পনের বছরের সম্পর্ক কাঁচের গ্লাসের মতো ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেলো আচমকা হাত থেকে পড়ে গিয়ে। হৃদয় ভাঙ্গিলে কাঁচের টুকরোর মতন জড়ো করে অগ্নিদাহে পুড়িয়ে গলিয়ে অবিচ্ছেদ্য করে- পরিপূর্ণভাবে পূর্বের আকার আকৃতি ধারণ করা যায় মাত্র। কিন্তু সম্পর্ক ভাঙলে, মন ভাঙলে, হৃদয় ভাঙলে
তার মসৃণতা হয়তো ফিরিয়ে আনা যায় না, সেটা অসম্ভব! হয়তো খণ্ডবিখণ্ড স্মৃতিগুলোও আজীবন তাপদহন ও জ্বলনোন্মুখ আগ্নেয়াস্ত্র সুট করার সময়ের মতন সার্বক্ষণিক হৃদয়ে পুড়াতে থাকে। একাকী নিঃসঙ্গতায় সময় বুঝিয়ে দিয়ে গেলো বাবুকে – “অর্থবিত্ত, বৈভব, প্রাচুর্য, গাড়িবাড়ি, টাকা-পয়সা, সম্পত্তি, স্বার্থের পৃথিবীতে কতোটা প্রয়োজন।”
তবে পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে তো বিধাতারও কিছুর করার থাকে না। মায়া জন্মে থাকে হাজার বছর ধরে শুধু মোহ যায় কেটে! কিন্তু, বাবু ও দিয়া হৃদ মাঝারেই থাকে চিরকাল। বেঁচে থাকে- অমর, অক্ষত।

তখন সুদূরপ্রসারী বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে প্রশস্ততর ছিলো কপোতাক্ষ নদ। তার সাথে সখ্যতা ছিলো বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার পরম-পুরুষের তথা বাংলা সাহিত্যের প্রথম বিদ্রোহী কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের।তার খুব সন্নিকটেই আমাজানের মতন বিস্তৃত অঞ্চল ছিলো প্রবল ঘন-কালো ছায়া সুনিবিড় জঙ্গলে আচ্ছাদিত মায়াবী গ্রাম অমরপুর গ্রাম।সেই গ্রামের এক দেশি পণ্ডিতের কাছে ইংরেজি পড়তে যেতো বাবু।
ফজরের আজান হলে বাবুর মা ঘুম থেকে জেগে উঠতো। ফ্রেশ হয়েই ঘোরঘোর অন্ধকার থাকতে থাকতে বাবুর খাবারের ব্যবস্থা করে দিতো।বাবু প্রাতঃকালে নাস্তা করে দ্বিচক্রযানটি চালিয়ে রওনা দিতো অমরপুর গ্রামে।বাবুর বাড়ি থেকে অমরপুর গ্রামের দূরত্ব ছিলো প্রায় দশ কিলোমিটার।
ভারাক্রান্ত মনেই বলতে হয়, “রাস্তাটা ছিলো কাঁচা রাস্তা”। কী সাংঘাতিক কী ভয়ানক কাদা হতো রাস্তায়! বর্ষাকাল এলে বর্ষা আসার আগেই টুপটাপ ফোঁটা চোখের জল বুঝি ঝরে পড়তো অঝোর ধারায় বাবুর চোখে! দ্বিচক্রযানটি রাস্তায় না চড়ে বাবুর স্কন্ধে চড়ে চলিতো দু’পায়ের খামটি এঁটে ধীরসুস্থে।
রাস্তা হয়ে যেতো নদী, ব্যাঙসহ কতো না প্রানী লাফাতো রাস্তায়।রাস্তাটা বড়ই পিচ্ছিল ছিলো। সঠিক জায়গায় ঠিকঠাক পা ফেলতে না পারলে যেতো বইখাতা নিয়ে হাটু কাঁদা জল মাটিতে পড়ে!
এভাবেই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল প্রাইভেট পড়ার ঘটনা। প্রাইভেট থেকে স্কুলের ক্লাস।সেথান থেকে ঘরে ফেরা। আবার রাতে পড়ার টেবিলে যাওয়া।
যাইহোক আরেকটা ঘটনা মনে পড়ে গেলো যেটা ছিলো এডভেঞ্চারাসের চেয়েও ভয়ানক। বাটি থেকে ছয় কিলোমিটার পথ পেরিয়ে গেলে মধু পল্লী। সেই মধুপল্লীর কোল ছুঁয়ে শুরু ঘনকালো গাছগাছালির অভয়ারণ্যে শুরু যেখানে বাঁশ বাগান, পানের বরজ, শিশুবৃক্ষ, মেহগনি গাছে ভরা ছিলো। দূর নীলিমায় সূর্য উঠলেও আড়াল আবডালের কারণে সূর্য মামার উঁকি মারাটা দেখা যেতো না। সকালের কুয়াশা ধোঁয়াশার জন্য দুই তিন হাত দূরে ঠিকঠাক মতন দেখা যেতো না। যার মধ্যে আবার শিয়ায়ের ডাকাডাকি, পাখিদের কিচিরমিচির আর বিকটাকার কী জানি শব্দ হতো। বাবুর হৃদপিণ্ডটা কাঁপতে কাঁদতে কাঁদতে কী জানি কী একটা শিহরণ দিতো।বাবু একাএকা পড়তে যেতো যানটি চালিয়ে। যখন অরূণ স্যারদের বাড়ির থেকে এক কিলোমিটার দূরে ইটের সলিং এর কাছাকাছি পৌঁছায়ে যেতো তখন পরম আনন্দ পেতো।
বাবু কেন পরম আনন্দ পেতো? কারণ আনন্দ জোয়ারে ভাসার দারুণ একটা রোমাঞ্চকর কবিতা ছিলো; সেই নাদুস-নুদুস যৌবনে সবে পা দেয়া একটা ষোড়শী কী নিদারুণ দারুণভাবে চুপিসাড়েই হেঁটে হেঁটে বাবুর যাবার পথের বিপরীতে হয়তো পড়তে যেতো!
বাবু তখন দশম শ্রেণির ছাত্র ছিলো।এভাবেই প্রতিনিয়ত আসা-যাওয়া বাবুর। পথের মাঝে পথেই দেখা হতো মেয়েটির। বাবুর ভেতর আর কোন ভয়ডর কাজ করতো না সকালের কুয়াশাভেজা ঘনকাল জঙ্গল আর বিদঘুটে বিকটাকার কোনো কিছুর ডাকাডাকি কিংবা কোনো ধরনের শব্দের।
কারণ বাবুর নির্ভরতা নির্ভয়ের কারণ ছিলো বাঁশ বাগানের দক্ষিণ অঞ্চল থেকে সকালের হেঁটে আসা মেয়েটি।
এভাবেই চার পাঁচ কেঁটে গেলো। ছেলেটি মেয়ের নাম জানতে পারলো না। আস্তে আস্তে ছেলেটি মেয়ের প্রতি প্রচন্ডরকম রহস্যপ্রিয় ছেলে হয়ে উঠলো! চোখাচোখি হতো। প্রথমত দেখেও য্যানো কেউ দেখে না কিন্তু দেখতো দু-জনেই। তারপরে আঁড়চোখে দেখাদেখি। কখনো সরাসরি সামনাসামনি চোখে চোখ রেখে দেখাদেখি হয়নি।ছেলেটা মেয়েটির প্রতি আকর্ষণ বোধ করে। এমনই এক সময় মেয়েটির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে প্রচন্ডভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে৷

আরো একমাস কেটে গেলো।কিন্তু ছেলেটি তখনও মেয়েটির নাম পর্যন্ত শোনেনি। কোথায় পড়ে, কোন ক্লাসে পড়ে, কোন গ্রামে বাড়ি এমনকি কোন ধর্মের মেয়ে কিছুই জানাশোনা হইনি।
মেয়েটির প্রতি বাবুর এ-তো এতোটাই দুর্বলতা প্রসারিত বিস্তৃত হয়েছিল যে একদিন দেখতে না পেলে ডাঙ্গায় তোলা পুটিমাছের মতন ছটফটিয়ে মরতো। বিশেষ করে যেদিন অফ’ডে থাকতো সেদিনের জ্বালা দেখে কে!
ছেলেটা মেয়ের প্রেমে পড়েছিলো; মায়ার জালে আটকে ছিলো। ছেলেটি মেয়েকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিল।
মায়ার টানেই মেয়েটির নাম রেখেছিলো- “মায়া”।

বাবুর এসএসসি পরীক্ষা এখনো ছয়-সাত মাস বাকি।এর মধ্যে রমজানের ইদের ছুটি শুরু হলো দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষেই।দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর স্কুল খুলেছে। প্রাইভেট মাস্টারও বাবুকে পড়তে যেতে বলেছে।অবশ্যই এরমধ্যেই কয়েকবার মায়াকে দেখা পাবার আশায় কারণে অকারণে হৃদয় অনিরূদ্ধ টানে গেছে সেই বাঁশ পাতা ছড়ানো ইটের ছলিংওয়ালা রাস্তায়। বাবুর দুর্ভাগ্য যে কয়দিন গেছে একদিনও মায়ার সঙ্গে দেখা হয়নি।
মর্মপীড়ার যাতনার অনেক কেঁপেছে
অন্তরের অন্তস্তল থেকে কিছু চেয়েছে- সেই বাবু শীতের সকালে বাদলার মতন হাওয়া ভেঙ্গে ভেঙ্গে, শীতের শ্বেতকায় শুভ্র চাদরে গা ঢেকে পড়তে গেছে অরূণ স্যারের কাছে। এবার গণিতও নিয়ে গেছে ইংরেজি বইয়ের পাশাপাশি। বাবু ইংরেজিতে বড্ড দুর্বল ছিলো; কিন্তু- ‘ইংরেজি অপেক্ষা মায়ার প্রতি বেশি দুর্বল ছিলো’।
এক মাস ছুটি কাঁটিয়ে যেদিন পড়তে যাচ্ছিলো চতুর্দিকে চেয়ে চেয়ে দেখছিলো কোথাও কেউ নেই! শুধু শুধু ব্যথা বেড়ে বেড়ে ভারী হচ্ছিল সমস্ত শরীর মন।বেশির ভাগ সময় বাবু প্রাইভেট পড়ে আর বাড়িতে আসতো না সোজা স্কুলে চলে যেতো। স্কুলের ক্লাস করে অপরাহ্নে ঘরে ফিরতো।
প্রতিদিনকার পড়া সম্পূর্ণ করার চেষ্টা করতো। একদিকে স্কুলের পড়া অন্যদিকে প্রাইভেটের পড়া।
রীতিমতো রাতের খাবার খেয়ে মায়ার কথা ভাবতে ভাবতে বাবু ঘুমিয়ে গিয়েছিল।

হঠাৎ রাতে তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।স্বপ্নে দেখে মায়া কপোতাক্ষের ঘোলাটে কালো জলে ডুবে গেছে।খুব চেষ্টা করতে কিছুতেই পানির তল থেকে উঠতে পারছে না। অনেক কষ্ট করে ভাসমান একটি নৌকায় উড়েছে।কিন্তু নৌকায় বোঝায় করার ধানের শীষের ভেতর থেকে একটি বিষাক্ত কোবরা মায়াকে কামড়াতে আসছে। মায়ার নৌকার বৈঠা দিয়ে মারার চেষ্টা করছে আর সাপ তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে হঠাৎ বাবুর ঘুম ভেঙ্গে গেলো। হয়তো বাবু মায়াকে নিয়ে খুব ভাবতো৷ বড় বেশি ভালো বাসতো। বাবু,সারারাত আর ঘুমাতে পারিনি। সকালে বাবুর প্রচণ্ড কাঁপিয়ে থরকাঁপুনি জ্বর এলো। বাবুর বাবা আলী ছেলের অবস্থা শোচনীয় দেখে মেডিসিন নিয়ে এলো হাতুড়ি ডাক্তারের কাছ থেকে।যথারীতি মেডিসিন খেয়ে শিগগিরই সুস্থ হয়ে গেলো বাবু।

তার কয়েকদিন পর বাবু যথানিয়ম মা-ও ফিক পড়তে গেলো। পথের মধ্যে লালচাদরে জড়িয়ে আসা ঘোমটায় ঢাকা চাঁদমুখখানা দেখে হৃদয় জুড়িয়ে গেলো।মুহূর্তেই মনে হলো বরফের পাহাড় এসেছে শীতল করেছে আমার বরফের পাহাড়খানা।
সে চলে গেলো কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে গেলো বাবু।আচমকা ফিরে তাকালো মায়া; বিমোহিত বিমুগ্ধ হলাম।
বাবু নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করলো মেয়েটি কেন তাকালো?
হয়তো সে আমাকে ভালোবাসে। নইলে কেন তাকাবে?
সেদিন এক পৃথিবী সুখ আর এক পৃথিবী হাসি ছিলো বাবুকে চোখে মুখে দিল কলিজাজুড়ে।

সময় যে কখন চলে গেলো সময়ের নিয়মে বুঝতেই পারিনি। কিছুদিন পর বাবুর এসএসসি পরীক্ষা শুরু। ইতিপূর্বে বাবুর বার্ষিক পরীক্ষা হয়ে গেছে।মোটামুটি এ গ্রেডের একটি রেজাল্ট করেছে ফাইনাল পরীক্ষায়।তাতেই বাবুর মা বাবা সন্তুষ্ট হয়েছে। কারণ তার গোষ্ঠীর কেউই পুর্বে আন্ডার ম্যাট্রিক পাসো করিনি৷ যাইহোক বাবু এসএসসি বোর্ড পরীক্ষা দিয়েও “এ গ্রেডে” পাস করেছে। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বাহবা দিলেও অনেকেরই হিংসে হয়েছে।
যে যা-ই ভাবুক বাবুর বাবা-মা ছেলের জন্য গর্ব হয়েছে।যেন ঐ ফলাফল করাতেও সমস্ত দরিয়ার জল এসে বাবুর বাবা মার মুখে আনন্দাশ্রুতে প্লাবিত হলো।

বাবুর মনে তখনও মায়ার জাল স্বপ্ন বুনে চলেছে। হঠাৎ একদিন বাবু মধ্যাহ্ন দুপুরে একাকী নিঃসঙ্গভাবে আনমনে ভাবছিলো মায়ার সাথে দেখা করতে যাবে। কিন্তু মায়ার বাড়ি যে অমরপুরের ঠিক কোনখানে বাবু সঠিক জানিতো না। কিন্তু জানিতো যে অমরপুরে গেলে মায়ার সন্ধান পাওয়া যাবে। দৈবঘটনা ঘটিলে দিব্যি কপাল খুলে যায়। বাবুরও কপাল খুলে গেলো; সত্যিকারার্থে বাবুর কপাল যে পুড়িল সে এখনো টের পাইনি। ঐ একই গ্রামে বাবুর সুসম্পর্ককে খালাতো ভাইয়ের বাড়ি।সেখানে তাদের বাড়িতে তাঁর ভাই তাকে নিয়ে গেলো। বাবু তার ভাইয়ের কাছে মায়া সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করলো। নাম জানতে চাইলে নাম বলতে পারলো না।
মায়ার রূপের বর্ণনা করতে গিয়ে বাবু বললো -” তার গায়ের রঙ দুধের মতো ধবল শ্রভ্র, হাসি বাঁকা চাঁদের মতোন, গঠন গাঠন খুবই সুঠাম ও নাদুসনুদুস যেন চাঁদের আলো পড়লেও পরিপূর্ণ চাঁদটা তার ভেঙচি আননে ভেসে উঠতো,বিশেষত কচি শিশুর মতন তুলতুলে তার শরীর আর চেহারাখানি ঠিক বলিউড রানীর মতন।”

বাবুর কাছে মায়ার অপরুপ চিত্রপটের বর্ণনা শুনে তার খালাতো ভাই অলি বলবো আমি তো তোর মায়ার প্রেমে পড়ে গেলাম রে!

বাবু, বলিল দেখ ফাজলামো করিস না। মায়া আমার না হলে দেখিস পৃথিবীও গুমরে গুমরে কেঁদে কেঁদে সারা হয়ে যাবে।সে আমার এক পৃথিবী দখল করে নিয়ে গেছে সেই কবে।তাকে হারালে আমার পৃথিবী জরাজীর্ণ সংকীর্ণ অদ্ভুত অন্ধকারে ঢেকে যাবে।
বিশাল শূন্য হৃদয়ের হীনমন্যতায় অতল গহব্বরে তলিয়ে যাবো।

অলি বললো, ‘তোর এতো আবেগ ক্যারে!’
বাবু তখন ভাঙ্গা গলায় আনমনে একটা গান ছেড়ে দিলো –
ভালোবেসে, সখী, নিভৃতে যতনে
আমার নামটি লিখো -তোমার
মনের মন্দিরে।

“আমার পরান যাহা চায়
তুই তাই তুমি তাই গো
তোমা ছাড়া আর এ জগতে মোর কেহ নাই”

বাবু যেন গান থামাতেই চাইলো না। অলি তার গান থামিয়ে বললো চল যাই মায়াদের বাড়িতে।

বাবুর তার কাজিনের সাথে ইতোমধ্যে তাদের আম্রকাননে নিরিবিলি প্রাকৃতিক পরিবেশে নৈসর্গিক সৌন্দর্য অবলোকন করছিল গ্রীষ্মের দুপুরে বসে বসে। সেখানে ছায়া সুশীতল মৃদুমন্দ হাওয়ায় বেরিয়ে আসছিলো পুস্করিণী উপর দিয়ে খোলা মাঠের বুক চিরে। তারা দু’জনে উঠলো খোলা একটা মাঠ পেরিয়ে বাংলার আলপথ ধরে গ্রামের সবচে সুন্দরী এক মেয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলো। যে বাড়িটি ছিলো মায়াদের। কী সুন্দর পরিবেশ সাজালো গোছালো বাড়িটি। চারপাশ দিয়ে বিভিন্নরকম ফলফলাদির বৃক্ষ আর ফুলের বাগান ছিলো। যে ফুলের বাগান দেখিয়ে অলি বলবো এটি মায়ার হাতের তৈরি করার কয়েকরকম ফুলের বাগান। দেখেই মনে হলো যেন ফুলের রাজধানী গদখালিতে চলে এসেছি।
পর ঘটনা ঐদিন ছাদ বাড়িটি অন্যরকম সাজে সুসজ্জিত ছিলো। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম অলির সাথে। অলির পূর্বপরিচিত ছিলো সে এক ভদ্রমহিলাকে ছালাম দিলো বাবুও দিলো।
একি বিমূর্ত ছায়া! এটাই কি বিধাতার খেলা! বাবুর কল্পনায় আঁকা মায়াবতী মায়াবী মায়ার আহা কী সুশ্রী সুদর্শনা ছায়া! এই একবারই খুব কাছ থেকে বাবু মায়াকে দেখলো। সেদিনও মায়া অপলক তাকিয়ে ছিলো বাবুর দিকে।মায়া এসএসসি’তে ফেল
করায় তার একগুঁয়ে বাবা তার মতের বিরুদ্ধে বিয়ে দিয়ে দেয়! নববধূবেশে রাতের কিছু একটা ছবি দিয়ো ঠাঁই মনের মাঝে বাবু মনে মনে বলিলো।মায়া তখনও তাকিয়ে ছিলো।তার চোখে মুখে কি যেন একটা ভাষা ছিলো। আজ বুঝেছি!
প্রদীপের মতন উজ্জ্বল হয়ে মোমবাতি শিখা টিপটিপ করে জ্বলছে একযুগ পেরিয়ে গেলেও। মন এখনো কাঁদে, বাবু নিরবে খুব ভালোবেসেছিলো সেটা সে অনুভব করিলো।
বাবুর খালাতো ভাই অলি তার কাছে এসে জিজ্ঞেস করলো তুই কি তোর মায়াকে কিছু বলতে চাস?
বাবু কী কারণে যে চোখের জল আটকে রাখতে পারলো না। সে ভেউভেউ করে চোখে মুখে অশ্রুরুদ্ধ নয়নে অলির দিকে তাকিয়ে বললো তুই কি জানিস ওর নাম কি?
তৎক্ষনাৎ অলি বাবুকে বলিল আমি তোর মায়ার আসল নামটা জানি।
অধীর আগ্রহে সে অলিকে বললো বল না তার নামটা।
আসলে মেয়েটির প্রকৃত নাম ছিলো- ‘ দিয়া।’
অলি দিয়ার সাথে বাবুর কথা বলার সুযোগ করে দিয়েছিল। বাবু বিলম্ব না করে তার মনের কথাটি দিয়াকে বলে ফেলল। দিয়া কিছু না বলে শুধু অঝোরে কাঁদল। তারা প্রস্থান করল।