ক্লাসের সামনে দাঁড়িয়ে দীপুর হঠাৎ খুব খারাপ লাগল। প্রতি বছর ওর নতুন জায়গায় নতুন স্কুলে গিয়ে নতুন ক্লাসে ঢুকতে হয়। মোটামুটি ভাল ছাত্র সে— ফাস্ট না হলেও পরীক্ষায় সেকেন্ড থার্ড হয় সহজেই। অথচ বরাবর ওর রোল নাম্বার হয় সাতচল্লিশ, না হয় আটান্ন। নতুন স্কুলে গেলে রোল নাম্বার তো পেছনে হবেই। রোল নাম্বারের জন্যে ওর তেমন দুঃখ নেই কিন্তু নিজের স্কুলে নিজের বন্ধুবান্ধবদের ছেড়ে নতুন জায়গায় অপরিচিত ছেলেদের মাঝে হাজির হতে ওর খুব বিচ্ছিরি লাগে। অথচ দীপুর প্রতি বছরই তা করতে হয়—ওর আব্বা শুধুমাত্র ওর জন্যেই নাকি এক বছর অপেক্ষা করেন, না হয় কোথাও নাকি তার তিন মাসের বেশি থাকতে ভাল লাগে না পৃথিবীর সব কয়টা আব্বা একরকম, অথচ ওর আব্বা যে কেমন করে সম্পূর্ণ অন্যরকম হয়ে গেলেন, দীপু এখনও বুঝে উঠতে পারে না।
ক্লাসটা বড়। দরজায় দাঁড়িয়ে সে দেখতে পায় হাজার হাজার মাথা–কুচকুচে কালো চুলের নিচে চকচকে চোখ ওর দিকে তাকিয়ে আছে। দীপু লক্ষ করে দেখেছে, প্রথম দিন ওর বরাবরই মনে হয় ক্লাসে হাজার হাজার ছেলে, পরে কেমন করে জানি কমে আসে। ক্লাস টীচারকে দেখে ওর ভয় হল। বদরাগী চেহারা—
আস্তে বলল, আসতে পারি?
চোখ না তুলে বদরাগী ক্লাস-টীচার ভারী গলায় বললেন, না।
সারা ক্লাস হো হো করে হেসে উঠল, আর দীপু থতমত খেয়ে দুর্বল গলায় বলল, তা হলে কি পরে আসব?
না—তোকে আর আসতেই হবে না।
সারা ক্লাস আবার উচ্চস্বরে হেসে ওঠে—দীপু লক্ষ করল বদরাগী স্যারটির চোখেও কেমন হাসি ফুটে উঠেছে। সাথে সাথে হঠাৎ করে দীপু বুঝতে পারল, স্যার ওর সাথে মজা করছেন। যে স্যার প্রথম দিনেই কারো সাথে মজা করতে পারেন তিনি আর যা-ই হোক বদরাগী হতে পারেন না—দীপুর বুকে সাহস ফিরে আসে সাথে সাথে। সে একটু হেসে বলল, কিন্তু স্যার, আমাকে আসতেই হবে।
আসতেই হবে? স্যার খানিকক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন, তা হলে আয়—
দীপু ভেতরে ঢুকল। স্যার কড়া চোখে ওর দিকে তাকালেন, তারপর জিজ্ঞেসম করলেন, এবারে বল, কেন তোকে আসতেই হবে।
আমি এই ক্লাসে ভর্তি হয়েছি।
গুল মারছিস?
না স্যার, সত্যি ভর্তি হয়েছি।
সত্যি?
সত্যি।
ও! স্যার হতাশ হওয়ার ভান করে বললেন, তা হলে তো ওকে আসতে দিতেই হয়। কী বলিস তোরা?
পুরো ক্লাস মাথা নেড়ে সায় দিল। আর হঠাৎ করে দীপুর পুরো ক্লাস আর এই বদরাগী চেহারার মজার স্যার সবাইকে ভাল লেগে গেল। মাঝে মাঝে ওর এরকম হয়, হঠাৎ কাউকে ভাল লেগে যায়, কিন্তু পুরো ক্লাসকে একসাথে ভাল লেগে যাওয়া এই প্রথম।
এই স্কুলের নিয়ম-কানুন খুব কড়া জানিস তো?
দীপু মাথা নেড়ে বলল, সে জানে, যদিও ওর বিশ্বাস হচ্ছিল না। স্যার মুখ গম্ভীর করে বললেন, নতুন কেউ আসার পর তাকে একটা লেকচার দিতে হয়।
দীপু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, কোথায়?
এইখানে, ক্লাসের সামনে। তোকেও দিতে হবে।
দীপু মুখ কাচুমাচু করে বলল, আমি লেকচার দিতে পারি না স্যার—কোনদিন দেইনি।
সে আমি জানি না, তোকে দিতেই হবে। ঘড়ি ধরে পাঁচ মিনিট। স্যার হাত থেকে ঘড়ি খুলে চোখের সামনে ধরে বললেন, শুরু কর।
দীপুর মুখ শুকিয়ে গেল, শুকনো গলায় ঢোক গিলে আরেকবার স্যারের দিকে তাকিয়ে বলল, সত্যি স্যার, আমি এতজনের সামনে লেকচার দিতে পারব না।
দশ সেকেন্ড পার হয়ে গেছে! বল, তাড়াতাড়ি বল।
কী বলব, স্যার?
এই—তুই কী করিস, কী করতে ভালবাসিস, কী খাস, কী পড়িস এইসব বলবি। নে, শুরু কর—
দীপু আরেকবার চেষ্টা করে হাল ছেড়ে দিয়ে বলল, সত্যি বলছি স্যার, আমি পারব না।
ঠিক আছে, যদি না পারিস এখানে দাঁড়িয়ে থাক পাঁচ মিনিট, আর তোরা সবাই চোখ বড় বড় করে ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাক।
বোঝাই যাচ্ছে, ছেলেগুলো এই স্যারের খুব বাধ্য ! আদেশ পাওয়ামাত্র সবই চুপচাপ চোখ বড় বড় করে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল, দীপু যেদিকে তাকায় দেখতে পায় একজোড়া চোখ ডাবভাব করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। পাঁচ মিনিট এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে ভেবে ভয়ে ওর মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল। দুর্বল গলায় বলল, ঠিক আছে স্যার, আমি বলছি। সে গলা খাঁকারি দিয়ে শুরু করল, অ্যাঁ—আমার নাম মুহম্মদ আমিনুল আলম, আমি ক্লাস এইটে পড়ি।
ক্লাস এইটে পড়িস, সে তো সবাই জানে, না হয় এই ক্লাসে আসবি কেন? যেসব কেউ জানে না সেসব বল।
আমি এর আগে ক্লাস সেভেনে ছিলাম বগুড়া জিলা স্কুলে, ক্লাস সিক্সে ছিলাম চিটাগাং কলেজিয়েট স্কুলে, ক্লাস ফাইভে থাকতে পড়তাম বান্দরবান হাই স্কুল, ক্লাস ফোরে পচাগড় প্রাইমারি স্কুলে, ক্লাস খ্রীতে কিশোরীমোহন পাঠশালা, সিলেটে, তার আগে—ক্লাস টুতে ছিলাম—অ্যাঁ—অ্যাঁ–দীপু মাথা চুলকাতে থাকে মনে করার জন্যে। মনে করতে না পেরে বলল, রাঙামাটিতে, স্কুলটার নাম মনে নেই, ক্লাস ওয়ানে ছিলাম শেখঘাট জুনিয়র স্কুলে—
সবাই হ্যাঁ করে ওর দিকে তাকিয়ে রইল। স্যারও একটু অবাক হয়ে বললেন, তুই কি বছর বছর স্কুল বদলাস নাকি?
আমার বদলাতে ভাল লাগে না, কিন্তু আমার আব্বা প্রত্যেক বছর নতুন জায়গায় যান, তাই আমারও যেতে হয়।
হুঁ। স্যার আবার গম্ভীর হয়ে বললেন, লেকচার শেষ কর। মাত্র এক মিনিট হয়েছে।
মাত্র এক মিনিট! দীপুর গলা আবার শুকিয়ে যায়। করুণ মুখে সে স্যারের দিকে তাকাল, স্যার ওকে সাহস দিলেন, চমৎকার হচ্ছিল তো! শুরু কর আবার—কী করতে ভালবাসিস, কী পড়তে ভালবাসিস, কী খেলতে ভালবাসিস, এইসব বল।
দীপু আবার শুরু করল, আমি ডিটেকটিভ বই পড়তে খুব ভালবাসি। আমি অনেকগুলো ডিটেকটিভ বই পড়েছি। তার মাঝে সবচেয়ে ভাল হচ্ছে- দীপু হঠাৎ থেমে থেমে গেল, কারণ, ঠিক বুঝতে পারল না নামটা বলা উচিত হবে কি না। একটু ভেবে বলেই ফেলল- প্রতপুরীর অট্টহাসি? বইটা আমার কাছে আছে, কেউ পড়তে চাইলে আমি তাকে দিতে পারি।
পড়েছি! আমি পড়েছি! ক্লাসের অর্ধেকের বেশি ছেলে চেঁচিয়ে উঠল, আর সাথে সাথে দীপু বুঝতে পারল ছেলেগুলোর সাথে বন্ধুত্ব হতে ওর দেরি হবে না। এ ছাড়াও আমি অ্যাডভেঞ্চারের বই পড়ি। যেমন— যক্ষের ধন, আবার যক্ষের ধন, তারপর টম সয়ার, হাক ফিনের দুঃসাহসিক অভিযান।
স্যার দীপুকে থামিয়ে জিজ্ঞেস করলেন তোরা কে কে মার্ক টোয়েনের টম সয়ার আর হাক ফিনের বই পড়েছিস?
মাত্র দুটি হাত উঠল। স্যার বললেন, খুব ভাল বই, সবার পড়া উচিত। আছে তোর কাছে বই দুটি?
আছে স্যার।
তোর বন্ধুদের পড়তে দিস।
দেব স্যার।
হু, এবারে শেষ কর তোর লেকচার।
দীপু আবার শুরু করল, গল্পের বই ছাড়া আমার খেলতে ভাল লাগে। বগুড়া জিলা স্কুলে থাকতে ক্লাস এইটকে আমরা হারিয়ে দিয়েছিলাম।
মোটাসোটা একটা ছেলে পেছন থেকে জিজ্ঞেস করল, কোন জায়গায় খেল? সেন্টার ফরোয়ার্ড?
না, আমি রাইট আউট ছিলাম। সেন্টার ফরোয়ার্ড খেলি মাঝে মাঝে, মাঝে মাঝে ব্যাকেও খেলি।
স্যার সাবধানে হাসি গোপন করলেন। তিনি খুব ভাল করে জানেন শুধুমাত্র নামেই সেন্টার ফরোয়ার্ড আর রাইট আউট। এই বয়েসী ছেলেদের খেলা শুরু হলে দেখা যায়, বল যেখানে, গোল কীপার ছাড়া সবাই সেখানে দাপাদাপি করছে।
এ ছাড়া ব্যাডমিন্টনও খেলি, কিন্তু কর্কের দাম এত বেশি হয়ে গেছে যে, সবসময় খেলতে পারি না। কয় মিনিট হয়েছে, স্যার?
আড়াই মিনিট।
মাত্র আড়াই মিনিট?
হুঁ, শুরু কর আবার।
কী কী করতে পারিস এইসব বল।
কিছু করতে পারি না।
কিছু পারিস না? ছবি আঁকতে? গান গাইতে? সাইকেল চালাতে? সাঁতার কাটতে? মারামারি করতে?
দীপু মাথা নেড়ে বলল, আমি সীটে বসে সাইকেল চালাতে পারি, সাঁতারও দিতে পারি, ছবি আঁকতে পারি না, ড্রয়িং পরীক্ষায় আমি সবচেয়ে কম নম্বর পাই। আর আমি গানও গাইতে পারি না।
মারামারি? সামনের বেঞ্চের একটা ছেলে ওকে মনে করিয়ে দিল।
ও হ্যাঁ, আমি অল্প অল্প মারামারিও করতে পারি;
অল্প অল্প মারামারি আবার কী জিনিস? স্যার একটু অবাক হয়ে জানতে চাইলেন।
দীপু মাথা চুলকে বলল, মানে ঠিক- একে মারামারি না, তবে কেউ যদি আমার সাথে মারামারি করতে চায় শুধু তা হলেই একটু ইয়ে- মানে অল্প অল্প- একটু একটু-
ও ও! বুঝেছি, তুই নিজে থেকে করিস না, তবে কেউ করতে চাইলে না করিস না, এই তো?
সারা ক্লাস হেসে উঠল এবং দীপু নিজেও হেসে ফেলল।
এখনও দেড় মিনিট বাকি। নে, শুরু কর আবার।
দীপু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাতে লাগল। আর কী সে করতে পারে মনে করার চেষ্টা করতে করতে হঠাৎ ওর মুখে হাসি ফুটে ওঠে। একগাল হেসে বলল, আমি বই বাঁধাই করতে পারি, আর শর্ট সার্কিট হয়ে ফিউজ পুড়ে গেলে মেইন সুইচের ফিউজ বদলে ঠিক করে ফেলতে পারি।
কী বললি? শর্ট সার্কিট হয়ে—
হ্যাঁ, শর্ট সার্কিট হলে ফিউজ পুড়ে যায় তো, তখন মেইন সুইচ অফ করে ব্রিজটা খুলে নিয়ে একটা চিকন তার ওখানে লাগিয়ে দিলে আবার সব ঠিক হয়ে যায়।
তুই ঠিক করিস ওভাবে?
হ্যাঁ, যখন দরকার হয় । খুব সহজ, আমার আব্বা আমাকে শিখিয়ে দিয়েছেন। স্যার চুপ করে রইলেন। ক্লাস এইটের ছেলেকে যে-আব্বা মেইন সুইচ খোলা শিখিয়েছেন তাকে একবার দেখতে ইচ্ছে হচ্ছিল।
আর বই বাঁধাইয়ের কথা কী বললি?
হ্যাঁ, আমি বইও বাঁধাই করতে পারি। আমাদের বাসায় অনেক বই ছিঁড়ে গিয়েছিল, তাই আমার আব্বা আমাকে বলেছিলেন আমি যদি বই বাঁধাই করি, তা হলে দুটো বই বাঁধাই করার জন্যে এক টাকা করে দেবেন। প্রথম প্রথম খুব বিচ্ছিরি হতো, পরে আমি বুক বাইন্ডিংয়ের দোকানে বসে থেকে দেখে দেখে শিখেছি। সেলাই করার পর শুধু প্রেস থেকে কাটিয়ে আনতে হয়, এখন আমি দোকানের মতো করে করতে পারি।
ও! খুব ভাল । স্যার ক্লাসের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোরা আর কেউ বই বাঁধাই করতে পারিস?
একটি ছেলে হাত তুলল, ওর আব্বা বুক বাইন্ডার, কাজেই সে তো পারবেই। স্যার বললেন, সবারই কিছু কিছু সত্যিকারের কাজ জানা উচিত। এখন তোরা ছোট আছিস, বড়রা তোদের কিছু করতে দেবে না, কিন্তু সুযোগ পেলে শিখে নিবি। তারপর দীপুর দিকে তাকিয়ে বললেন, নে, তোর লেকচার শেষ, টাইম ওভার। ভালই বলেছিস। একটু থেমে বললেন, কয় ভাইবোন তোরা?
তোর আম্মা?
মুহুর্তের জন্যে দীপু থেমে গেল। ও জানে, যেই সে বলবে তার আম্মা মারা গেছেন, অমনি সবাই কেমন করে জানি তার দিকে তাকাবে ওর জন্যে সবার মায়া হবে। এটা ওর একটুও ভাল লাগে না। ওর আম্মার কথাও মনে নেই, কখনও দেখেওনি আম্মার জন্যে ওর কখনও মন খারাপও হয়নি, কিন্তু সবাই মনে করবে ও বুঝি খুব দুঃখী। দীপু একটু দ্বিধা করে বলল, আমার আম্মার মারা গেছেন।
ও! স্যার খুব অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন, আর দীপু যা ভেবেছিল ঠিক তা-ই হল। সারা ক্লাস হঠাৎ করে একেবারে চুপ করে গেল। কয়েক মুহুর্ত কোনো শব্দ নেই, সমস্ত ক্লাস চুপ করে ওর দিকে তাকিয়ে আছে। দীপু একটু হাসার চেষ্টা করে বলল, আমার আব্বা খুব ভাল, আমার আম্মা নেই বলে আমার কোনো অসুবিধা হয় না।
ও! স্যার একটু চুপ করে থেকে জিজ্ঞেস করলেন, কবে মারা গেছেন তোর আম্মা?
মনে নেই আমার, আমি কোনদিন দেখিনি।
হুম ! স্যার খানিকক্ষণ জানাল দিয়ে বাইরে তাকিয়ে থেকে বললেন, এবার তোর নামটা আবার বল দেখি খাতায় লিখে নিই ;
দীপু তার নাম বলল, মুহম্মদ আমিনুল আলম।
তোর আব্বা কি তোকে মুহম্মদ আমিনুল আলম বলে ডাকেন?
না, দীপু বলে ডাকেন।
কী বললি? স্যার চোখ কুঁচকে তাকালেন।
দীপু।
অ্যাঁ? দীপু? আমাদের যে আরেকটা দীপু আছে! দুইটা দীপু হয়ে গেল যে, কী মুশকিল! কোথায় এক নাম্বার দীপু?
ক্লাসে কয়েকটা ছেলে মিলে একজনকে ঠেলে দাঁড় করিয়ে দিল এবং বলল, এই যে, এই যে দীপু।
স্যার মুখ গম্ভীর করে বললেন, তা হলে কী করা যায়? দুজনের এক নাম হয়ে গেলে তো মুশকিল। একজনের অঙ্ক ভুল হয়ে গেলে আরেকজন পিটুনি খাবে যে!
স্যারের মুখ দেখে মনে হল সত্যিই বুঝি এটি একটি বড় সমস্যা। একজন হালকা পাতলা ছেলে হাত তুলে বলল, নাম্বার দিয়ে দেন দুজনের। একজন এক নাম্বার, একজন দুই নাম্বার।
সারা ক্লাস মাথা নেড়ে সায় দিল। কাজেই দীপুর আর কিছু বলার থাকল না। স্যার একটু হেসে বললেন, তা হলে তুই দীপু নাম্বার টু। সেই থেকে দীপু আর দীপু রইল না, হয়ে গেল দীপু নাম্বার টু।