঁচে গলে হয়েছিস ভন্ড,

এই তোরা বাংলা কবিতা চয়ন কর
অনেক দিন পর একুশ এসেছে আমাদের শহরে
তোরা কি লজ্জায় আজ মুখ লুকিয়েছিস
অভ্যর্থনা দিবি কোন ভাষাতে?

আজ বাতাসে বাতাসে চলছে দূরারোগ্য ব্যধির চক্রান্ত
ভয় নেই মা, তোর দামাল ছেলেরা আজো লড়ে যাবে
অ আ ই সবাই আজ নেমেছে এক সাথে
একুশ তাদের চেতনা ফেরাতে
দাঁড়িয়েছে আজ জনতার মঞ্চে,

আজ একুশ এসেছে বসন্তের আহবানে
ফাগুনের বাতাসে উড়ছে বিজয়ের পতাকা
একুশ আমাদের অহংকার
একুশ আমাদের অস্তিত্ব
একুশ দিয়েছে আমাদের “মা” বলার স্বাধীনতা
একুশকে রক্ষা করতে আজ আমরা বদ্ধপরিকর।।
……………………………………………

একটি প্রতিবাদ

বাস করছি কি একবিংশ শতাব্দীতে?
একটি স্বপ্ন গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে নানা অজুহাতে
স্বাধীনতা স্বাধীনতা বলে বলে মুখে ফেনা তুলে ফেলেছি
জ্ঞানের আলো জ্বলছে দিকে দিকে
কিন্তু একটি মেয়ে ধর্ষিত হয় ল্যাম্পপোস্টের বাতিটি যদি নষ্ট হয় সেই অন্ধকারে

বাস করছি কি একবিংশ শতাব্দীতে?
গায়ের রঙ কালো তাই তুমি অযোগ্য
চাকরি লেখাপড়া এখনো পরাধীন হাতের মুঠোয়
অন্ধকার বুঝি চোখে সয়ে গেছে সময়ে অসময়ে
পিঠ সয়েছে, কান সয়েছে, গলাও সয়েছে দমবন্ধ করে,

বাস করছি কি একবিংশ শতাব্দীতে?
প্রাচীন যুগ, মধ্যযুগ, আধুনিক যুগ গত হয়েছে বুঝি?
অন্ধকার কি গিয়েছে চলে?
একটি জ্ঞানের আলোকে করলি তোরা বধ গলা টিপে
পরিস্ফুটিত ফুলটি ঝরে গেল আলো না জ্বেলে
বুঝে গেলাম, আমরা আলোকিত হতে চাই
শুধু নারী রবে অন্ধকারে।।

২৫.৬.২০২০
সীগাল ভ্যালী
……………………………………………

একুশ এসেছে আজ অগ্নিমূর্তি হয়ে

অসহ্য যন্ত্রনা তবুও শক্ত করে জড়িয়ে আছে রিফাত রিয়াকে
আমাকে নিতে হবে না তুমি যাও এক্ষুণি যাও বের হও নরক পুরি থেকে, চিৎকার করছে রিয়া
ইয়া আল্লাহ কালো ধোঁয়ায় বাতাস ভারী হয়ে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে
ঈশানের পুঞ্জমেঘ যেন অন্ধবেগে ধেয়ে আসছে,

উপরে পৌঁছে গেছে লেলিহান শিখা গুলো
ঊর্ধ্বশ্বাসে দৌড়াচ্ছে সবাই, শুধু রিফাত শক্ত করে জড়িয় শুয়ে আছে রিয়া কে
পৃথিবীর সকল ব্যস্ততা আজ থেকে ছুটি ঘোষণা করেছে
এই মাত্র প্রচন্ড শব্দে সিলিন্ডার বিস্ফোরন হলো
ঐ তো লাল কমলা আগুন গুলো আসছে ধেঁয়ে।।

ওরা চার বন্ধু বলছে, কোথায় বসবি আজকে?
ঔষধের দোকানের পাশের হোটেলে যেখানে বসি রোজ,
কে বলে দিবে ওদের আজকের হাসি আড্ডাই যে তাদের শেষ মিলন হবে
খুলি চারটিই যে হবে অবশেষে তাদের শেষ পরিচয়।।

গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণে চারিদিকে আগুন ছিটকে পড়ছে এদিক ওদিক
ঘড়ির কাটা আজ থমকে গেছে চক বাজারের অলিগলিতে
বাঙালি আজ উৎকণ্ঠায় দাড়িয়ে আছে আবার একুশের দ্বিপ্রহরে

চিৎকার, হইচই, ছুটাছুটি, বাঁচাও বাঁচাও প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসছে চারিদিক থেকে
ছুঁটছে সবাই ছুঁটছে, কাকে রেখে কাকে বাঁচাবে,
আগুন যখন দৈত্য হয়ে যায় তখন আর যায় না তাকে থামানো
জীবন এখানে থমকে গেছে মাংস পোড়ার গন্ধে
ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ছে আগুনের ক্ষুধা, সে সব খেয়ে শেষ করবে তবুও ক্ষুধা মিটবে না।
মিঞা ভাই কে চিনতে পারিনি বাবা, চিনেছি তার গামছা দেখে,
ছোট ভাইয়ের কান্না পেয়ে ছিলো কি কেউ শুনতে?

টকটকে লাল রক্ত নয়, জমাট খয়েরি রক্তও নয় এবার একুশ এসেছে ছাই রঙ হয়ে
ঠাট্টা আর বিদ্রুপের হাসি দিচ্ছে ভাগ্য বিধাতা, এ কেমন অভিশাপের খেলা
ডালা সাজিয়ে হাত রাঙিয়ে নব বুধ পরেছে আজ এক সফেদ শাড়ি, এয়ো কি মানা যায়?
ঢাকের শব্দ থেমে গেছে, নেই কোন শব্দ, শুনশান নিরবতা আজ চক বাজারে
পণ করেছে দু’ভাই, মরে যাবে তবুও শিশুটিকে রক্ষা করবে দোজখের আগুন থেকে,
হায়! তা কি আর হয় কখনো?

তুমি আমি সবাই দেখছি শুধু চেয়ে চেয়ে
থমকে দাঁড়িয়েছে চকবাজারের জনগন
দাউদাউ করে জ্বলছে মানব জনমের সবচেয়ে করুণ দৃশ্য
ধরনী পুড়ছে, কাঁদছে সারা বাংলাদেশ
না পারছি সইতে না পারছি দেখতে,

পরে আছে লাশের উপরে লাশ, কাউকে যায় না চেনা
ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে জমজ শিশু, বাবার কাছে যাবে বলে,
বিরিয়ানী নিয়ে এসে আরেক বাবা দেখে খোকা নেই, তন্ন তন্ন করেও আর পায়নি খুঁজে
ভস্মীভূত হয়ে গেছে সব, বুকের মানিক নিয়েছে কেড়ে,
মা চাইছে একটুকরো মাংস খোকার, বুকে নিয়ে আদর করবে বলে

যমদূত এসেছে আজ চক বাজারে, তার চোখেও কি ছিল মায়ার অশ্রু জল?
রয়ে গেছে শুধু হাহাকার আর আহাজারি, শূন্য বুকে তবুও প্রিয় মুখ খুঁজে ফিরে
লাল বিয়ের শাড়িটি কে যেন নিচ্ছে খুলে
শূন্য দৃষ্টিতে পানিও আর ঝরে না, সব শুকিয়ে আছে গালে
শেষ! সব শেষ, নেই আশা,নেই কোন স্বপ্ন,নেই কোন ব্যস্ততা
সব মুছে গেছে একটু ভুলের জন্যে অথবা একটু অসর্তকতা
হারিয়ে ফেলেছি আমরা আমাদের বোধ, আমাদের
দায়বদ্ধতা
আড়াল করে শুদ্ধ মানুষ হতে চাই আমাদের দোষ ত্রুটি
রুঢ় সত্য ঢেকে পাপ মোচন করি
যায় দিন যায় মাস যায় বছর, তবুও আমরা হই না সচেতন,

ভবিষ্যৎ সুন্দর করার দায়িত্ব আমাদের হাতে, কিন্তু দোষ চাপাই অন্যের ঘাড়ে,
পিং পতন নিরবতা, কেঁদে কেঁদে সবাই ক্লান্ত
দুঃখ কষ্ট ভুলে আবার শুরু হবে ছুটে চলা, ব্যস্ততায় চক বাজার যাবে ঢেকে
চাঁদ সূর্য আবার নিয়ম করে আমাদের দিন রাত দিবে পাল্টে, আবার নতুন জীবন গড়ার তাগিদে।

অ থেকে চন্দ্রবিন্দু সব শেষ… একুশ এসেছে আজ অগ্নি মূর্তি হয়ে।।

২২.২.১২১৯
ঢাকা
……………………………………………

ভেঙো না আমার নিরবতা

পারে না, পারে না
তবুও পারতে হয়,
শত শত শৃঙ্খল চিৎকারে যায় না ভেঙে
গুড়িয়ে মুচড়িয়ে ভেঙে ফেলতে চায় মন
কেউ শুনে না
কেউ বুঝে না
মনে মনে চলে ভাঙা গড়ার খেলা,
কোথাও কেউ আছো?
স্বার্থহীন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে?
কই শুধুই স্বার্থপর জঞ্জালে জড়িয়ে পড়ে মন মনন মগজ,
আমি তো নিরব ছিলাম সর্বদাই
তোমরাই থাকতে দাও না নিশ্চুপ
যতই নিশ্চুপ রই
আরও বোঝা চাপিয়েছো ঘাড়ে
যতই থাকতে চেয়েছি নিরবে
টেনে হেঁচড়ে বের করেছো দুয়ারের বাহিরে,
আমাকে শান্ত থাকতে দাও
আমি দেবী হয়ে রক্ষা করবো শান্তির পায়রা
আমাকে রাক্ষসী করো না
জ্বেলো না আগুন
সুপ্ত আগ্নেয়গিরি বিস্ফোরিত হয়ে
ধ্বংস হবে গ্রামের পর গ্রাম
শহর থেকে শহর
পুড়ে ছাই হয়ে যাবে বনাঞ্চল,
আমি নিশ্চুপ থাকতে চাই
আমাকে শান্ত থাকতে দাও
ভেঙো না আমার নিরবতা।।
২৬.১১.১৯
ঢাকা
……………………………………………

বড় হতে চাই না

শকুনের বাঁকা চোখের নজর
নীল আকাশে হরহামেশাই এক অশুভের ছায়ার উড়াউড়ি
কাঠ ফাটা দুপুরে এক ভয়ার্ত চিৎকারে খান খান চৌচির
জনতার ভীড়ে
আমি তুমি অসহায় চাহনি আর কেবলই হতাশার বুলি আওড়াই
ঘৃণিত ছোঁয়াচে জলাতঙ্ক রোগীর কাঁপুনির সাথে সাথে এক দলা থুতু ছিটিয়ে প্রত্যহিত চলাচল
শকুনের বাঁকা হাসি তাতে কিছুই যায় আসে না
নর্দমার কীট হয়ে যাদের জন্ম, বোধ শক্তি ঠিক কালো জলের মতোই
মানুষ হয়ে উঠবে না কোনদিন
ভদ্র সমাজের নিরুত্তাপ উদাসীনতাও দেখে দেখে অভস্ত্য
আমরা শুধু অভস্ত্যতার দাস হয়েই থাকতে পছন্দ করি,

এত দিন পর বুঝতে পারে মেয়েটি
ছোট্ট চড়ুই পাখিটি আর নেই সে
শকুনের থাবা তাকে বুঝিয়ে দেয় সে বড় হয়ে গেছে
ছটফট লাফালাফি আর করা যাবে না
চুপটি করে নিজের মধ্যে ডুবে যেতে যেতে হিসেব কষতে থাকে
এটাকেই কি বড় হওয়া বলে?
শুধু অস্পষ্ট স্বরে সুধায়
মা! আমায় তুমি আগলে রাখো
আমি আর বড় হতে চাই না।

২৩.১০.১৯
ঢাকা
……………………………………………

মৃত্যুর ঘ্রাণ

প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আমি মৃত্যুর ঘ্রাণ শুকি
এই বুঝি এলো সেই ক্ষণ
এই বুঝি যাত্রা শুরু অনন্তকালের পথে,

আমি বিষণ্নতার অসুখে ভুগি বৃষ্টি ভেজা পড়ন্ত বিকেলে
মৃত্যু যেন উত পেতে থাকে,

খুব তেষ্টা, লেবু ফুলের ঘ্রাণের
খুব তেষ্টা, হালকা লিকারে গরম চায়ের
খুব তেষ্টা বাচ্চা গুলোর গায়ে মাখামাখি গন্ধের
খুব তেষ্টা পেয়েছে ওগো তোমার বুকে মুখ গুজে কাঁদার,

আমি অনন্তকালের যাত্রী
এক মুঠো শিউলি ফুলের সুগন্ধি দিও উপহার
অথবা যদি পারো লেবু ফুলের গন্ধ দিও আমার সাথে,

প্রতিদিন প্রতিক্ষণ আমি মৃত্যুর ঘ্রাণ শুকি
হুম! দেখা হলো না কাঞ্চনজংঘার রূপ
ছুঁয়া হলো না সাদা সাদা তুষার
বসা হলো না তাজমহলের সামনে দুজনার,

আপাতত আর কিচ্ছু চাই না আর
তুমি এলেই চলবে
তোমার শীতল বুকে মুখ গুজে থাকতে চাই
যাবার বেলায় ভয় যেন না পাই।।

২৬.১০.১৯
ঢাকা
……………………………………………

মাইয়্যা মানুষ

তুমি তো দেহি কিচ্ছুই হিগ নাই
মা কিচ্ছু হিগায় নাই তোমারে?
ডালের বাগারও দিতে জানো না দেহি?
এইডা তো আমাগো বাড়ির মিনিও জানে গো,
ওম্মা মুরগী কাটবার যাইয়া হাত রক্তারক্তি!
আর কাটবার লাগবো না বাপু
মেমসাব আনছি ঘরে।

বাবার বড্ড শখ ছিল
মেয়ে আমার ব্যারিস্টার হবে
মায়ের স্বপ্ন বিসিএস দিয়ে মস্ত বড়ো চাকুরে হবে
থালা বাসন ধোঁয়া যে আদিষ্টে ছিল লেখা
সে যদি বুঝতো সবে শিখিয়ে দিত কবে।

মাইয়্যার মা কিচ্ছু হিগাইনাই
খাইয়্যা খাইয়্যা গতর বানাইছে খালি
ভাজবার দিলে বেগুন গুলান পুইড়া হয় ছাই
রানবা কি? মনডা থাহে কই?

পাক ঘরে আইতে অইবোনা আর
কলুরবলদ নিয়া আইছি ঘরে
তোমার চেয়ারা দেইখ্যা দেইখ্যা পেট ভরবো আমাগো
আনছি একখান বউ
বাপ মা কিচ্ছুই হিগাইনাই
গিলতে হিগাইছে খালি,

আমরাও ছিলাম মাইয়্যা মানুষ
দেইখ্যা দেইখ্যা সব হিগ্যা লইছি
মায়ের পেট থন কেউ হিগ্যা আহে না
দেইখ্যা দেইখ্যা হিগ্যা লইতে অয়
বুঝছোনি মাইয়্যা!
অনেক তো অইছো উকিলব্যারিস্টার
এহন সংসার লও বুইঝ্যা
মাইয়্যা মানুষ চান্দে গেলেও ধান বাঙে
এইডা বুইজা লইতে অয় সব্বার প্রত্তমে।

১২.১২.১৯
সীগাল ভ্যালী