আছাড় খেয়ে দীপুর পায়ে বেশ লেগেছে, ছুটির পর ও যখন বাসায় ফিরে যাচ্ছিল তখন সে অল্প অল্প খোড়াচ্ছে।
রাস্তার মোড়ে ওর তারিকের সাথে দেখা হল। হাতে একটা সিগারেট আড়াল করে ধরে রেখেছে। ওকে দেখে দাঁত বের করে হেসে বলল, কীরে বুক বাইন্ডার!
দীপু কথা না বলে হেঁটে যেতে লাগল। তারিক এদিক সেদিক তাকিয়ে সিগারেটে দুটি লম্বা টান দিয়ে সিগারেটটি ফেলে দিয়ে ওর পাশে পাশে হেঁটে যেতে থাকে। ইচ্ছে করে একটা ধাক্কা দিয়ে বলল, কীরে আমার কয়টা বই বাইন্ডিং করে দিবি?
দীপু অনেক কষ্ট করে সহ্য করে যাচ্ছিল। যদিও ভেতরে ভেতরে ও রাগে ফেটে পড়তে চাইছিল, তবুও ঠান্ডা গলায় বলল, দেব।
কত করে পয়সা নিবি?
পয়সা নেব না।
ফ্রী করে দিবি? কেন ফ্রী করে দিবি?
এমনি।
এমনি বুঝি কেউ বই বাইন্ডিং করে দেয়? আমি কি তোর ইয়ে নাকি যে ফ্রী করে দিবি?
দীপুর মুখ রাগে লাল হয়ে ওঠে। দাঁড়িয়ে পড়ে শার্টের হাতা গুটিয়ে তারিকের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, শোন তারিক, তুই কি আমার সাথে ঝগড়া করতে চাস?
তারিক একটু থতমত খেয়ে বলল, কেন? ঝগড়া করতে চাই কে বলল?
তা হলে এরকম করছিস কেন? তুই দৌড়ের মাঠে আমাকে ল্যাং মেরে ফেলে মার খাইয়েছিস। এখন আবার আজেবাজে কথা বলে আমাকে খ্যাপাতে চাইছিস? কেন? মারামারি করবি আমার সাথে?
খুব যে চোখ লাল করছিস আমার উপরে?
দ্যাখ তারিক আমাকে টিপু সাজ্জাদ বা বাবু পাসনি যে তুই যা ইচ্ছে বলবি, আর আমি চুপ করে থাকব। যদি আমার সাথে মারামারি করতে চাস, আয়, আমি কাউকে ভয় পাই না। আর যদি না চাস, সোজা তুই তোর বাসায় যা, আমি আমার বাসায় যাই।
দীপু খুব যে একটা মারপিট করে অভ্যস্ত তা নয়। কিন্তু এই মুহুর্তে সে যেরকম জোর গলায় তারিককে সাবধান করে দিল যে, তারিক আর ওকে ঘাটাতে সাহস করল না। মুখ বাকা করে হেসে বলল, খুব ডাঁট মারছিস? এমন ধোলাই দেব একদিন যে বাপের নাম ভুলে যাবি।
আজকেই দে-না, এখনই দে-না !
তারিক খানিকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে হেঁটে পাশের গলিতে ঢুকে গেল। বাসায় ফিরে যেতে যেতে দীপু বুঝল, ব্যাপারটা ওর জন্যে বেশি ভাল হল না, কিন্তু ওর কিছু করার ছিল না।