অন্য পৃথিবী

আমার মনের মধ্যে একটা ঘর আছে
তার এক কোনে কিছু শূন্যতা বাসা বেঁধেছে…
ঠিক মধ্যিখানে একটি প্রদীপ
যার দীপকে পুরো ঘর আলোকিত

শূন্যতা র চেষ্টা তাকে ভেদ করে বেরনোর
কিন্তু আলোর শক্তি তে আবার মুখ থুবরে পড়ে সেই কোণে…

চতুষ্কোণের আর এক কোণে বাস ‘ভালোবাসার’
তারাও দুরকম ভাবে অধিষ্ঠান করে
নাম এক হলেও ধরণ টা ভিন্ন

একনামের নিজের করে নেওয়ার আত্মবিশ্বাস
আর এক নামের নিজের সাথে রাখার আত্মবিশ্বাস।

আর এক কোণে বাসা বাঁধে কিছু দ্বন্দ
যা ভালোবাসা কে ভাবতে শেখায়
যা মাঝেমধ্যে আলোর রেখা গুলো ভেদ করে
ঘর জুড়ে থাকে…
আবার কখনো উজ্জ্বলিত শিখার কাছে আছড়ে পরে

ভালোবাসার কোনো ভেদ নেই…
ভা লো বা সা… একটাই নামের সমন্বয় মাত্র

শত রেষারেষির মাঝেও দ্বন্দ, ভালোবাসা
শূন্যতা একসাথে আলোর মাঝে বাস করে
যেখানে শুধুই আলো

শুধুই ভালোবাসাকে আকড়ে ধরে বেঁচে থাকার আনন্দ।।
…………………………………………..

অপেক্ষা

দীর্ঘ একটি বছর অপেক্ষার পর
আবার ছুটে এসেছি তোমার টানে
তোমার বালুকাবেলা তে পা মেলাতে
তোমার সাথে ভেসে যেতে…
কত রকমারি রূপ তোমার
কোথাও তুমি
বালুকা তটে বেছানো ফেনা রুপি সাদা চাদর
আবার কখনো বলুকাবেলা তে এঁকে দিয়ে যাওয়া রকমারি রেখা
তোমার বুকে বাসা বাঁধে যে সব কাঁকড়া গুলো
তারাও বালির ওপর এঁকে দিয়ে যায় কিছু নকশা

সকালে তোমার সৌন্দর্য্য অপূর্ব
যখন ভোরের আবির মাখা আকাশে
আলোর ছোঁয়া লাগে
তখন জল এসে আমায় বলে
হাঁটবি আমার সাথে
ভিজবি আমাতে, পায়ের পাতায় স্পর্শ নিবি আমার
আমার হিমেল হওয়া তে তোকে জড়াবো আমি
এমন আবদার করতে পারি না কি একদমই?
ওই দেখ তোর প্রতিচ্ছবি আমার ওপর চলেছে!
আমার বুকের ওপর যখন ঝাঁপিয়ে পড়লি,
আমার জলোচ্ছ্বাস এর মাঝে, তোকে ঘিরে নিলাম
জলকণা দিয়ে সাজিয়ে দিলাম সারা শরীর!
আমি উপলব্ধি করি তোর অনুভূতি গুলো কে
তবু কি তুই ফিরবি, সেই ইটের জঙ্গলে?

যেতে তো হবেই
তোমার এই আবেশ নিয়ে না হয় কাটাব বারো টি মাস
রইবো অপেক্ষাতে
এইভাবেই আসবো যাবো বারবার
তোমার বুকে, তোমার গর্জনে
তোমায় জড়িয়ে প্রতিবার।
…………………………………………..

আট টা দশ

এক কুয়াশা মাখা শীত জড়ানো সকাল
ঘুম মাখা চোখে জোড় করে ওঠা
বেজে ওঠা অ্যালার্ম এর শব্দে
সূর্যের আলো রা তখনও পৌঁছয় নি
এই পৃথিবীর বুকে
কিন্তু ঘড়ির সময় চলেছে টিকটিক এগিয়ে।

রান্নাঘরের ডাকে সাড়া দিয়ে
আঁধারি সকালের উপলব্ধি।
নিঃস্তব্দতা ভেঙে
কুকারের সিটি, মিক্সারের ঘড় ঘড় শব্দে
সবজি গুলো কে সুস্বাদু বানানোর প্রয়াস!
স্কুল অফিস পাঠানোর শত ব্যস্ততার মাঝেও
বার বার অস্থির চোখ দুটো দেখে…
দেয়ালে টাঙানো ওই ঘড়ি টার দিকে।
“আটটা বেজে দশ” মিনিটে
থমকে যায় যেন সব ব্যস্ততা গুলো।
হয়তো কিছু সেকেন্ড
হঠাৎ এক দমকা হওয়ার সেই মুহূর্ত টা
স্বস্তি…

আবার স্বপ্ন থেকে ফিরে সামনা সামনি
ব্যস্ততার…
হাওয়ায় ভেসে আসা তোমার পরশ নিয়ে
আবার কাজের ডাকে সাড়া দেওয়া।
চোখের এক পলকের ভালোলাগা
মিলেমিশে একাকার হলো
সকালের ছোঁয়াতে!
ওই দূরের আবছা ভালোলাগার নেশা
সারাদিনের মাতলামো, কিছু পাগলামো।

ওই দূরে আছি আমরা
শুধু ভাগিদার হলাম এক রাস্তার
মৃদু হাসি আর তুমি মাখা গন্ধ নিয়ে
সুন্দর সকালের আবেশ মেখে
গন্তব্যে ফেরা
আবার এক “আটটা দশের” অপেক্ষাতে…
…………………………………………..

এক শীত দুপুর

এক শীতের দুপুর
সাথে ছুটির আমেজ
বহুতল বাড়ির সাজানো কিছু ঘর
ছুটির দিনের রকমারি মধ্যাহ্ন ভোজ সেরে
এক আলসেমি ভরা শরীর
জানলা দিয়ে আসা কবোষ্ণ রোদের ছোঁয়া
হালকা উষ্ণতা, সাথে ঠান্ডার পরশ
খোলা জানলা দিয়ে ভেসে আসা পৌষালী গন্ধ
জানান দেয় শীত দুপুরের।

নিশ্চুপ দুপুরে ভেসে আসা
ফেরিওয়ালার হাকডাক
রুজিরুটির চেষ্টায়
বহুতলের ডাকের অপেক্ষায়
অপেক্ষিতো
সেই ডাক ক্ষীণ হয়ে আসে
ঝাঁ চকচকে ঘর গুলোর অন্দরে
কোথাও কথার কচকচানি
ভুল বোঝাবুঝিরা একত্রে মিলে আয়োজন করে এক সভার
কোথাও
হোয়াটসআপে বিনোদনের পরিবর্তে
কাঁটার খোঁচা
আবার কোথাও
কোনো এক দিশেহারা বাবার
নিজেকে শান্ত করার প্রচেষ্টা
কোনো এক প্রেমিকার
এলো চুলে অপেক্ষা
ভালোবাসার
আবার কোথাও
প্রেমিকের নিজেকে প্রমান করার চেষ্টা
এভাবেই বহুতলের ঘরগুলো
মনখারাপের চকচকে চাদরে মোড়া
যা চোখ এড়িয়ে গেল ফেরিওয়ালার
রইলো খোলা আকাশের নিচে দাড়িয়ে
শুধু ডাকের অপেক্ষাতে
আবার ও কোনো এক অজানা শীত দুপুরের উদেশ্যে।
…………………………………………..

শুরু থেকে শেষ

একটা রাত…
কিছুটা অন্ধকার, কিছুটা ধোঁয়াশা

একটা বিছানা, দুটো বালিশ
সাথে কিছু উষ্ণ নিঃশ্বাসের শব্দ

একটা রাত…
ঝিঁঝিঁপোকা আর জোনাকির আনাগোনা
সাথে, আলো আঁধারি খেলা
কিছু উল্টানো বাদুড়ের ডাক
শ্বেত পেঁচার লুকোচুরি…

একটা রাত…

চোখে কিছু স্বপ্ন
সাথে এক দীঘি আশা
পাশে টেবিল ঘড়ি
সাথে টিক টিক টিক
জানান…

একটা ভোর…

পাখির কলতান, ভোরের উজান
হিমেল হওয়া আর কুয়াশা

কুঁয়োর পাড়, জলের বালতি
সাথে, বৃত্তাকার জলের কাঁচ ভাঙার শতখান শব্দ,

এক সকাল…

মানুষের কোলাহল, কর্মজীবন
সাথে, বাস্তবতার মুখোমুখি

এক বিকেল….

গঙ্গার ঘাট, বন্ধু, আড্ডা
সাথে, নৌকা বিহার

এক সন্ধ্যে…

তুলসী তলার বাতি, শঙ্খ ধ্বনি
সাথে, হরিলুট…

আবার একটা রাত…

নিঃশব্দ নিঃশ্চুপ
সাথে, উপভোগ করার নেশা…
…………………………………………..

মনের চন্দ্রগ্রহণ

ভুলে তুমি বিছানায় একটি চুম্বন রেখে গেছো
সেই থেকে প্রেয়সী আমি।

মানছি তুমি দামি, আমিও কি কম?
সারাদিন তবু হয়রান হয়ে
কি এমন ভাবো একাত্ম হয়ে!

দুস্টুমির দেখেছো কি
শুয়ে পড়ো, নিভিয়ে দাও আলো
সমস্ত জোনাকি আর ঝিঁঝিঁপোকা নায়র হবে তোমার।

এটা হেমন্তের রাত অথচ শীত ভিড় করে আছে
একটা উঁচু পাহাড় ডিঙিয়ে আসছে আলিঙ্গন
লাজুকতা ভোলো,
দানবতা কি আমায় মানায় বলো!

কোনো এক অজানা কারণে
বুক টা শূন্য
খুব জানার চেষ্টা
সব অন্ধকার
এমন তো কথা ছিল না
কাল রাতের আবেগ
শরীরের উত্তেজনা
সব মিলিয়ে তো এক আলোড়ন ছিল
কিন্ত না
সব আলো নিবিয়ে
মনের আকাশে আজ চন্দ্রগ্রহণ।
…………………………………………..

স্মৃতি গুলো

আমার স্বপ্নের গাঁ, বীরনগর,
সেখানে গুমটিপাড়ায় ছিল এক গোঁসাই বাড়ি
রেল স্টেশনে নেমে ভ্যানে চেপে সোজা কালীমন্দির
পিচ ঢালা রাস্তা দিয়ে দুপা গেলেই
মেঠো পথ…

বাগানের দুপাশে সুপারি গাছের সারি
মাঝে নুড়িমাখা বাগান ধরে গেলেই সেই দালান বাড়ি
যেখানে সব স্মৃতিগুলো টেরাকোটায় আঁকা
পরনে সাদা থান আর মাথায় ঘোমটা টেনে
তিনি অপরুপা
তিনিই আমার ঠাম্মা, আমার শতরূপা

আম, জাম, কাঁঠাল, সেগুনে ভরা বাগান
হরেক ফুলের বাহারে সাজানো উঠোন
উঠোনের এক কোণে তুলসি মঞ্চ
আর এক কোণে ফোটা গন্ধরাজের সুন্দর গন্ধ রাজ করছে গোটা চোহদ্দি
সন্ধ্যে বেলা তুলসিতলা সেজে ওঠে প্রদীপের শিখাতে
শঙ্খ ধ্বনী তে রাত্রিকে করা হয় আহ্বান।
বাতাসার হরিলুটের সাথে, কৃষ্ণনাম
এক অদ্ভুত সুখকর অনুভূতি।

ঠাম্মার কোলে শুয়ে গল্প শোনা, রূপকথার দেশে ঘোরা
ঠাম্মা মাখা গন্ধ নিয়ে বাংলাদেশে পাড়ি

রাতে ঝিঁঝির ডাক, জোনাকির আলোর চিকিমিকি ছিল এক অমোঘ আকর্ষণ
তাই বার বার শহরের কোলাহল ছেড়ে
নিস্তব্ধতার চুম্বকের টানে ছুটে আসা ভালোবাসার সংস্পর্শে

আজ ঠাম্মা নেই
টিউবয়েলর জলের শব্দ নেই
চূর্ণী নদীর বুকে ভেসে বেড়ানো নেই
মাটির হাঁড়ি কলসি বানানো দেখা নেই
আছে শুধু সেই ঠাম্মা মাখা গন্ধ আর পুরোনো স্মৃতির টানাপোড়েন।
…………………………………………..

ব্যাকুলতা

কাল রাতের তেজ বজ্রপাতের পর
আজ সুন্দর এক ঝলমলে সকাল
সকালের মিঠে রৌদ্র ছটাতে তুমি সূর্য্যস্নাত
মিঠে আভা গায়ে মেখে হলুদ পাঞ্জাবি তে কর জোড়ে প্রার্থনারত, দেবালয়ে
প্রসাদি ফুল মিস্টি তে সবার শুভকামনায় নিবিষ্ট
আশীর্বাদ নিয়ে ফেরা সুখনীড়ে
সারা মুখে প্রশান্তির এক সোনামাখা হাসি।

ভালোবাসার ডাকে সাড়া দিয়ে, পৌঁছনো লুম্বিনীবনে
হঠাৎ ই এক বুক কাঁপানো ভয়ে
সব হারানোর চিন্তা
আতঙ্কিত চোখ, মুখে ত্রাসের ছায়া
সোনামাখা হাসিতে ছেয়ে গেল এক ঘন কালো মেঘমালা
অজানা এই মেঘমালা ধারণ করলো
শূন্যতায় ভরা মনটা এক জ্যোৎসনা রাতের স্নিগ্ধতায় ডুবতে চেয়েছিল
আঁকড়ে ধরেছিল ভালোবাসা কে
সোনামাখা ভালোবাসায় মন ছিল ফুলের মত সুন্দর
কিন্তু অবচেতনে মন গ্রাস হয়েছিল এক অন্ধকারে
বিচলিত মন আর স্থির দুই চোখের দ্বন্দের মাঝে
হেঁটে চলেছে ক্লান্ত কায়া টা
উচিত অনুচিতের টানাপোড়েনে শান্তির খোঁজে সে লুম্বিনীবনে
প্রতিক্ষারত।

তবু বারবার ছুটে আসা আর নীড়ে ফেরার মাঝে থেকেই গেল এক আকাশ রামধনু দূরত্ব।
…………………………………………..

কিছু কথা ক্যানভাসে

তোমার ক্যানভাসে আমার আঁকা পটভূমি
আমার তুলিতে তোমার রঙের খেলা
কেঁপে যাওয়া পেন্সিলে বাঁকা রেখা গুলো বড্ডো একঘেয়ে
সমান্তরালের চেষ্টায় আবার জন্ম কিছু বক্র রেখার
আঁকাবাঁকা গুলো নিয়ে তৈরী এক নাটুকে ছবি
যা তুলির নমনীয়তায় কোমল
জলরঙের তরলতার সাথে মিশে মায়াবী নদী
রঙের ছিটেতে বিন্দুরা উথাল পাথাল
বার্তীদের, টুকরো কাপড়ে দম ফাটা অনুভূতি
কাপের জলে রঙের ঘূর্ণি তে নিমজ্জিত তুলি
এমন সন্ধিক্ষণে
আদ্র তুলির আঁচড়ে জন্ম মধুজা চিত্রের
যা রয়ে যায় ক্যানভাসি রূপকথায়।
…………………………………………..

পূর্ণচ্ছেদ

কাচের পৃথিবী জুড়ে একলা আকাশ ছিল
ঠুনকো হলেও, ছিল অনুভবি
নিমন্ত্রিত তারাটার আসার অপেক্ষায়
কেটেছিল গোটা গোটা রাত
নিস্তব্দ অন্তহীন দিগন্তে।

উপত্যকার মাঝে দমফাটা চিৎকার করেছিল নিশিরাত
ধ্বনি, প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরেছিল গিরিখাতে
যা উপহারে পেয়েছিলাম…
প্রানপনে ডুব দিলাম শ্যাওলা জড়ানো অতলস্পর্শী
কুঁয়োতে
আপ্রাণ চেষ্টার ফল ছিল ব্যর্থতা
দুহাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে ছোঁয়ার স্বপ্ন…
ছিঁড়েছিলো গোলাপের কাঁটায়
কচুরিপানারা হাতছানি দিয়েছিল সেঁধিয়ে যেতে
ছিল শুধু উদাসীন গভীরতা।

অনন্ত আকাশের নিচে এক বিশালাকার
স্পাইরালে আবদ্ধ খসে পরা উল্কা
সমস্ত আলোর বিন্দুরাও যখন দু চোখের পাতা এক করে
নিভন্ত মোমের প্রজ্জ্বলিত দীপক মনের গহীনে রঞ্জিত
ফলস্বরূপ শব্দরা এক মিছিলে পূর্ণচ্ছেদ টানার শামিয়ানা পেয়েছিল
প্রাপ্তি ছিল স্মৃতির ধ্বংসাস্তূপে অপার শান্তিময় নিস্তব্ধতার আলোড়ন।
…………………………………………..

মশকরা এখন পাতালঘর

কিন্তু, তুমি চলে গেলে…

একা থাকার সংজ্ঞাটা বেশ ভালো রপ্ত করেছ
কিছু মশকরা হয়তো অনেক ভুলের মাশুল হলো
মহীরুহ পতনের মতো অনেকটা
নির্জনতা একাকীত্ব নয়
নির্জনতা নিজস্ব সঙ্গীর অপর রূপ
অনেকটা ছায়ার মতো
সামান্য মশকরা এখন পাতালঘর
অন্ধকার নেমে যাওয়া ধাপের মতো
ভালোবাসার দায়িত্ব পরিপূরক এক শব্দ
উজাড় করা কর্তব্য ভালোবাসার গাছে ফোটা কুঁড়ি
যা ফুল হয়ে সম্পূর্ণতা পায়
বাস্তব সত্যিরা সর্বদা নির্মম
মানা নামানারা বিবেকের কাছে দংশিত প্রতিনিয়ত
নিত্য সালোকসংশ্লেষের ফল ছিল
একটু প্রানভরা অক্সিজেন
যা কালের ছোঁয়ায় নিঃশেষ প্রায়-

তবু তুমি চলে গেলে…
…………………………………………..

আত্মকথা

পোড়ো বাড়িটা একাকি নিঃসঙ্গ…
আজ আর ঝাড়বাতির রোশনাই নেই
নেই জমজমাটিয়া অন্দরমহল
হাঁকডাক নেই জমিদারি আনায়…
থমথমে ঘরগুলো স্মৃতি আঁকড়ে গর্বিত
সারি দিয়ে রয়ে গেছে ভাঙা ইঁটের মাঝে
খাঁ খাঁ দালান টা আর্তনাদ করে
ঢাক, সন্ধ্যারতির শব্দ গুলো পুরাতনে ধ্বনিত
আজও…
ঝাড়বাতির কঙ্কালটা স্মৃতির ফলক হয়ে ঝুলন্ত
খোশে পড়া প্রাচীরটা হাতছানি দেয় প্রতিনিয়ত
হৃদ মাঝারে চাঁদোয়ার মতো ছেয়ে আছে হাসি-কান্নার
গল্প
দেয়ালের কানগুলো ফিসফিসিয়ে যায়- ইরার…
ভাঙা ইঁটগুলো নির্বাক নিঃশ্চুপ…
বটের ঝুড়িরা সাবলিল মাটি ছুঁয়ে
জানান দেয় নিজ অস্তিত্ব
গা ঘেঁষে কল্লোলিনী নদীটি বয়ে চলে নিজ লয়ে…
…সাক্ষী হয়ে ভাঙা প্রাচুর্য্যের
যুগ-যুগ চলে যায়, শুধু পরে থাকে একটা স্কেলিটন
হাজার মানুষের আশ্রয় … বাড়িটি
আজ, আশ্রিত এক বটবৃক্ষের।
…………………………………………..

অন্তরীক্ষ

আমার একলা আকাশ দিকভ্রান্ত
উত্তর দক্ষিণ নৈঋত ঈশানে…
প্রকান্ড নিলয়ের মাঝে ঝলমলে ঋক্ষ আজ…
নিভন্ত বিন্দু
পূর্ণিমা আকাশে ছিল একফালি মৃগাঙ্ক
অসিত জীমৃতে মিশে ভিন্ন অন্তরীক্ষ গড়েছে
টেলিস্কোপে সপ্তর্ষি দেখতে গিয়ে কালপুরুষ রেখানান্বিত…
দুহাত বাড়িয়ে সমীরণে আলিঙ্গন চেয়েছিল
সহস্র শেকড়ের জালে দেবদারুর মাঝে
কখন যে হারিয়ে জোনাকী হলো…
…বোঝেনি
সমস্ত বিভাবরী খুঁজেছিলো গ্রহনে আবৃত
…সুধাংশুকে।
…………………………………………..

সমীকরণ

এ জন্ম কাটুক বসন্তের অঙ্গীকারে
নাহয় পরজন্মে কলমে তুলে নেব লেখার বিনিময়ে
আমার সমস্ত অবৈধতা…
শৌখিনী রূপে আধুনিকতার ছোঁয়ায়
তোমার ঐ হলুদ বসন্তে
স্মৃতির মাধবীলতা হয়ে তোমার আঙিনায়…
তবু হয়তো অবৈধতার বিচারে
সব দ্বন্দ্ব কাটিয়ে সাক্ষী হবে আমার!
এক নিষ্পাপ আশা শুধু…
সকল অসামঞ্জস্যতার মাঝেও হয়তো হারাবে না
সামান্য সামঞ্জস্য টুকু।
সেদিন রাতের সমরক্ষেত্রে যে দাগ দিয়েছিলে
…বিজয়ী উপহার হিসেবে-
তা, সংকেত করে রেখে দিলাম তোমার বিলাসিতার
ছোঁয়ায়…
মাতোয়ারা সুগন্ধির ফোয়ারায়…
নতুন সমীকরণ এঁকেছিলাম!
…তোমার নামকরণে
সহস্র চেষ্টায় না মেলা ফর্মুলা গুলো ক্লান্তি হয়ে মিশে যাবে…
কোনো এক অজানা খাঁড়িতে।
মরীচিকা দেখা রাজসিক সুখস্পৃহায় ঘুনেরা
বাসা বেঁধেছিল, রামধনু আকাশে…
তোমার কক্ষ পথে আজ আমি হঠাৎ আসা উল্কা
যা অচিরেই খসে পড়ে…
কেমন সময় চেয়েছিলে?
আমার আমি থেকে তোমার তুমিতে বসাতে?
আজ আতর পোড়া গন্ধে চতুর্দিক ভস্মে স্তূপকার
আঙুলের মাঝে জ্বলন্ত সিগারেটের যে ধোঁয়া
বিলাসিতায় উড়িয়েছিলে…
তাকে নেভানোর আগে পদদলিত করতে…
দ্বিধাগ্রস্থ হয়নি পালিশ করা জুতো টা
সেভাবেই হয়তো আজ আমির বিসর্জন…
…তোমার তুমি থেকে।