পা ফেলতে ফেলতে

যখন ক্লান্তি নেমে আসে সাইকেলের চাকায়
পথ চলতে চলতে বেঁকে যায় শিরদাঁড়া- দুচোখ জুড়ে খেলা করে পৃথিবী। বেখাপ্পা লাগে এ জীবন।
তখন গাছ লাগাই, জল দিই- ঘর বাঁধি উলুখাগড়ায়।
বাতাস ছড়িয়ে পড়ে- পা ফেলতে ফেলতে বেড়ে যায় সীমা।
অবক্ষয়ের ছায়া মাপি- নিজেকে বলে উঠি আর কতদূর স্বর্গ, ঈশ্বরের বসতভিটে।
…………………………………………..

একটি তারার খোঁজে

দিন চলে যায় অপেক্ষারা বেঁচে থাকে
আকাশের কোলে ঢলে পড়ে সূর্য
আমার কী ব্যথা জানে সে,নিজের করে জানে।
পৃথিবীর ওপাড়ে ঘুমিয়ে ইছামতীর
ইচ্ছে গুলো, তার শান্ত জলে অসংখ্য মুখ খেলা করে।
মেঘ করে মেঘ সরে যায়
আগের মতোই আদর করে অদৃশ্য হাত
সামনে নিয়ে আসে ভাতের থালা।
রাত নামলে নেমে পড়ি একটা তারার খোঁজে
আজও খুঁজে চলি তাকে।
…………………………………………..

ঋণ

আর কিছুই নেই দেবার
শুধু আমি আর একটা আয়না ছাড়া
সবাই সুখ দুঃখের হিসাব কষে
যোগ বিয়োগে।
বাঁচার তাগিদ খোঁজে শতাব্দীর পর শতাব্দী
থিসিসের পাতায়।
জানি আরও কিছু পুঁততে হবে বীজ
…………………………………………..

ইচ্ছা

সব ইচ্ছে পূরণ হতে নেই
কিছু অধরা থাকা ও প্রয়োজন
সব পেলে তা আর ইচ্ছে থাকে না
সবই তখন সহমরণ।
…………………………………………..

পাথেয়

নতুন দিনের জন্য রেখে গেলাম
একটা সকাল
হাত প্রসারিত হোক, তুমিও নমনীয় হও
সকাল গুঁজে রাখো বাতাসের কাছে
গাছের পাতায় পাতায় জমে থাকা ধূলো
যা আমাদের দৃষ্টিকে নড়বড়ে করে দেয়,
তাকে দূরে দাও, কুড়িয়ে নাও বিবেক,
সারা শরীর জুড়ে খেলে বেড়াক ভালোবাসা,
আর সেই ভালোবাসায় নিজেকে মিশিয়ে দিই,
ছন্দময় হোক জীবন, প্রাণময় হোক চলারগতি।
…………………………………………..

শেষ থেকে শুরু

আর কিছুই হবে না, চলে যেতে হবে
তবে আর পাঁচ জনের মতো জীবন গুটিয়ে রেখে লাভ কী?
সময় যায় বলুক, আমরা অদৃশ্য ঘড়ির
তাকিয়ে অপেক্ষা করছি, মৃত্যু এলে আসুক
সংঘাতে সংঘাতে যখন জীবন শেষ
তখন সূর্যের প্রথম পাঠ শুরু হোক
এখন থেকেই।
…………………………………………..

মাতৃভাষা

রোদ ঝলমলে বিকাল বেঁধে রাখি-
শব্দ সাজিয়ে,
তার বাঁধি একতারায়-
সুর ঢালি গেরুয়া বসনে।
আমার মা ভাত রাঁধে, ছেলে ভোলায়
গুনগুন করে-
অক্ষর গড়ে ওঠে মাটির দেওয়ালে
দেওয়ালে-
জেগে থাকে আমার মাতৃভাষা-
আমার ‘বর্ণপরিচয়।
…………………………………………..

শেষ সম্বল

আলোটা নিভিয়ে দাও
আমি এখন ঘুমাবো,
আমার মাথার কাছে পারলে কিছুক্ষণ বসো
আমি বড়ো নিঃস্ব, অসহায়।
একটাও প্রতিশ্রুতি নেই দেবার মতো
তবে আগ বাড়িয়ে ভালোবাসতে পারি
নিরঙ্কুশভাবে।
যদি তুমি চাও আমি আকাশও হতে পারি
একটা মেঘলা আকাশ
তবে বৃষ্টি চেয়ো না
শুধু ভালোবাসা চেয়ো
এটাই আমার শেষ সম্বল
তোমাকে দেবার মতো।
…………………………………………..

তথাস্তু

আমাদের সব কিছুই
আবার নতুন করে হোক
হোক না!
যেমন,
গাছ-পাহাড়-নদি -সমুদ্র-
দ্বন্দ্বগুলোকে ফুঁ দিয়ে
উড়িয়ে দাও বাতাসে-
ওরা,
মিলিয়ে যাক ছু মন্ত্রের মতো-
তবেই জন্মাবে নতুন ঘাস,
আস্ত এক পৃথিবী
তারপর…
আমরা সবাই ঈশ্বরের কাছাকাছিই থাকবো।
…………………………………………..

বসন্ত

আমাকে এক আকাশ বসন্ত দাও কিংবা একগুচ্ছ লাল শিমুল পলাশের ঢেউ
কিংবা উদাস বাউলের রাতজাগা সুর।
আমি এখন বসন্তের অন্তিম নীরবতার খোঁজে
এ যেন বিষন্ন রাত যাপনের পালা।
ফেরারি প্রেমের অবিচ্ছেদ্য অলীক চুমাচুমি
ভোরের বিছানায়,
নাতিশীতোষ্ণ রাত
তবু্ও নেয়ে উঠি তোমার উষ্ণ ঘামে।
আর- একটা বসন্ত দাও- হে কবি
তুমি চাইলে আমি ও হতে পারি সিদ্ধ পুরুষ
তোমার অনামী কবিতার ফ্রেমে।